ব্যাংকিং ও এফডিআর

কমার্স ব্যাংকে ৪ কোটি টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বেরিয়ে এলো ব্যাংকিং খাতের গভীর সংকট

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬6 মিনিটের পড়া

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ১৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অভিযোগ, ৪ কোটি টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে আপ্যায়ন খরচ আর আমানত সংগ্রহের প্রণোদনা হিসেবে দেখানো হয়েছিল, পরে সেই টাকা বস্তায় ভরে ঢাকার দুটি ক্লাবে পাঠানো হয়। দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সরাসরি বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে, যাদের একজন আগের কর্মস্থলে ৭৪ কোটি টাকার আরেকটি জালিয়াতি মামলায় ইতিমধ্যে অভিযুক্ত। এই কেলেঙ্কারি সামনে এলো এমন এক সময়ে, যখন খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৩২.৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে, আর অর্থনীতিবিদরা বলছেন রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রভাবের কারণেই ব্যাংক খাতের এই দুর্দশা।

সাধারণ একটা শব্দের আড়ালে লুকানো কারসাজি

কাগজে-কলমে দেখতে একদম সাধারণ একটা হিসাব। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক সবেমাত্র গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকার একটা এফডিআর পেয়েছিল, সুদহার মাত্র ২.৫ শতাংশ, মানে ব্যাংকের জন্য খুবই লাভজনক একটা আমানত, যেটার জন্য দেশের প্রায় সব ব্যাংকই মুখিয়ে থাকে। কিন্তু এই আমানত আনার প্রক্রিয়ার মধ্যেই ৪ কোটি টাকা চুপচাপ ঢুকে গিয়েছিল ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে, খাতায় দেখানো হয়েছিল "আপ্যায়ন খরচ" আর আলাদাভাবে ব্যাংকের "উজ্জীবন" আমানত সংগ্রহ কর্মসূচির প্রণোদনা হিসেবে। এই পুরো কাজের জন্য বোর্ডের কোনো অনুমোদনই ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন বলছে, টাকা ঢোকার পরপরই দ্রুত হাতবদল হয়ে যায়। ৭ জুন ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা তোলা হয় এবং শোনা যায়, বস্তায় ভরে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার উত্তরা ক্লাবে। পরদিন ৯৬ লাখ টাকা একইভাবে চলে যায় গুলশান ক্লাবে। পুরো টাকাটাই তোলা হয়েছিল ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে ইস্যু করা চৌদ্দটি চেকের মাধ্যমে।

২৫ আগস্ট এক নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এই ঘটনায় কড়া অবস্থান নেয়, ব্যাংককে এক মাসের মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে রিপোর্ট করতে বলে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিষয়টা সরাসরি বলে দিয়েছে, গ্রাহকের কাছ থেকে কম সুদে আমানত নিয়ে খাতায় বেশি সুদ দেখানো হয়েছিল, আর মাঝখানের পার্থক্যটা কর্মকর্তারা নগদ প্রণোদনা হিসেবে পকেটে ভরেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে, "আমানত সংগ্রহের জন্য কোনো প্রণোদনা দেওয়ার সুযোগই নেই", এবং এই কাজটাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় পড়া গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

দুইজন বরখাস্ত, এগারোজনকে কড়া তিরস্কার

এই ঘটনায় মোট ১৩ জন কর্মকর্তার নাম এসেছে, যারা ছড়িয়ে আছেন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, প্রধান শাখা আর দিলকুশা শাখায়। সবচেয়ে কঠোর শাস্তি, অর্থাৎ চাকরিচ্যুতির মুখে পড়েছেন দুইজন, মো. দেলোয়ার হোসেন, যিনি ট্রেজারি বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, এবং মো. হামিদুর রহমান, যিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সচিব ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এদের মধ্যে আছেন ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে সাধারণ অফিসার পর্যায়ের কর্মীরাও।

দেলোয়ার হোসেনের অতীত ইতিহাস দেখলে এই ঘটনাকে নিছক একটা বিচ্ছিন্ন ভুল বলে চালিয়ে দেওয়া কঠিন। কমার্স ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি এনআরবিসি ব্যাংক থেকে অন্য অনিয়মের কারণে বরখাস্ত হয়েছিলেন, এবং বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলায় তার নাম আছে, যেখানে প্রায় ৭৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এবং ট্রেড বেসড মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও জড়িত। এমন অতীত রেকর্ড থাকা একজন ব্যাংকার কীভাবে আবার একটা ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের শীর্ষে বসলেন, সেই প্রশ্নটাই এখন নিয়ন্ত্রক ও খাত সংশ্লিষ্টদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে। এটা শুধু একটা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি নয়, বরং একবার চিহ্নিত হওয়া ব্যক্তিদের পুরো খাতজুড়ে ট্র্যাক করার ব্যবস্থাতেই একটা বড় ফাঁক আছে বলে মনে করছেন অনেকে।

একেবারে খারাপ সময়ে সামনে এলো কেলেঙ্কারিটা

সময়টাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব বলছে, জুন ২০২৬ শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায়, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশ, একটা রেকর্ড উচ্চতা এবং মাত্র তিন মাস আগে মার্চে থাকা ৩২.২৬ শতাংশ বা ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকার তুলনায় বড় লাফ। শুধু ১০টি ব্যাংকই এখন মোট খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশের বেশির জন্য দায়ী। বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত দিক থেকে বড় খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে, আর কমার্স ব্যাংকের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার মাত্র কয়েকদিন আগেই এক কোটি টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে নতুন তালিকাভুক্ত ১৩১টি মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জামানত স্বাধীনভাবে যাচাই করা বাধ্যতামূলক করেছে, যাতে গ্রাহকরা সম্পদের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি ঋণ বের করতে না পারেন।

ব্যাংক খাত নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তাদের অনেকেই মনে করেন কমার্স ব্যাংকের মতো ঘটনাগুলো খেলাপি ঋণ সংকটের পাশের কোনো বিষয় নয়, বরং এর মূল কারণের খুব কাছাকাছি। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান স্পষ্ট করেই বলেছেন খাতের অবস্থা কেমন, "সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, ব্যাংক খাতের একটা বিশাল অংশের খেলাপি ঋণ কার্যত অনাদায়যোগ্য হয়ে যেতে পারে," তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা নিয়ন্ত্রক শিথিলতা, ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিল করা আর বারবার ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগের দিকে ইঙ্গিত করে, যার ফলে দুর্বল ঋণগুলো খাতায় আসলের চেয়ে ভালো দেখানো হয়েছে। তিনি এই হিসাবরক্ষণ শিথিলতাকে খাতের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য "সবচেয়ে খারাপ ঘটনা" বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম এই সমস্যার শিকড় আরও গভীরে খুঁজে পান, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ দখলের বিতর্কিত ঘটনার মধ্যে, যেটাকে তিনি এবং অন্য ব্যাংকাররা খাতের শৃঙ্খলার ওপর প্রায় শেষ আঘাত বলে মনে করেন। এই ঘটনাই একটা ধারণা পাকাপোক্ত করে দেয় যে রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকলে ঋণযোগ্যতার দরকার নেই। "ব্যাংকের উচিত গ্রাহকের নগদ প্রবাহ দেখে ঋণ দেওয়া, শুধু সুনাম, প্রভাব বা জামানতের ওপর ভরসা করে নয়," ইসলাম বলেন, আর যোগ করেন এখন যা দরকার তা হলো "নিয়ম ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা," শুধু নতুন কাগুজে নিয়ম নয়। ল্যাংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হুমায়রা আজম বিষয়টা আরও সরাসরি ভাষায় বলেছেন, বড় খেলাপিরা এখনও "ঘুরে বেড়াচ্ছেন, জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান করছেন," আর সৎ আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতারাই এমন একটা ব্যবস্থার খরচ বহন করছেন, যেখানে খারাপ কাজের জন্য প্রকৃত মূল্য দিতে হয় খুব কমই।

সংখ্যাগুলো যা বলছে

পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, মাত্র এক বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি কত দ্রুত খারাপ হয়েছে, এবং কেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর চাপ বাড়ছে শুধু কাগজে নিয়ম না বানিয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে প্রকৃত শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য।

সময়কালখেলাপি ঋণখেলাপি ঋণের হার
মার্চ ২০২৬৫,৮৮,৭০৪ কোটি টাকা৩২.২৬%
জুন ২০২৬৬,০৬,৫৫৫ কোটি টাকা৩২.৭৮%

এরপর কী হবে

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংককে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে তারা কীভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করেছে, আর এই সময়সীমাই প্রথম আভাস দেবে কাগজে ঘোষিত শাস্তি আসলেই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে কিনা। রেকর্ড খেলাপি ঋণের ধাক্কা সামলাতে থাকা একটা ব্যাংক খাতের জন্য, আর জামানত যাচাইয়ের নতুন কর্মসূচি এখনও চালু করার মধ্যে থাকা অবস্থায়, এই ঘটনাটা ছোট হলেও অনেক কিছু বলে দেয়। একটা ব্যাংক যদি গ্রাহকের আমানত প্রণোদনার টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে, কয়েক দিনের মধ্যে সেই নগদ ক্লাবে পাঠিয়ে দিতে পারে, আর তারপরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন আর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা লাগে ব্যবস্থা নিতে, তাহলে বোঝা যায় বাংলাদেশ ব্যাংক যে প্রয়োগের ঘাটতি বন্ধ করার চেষ্টা করছে সেটা একটা নির্দেশনায় সমাধান হওয়ার মতো নয়। খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের কথায় একটা জায়গায় মিল পাওয়া যায়, নিয়ম কাগজে-কলমে আগে থেকেই আছে। যেটার অভাব বলে তারা মনে করছেন, সেটা হলো কে জড়িত তা না দেখে ধারাবাহিকভাবে সেই নিয়ম প্রয়োগ করার সদিচ্ছা।

যে আস্থার সংকট কাগজে ঢেকে রাখা যায় না

এই ধরনের ঘটনাগুলো ব্যাংক খাতের ইতিমধ্যে একাধিক ফ্রন্টে চলা আস্থার সংকটকেই আরও ঘনীভূত করে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে আমানতকারীদের জন্য দরজা খুলে দিতে হয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক উত্তোলনের পরিমাণ ৫,০০০ কোটি টাকায় বেঁধে দেওয়ার পর, প্রথম চার কার্যদিবসেই ৭৪,২২১ জন গ্রাহক ৩,৯২৫ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন, পরে দৈনিক চাহিদা কমতে শুরু করে। সেই ঘটনার সঙ্গে কমার্স ব্যাংকের এই মামলার সরাসরি সম্পর্ক নেই, কিন্তু এটা বিশ্লেষকদের বারবার তুলে ধরা একই অন্তর্নিহিত বিষয়টাই দেখায়, আমানতকারীরা একবার বুঝে গেলে একটা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ বিশ্বাসযোগ্য নয়, তখন সচ্ছল প্রতিষ্ঠানও দেউলিয়াত্বের কারণে নয়, বরং আস্থাহীনতার কারণে গ্রাহকদের হুড়োহুড়ি করে টাকা তোলার মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য কমার্স ব্যাংকের মতো ঘটনাগুলো শুধু ১৩ জনকে শাস্তি দেওয়ার বিষয় নয়, বরং কোটি কোটি আমানতকারীকে এটা দেখানোরও বিষয় যে তদারকি আসলেই কাজ করে, এমন একটা সময়ে যখন এই খাত আরেকটা আস্থার সংকট নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

ছয় বছরে প্রথমবার সুদহার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক, তবুও ঋণ নিতে রাজি নয় ব্যবসায়ীরা

জুলাই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কমিয়ে ৯.৫ শতাংশে নামিয়েছে, গত ছয় বছরে এটাই প্রথম কর্তন, তবুও জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে, যা গত ৩৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতি। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অলস পড়ে থাকা উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায়, এক বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি, কারণ ব্যাংকগুলো ঋণযোগ্য গ্রাহক খুঁজে পাচ্ছে না, আর ব্যবসায়ীরা সম্প্রসারণের আসল বাধা হিসেবে সুদহারের বদলে গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকটের কথাই বলছেন। ব্যাংকাররা বলছেন, শুধু সস্তা টাকাই যথেষ্ট নয়, বছরের পর বছর ধরে চলা জ্বালানি সংকট, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আর রেকর্ড খেলাপি ঋণের হার একসঙ্গে ঋণ দেওয়া আর নেওয়া উভয়ের আগ্রহকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩২.৭৮ শতাংশে, দশ ব্যাংকের হাতেই ৭২ শতাংশ

২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২.৭৮ শতাংশে, আর মোট ৬,০৬,৫৫৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশের বেশি আটকে আছে মাত্র দশটি ব্যাংকে। তালিকার শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, জনতা ব্যাংক আর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যাদের কয়েকটির খেলাপি হার এখন ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বড় খেলাপিদের জন্য পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়িয়ে আর জামানত যাচাইয়ের নতুন উদ্যোগ নিয়ে সাড়া দিলেও, কর্মকর্তারা নিজেরাই বলছেন সংকটের শিকড় অনেক গভীরে।

ঋণের জামানত অতিমূল্যায়ন ঠেকাতে ১৩১ প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের জামানত হিসেবে রাখা সম্পদের স্বাধীন মূল্যায়নের জন্য দুই ভাগে ভাগ করা ১৩১টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করেছে। জমি, ভবন বা যন্ত্রপাতির দাম বাড়িয়ে দেখিয়ে বড় ঋণ বের করার যে পুরোনো কৌশল বছরের পর বছর জালিয়াতিতে ইন্ধন জুগিয়েছে, তা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। এক কোটি টাকার বেশি ঋণে এখন অনুমোদিত মূল্যায়নকারীর সম্মতি লাগবে, আর খেলাপি ঋণের হার বেশি এমন ব্যাংকের জন্য শর্ত আরও কঠোর। ব্যাংকাররা বলছেন এই কাঠামো জালিয়াতি আগেভাগে ধরতে সাহায্য করতে পারে, তবে তা নির্ভর করছে কতটা কঠোরভাবে তা প্রয়োগ হয় তার ওপর।