পলিসি রেট কমানোর প্রভাব ও ফিক্সড ডিপোজিটের নতুন হিসাব

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদের হার কমানোর নতুন সিদ্ধান্ত, ঢাকার ব্যাংকগুলোতে ডিপিএস ও এফডিআর সুদের হার এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয় সুরক্ষার সহজ ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
রাজধানী ঢাকার মতিঝিল ও গুলশানের ব্যাংকিং পাড়ায় এখন আলোচনার প্রধান বিষয় হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদের হার কমানোর প্রভাব। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের প্রধান পলিসি রেট (রেপো রেট) ০.৫০% কমিয়ে ৯.৫০% নির্ধারণ করেছে। টানা প্রায় পৌনে দুই বছর সুদের হার বাড়ানোর পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ছাড় দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর টাকার টানাটানি কিছুটা কমানো।
এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ সঞ্চয়কারীদের ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) ও আমানতের লাভের ওপর প্রভাব পড়ছে। বর্তমানে ভালো মানের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের বিভিন্ন মেয়াদি ফিক্সড ডিপোজিটে ৮.৫০% থেকে ৯.৫০% পর্যন্ত সুদ বা মুনাফা দিচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি ব্যাংকগুলো তাদের মেয়াদি আমানতে কিছুটা কম, অর্থাৎ ৬.৫০% থেকে ৭.৫০% এর মধ্যে সুদ রাখছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার কমানোর ফলে আগামী দিনগুলোতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোও ধীরে ধীরে তাদের এফডিআরের সুদের হার কিছুটা কমিয়ে আনতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ সঞ্চয়কারীদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হলো সব টাকা একসাথে এক মেয়াদে না রেখে টাকা ভাগ ভাগ করে জমা রাখা (যার নাম 'এফডিআর লেডারিং')। উদাহরণস্বরূপ, কিছু টাকা ৩ মাস, কিছু ৬ মাস এবং বাকি টাকা ১ বছর বা ৩ বছর মেয়াদে ব্যাংকে রাখতে পারেন। এতে প্রয়োজনে মাঝে মাঝে টাকা হাতে আসবে, আবার ভালো সুদের সুবিধাও পাবেন। সেই সাথে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অবশ্যই হালনাগাদ ই-টিন (e-TIN) যুক্ত রাখা উচিত, কারণ ই-টিন থাকলে সুদের লাভের ওপর ১৫% এর জায়গায় মাত্র ১০% ট্যাক্স কাটে।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
ব্যাংক ও এফডিআর সংবাদ: আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ও এফডিআর সুদের নতুন চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সার্কুলার, ৬০,০০০ কোটি টাকার শিল্প পুনঃঅর্থায়ন প্যাকেজ এবং ঢাকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডিপিএস ও এফডিআর সুদের নতুন হারের সহজ ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
5 things to check before opening an FDR in Bangladesh
Fixed deposits look simple, but the fine print is where the real differences between banks show up.