তিন বছরে ফেডের প্রথম সুদহার বৃদ্ধি বাংলাদেশের ডলার, ঋণ আর রপ্তানির জন্য কী বার্তা দিচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ১৬ সেপ্টেম্বর তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার তার নীতি সুদহার বাড়িয়েছে, আর এর ঢেউ এখনই বাংলাদেশের হিসাবনিকাশে দেখা যাচ্ছে। শক্তিশালী ডলার আমদানি করা জ্বালানি, খাদ্য আর যন্ত্রপাতির দাম বাড়িয়ে দেয়, ডলারভিত্তিক ঋণের বোঝা বাড়ায়, আর ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড বিক্রির পরিকল্পনাকে জটিল করে তোলে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বড় ঝুঁকি আসলে অন্য জায়গায়, জ্বালানি সংকট আর নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তায়, যা এমনিতেই বিদেশি বিনিয়োগকে পেছনে টেনে রেখেছিল, তবে ফেডের এই সিদ্ধান্ত একসঙ্গে কয়েকটা ফ্রন্টে কঠিনতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ, যা মাত্র একদিনের রেকর্ড গড়েছে, এখানে একটা বিরল সুখবর।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ১৬ সেপ্টেম্বর তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার নীতি সুদের হার বাড়িয়েছে, ফেডারেল ফান্ডস রেট এক চতুর্থাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ শতাংশে নিয়ে গেছে। ওয়াশিংটনে এই সিদ্ধান্তকে বলা হচ্ছে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে একটা দেরি হয়ে যাওয়া জবাব, কারণ গত এক বছরে ভোক্তা মূল্য বেড়েছে ৩.৪ শতাংশ, আর শুধু আগস্ট মাসেই বেড়েছে ০.৪ শতাংশ, গত চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতি। ঢাকায় এই সিদ্ধান্ত এসে পড়েছে এমন একটা অর্থনীতির ওপর, যেটা একসঙ্গে নিজের মুদ্রাকে স্থিতিশীল রাখতে চাইছে, রিজার্ভ আবার গড়ে তুলতে চাইছে, আর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরাসরি আন্তর্জাতিক বন্ড বাজার থেকে ঋণ নিতে চাইছে।
এক চতুর্থাংশ পয়েন্টের ঢেউ বঙ্গোপসাগর পাড়েও লাগছে
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ডিস্টিংগুইশড ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন ফেডের ঘোষণার পরদিন প্রকাশিত এক আলোচিত লেখায় পুরো হিসাবটা সহজ করে বুঝিয়েছেন। তার শুরুর কথাটা সোজা, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সুদের হার বাড়লে ডলার বেশিরভাগ মুদ্রার বিপরীতে শক্তিশালী হয়, টাকাও এর বাইরে না, কারণ বিনিয়োগকারীরা এখন ডলারভিত্তিক সম্পদে যে বাড়তি রিটার্ন পাচ্ছেন সেদিকেই ছুটবেন। শক্তিশালী ডলার মানেই খারাপ খবর তা না, কিন্তু বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এর প্রভাব বাজারে গিয়ে খুব তাড়াতাড়িই টের পাওয়া যায়। জ্বালানি, খাদ্য, সার আর শিল্প যন্ত্রপাতির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারে নির্ধারিত হয়, তাই টাকা দুর্বল হলে বাংলাদেশ যা কিছু বিদেশ থেকে আনে তার প্রায় সবকিছুর দেশীয় দাম বেড়ে যায়, আর এটা নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করে, এমন এক সময়ে যখন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে এমনিতেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.২৬ শতাংশে বসে আছে, গত দুই বছরের দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতির চেয়ে কমলেও ধীরগতিতে।
ঋণের বোঝা একটু বেড়েই যাচ্ছে
সবচেয়ে স্পষ্ট আর সরাসরি প্রভাব পড়ছে যাদের ডলারে ঋণ আছে তাদের ওপর। যেসব সরকারি সংস্থা আর বেসরকারি কোম্পানির ভ্যারিয়েবল রেট বা ডলারভিত্তিক ঋণ আছে, তাদের অর্থায়ন খরচ এখন বেড়ে যাচ্ছে, কারণ যে বেঞ্চমার্কের ভিত্তিতে ওই ঋণের সুদ ঠিক হয় সেটাই সরে গেছে। খাতুনের লেখায় বিষয়টা স্পষ্ট করে বলা আছে, ডলার শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টাকা দুর্বল হলে ঋণগ্রহীতাদের প্রতিটা ডলার শোধ করতে বেশি টাকা লাগবে, তাই টাকার অবমূল্যায়ন আর যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সুদহার একটা অন্যটাকে হালকা করে না, বরং একসঙ্গে বোঝা বাড়িয়ে দেয়। সময়টাও বেশ অস্বস্তিকর। বাংলাদেশ এখন তার প্রথম সার্বভৌম বন্ড আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারীর নেতৃত্বে একটা শক্তিশালী কমিটি অর্থ মন্ত্রণালয় আর বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে মিলে ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলারের একটা ইস্যু সাজানোর কাজ করছে। ডলারের সুদহার বাড়তি থাকা মানে সাধারণত আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের টানতে আরও বেশি কুপন রেট দিতে হয়, তাই একই ফেড সিদ্ধান্ত যেটা বিদ্যমান ঋণকে জটিল করছে, সেটাই বাংলাদেশ যে ঋণ প্রথমবার নিতে যাচ্ছে তার দামও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পোশাক রপ্তানিকারকদের চোখ মার্কিন ক্রেতাদের দিকে, শুধু সুদহারে না
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার, তাই মার্কিন ভোক্তাদের খরচ কমিয়ে দেওয়া যেকোনো পদক্ষেপ শেষমেশ ঢাকা, চট্টগ্রাম আর গাজীপুরের কারখানার মেঝেতেও গিয়ে ঠেকে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবার আর ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়া খরচ বেড়ে গেলে সময়ের সঙ্গে বিলাসী খরচ কমে যায়, আর পোশাক একটা পরিবারের বাজেটে তুলনামূলক বিলাসী খাতের মধ্যেই পড়ে। খাতুনের লেখায় ছোট বাংলাদেশি কারখানাগুলোকে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, কারণ তাদের মুনাফার মার্জিন কম, তাই দেশে বাড়তি অর্থায়ন খরচ আর বিদেশে চাহিদা কমে যাওয়া দুটো একসঙ্গে সামলানোর সুযোগ তাদের কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একটা সুদহার সিদ্ধান্ত থেকে বাংলাদেশি কারখানার অর্ডার বইতে গিয়ে পৌঁছাতে সময় লাগে, আর সেটা নিশ্চিতও না, কয়েক মাসের চালানের তথ্য না দেখে মার্কিন ক্রেতারা আসলেই হাত টেনে নিয়েছেন কি না তা জোর দিয়ে বলা যাবে না।
রেমিট্যান্সের বার্তা মিশ্র
বিদেশে কাজ করা প্রায় এক কোটি বাংলাদেশির জন্য, যারা দেশে টাকা পাঠান, শক্তিশালী ডলার আমদানিকারক বা ঋণগ্রহীতাদের জন্য যেমন সরাসরি খারাপ খবর, তাদের জন্য তেমন না। ডলার শক্তিশালী হলে পাঠানো প্রতিটা ডলার বেশি টাকায় রূপান্তরিত হয়, এই কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহকে স্বাগত জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম তেরো দিনেই ১.৪২ বিলিয়ন ডলার এসেছে, আর ১৩ সেপ্টেম্বর একদিনে এসেছে রেকর্ড ১৯৩ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু খাতুনের বিশ্লেষণ সতর্ক করে দিচ্ছে, টিকসই আনুষ্ঠানিক প্রবাহ ততটাই নির্ভর করে ব্যাংকিং চ্যানেলের বিনিময় হার আর অনানুষ্ঠানিক হুন্ডি রেটের মধ্যে ফাঁক কম রাখার ওপর, কারণ প্রবাসীরা সবসময় সেই চ্যানেলের দিকেই ঝুঁকবেন যেখানে ডলারে বেশি টাকা মিলবে। শক্তিশালী ডলার যদি এই ফাঁক কমার বদলে বাড়িয়ে দেয়, তাহলে সামগ্রিক রেমিট্যান্সের হিসাব ভালো দেখালেও তার একটা অংশ চুপচাপ অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে ফিরে যেতে পারে।
রিজার্ভ, হস্তক্ষেপ, আর দুটোরই সীমা
সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের কঠোর বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে ৩১.৪৭ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে প্রায় ৪.৮ মাসের আমদানি বিল মেটানো যায়, আইএমএফের সুপারিশ করা তিন মাসের সর্বনিম্নের চেয়ে বেশ ভালোভাবেই বেশি। গত এক বছরে রেমিট্যান্স আর রপ্তানি আয় থেকে গড়ে তোলা এই কুশনটাই বাংলাদেশ ব্যাংক ভাঙবে যদি শক্তিশালী ডলারের চাপে টাকা সত্যিকারের ঝামেলায় পড়ে, বিনিময় হারের অতিরিক্ত অস্থিরতা সামাল দিতে রিজার্ভ বিক্রি করে। খাতুনের সতর্কবার্তা হলো, এই অস্ত্রের একটা মেয়াদ আছে। বিনিময় হার রক্ষার জন্য বারবার রিজার্ভ ভাঙা, তার নিজের ভাষায়, টিকসই না, আর এটা সরকারের নিজেরই ঘোষিত লক্ষ্য, ২০২৭ অর্থবছরের মধ্যে রিজার্ভ ৫১ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার সঙ্গেও মেলে না। মুডিস ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ক্রেডিট আউটলুক স্থিতিশীল করে দেওয়ার পেছনে পুনর্গঠিত রিজার্ভ আর রেকর্ড রেমিট্যান্সের কথা উল্লেখ করেছে, যা বলে দেয় রেটিং সংস্থাগুলো এখন এই কুশনকে যথেষ্ট মনে করছে, কিন্তু এই বিচার তখনই ঠিক থাকবে যদি মুদ্রা রক্ষা করতে গিয়ে কুশনটা ধীরে ধীরে খরচ না হয়ে যায়।
| সূচক | সংখ্যা | প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ফান্ডস রেট | ৩.৭৫% থেকে ৪.০০%-এ উন্নীত | ১৬ সেপ্টেম্বর ০.২৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি, তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম |
| যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি | ৩.৪% | ফেডের লক্ষ্য ২%, ২০২৬ সালে আরও একটি বৃদ্ধির সম্ভাবনা |
| বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ | ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার | সেপ্টেম্বরের শুরুর হিসাব, আইএমএফ পদ্ধতিতে প্রায় ৪.৮ মাসের আমদানি সমান |
| ২০২৭ অর্থবছরের রিজার্ভ লক্ষ্য | ৫১ বিলিয়ন ডলার | সরকারের নিজের ঘোষিত লক্ষ্য, বর্তমান পর্যায়ের চেয়ে বেশ ওপরে |
| পরিকল্পিত সার্বভৌম ডলার বন্ড | ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলার | বাংলাদেশের প্রথম, ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে বিক্রির লক্ষ্য |
বড় ঝুঁকিগুলো আসলে কোথায়
ফেডের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের নিকট ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ঠিক করার সবচেয়ে বড় শক্তি ভাবাটা ভুল হবে। খাতুনের নিজের লেখাতেই সতর্কভাবে বলা আছে, মার্কিন সম্পদে নিরাপদ রিটার্ন তাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে বটে, কিন্তু চলমান গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট আর নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তার মতো দেশীয় বাধাই বিদেশি পুঁজিকে দূরে রাখার আসল কারণ, ওয়াশিংটনে যা ঘটছে তার চেয়ে অনেক আগে থেকেই। ফেড বৈঠকের আগেই বাংলাদেশের নিজের আগস্টের বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের হিসাবও একই কথা বলছিল, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক এফডিআই ১৫ শতাংশ কমে ১.৪৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যদিও এই মাসে অ্যামচ্যামের বার্ষিকী নৈশভোজে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের প্রতিশ্রুত ৫ বিলিয়ন ডলারের মতো একক ঘোষণা উল্টো দিকের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। ফেডের এই পদক্ষেপ একসঙ্গে কয়েকটা ফ্রন্টে কঠিনতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, ঋণের বোঝায়, আমদানি বিলে, বন্ড বিক্রির সময়সূচিতে, কিন্তু এর কোনোটাতেই এটাই একমাত্র বড় নিয়ামক না।
এরপর কী
ফেড কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৬ শেষ হওয়ার আগে আরও একবার সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা আছে, তারপর ২০২৭ সাল পর্যন্ত হার একই জায়গায় ধরে রাখা হবে, মানে ঢাকার নীতিনির্ধারকরা একটা এককালীন ধাক্কার সঙ্গে না, বরং অন্তত আরও এক বছর স্থায়ী হতে যাওয়া বৈশ্বিক সুদহার পরিবেশের বদলের সঙ্গে লড়ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে বিনিময় হার নিয়ে, রিজার্ভ হস্তক্ষেপের সময় নিয়ে, আর দেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ডের কুপন রেট ঠিক করার ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্তগুলো নেবে, তা ফেড এরপর যা করবে তার চেয়ে বেশি প্রভাব রাখবে চূড়ান্ত ফলাফলে। এখনকার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ব্যাখ্যাটা খাতুন নিজেই দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত এমন একটা অর্থনীতির প্রান্তে বাড়তি চাপ যুক্ত করছে যেটা একহাতে একটা ভঙ্গুর মুদ্রা স্থিতিশীলতা রক্ষা করছে, আর অন্য হাতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
সেপ্টেম্বরের শুরুর সর্বোচ্চ থেকে কমে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলারে, রিজার্ভ চাঙা রাখছে রেমিট্যান্সের ঢল
বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৭ সেপ্টেম্বর নাগাদ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলারে, মাত্র এক সপ্তাহ আগে ছোঁয়া ৩৭.৪১ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড থেকে যা কিছুটা নিচে। আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে রিজার্ভের এই পতন হলেও রেমিট্যান্সের নতুন ঢেউ তা অনেকটাই সামলে দিয়েছে। আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৪৭ বিলিয়ন ডলারে, যা নিয়ন্ত্রকদের নজরে থাকা তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর নিরাপত্তা সীমার চেয়ে ঢের বেশি। ৬ সেপ্টেম্বর একদিনে রেকর্ড ২০১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সসহ সাম্প্রতিক রেকর্ড প্রবাহ রিজার্ভকে শক্ত ভিতে রাখতে সাহায্য করছে, যদিও বৈশ্বিক পণ্যমূল্য ও ঋণ পরিশোধের চাপ এখনো অর্থনীতির জন্য পরীক্ষা হয়ে আছে।