ছয় বছরে প্রথমবার সুদহার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক, তবুও ঋণ নিতে রাজি নয় ব্যবসায়ীরা
জুলাই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কমিয়ে ৯.৫ শতাংশে নামিয়েছে, গত ছয় বছরে এটাই প্রথম কর্তন, তবুও জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে, যা গত ৩৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতি। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অলস পড়ে থাকা উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায়, এক বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি, কারণ ব্যাংকগুলো ঋণযোগ্য গ্রাহক খুঁজে পাচ্ছে না, আর ব্যবসায়ীরা সম্প্রসারণের আসল বাধা হিসেবে সুদহারের বদলে গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকটের কথাই বলছেন। ব্যাংকাররা বলছেন, শুধু সস্তা টাকাই যথেষ্ট নয়, বছরের পর বছর ধরে চলা জ্বালানি সংকট, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আর রেকর্ড খেলাপি ঋণের হার একসঙ্গে ঋণ দেওয়া আর নেওয়া উভয়ের আগ্রহকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।
টাকা সস্তা হয়েছে, ক্রেতা কম
বাংলাদেশ ব্যাংক টানা দুই বছর নীতি সুদহার কঠোরভাবে ১০ শতাংশে ধরে রেখেছিল, এই ভরসায় যে চড়া সুদের চাপে একসময় মূল্যস্ফীতি কমে আসবে, আর তখন নিরাপদে সুদহার শিথিল করা যাবে। ৩০ জুলাই অবশেষে সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৯.৫ শতাংশে নামানো হয়, গত ছয় বছরে এটাই প্রথম কর্তন। বাজারে এখন আমানতের সুদহার প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংকের মতো ব্যাংক থেকে ভালো করপোরেট গ্রাহকরা ৯ থেকে ১০ শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছেন, আর ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও আগের তুলনায় অনেক কম, প্রায় ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছেন। পাঠ্যবইয়ের হিসাবে, সস্তা টাকা এখন ব্যাংকের ভল্ট থেকে বেরিয়ে নতুন কারখানা, দোকান আর ব্যবসা সম্প্রসারণে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে ব্যাংকগুলো সেই টাকা নেওয়ার মতো মানুষই খুঁজে পাচ্ছে না।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি, অর্থাৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর সাধারণ মানুষ আসলে কতটা ঋণ নিচ্ছেন তার সবচেয়ে ভালো মাপকাঠি, ২০২৬ সালের জুনে নেমে এসেছে মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে, যা গত ৩৩ বছরে, অর্থাৎ ১৯৯৩ সালের পর সবচেয়ে ধীরগতি। এটা কোনো এক মাসের হঠাৎ পতন নয়। মার্চেই প্রবৃদ্ধি নেমে গিয়েছিল ৪.৭২ শতাংশে, মে মাসে ৪.৯৮ শতাংশে, অর্থাৎ এই খাত মাসের পর মাস ধরে কয়েক দশকের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি আটকে আছে, ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে। দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি ব্যাংক সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, বছরের প্রথম নয় মাসে তাদের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ, যা তাদের নিজস্ব ঐতিহাসিক দুই অঙ্কের গড় হারের চেয়ে অনেক কম।
না দেওয়া সেই টাকা যাচ্ছে কোথায়
ঋণ হিসেবে বের না হওয়া টাকাটা তো কোথাও না কোথাও যেতেই হবে, আর ক্রমবর্ধমানভাবে সেটা জমা হচ্ছে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভেতরেই। উদ্বৃত্ত তারল্য, অর্থাৎ নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি এবং ঋণযোগ্য গ্রাহক না পাওয়ায় অলস পড়ে থাকা নগদ, ২০২৬ সালের জুন নাগাদ পৌঁছেছে প্রায় ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায়, আগের বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি, এবং ২০২৫ সালের জুনে থাকা ২ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকার চেয়েও অনেক বেশি। দুই বছর আগে এই অঙ্কটা ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। আমানত প্রবৃদ্ধি, ১০.৭৪ শতাংশ হারে, ঋণ প্রবৃদ্ধিকে অনায়াসে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, আর ব্যাংকগুলো এর জবাবে তাদের তহবিলের বড় অংশ বেসরকারি খাতে ঋণ না দিয়ে সরকারি সিকিউরিটিজে রাখছে, যা তাদের ব্যালান্স শিট নিরাপদ রাখলেও অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ চালিত প্রবৃদ্ধিতে খুব একটা কাজে আসছে না।
ব্যাংক এশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী মো. আরফান আলী এই অচলাবস্থাকে শুধু সুদহারের বদলে অর্থনীতির মূল সমস্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করেন। "বিদ্যুৎ, গ্যাস আর অবকাঠামোর সমস্যাগুলোর যথাযথ সমাধান না হলে বিনিয়োগের চাহিদা ফিরে আসবে না," তিনি বলেন, অর্থাৎ যত মুদ্রানীতি শিথিলই করা হোক না কেন, একজন কারখানা মালিক যদি ঠিকমতো বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তই না নেন, তাহলে সেটা বদলাবে না। করপোরেট ঋণ ডেস্ক থেকেও একই রকম কথা শোনা যাচ্ছে। সিটি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা স্পষ্ট করেই বলেন, "বড় করপোরেট গ্রাহকদের প্রতিযোগিতামূলক সুদহার দেওয়ার পরও গ্যাস সংকটের কারণে অনেকেই ঋণ নিতে রাজি হচ্ছেন না," অর্থাৎ চাহিদার ক্ষেত্রে সুদহার আর মূল বাধা নেই।
এক ধরনের গভীর সতর্কতা
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ঋণগ্রহীতা আর ঋণদাতা উভয়ের মধ্যে থাকা মনোভাবকে খুবই কঠোর ভাষায় বর্ণনা করেছেন, "আপনি বলতে পারেন আমরা একটা অর্থনৈতিক যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আছি," তিনি বলেন, আরও যোগ করেন, "যখন বিনিয়োগই কম, তখন মানুষ কেন ঋণ নেবে? সার্বিকভাবে পরিস্থিতি বেশ হতাশাজনক।" তার এই মন্তব্য শুধু সুদহারের গল্পের চেয়ে বেশি কিছু ইঙ্গিত করে, বছরের পর বছর ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, আর সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড খেলাপি ঋণ নিয়ে ব্যাংক খাতের হিসাব-নিকাশের পর ব্যবসায়িক আস্থার একটা ব্যাপক পশ্চাদপসরণ, যার কারণে তারল্য উদ্বৃত্ত থাকলেও অনেক ঋণদাতা নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হয়ে উঠেছেন।
এই সতর্কতা অমূলক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ মো. আখতার হোসেন ঋণ বাজারকে সরবরাহের দিক থেকে টেনে ধরা একই ধরনের সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, "৩০ শতাংশের বেশি ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে," তিনি উল্লেখ করেন, যা জুন নাগাদ ৩২.৭৮ শতাংশে পৌঁছানো খাতজুড়ে খেলাপি ঋণের হারের কথাই বলে, যা মাত্র তিন মাস আগে ছিল ৩২.২৬ শতাংশ। খেলাপি ঋণ মূলধন খেয়ে ফেলছে আর প্রভিশনিং প্রয়োজনীয়তা ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা তহবিল আটকে রাখছে বলে, নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে খাতের এই সতর্কতার একটা অংশ শুধু ইচ্ছুক গ্রাহকের অভাব নয়, বরং ব্যালান্স শিটের সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম ঋণ প্রবৃদ্ধির এই ধীরগতিকে খাতজুড়ে উল্লেখ করা একই কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেন, "গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার রেশ, আর বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনও সীমাবদ্ধ।"
সংখ্যায় প্রবণতা
পাশাপাশি দেখলে বোঝা যায়, গত কয়েক মাসে ঋণ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড সর্বনিম্নের কাছাকাছি আটকে আছে, অথচ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অলস পড়ে থাকা নগদের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে, যা স্পষ্ট করে দেয় যে শুধু সুদহার কমানো টাকা আবার সচল করার জন্য যথেষ্ট হয়নি।
| সময়কাল | বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি |
|---|---|
| মার্চ ২০২৬ | ৪.৭২% |
| মে ২০২৬ | ৪.৯৮% |
| জুন ২০২৬ | ৪.৪৭% (৩৩ বছরের সর্বনিম্ন) |
| সময়কাল | ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্য |
|---|---|
| জুন ২০২৪ (আনুমানিক) | ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা |
| জুন ২০২৫ | ২ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা |
| জুন ২০২৬ | ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা |
এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী করবে
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে নিজের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে এনেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য আগের ৮.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫.৫ শতাংশ করেছে, যা স্বীকার করে নেয় যে সফল প্রণোদনা কর্মসূচি হলেও প্রবৃদ্ধি সম্ভবত ৭ থেকে ৮ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে, যেখানে অর্থনীতিবিদরা বলছেন ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছুঁতে দরকার ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটা অস্বস্তিকর অবস্থানে পড়ে গেছে। তাদের হাতে থাকা একমাত্র হাতিয়ার, নীতি সুদহার, এখন গত ছয় বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে, তবুও চাহিদার দিকটা পাঠ্যবই অনুযায়ী সাড়া দিচ্ছে না। জুলাইয়ের সুদহার কর্তন সত্যিকারের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু হবে, নাকি আরও কয়েক দফা কর্তনের প্রথমটি মাত্র, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিষয়গুলোর ওপর, বিশেষ করে গ্যাস আর বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতার ওপর, পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আর ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ জালিয়াতির মামলাগুলো পরিষ্কার করার কাজ কতটা আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে তার ওপরও, যাতে ঋণদাতারা আবার সত্যিকার অর্থে হ্যাঁ বলা শুরু করেন।
দুই গতির আমানত বাজার
সব ব্যাংক সমান অবস্থানে থেকে আমানতকারীদের জন্য প্রতিযোগিতা করছে না, যা খাতের এই সতর্কতার একটা অংশ ব্যাখ্যা করে। সুস্থ ব্যাংকগুলো যেখানে প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ আমানত সুদহার দিচ্ছে, সেখানে নিজেদের খেলাপি ঋণের বোঝা এখনও সামলাতে থাকা দুর্বল ব্যাংকগুলো, যাদের কয়েকটি অতীত ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতার পর এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ তদারকিতে আছে, আমানত ধরে রাখতে আর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে যেমনটা হয়েছিল সেরকম হঠাৎ উত্তোলনের চাপ এড়াতে ১১ থেকে ১২ শতাংশ সুদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। এই ফারাক বলে দেয়, ব্যবস্থায় জমে থাকা উদ্বৃত্ত তারল্যও সমানভাবে বণ্টিত নয়, শক্তিশালী ব্যাংকগুলোই লাভজনক জায়গা না পেয়ে অলস নগদের ওপর বসে আছে, আর দুর্বল ব্যাংকগুলো এখনও নিজেদের বর্তমান আমানত ধরে রাখার লড়াইয়েই ব্যস্ত। অর্থাৎ একটা অভিন্ন নীতি সুদহার কর্তন এমন একটা ব্যাংক খাতে পড়ছে যা মোটেও অভিন্ন নয়।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
কমার্স ব্যাংকে ৪ কোটি টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বেরিয়ে এলো ব্যাংকিং খাতের গভীর সংকট
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ১৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অভিযোগ, ৪ কোটি টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে আপ্যায়ন খরচ আর আমানত সংগ্রহের প্রণোদনা হিসেবে দেখানো হয়েছিল, পরে সেই টাকা বস্তায় ভরে ঢাকার দুটি ক্লাবে পাঠানো হয়। দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সরাসরি বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে, যাদের একজন আগের কর্মস্থলে ৭৪ কোটি টাকার আরেকটি জালিয়াতি মামলায় ইতিমধ্যে অভিযুক্ত। এই কেলেঙ্কারি সামনে এলো এমন এক সময়ে, যখন খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৩২.৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে, আর অর্থনীতিবিদরা বলছেন রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রভাবের কারণেই ব্যাংক খাতের এই দুর্দশা।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩২.৭৮ শতাংশে, দশ ব্যাংকের হাতেই ৭২ শতাংশ
২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২.৭৮ শতাংশে, আর মোট ৬,০৬,৫৫৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশের বেশি আটকে আছে মাত্র দশটি ব্যাংকে। তালিকার শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, জনতা ব্যাংক আর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যাদের কয়েকটির খেলাপি হার এখন ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বড় খেলাপিদের জন্য পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়িয়ে আর জামানত যাচাইয়ের নতুন উদ্যোগ নিয়ে সাড়া দিলেও, কর্মকর্তারা নিজেরাই বলছেন সংকটের শিকড় অনেক গভীরে।
ঋণের জামানত অতিমূল্যায়ন ঠেকাতে ১৩১ প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করল বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের জামানত হিসেবে রাখা সম্পদের স্বাধীন মূল্যায়নের জন্য দুই ভাগে ভাগ করা ১৩১টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করেছে। জমি, ভবন বা যন্ত্রপাতির দাম বাড়িয়ে দেখিয়ে বড় ঋণ বের করার যে পুরোনো কৌশল বছরের পর বছর জালিয়াতিতে ইন্ধন জুগিয়েছে, তা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। এক কোটি টাকার বেশি ঋণে এখন অনুমোদিত মূল্যায়নকারীর সম্মতি লাগবে, আর খেলাপি ঋণের হার বেশি এমন ব্যাংকের জন্য শর্ত আরও কঠোর। ব্যাংকাররা বলছেন এই কাঠামো জালিয়াতি আগেভাগে ধরতে সাহায্য করতে পারে, তবে তা নির্ভর করছে কতটা কঠোরভাবে তা প্রয়োগ হয় তার ওপর।