খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৩২.৭৮ শতাংশে ওঠার মধ্যেই নতুন কেপিআই স্কোরকার্ডের সঙ্গে সিইওদের বেতন ও চাকরি জুড়ে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের প্রতিটা তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওর জন্য একটা অভিন্ন কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর কাঠামো চালু করেছে, ১ অক্টোবর থেকে প্রতি ছয় মাসে প্রায় ৩০টা সূচকে তাদের মূল্যায়ন করা হবে, দুর্বল পারফরম্যান্সকারীরা অপসারণের মুখে পড়তে পারেন আর তাদের বেতন, পুনর্নিয়োগ ও উত্তরসূরি পরিকল্পনা সরাসরি ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। স্কোরের তিন-চতুর্থাংশই নির্ভর করে সচ্ছলতা, সম্পদের মান ও সুশাসনের ওপর, আর খেলাপি ঋণের অনুপাত ও বড় ঋণ কেন্দ্রীভবনসহ ছয়টা গুরুত্বপূর্ণ সূচকে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের নিচে নামলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২৫ শতাংশ জরিমানা কাটা যাবে। এই প্রকাশনা বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের অনুপাত রেকর্ড ৩২.৭৮ শতাংশে পৌঁছানো আর বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে একটা ঘুষ কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রতিবেদনের কয়েক সপ্তাহ পরেই এই কাঠামো এলো, দুটোই ইঙ্গিত করে সেই অনিয়ন্ত্রিত পৃষ্ঠপোষকতার দিকে যা নতুন স্কোরকার্ড ঠেকাতে চাইছে।
ব্যাংক প্রধানদের জন্য নতুন মূল্যায়ন কাঠামো
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের জন্য একটা অভিন্ন কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই) কাঠামো চালু করেছে, সব ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া একটা ছয় মাস অন্তর মূল্যায়ন ব্যবস্থা মেনে চলতে, যেখানে ব্যাংক প্রধানদের প্রায় ৩০টা আলাদা সূচকে মূল্যায়ন করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেই বলেছেন কী দাঁড়িয়ে আছে এতে, দুর্বল পারফরম্যান্সের এমডি ও সিইওরা শেষ পর্যন্ত অপসারিত হতে পারেন, আর ফলাফল সরাসরি প্রভাব ফেলবে পারিশ্রমিক, প্রণোদনা, পুনর্নিয়োগ, মেয়াদ বৃদ্ধি ও উত্তরসূরি পরিকল্পনার সিদ্ধান্তে।
এই পদক্ষেপ ব্যাংক পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পদ্ধতিগত চেষ্টা, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাকে পরে জামিন, পুনঃতফসিলিকরণ আর নিয়ন্ত্রক ছাড়ের মাধ্যমে সামলানোর বদলে সমস্যাটাকে গোড়াতেই ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্কোর কীভাবে তৈরি হয়
এই কাঠামো প্রতিটা এমডি বা সিইওকে পাঁচটা ওজনযুক্ত বিভাগে মূল্যায়ন করে। ব্যাংকের সচ্ছলতা ও তারল্য স্কোরের ২৫ শতাংশ, সম্পদের মান আরেক ২৫ শতাংশ, আর সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ আরও ২৫ শতাংশ দখল করে, অর্থাৎ একজন ব্যাংক প্রধানের পুরো মূল্যায়নের তিন-চতুর্থাংশই নির্ভর করে ব্যাংকটা নিরাপদ আর সুপুঁজিকৃত রাখার মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর। বাকি চতুর্থাংশ ভাগ হয় অন্তর্ভুক্তি, গ্রাহক ও বাজার আচরণ ১৫ শতাংশ আর মুনাফা মাত্র ১০ শতাংশে, এমন একটা ওজন বণ্টন যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকের মুনাফার চেয়ে সুস্থতা আর গ্রাহকের প্রতি ন্যায্য আচরণকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
| বিভাগ | ওজন |
|---|---|
| ব্যাংকের সচ্ছলতা ও তারল্য | ২৫% |
| সম্পদের মান | ২৫% |
| সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ | ২৫% |
| অন্তর্ভুক্তি, গ্রাহক ও বাজার আচরণ | ১৫% |
| মুনাফা | ১০% |
স্কোর তিনটা ভাগে ভাগ হবে, ৭৫ বা তার বেশি হলে গড়ের চেয়ে ভালো, ৬৫ থেকে ৭৫-এর ঠিক নিচ পর্যন্ত গড় মানের, আর ৬৫-এর নিচে যা কিছু তা গড়ের চেয়ে খারাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো নির্দিষ্ট সূচকে একজন সিইও তখনই নম্বর পাবেন, যদি ব্যাংক সেই সূচকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অন্তত ৫০ শতাংশ অর্জন করে, এমন একটা সীমা যা ঠিক করা হয়েছে যাতে ব্যাংক প্রধানরা সহজ বিভাগে ভালো ফল দেখিয়ে কঠিন বিভাগগুলো চুপচাপ অবহেলা করে সামগ্রিক স্কোর ফুলিয়ে না দেখাতে পারেন।
যে ছয়টা ক্ষেত্র স্কোর ডুবিয়ে দিতে পারে
প্রধান ওজন বণ্টনের বাইরেও এই কাঠামো ছয়টা নির্দিষ্ট সূচককে গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স ক্ষেত্র হিসেবে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে, অগ্রিম-আমানত অনুপাত, স্থূল ও নিট শ্রেণীকৃত ঋণের অনুপাত দুটোই, বড় ঋণ ও শীর্ষ ঋণগ্রহীতার কেন্দ্রীভবন, শ্রেণীকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের হার, আর এসএমই, কৃষি, সবুজ অর্থায়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাপকভাবে পৌঁছানো। এই ছয়টা ক্ষেত্রের যেকোনো একটায় লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশের নিচে নামলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামগ্রিক ওজনযুক্ত স্কোর থেকে ২৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে, ব্যাংক প্রধান বাকি ক্ষেত্রে যতই ভালো করুন না কেন। এই কাঠামো কার্যত পাঁচ বিভাগের বড় মূল্যায়ন ব্যবস্থার নিচে একটা অলঙ্ঘনীয় ন্যূনতম মান তৈরি করে, যা সরাসরি লক্ষ্য করে সেসব নির্দিষ্ট ব্যর্থতাকে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট চালিত করেছে, অল্পসংখ্যক বড় ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়া, খারাপ ঋণ আদায়ে দুর্বলতা, আর সহজ কর্পোরেট ঋণের পক্ষে ছোট, সেবা দেওয়া কঠিন ঋণগ্রহীতাদের অবহেলা।
মূল্যায়ন থেকে অপসারণ পর্যন্ত
প্রথম আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন সময়কাল শুরু হবে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে চলবে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত, এরপর থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর ঘূর্ণায়মান ভিত্তিতে মূল্যায়ন চলতে থাকবে। ব্যাংকগুলোকে পর্ষদ-অনুমোদিত কেপিআই কাঠামো অনুমোদনের সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে, আর প্রতিটা মূল্যায়ন সময়কাল শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে পারফরম্যান্স পর্যালোচনা জমা দিতে হবে, এমন একটা সংক্ষিপ্ত সময়সূচি যা ব্যাংকগুলোকে প্রতিবেদন জমাদানের দায়িত্ব ধীরে চালানোর সুযোগ প্রায় দেয় না। বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কেপিআইয়ের ফলাফল সরাসরি প্রভাব ফেলবে একজন ব্যাংক প্রধানের পারিশ্রমিক ও প্রণোদনা প্যাকেজে, পাশাপাশি তাকে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হবে কিনা, মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা বা উত্তরসূরি পরিকল্পনা শুরু করা হবে কিনা তার সিদ্ধান্তেও, কার্যত একজন ব্যাংক সিইওর ক্যারিয়ার আর বেতন এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই নিয়ন্ত্রণ করা একটা স্কোরকার্ডের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে।
কেন এখন, রেকর্ড খেলাপি ঋণের প্রেক্ষাপট
সময়টা নেহাত কাকতালীয় নয়। এই প্রকাশনা এই মাসের শুরুতেই জানিয়েছিল, বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের অনুপাত জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৩২.৭৮ শতাংশে, যেখানে মাত্র দশটা ব্যাংক এখন ৬,০৬,৫৫৫ কোটি টাকার মোট খারাপ ঋণের ৭২ শতাংশের বেশির জন্য দায়ী, আর বেশ কয়েকটা ব্যাংকের খেলাপির অনুপাত ৯০ শতাংশের ওপরে। এর কয়েকদিন পরেই এই প্রকাশনা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ৪ কোটি টাকার একটা ঘুষ কেলেঙ্কারির বিস্তারিত জানিয়েছিল, যেখানে নিয়ন্ত্রকরা দেখতে পান ব্যাংক কর্মকর্তারা আতিথেয়তা খরচ আর আমানত প্রণোদনা হিসেবে সাজিয়ে ব্যক্তিগত হিসাবে টাকা সরিয়েছেন, যাতে ১৩ জন কর্মকর্তা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছেন আর দুই জন সিনিয়র কর্মকর্তা সরাসরি বরখাস্তের মুখোমুখি। সেই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা ঠিক সেই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন, নতুন কেপিআই কাঠামো যার মোকাবিলা করতে চাইছে বলেই মনে হয়, এমন পৃষ্ঠপোষকতা যাকে নিয়ন্ত্রকরা ক্রমেই খাতের অবনতিশীল সম্পদ মানের একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনার সিরিজ নয় বরং মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
এই প্রেক্ষাপটে দেখলে কেপিআই কাঠামোকে নিয়মিত প্রশাসনিক হালনাগাদের চেয়ে বেশি মনে হয় ব্যক্তিগত জবাবদিহি আর প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে থেকে যাওয়া ব্যবধান মেটানোর একটা চেষ্টা। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বছর আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে আছে বড় খেলাপিদের জন্য দীর্ঘতর পুনঃতফসিলিকরণ সুযোগ আর ফুলিয়ে দেখানো ঋণ জামানত যাচাই করতে ১৩১টা মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠানের একটা নতুন নেটওয়ার্ক, কিন্তু এই দুটো পদক্ষেপই খারাপ ঋণ দেওয়ার পরের প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে। কেপিআই স্কোরকার্ড এর বিপরীতে লক্ষ্য করে ঠিক সেইসব ব্যক্তিকে, যারা প্রথমেই ঋণ অনুমোদন করেন, আর নিশ্চিত করতে চায় তাদের নিজস্ব পারিশ্রমিক আর ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ যেন সরাসরি তাদের প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণের পরিণতির সঙ্গে যুক্ত থাকে।
স্কোরকার্ড কি সত্যিই আচরণ বদলাবে
টানা কয়েক বছর ধরে বারবার নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও খেলাপি ঋণ বেড়ে চলা একটা ব্যাংকিং খাতে কেপিআই কাঠামো অর্থপূর্ণভাবে ফলাফল বদলাতে পারবে কিনা তা এখনও খোলা প্রশ্ন। শিল্প খাতের সংশয়বাদীরা হয়তো উল্লেখ করবেন, এর আগেও অন্য রূপে পারফরম্যান্স-সংযুক্ত জবাবদিহি ব্যবস্থা ছিল, আর অতীতের পৃষ্ঠপোষকতা সমস্যার জন্য দায়ী করা একই রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত শেয়ারহোল্ডারদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত পর্ষদই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে কোনো নির্দিষ্ট সিইওর ক্ষেত্রে এই কাঠামো কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ হবে। কেপিআই ব্যবস্থার আসল পরীক্ষা হবে এর নকশা নয়, যা কাগজে-কলমে বেশ বিস্তারিত আর মোটামুটি ব্যাপক, বরং প্রশ্নটা হলো বাংলাদেশ ব্যাংক আসলেই ভালো সংযোগ থাকা ব্যাংক প্রধানদের অপসারণ বা শাস্তি দিতে প্রস্তুত কিনা যাদের প্রতিষ্ঠান খারাপ স্কোর করে, এমন কিছু যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে কঠিন মনে করেছে করতে, এমনকি যখন অন্তর্নিহিত সংখ্যাগুলো সন্দেহের বিশেষ কোনো অবকাশ রাখেনি তখনও।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
কমার্স ব্যাংকে ৪ কোটি টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বেরিয়ে এলো ব্যাংকিং খাতের গভীর সংকট
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ১৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অভিযোগ, ৪ কোটি টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে আপ্যায়ন খরচ আর আমানত সংগ্রহের প্রণোদনা হিসেবে দেখানো হয়েছিল, পরে সেই টাকা বস্তায় ভরে ঢাকার দুটি ক্লাবে পাঠানো হয়। দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সরাসরি বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে, যাদের একজন আগের কর্মস্থলে ৭৪ কোটি টাকার আরেকটি জালিয়াতি মামলায় ইতিমধ্যে অভিযুক্ত। এই কেলেঙ্কারি সামনে এলো এমন এক সময়ে, যখন খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৩২.৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে, আর অর্থনীতিবিদরা বলছেন রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রভাবের কারণেই ব্যাংক খাতের এই দুর্দশা।
ছয় বছরে প্রথমবার সুদহার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক, তবুও ঋণ নিতে রাজি নয় ব্যবসায়ীরা
জুলাই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কমিয়ে ৯.৫ শতাংশে নামিয়েছে, গত ছয় বছরে এটাই প্রথম কর্তন, তবুও জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে, যা গত ৩৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতি। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অলস পড়ে থাকা উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায়, এক বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি, কারণ ব্যাংকগুলো ঋণযোগ্য গ্রাহক খুঁজে পাচ্ছে না, আর ব্যবসায়ীরা সম্প্রসারণের আসল বাধা হিসেবে সুদহারের বদলে গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকটের কথাই বলছেন। ব্যাংকাররা বলছেন, শুধু সস্তা টাকাই যথেষ্ট নয়, বছরের পর বছর ধরে চলা জ্বালানি সংকট, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আর রেকর্ড খেলাপি ঋণের হার একসঙ্গে ঋণ দেওয়া আর নেওয়া উভয়ের আগ্রহকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩২.৭৮ শতাংশে, দশ ব্যাংকের হাতেই ৭২ শতাংশ
২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২.৭৮ শতাংশে, আর মোট ৬,০৬,৫৫৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশের বেশি আটকে আছে মাত্র দশটি ব্যাংকে। তালিকার শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, জনতা ব্যাংক আর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যাদের কয়েকটির খেলাপি হার এখন ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বড় খেলাপিদের জন্য পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়িয়ে আর জামানত যাচাইয়ের নতুন উদ্যোগ নিয়ে সাড়া দিলেও, কর্মকর্তারা নিজেরাই বলছেন সংকটের শিকড় অনেক গভীরে।