ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা

পার্সোনাল ফাইন্যান্স: সাধারণ পরিবারের সঞ্চয় ও জমানো টাকা বাড়ানোর সহজ উপায়

২৯ আগস্ট, ২০২৬1 মিনিটের পড়াহালনাগাদ ২৯ আগস্ট, ২০২৬
পার্সোনাল ফাইন্যান্স: সাধারণ পরিবারের সঞ্চয় ও জমানো টাকা বাড়ানোর সহজ উপায়

পরিবর্তিত সুদের বাজারে বাংলাদেশের সাধারণ পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা, পারিবারিক বাজেট, জরুরি তহবিল গঠন এবং ফিক্সড ডিপোজিট থেকে সর্বোচ্চ লাভের সহজ নির্দেশিকা।

বর্তমান বাজারে দৈনন্দিন সংসারের খরচ সামলে সঞ্চয় বাড়ানো এবং জমানো টাকাকে লাভজনক জায়গায় রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং। দেশে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.৩২ শতাংশের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা ফেলে রাখলে দিনশেষে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। তাই প্রতিটি পরিবারের ফাইন্যান্স প্রধান বা উপার্জনকারী ব্যক্তির উচিত একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা তৈরি করা, যাতে জমানো টাকা মূল্যস্ফীতিকে হারিয়ে প্রকৃত লাভ (Real Return) এনে দিতে পারে।

একটি আদর্শ আর্থিক পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হলো অন্তত ৩ থেকে ৬ মাসের পারিবারিক খরচের সমপরিমাণ টাকা দিয়ে একটি ‘জরুরি তহবিল’ (Emergency Fund) তৈরি করা। এই টাকা কোনো দীর্ঘমেয়াদি জায়গায় না আটকে সহজ সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট বা ৩ মাস মেয়াদি ডিপোজিটে রাখা উচিত, যাতে বিপদে দ্রুত তোলা যায়। জরুরি তহবিল নিরাপদ হওয়ার পর বাকি টাকা ‘এফডিআর লেডারিং’ পদ্ধতিতে রাখা যেতে পারে—অর্থাৎ সব টাকা এক মেয়াদে না রেখে ৬ মাস, ১ বছর ও ৩ বছরের মেয়াদে ভাগ করে রাখা। এতে নির্দিষ্ট সময় পর পর হাতে নগদ টাকা আসবে, আবার ব্যাংকের ভালো সুদের সুবিধাও পাওয়া যাবে।

ব্যাংক ডিপোজিটের পাশাপাশি সঞ্চয়ের একটি ছোট অংশ খাঁটি সোনায় রাখা যেতে পারে, যা টাকার মান কমে যাওয়ার ধাক্কা থেকে পরিবারকে রক্ষা করে। সেই সাথে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হালনাগাদ ই-টিন (e-TIN) যুক্ত রাখা আবশ্যক; কারণ ই-টিন থাকলে সুদের ওপর ১৫ শতাংশের জায়গায় মাত্র ১০ শতাংশ ট্যাক্স কাটে। নিজের উপার্জিত অর্থকে সঠিকভাবে পরিচালনা করে এভাবে সুরক্ষিত রাখলে পরিবারের ভবিষ্যৎ অনেক বেশি নিশ্চিত ও সমৃদ্ধ হবে।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম নিয়মে লুকানো মুনাফা আর বাড়তে থাকা লেট ফি নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের জন্য প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা জারি করেছে, সুদ ভিত্তিক চার্জের বদলে একটা নির্দিষ্ট সার্ভিস ফি এবং লেট পেমেন্ট জরিমানাকে আগে থেকে ঠিক করা একটা দানে বদলে দিয়েছে যা বাড়তে পারবে না। ইসলামী কার্ড এখন প্রচলিত কার্ড থেকে কীভাবে আলাদা, এবং নতুন জালিয়াতি সুরক্ষা ও কুলিং অফ নিয়ম কার্ডধারীদের জন্য কী মানে রাখে, তা দেখে নেওয়া যাক।

সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশ, থেমে গেল তিন মাসের শীতল হওয়ার ধারা

টানা তিন মাস কমার পর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮.৩৪ শতাংশ, যা আগস্টের ১০ মাসের সর্বনিম্ন ৮.২৬ শতাংশ থেকে বেশি। এই বৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই এসেছে খাদ্যপণ্যের দাম থেকে, যা বেড়ে হয়েছে ৭.২২ শতাংশ, যদিও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এই বৃদ্ধিটা এমন একটা সপ্তাহে এসেছে যখন বিশ্বব্যাংকের একটা প্রতিবেদনে দেখা গেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই কোনো সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা পায় না, যা মনে করিয়ে দেয় জাতীয় গড়ে আট বেসিস পয়েন্টের একটা ছোট বৃদ্ধিও কম সামর্থ্যের পরিবারগুলোর জন্য আসলে কতটা কষ্টের কারণ হতে পারে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ঢাকার কাঁচাবাজারে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

সরকার ২১ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে নতুন করে দাম বাড়ছে, ব্যবসায়ীরা এর প্রধান কারণ হিসেবে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন। কাঁচা মরিচের দাম কার্যত দ্বিগুণ হয়ে গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, আর আটা, চাল, ডিম আর দুধের মতো নিত্যপণ্যের দামও জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই বেড়ে গেছে। এর এক সপ্তাহ আগেও দাম বাড়ার আরেকটা ধাক্কা এসেছিল, যা বলে দেয় বাজার একবারের ধাক্কা নয়, বরং একের পর এক খরচ বৃদ্ধি সামলাচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফাহমিদা খাতুনের মতো অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশের সরকারি মূল্যস্ফীতির সংখ্যা সাধারণ পরিবারগুলোর প্রকৃত চাপকে কম করে দেখায়, কারণ খাবার আর পরিবহন খরচ নিম্ন আয়ের পরিবারের বাজেটে অনেক বেশি ভার বহন করে।