ব্যাংকিং ও এফডিআর

রেমিট্যান্সের চাপে তিন মাস পর আবার ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক, কমছে বিনিময় হার

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬8 মিনিটের পড়া

গত ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৫০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে,গত ২০ মে-র পর এই প্রথম, প্রায় তিন মাসের বিরতি ভেঙে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ আর কম আমদানি চাহিদার কারণে টাকা-ডলার বিনিময় হার নিচের দিকে নামছিল, আর এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দেয় বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা, ব্যাংক তারল্য আর এফডিআরের সুদহারের মধ্যে কতটা নিবিড় যোগসূত্র আছে।

তিন মাস পর আবার ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক, রেমিট্যান্সের চাপে কমছে ডলারের দাম

মে মাসের পর এই প্রথম, সেপ্টেম্বরের ১ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংক আবার বাজারে নেমে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনল। ডলারের অঙ্কে এটা খুব বড় কোনো লেনদেন না হলেও, যারা টাকা-ডলার বিনিময় হার নিয়ে খোঁজখবর রাখেন, প্রবাসী আয় পাঠান বা আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করেন, তাদের জন্য এই খবরটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে মোট ৫০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে। শুনতে এটা একটা রুটিন কাজের মতোই মনে হতে পারে, আর একদিক থেকে তা-ই। কিন্তু আসল কথা হলো, গত ২০ মে-র পর এই প্রথমবার বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনল, অর্থাৎ প্রায় তিন মাস ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ধরনের কেনাকাটা থেকে দূরে ছিল, যদিও বাজার আশা করছিল তারা হস্তক্ষেপ করবে। কেন এত দিন তারা চুপ ছিল, আর হঠাৎ কেন আবার মাঠে নামল,এই দুটো প্রশ্নের উত্তর জানলে বোঝা যাবে বাংলাদেশের মুদ্রাবাজার এখন ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, আর সামনে ব্যাংকগুলোর তারল্য ও এফডিআরের সুদহারে এর কী প্রভাব পড়তে পারে।

কেন এতদিন চুপচাপ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

মঙ্গলবারের এই কেনাকাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংক এত দিন কেন বাজার থেকে দূরে ছিল। ব্যাংকাররা বলছেন, বাজারের অবস্থা দেখে আসলে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই আশা করা হচ্ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনবে, কিন্তু তারা তখনও হাত গুটিয়ে রেখেছিল। এর পেছনের কারণ সরকারের নিজস্ব ডলার চাহিদা। ২০ আগস্টের পর সরকারের এলসি বা ঋণপত্রের দায় বাবদ আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার নতুন করে যোগ হয়, যার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনিষ্পন্ন বৈদেশিক মুদ্রার দায় ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এত বড় অঙ্কের পরিশোধের চাপ মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে নতুন করে ডলার কেনার ঝুঁকি নেওয়া সহজ ছিল না, যদিও ততদিনে বিনিময় হার নরম হয়ে আসছিল আর ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার অপেক্ষায় ছিল।

সহজ ভাষায় বললে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই সঙ্গে দুটো কাজ সামলাচ্ছিল। একদিকে সরকারের আমদানি ও ঋণের দায় মেটাতে ডলার ছাড়তে হচ্ছিল, অন্যদিকে ব্যাংক থেকে ডলার কিনে বাজারে কতটা টাকা ঢালবে সেটাও হিসাব করতে হচ্ছিল। যখন দায় পরিশোধের চাপ ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেল, তখন কেনার দিকটা,অর্থাৎ বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কেনা,আপাতত থমকে থাকল।

কী পরিবর্তন হলো: ডলার বেশি, চাহিদা কম

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংককে আবার বাজারে টেনে আনল তাদের নিজস্ব দায়ের কোনো পরিবর্তন নয়, বরং উল্টো দিক থেকে আসা চাপ,আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে সরবরাহ-চাহিদার সহজ হিসাব। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেশ শক্তিশালী গতিতে আসছিল, অথচ আমদানিকারকদের ডলারের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। রেমিট্যান্সের মাধ্যমে প্রচুর ডলার ঢুকছে, কিন্তু আমদানি পরিশোধের মাধ্যমে যথেষ্ট পরিমাণ বের হচ্ছে না,এই ভারসাম্যহীনতাই বাজারে ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে বিনিময় হার নিচের দিকে টানছিল।

একজন সিনিয়র ব্যাংকার বিষয়টা খোলাখুলিভাবেই বলেছেন,চাহিদা কম থাকা অবস্থায় সরবরাহ বেশি থাকায় ডলারের দাম কমে যাচ্ছিল, আর এই নিম্নমুখী প্রবণতাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংককে বাজারে নেমে ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। সংখ্যাগুলোও একই গল্প বলছে। আগের সপ্তাহেই ডলারের দাম উঠেছিল ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত, যা তখনকার সরবরাহ পরিস্থিতি কতটা টাইট ছিল তারই প্রতিফলন। কিন্তু তার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই দাম নেমে এসেছিল ১২২ টাকার কাছাকাছি, আর ১ সেপ্টেম্বর সকালে ব্যাংকগুলো তার চেয়েও কম দরে কোট করছিল,রেমিট্যান্স কেনার ক্ষেত্রে ১২২ টাকা ৩০ থেকে ১২২ টাকা ৪০ পয়সা, আর এলসি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটু বেশি, ১২২ টাকা ৫০ থেকে ১২২ টাকা ৬০ পয়সা। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় ওঠানামা সহজ ব্যাপার না, আর ঠিক এই ধরনের অস্থিরতা সামলাতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত বাজারে হস্তক্ষেপ করে, বাজারকে একা ছেড়ে দেয় না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনা আসলে কীভাবে কাজ করে

ব্যাংকিং খাতের বাইরে থাকা সাধারণ মানুষের কাছে "বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনল" কথাটা কিছুটা জটিল শোনাতে পারে। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা বেশ সহজবোধ্য। যখন রেমিট্যান্স আর রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে দেশে আমদানিকারকদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডলার ঢোকে, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে উদ্বৃত্ত ডলার জমে যায়। কেউ যদি সেই ডলার না কেনে, তাহলে ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যেই ডলার ছাড়ার প্রতিযোগিতায় নামে, আর তাতে টাকার হিসাবে ডলারের দাম কমতে থাকে,আগস্টের শেষ দিকে ঠিক এটাই ঘটছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৫০ মিলিয়ন ডলার কেনার এই পদক্ষেপ একসঙ্গে দুটো কাজ করে। প্রথমত, এটা বিনিময় হারের একটা তলা তৈরি করে দেয়,একটা নির্দিষ্ট দামে ক্রেতা হিসেবে বাজারে নেমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আসলে বাজারকে জানিয়ে দেয়, "আমরা মনে করি দামটা মোটামুটি এখানেই থাকা উচিত," আর অন্য ব্যাংকগুলোও সাধারণত সেই দরের সঙ্গে নিজেদের মিলিয়ে নেয়। ১ সেপ্টেম্বর ঠিক এটাই হয়েছে,বিকেলে কেনার খবর প্রকাশের পর বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক নিজেদের দর বাড়িয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলে, ফলে আগের দরপতন থেমে যায়। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে ডলার কেনে তার দাম টাকায় পরিশোধ করা হয়, অর্থাৎ এই কেনাকাটার মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নতুন টাকা যোগ হয়,আর গত তিন মাসের বেশিরভাগ সময় ধরে সরকারের এলসি দায় মেটাতে ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক যে টাকা তুলে নিচ্ছিল, এটা অনেকটা তার উল্টো প্রক্রিয়া।

এখানে একটা ছোট কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় আছে, যা বাজার এই ধরনের খবর কীভাবে হজম করে তা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাজারকে তাদের দিনের প্রত্যাশিত দর সম্পর্কে জানিয়ে দেয়। কিন্তু ১ সেপ্টেম্বর সেই জানানোটা এসেছে অনেক দেরিতে, প্রায় দুপুর ১টার দিকে, যার ফলে কিছু ব্যাংক সাময়িকভাবে প্রস্তুত ছিল না এবং কিছুক্ষণের জন্য কাজকর্মে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তারপর বাজার নতুন রেফারেন্স দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার আশেপাশে স্থির হয়। ছোট একটা বিষয় মনে হলেও, ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি বিভাগ এই ধরনের সময়ের হেরফের খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করে, কারণ সংখ্যার চেয়ে সময়টাও কম কিছু বলে না।

আমানতকারী, আমদানিকারক আর সাধারণ ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য এর মানে কী

যারা ব্যাংকে টাকা রাখেন, ঋণ নেন বা বাংলাদেশ-ডলার করিডোরে টাকা পাঠান, তাদের জন্য এই পুরো বিষয়টা মোটেও দূরের কোনো গল্প না। ডলারের দাম কিছুটা নরম আর স্থিতিশীল থাকা আমদানিকারকদের জন্য মোটের ওপর ভালো খবর, কারণ এতে কাঁচামাল থেকে শুরু করে বিদেশ থেকে আনা তৈরি পণ্য পর্যন্ত সবকিছুর জন্য টাকায় খরচ কমে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ের দামেও কিছুটা প্রভাব ফেলে। আর যেসব পরিবার প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য ডলারের দাম কম মানে প্রতি ডলারে কিছুটা কম টাকা পাওয়া। তবে এর উল্টো দিকটাও মনে রাখা দরকার,শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহই আসলে বিনিময় হারকে স্থিতিশীল রাখছে, নাহলে যেভাবে এটা ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল সেভাবেই আরও বাড়তে পারত।

এই খবরের সঙ্গে ব্যাংক আমানত আর ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট বা এফডিআরের সবচেয়ে সরাসরি যোগসূত্র হলো তারল্যের প্রশ্নে। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন ডলার কেনে, তখন সেটা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকা ছেড়ে দেয়, যা গত এক বছর ধরে ব্যাংকগুলোকে আকর্ষণীয় এফডিআর সুদহার দিয়ে আমানত টানতে বাধ্য করা তারল্য চাপ কিছুটা হালকা করে। এই প্রভাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৃহত্তর নীতি অবস্থানের সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২ আগস্ট, ২০২৬ থেকে কার্যকরভাবে তাদের নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, যা গত ছয় বছরের মধ্যে প্রথম সুদহার কমানোর ঘটনা। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি সুদহার সাড়ে ১১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে, আর স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি সাড়ে ৭ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান প্রবৃদ্ধি সহায়ক মুদ্রানীতির পক্ষে যে অবস্থান নিয়েছেন, তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এ ধরনের ডলার কেনাকাটার মাধ্যমে ধীরে ধীরে টাকা ঢালাটাও একই সহজীকরণ প্রবণতার একটা কম আলোচিত কিন্তু বাস্তব দিক, যা মূল নীতি সুদহার কমানোর পাশাপাশি প্রতিদিনের ব্যাংক তারল্যেও প্রভাব ফেলে।

আমানতকারীদের জন্য এখনই কোনো নাটকীয় পরিবর্তনের কথা বলা যাচ্ছে না,মাত্র ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটা কেনাকাটা একাই এফডিআরের সুদহার বদলে দেবে না। কিন্তু এটা নজরে রাখার মতো একটা সংকেত। সামনের সপ্তাহগুলোতে যদি বাংলাদেশ ব্যাংক আরও ডলার কিনতে থাকে,শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ যেমনটা ইঙ্গিত দিচ্ছে,তাহলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সামগ্রিক টাকার তারল্যের ওপর এর সম্মিলিত প্রভাব ধীরে ধীরে অনেক ব্যাংকে সাম্প্রতিক নীতি সুদহার কমানোর পরও যে তহবিল সংগ্রহের চাপে এফডিআরের সুদহার চড়া রয়ে গেছে, তা কিছুটা হলেও হালকা করতে পারে।

রিজার্ভ এখনো বাড়ছে, তবু প্রতিদিনের প্রবাহ সামলাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখন ডলার কিনবে আর কখন বিক্রি করবে সে ব্যাপারে এত বাছবিচার করার সামর্থ্য কীভাবে পাচ্ছে, তা বুঝতে হলে সামগ্রিক রিজার্ভ পরিস্থিতিটাও দেখা দরকার। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব করলে, যা সাধারণত বেশি রক্ষণশীল ও আন্তর্জাতিকভাবে তুলনাযোগ্য হিসাব বলে ধরা হয়, রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। যেভাবেই হিসাব করা হোক না কেন, এই রিজার্ভ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিনিময় হারের স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা সামলানোর মতো যথেষ্ট জায়গা দেয়, তাড়াহুড়ো না করেই,সরবরাহ বেশি হলে যেমন ১ সেপ্টেম্বর কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তেমনি সরকারের দায় মেটাতে বিক্রিও করছে, যেমনটা আগের তিন মাসের বেশিরভাগ সময় ধরে করে এসেছে, এই দুই দিকের ভারসাম্য রক্ষা করেও রিজার্ভের পর্যাপ্ততা নিয়ে কোনো ঝুঁকি তৈরি না করে।

সামনে যা দেখার আছে

ব্যাংক, আমদানিকারক আর প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ১ সেপ্টেম্বরের এই হস্তক্ষেপ কি একবারের ঘটনা, নাকি এটা নিয়মিত কেনাকাটার শুরু। ঈদ ও বছরের শেষ দিকের মৌসুমে,যে সময়টায় সাধারণত প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যায়,যদি রেমিট্যান্স শক্তিশালী থাকে আর আমদানি চাহিদা কম থাকে, তাহলে গত তিন মাসের তুলনায় বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও ঘন ঘন বাজারে ক্রেতা হিসেবে ফিরতে হতে পারে। তাতে গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে রক্ষণাত্মক, ডলার-বিক্রির অবস্থান ছিল, তা বদলে একটা তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকায় যেতে পারে তারা,দাম কমলে কেনা, আর সরকারি দায় মেটানোর প্রয়োজন হলে বিক্রি করা।

আপাতত বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার আশেপাশে একটা নতুন ভিত্তি খুঁজে পেয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেনাকাটার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক এই দরের সঙ্গে নিজেদের মিলিয়ে নিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে এই দর ধরে রাখা যাবে কিনা, নাকি রেমিট্যান্স-চালিত ডলারের সরবরাহ একে আরও নিচে নামিয়ে দেবে, তার ওপরই নির্ভর করবে শুধু আমদানিকারক আর প্রবাসী আয়-নির্ভর পরিবারগুলোর খরচ-আয়ের হিসাবই না, বরং সেই নিভৃত তারল্য পরিস্থিতিও, যা ঠিক করে দেয় ব্যাংকগুলো তাদের পরবর্তী দফার ফিক্সড ডিপোজিটের দাম কতটা প্রতিযোগিতামূলকভাবে ঠিক করবে।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা ৭ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা তুলতে পারবেন, তবে একটা শর্ত আছে

একীভূত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-র আমানতকারীরা অবশেষে ২০২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের এফডিআর ও আমানতের মূল টাকা তুলতে পারবেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের লক্ষ্য থেকে ছয় দিন দেরিতে। তবে একটা শর্ত আছে, মুদারাবা মেয়াদি আমানতের পুরো টাকা এক দফায় তুলে নিলে তার ওপর অর্জিত মুনাফা হারাতে হবে। ব্যাংকটি যখন দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশি মূলধন ঘাটতির মুখোমুখি, তখন সরকার কাতারকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পাওয়ার চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদহার কমলো ৯.৫%-এ, আপনার এফডিআরের কী হবে?

বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কমিয়ে ৯.৫ শতাংশে নামিয়েছে, বহু বছর পর এটাই প্রথম বড় কাটছাঁট। একই সময়ে পাঁচটি একীভূত ইসলামি ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বিতর্কিত "হেয়ারকাট" সিদ্ধান্তও উল্টে দেওয়া হচ্ছে। যাদের এফডিআর সামনেই মেয়াদপূর্ণ হবে বা যারা সঞ্চয় হিসাবে টাকা ফেলে রেখেছেন, তাদের হিসাব-নিকাশ এখন বদলে যাচ্ছে।

পলিসি রেট কমানোর প্রভাব ও ফিক্সড ডিপোজিটের নতুন হিসাব

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদের হার কমানোর নতুন সিদ্ধান্ত, ঢাকার ব্যাংকগুলোতে ডিপিএস ও এফডিআর সুদের হার এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয় সুরক্ষার সহজ ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ।