বাংলাদেশ ৯০ দিনে পুঁজিবাজার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিল, দ্রুত আইপিও থেকে ডেরিভেটিভস মার্কেট পর্যন্ত
প্রধানমন্ত্রীর পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী বলছেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই বিপর্যস্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে, যার পেছনে আছে একটা বিস্তারিত সংস্কার তালিকা, যেখানে আইপিও অনুমোদনের সময় দুই বছর থেকে কমিয়ে কয়েক মাসে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও আছে। এই প্রস্তাবের ভিত্তি এমন একটা বাজার যেখানে ভারত বা থাইল্যান্ডের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় দৈনিক লেনদেনের হার প্রায় অর্ধেক, আর এমন একটা ব্যাংকিং ব্যবস্থা যাকে দেশের নিজস্ব সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রকই বিপজ্জনকভাবে স্বল্পমেয়াদি আমানত আর দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলছে। এই প্রতিশ্রুতিগুলো এমন এক সপ্তাহে এসেছে যখন মুডিস বাংলাদেশের সার্বভৌম দৃষ্টিভঙ্গি স্থিতিশীল করেছে আর ডিএসইএক্স টানা পাঁচ কার্যদিবসের পতনের পর একটা ভঙ্গুর ঘুরে দাঁড়ানো অব্যাহত রেখেছে। এর আগেও এমন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এসেছে আর হারিয়ে গেছে, তাই বিনিয়োগকারীরা সম্ভবত এবার কথার চেয়ে ফলাফল দিয়েই বিচার করবেন।
সরকারি উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি, তিন মাসেই ফল মিলবে
প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি ১৬ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই দেশের বিপর্যস্ত শেয়ারবাজারে দৃশ্যমান আর ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে। এমন একটা বাজারের জন্য এটা বেশ সাহসী সময়সীমা, যেটা গত এক বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে সংক্ষিপ্ত উত্থান আর তীব্র দরপতনের মধ্যে দোল খেয়েছে, সবশেষ ঘটনা হলো টানা পাঁচ কার্যদিবসের পতন যাতে প্রায় ৬,৪০০ কোটি টাকার বাজারমূল্য মুছে গিয়েছিল, আর এরপর নিয়ন্ত্রকরা শীর্ষ ত্রিশটি ব্রোকারেজ হাউসকে জরুরি বৈঠকে ডাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। তার বক্তব্যের মূল কথা এটা নয় যে বাজারের সমস্যাগুলো ছোট, বরং তিনি বলছেন সরকারের হাতে অবশেষে সঠিক লোকবল আর সঠিক পরিকল্পনা এসেছে সেগুলো সমাধানের জন্য।
তার যুক্তির কেন্দ্রে আছে এই বিষয়টা যে বাংলাদেশের বাজার এখনও বিপজ্জনকভাবে খুচরা বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভরশীল, যে কাঠামোর কারণেই এই বছর বারবার আতঙ্কিত বিক্রির চাপে ঢাকার শেয়ারবাজার আঘাত পেয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে একটা প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণের নিয়মই বড় ধরনের দরপতন ঘটিয়েছিল, আর সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক আর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো শীর্ষ শেয়ার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই অর্থবছরের বেশিরভাগ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে টাকা তুলে নিচ্ছেন। গনির সমাধান হলো বিনিয়োগকারীর ভিত্তিটাই বড় করা, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ আর দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বাড়িয়ে, যাতে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ওপর ভর করে বাজার আর হুট করে দুলে না ওঠে।
সংস্কারের তালিকা
গনি যেসব সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির কথা বলেছেন, তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সবচেয়ে বিস্তারিত পুঁজিবাজার সংস্কার পরিকল্পনাগুলোর একটা। তিনি বলেছেন, আইপিও অনুমোদনের সময় বর্তমান আঠারো থেকে চব্বিশ মাস থেকে কমিয়ে মাত্র দুই থেকে তিন মাসে নামিয়ে আনা হবে, যা কার্যকর হলে বাংলাদেশের তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছাকাছি চলে আসবে, আর তত্ত্বগতভাবে বেড়ে ওঠা কোম্পানিগুলোর জন্য পুরোপুরি ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর না করে পাবলিক মার্কেট থেকে টাকা তোলা অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোতে নেগেটিভ ইকুইটিকে পজিটিভ ইকুইটিতে রূপান্তরের জন্য তিন বছরের একটা পরিকল্পনার কথা, যা ইঙ্গিত দেয় যে ঢাকার তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ বুক ভ্যালুর নিচে লেনদেন হচ্ছে বা ব্যালান্স শিটে এমন ক্ষতি বহন করছে যা ঢেকে না রেখে সমাধান করা দরকার।
যা আছে তা ঠিক করার পাশাপাশি, গনি এমন কিছু পণ্যের কথাও বলেছেন যেগুলো এই মুহূর্তে বাজারে প্রায় নেই, যেমন একটা ডেরিভেটিভস মার্কেট, আর একটা কমোডিটি এক্সচেঞ্জ, যেগুলো বিনিয়োগকারীদের হাতে শুধু কিনে ধরে রাখার বদলে ঝুঁকি এড়ানোর হাতিয়ার তুলে দেবে। তিনি এমন একটা কাঠামোগত সমস্যার কথাও তুলেছেন যা নিয়ে ব্যাংকাররা নিজেরাই দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, অর্থাৎ বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রায়ই স্বল্পমেয়াদি আমানত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন করে, যা ব্যাংক ব্যবস্থায় বাড়তি ঝুঁকি যোগ করে। এই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বেশিরভাগ বন্ড আর অন্যান্য উপকরণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের দিকে নিয়ে যাওয়াই এই চাপ কিছুটা কমানোর আর শেয়ার ও ঋণপত্র বাজারকে আরও গভীর করার লক্ষ্য। তালিকার শেষে গনি বলেছেন, সরকার কর আর ব্যাংকিং সংক্রান্ত নিয়মকানুনে যে আইনি বাধাগুলো বর্তমানে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে, সেগুলো সরানোর কাজ করছে, যদিও ঠিক কোন নিয়মগুলো লক্ষ্য করা হচ্ছে তা নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
প্রতিবেশীদের তুলনায় বাংলাদেশের বাজার কেন এত পাতলা
বাংলাদেশের বাজারের কার্যক্রমকে একই আকারের অন্য অর্থনীতির সঙ্গে পাশাপাশি রাখলে চ্যালেঞ্জের মাত্রাটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর মাত্র কয়েকদিন আগে ১২ সেপ্টেম্বর এক পৃথক অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছিলেন, বাংলাদেশের দৈনিক লেনদেন ও বাজার মূলধনের অনুপাত প্রায় ০.১৪ শতাংশ, যা ভিয়েতনামের ০.২১ শতাংশ, পাকিস্তানের ০.১৯ শতাংশ, ভারতের ০.২৬ শতাংশ বা থাইল্যান্ডের ০.২৩ শতাংশের চেয়ে অনেক কম। সহজ কথায়, তুলনামূলক অর্থনীতির তুলনায় ঢাকার বাজারে টাকার প্রবাহ অনেক কম গতিতে ঘোরে, যা একদিকে প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণের অভাব আর অন্যদিকে খুচরা বিনিয়োগকারী নির্ভর লেনদেন কাঠামোরই একটা লক্ষণ, যা গনিও বলছিলেন।
| বাজার | দৈনিক লেনদেন ও বাজার মূলধনের অনুপাত |
|---|---|
| বাংলাদেশ | ০.১৪% |
| পাকিস্তান | ০.১৯% |
| থাইল্যান্ড | ০.২৩% |
| ভিয়েতনাম | ০.২১% |
| ভারত | ০.২৬% |
খানের নিজের প্রস্তাবগুলো গনির সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়, যা থেকে বোঝা যায় বিএসইসি আর বৃহত্তর সরকারের মধ্যে অন্তত সংস্কারের অগ্রাধিকার নিয়ে কিছুটা সমন্বয় আছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ব্যাংক ঋণের ওপর ভরসা না করে বাংলাদেশের আরও ভালো মানের কোম্পানি দরকার যারা তালিকাভুক্ত হতে রাজি হবে, আর সরাসরি সতর্ক করে দিয়েছেন যে ব্যাংক এক বছরের আমানত নিয়ে আট বছরের ঋণ দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা কয়েকদিন পরে গনির তোলা মেয়াদ অসামঞ্জস্যের সমস্যারই প্রতিধ্বনি। খানের সংস্কার তালিকায় ছিল কোম্পানি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করা, নতুন আইপিও ও সরাসরি তালিকাভুক্তির বিকল্প খতিয়ে দেখা, আর আন্তর্জাতিক ধাঁচের বুক বিল্ডিং পদ্ধতির দিকে যাওয়া, যা বাংলাদেশের প্রচলিত নির্দিষ্ট মূল্য পদ্ধতির চেয়ে বাস্তবসম্মত শেয়ারমূল্য নির্ধারণে সাহায্য করবে। একই অনুষ্ঠানে আইডিএলসির চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার বন্ড মার্কেট বিস্তৃত করার আহ্বান জানান, বিশেষভাবে পনেরো থেকে বিশ বছরের অর্থায়নের চাহিদা মেটানোর জন্য, যা বড় অবকাঠামো প্রকল্পের প্রয়োজন হলেও ব্যাংক আমানত বা স্বল্পমেয়াদি উপকরণ দিয়ে সহজে মেটানো যায় না।
যে উত্থান প্রতিশ্রুতিগুলোকে গতি জুগিয়েছে
গনির মন্তব্য এমন এক সপ্তাহে এসেছে যখন বাজার নিজেই সামান্য ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর ডিএসইএক্স সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৪৯৪ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৯৩ পয়েন্ট বৃদ্ধির সঙ্গে যোগ হয়েছে, কারণ মুডিসের বাংলাদেশের সার্বভৌম দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল করার সিদ্ধান্ত, আর দেশের শিল্প গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাসের সঙ্গে মিলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। লেনদেনের পরিমাণ ১০ শতাংশ বেড়ে ৫৫৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, দিনের মোট লেনদেনের এক চতুর্থাংশের বেশি এসেছে বস্ত্র খাত থেকে। একটা সংস্কার প্রস্তাব বিক্রির জন্য এটা বেশ সহায়ক প্রেক্ষাপট, কারণ যে বাজার ইতিমধ্যে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তার কাছে বহু বছরের একটা সংস্কার পরিকল্পনা বিক্রি করা, এখনও পতনের মধ্যে থাকা বাজারের চেয়ে অনেক সহজ। তবে এটা গনির বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ঝুঁকিও বহন করে, এই বছরের আরও কয়েকটা উত্থানের মতো যদি এই উত্থানও স্বল্পস্থায়ী প্রমাণিত হয়, তাহলে সংস্কার প্রতিশ্রুতিগুলো আসলেই বাস্তবায়িত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ কমার বদলে বরং বাড়বে।
পরিচিত প্রতিশ্রুতি, নতুন দল
বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ঠিক করার প্রতিশ্রুতি এই প্রথমবার দেওয়া হচ্ছে না। গনির মতে এবার যেটা কিছুটা ভিন্ন, তা হলো নিয়ন্ত্রক নেতৃত্বের গঠন নিজেই, যাকে তিনি বিএসইসির শীর্ষ পর্যায়ে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর এখন একটা দক্ষ দল বলে বর্ণনা করেছেন। পূর্বসূরিরা যেখানে সংগ্রাম করেছেন সেখানে নতুন কর্মকর্তাদের এই দল সফল হতে পারবে কিনা, তা একটা খোলা প্রশ্ন, আর ইতিহাস এ বিষয়ে সতর্ক থাকার যথেষ্ট কারণ দেয়। বাংলাদেশের পুঁজিবাজার গত এক দশকে একাধিক সংস্কার উদ্যোগ সহ্য করেছে, আইপিও নিয়ম নতুন করে লেখা থেকে শুরু করে আগের বিএসইসি নেতৃত্ব পরিবর্তন পর্যন্ত, কিন্তু লেনদেনের গভীরতা, প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার দিক থেকে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ব্যবধান পুরোপুরি ঘোচেনি।
অন্তত কাগজে কলমে যেটা সুনির্দিষ্টভাবে বদলেছে তা হলো বর্তমান প্রতিশ্রুতিগুলোর নির্দিষ্টতা। আইপিও অনুমোদনের সময় প্রায় আট গুণ কমিয়ে, দুই বছর থেকে কয়েক মাসে নামিয়ে আনা একটা পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য, যা হয় ঘটবে না হয় ঘটবে না, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর মতো অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতির চেয়ে ভিন্ন। তিন বছরের নেগেটিভ ইকুইটি রূপান্তর পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যা বাজারকে অগ্রগতি বিচার করার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়। এই নির্দিষ্টতা দুই দিক থেকেই কাজ করে, এটা সরকারকে জবাবদিহি করা সহজ করে দেয়, কিন্তু একই সঙ্গে সময়সীমা মিস করলে তা স্বাভাবিক বাজার অস্থিরতা বলে এড়িয়ে যাওয়াও কঠিন করে তোলে।
আসলে কী পরিবর্তন আনবে
বাজার সংশ্লিষ্টরা আর কর্মকর্তারা সমস্যার নির্ণয়ের ব্যাপারে একমত মনে হচ্ছে, যদিও গুরুত্বের দিক থেকে তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে। খুচরা টাকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল বাজার সহজেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। দশক মেয়াদি প্রকল্পে স্বল্পমেয়াদি আমানত দিয়ে অর্থায়নের চাপ ব্যাংক ব্যবস্থায় লুকানো ঝুঁকি তৈরি করে। প্রায় দুই বছর সময় নেওয়া তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া ঠিক সেই ধরনের বেড়ে ওঠা, ভালো মূলধনযুক্ত কোম্পানিগুলোকেই নিরুৎসাহিত করে যারা বাজারকে গভীর আর স্থিতিস্থাপক করে তুলতে পারত। এই সমস্যাগুলোর যেকোনো একটা আলাদাভাবে ঠিক করলে সামান্যই সাহায্য হবে। গনির বলা দুই থেকে তিন মাসের সময়সীমার মধ্যে এই সবকটা সমাধান করতে পারলে তা সত্যিকার অর্থে একটা বড় অর্জন হবে এমন একটা বাজারের জন্য যেটা ২০২৬ সালের বেশিরভাগ সময় এক ধাক্কা থেকে আরেক ধাক্কায় হেলেদুলে চলেছে, জ্বালানি সংকট, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বের হয়ে যাওয়া, আতঙ্কিত বিক্রির পর্ব, আর এখন মুডিসের সহায়তায় একটা ভঙ্গুর ঘুরে দাঁড়ানো। আগামী কয়েক মাসে ঢাকার এক্সচেঞ্জের দিকে নজর রাখা বিনিয়োগকারীরা দেখবেন কর্মকর্তারা কতবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তা নয়, বরং আইপিও অনুমোদনের সময়, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক প্রবাহ আর লেনদেনের পরিমাণ আসলেই সরকারের প্রতিশ্রুত দিকে এগোচ্ছে কিনা।
তথ্যসূত্র
- 1Visible changes in capital market expected within 2-3 months: Tanvir Shahriar Ghani (The Business Standard)
- 2DSE extends recovery streak on bargain hunting, Moody's outlook upgrade (The Business Standard)
- 3BSEC chief urges more businesses to tap capital market, reduce bank dependence (The Business Standard)
এরপর পড়ুন
ব্রোকারেজদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর টানা পাঁচ দিনের পতন থামিয়ে ৯৩ পয়েন্ট বাড়ল ডিএসইএক্স
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ১৫ সেপ্টেম্বর টানা পাঁচ কার্যদিবসের পতনের ধারা থামিয়ে দিয়েছে, ডিএসইএক্স ৯৩ পয়েন্ট বেড়ে বন্ধ হয়েছে ৫৪৭২ পয়েন্টে, এর একদিন আগেই এক্সচেঞ্জ শীর্ষ ৩০টি ব্রোকারেজ হাউজকে জরুরি বৈঠকে ডেকেছিল। এই উত্থানের আগে বাজার থেকে প্রায় ৬৪০০ কোটি টাকা উবে গিয়েছিল আর সূচক নেমে গিয়েছিল তিন মাসের সর্বনিম্নে, ব্রোকাররা এর জন্য দুষছিলেন জ্বালানি সংকট আর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে। বৈঠকে ব্রোকাররা প্রি ওপেনিং সেশন আবার চালু, বন্ডের পরিসর বাড়ানো আর মার্জিন নেট অফ সুবিধার দাবি তুলেছেন, আর ডিএসই তাদের ডেরিভেটিভস মার্কেট আর নতুন ওয়েবসাইটের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এই উত্থান ধরে রাখা যাবে কিনা তা নির্ভর করছে অনেক বড় কিছু বিষয়ের ওপর, যেমন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাজার ছেড়ে যাওয়া আর মাসের পর মাস ধরে চলা জ্বালানি সংকট।
তিন মাসের সর্বনিম্নে ঢাকার শেয়ারবাজার, সংকট নিয়ে শীর্ষ ব্রোকারদের ডাকল নিয়ন্ত্রক সংস্থা
গত ১৪ সেপ্টেম্বর টানা পাঁচ কার্যদিবসের দরপতনে প্রায় ৬,৪০০ কোটি টাকার বাজার মূলধন হারিয়ে তিন মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, যার জেরে পরদিনই শীর্ষ ৩০টি ব্রোকারেজ হাউজকে জরুরি বৈঠকে ডেকেছে এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর এক কার্যদিবসেই বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় ৬,৭৮১ কোটি টাকা, আর ব্রোকাররা এই আতঙ্কিত বিক্রির জন্য দায়ী করছেন ক্রমবর্ধমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট আর মধ্যপ্রাচ্যের নতুন উত্তেজনাকে। চলতি অর্থবছরের বেশিরভাগ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার বিক্রি করে যাওয়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি বাজার থেকে দূরে থাকার আরেকটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এদিকে নিয়ন্ত্রকরা সমাধান খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানা প্রণোদনার পরও ঢাকার শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি সরে যাচ্ছেই
বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো লেনদেনের কাগজপত্র সহজ করা, লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনের সময়সীমা শিথিল করা আর এমএসসিআইয়ের কাছ থেকে নভেম্বরে সূচক পর্যালোচনা আবার শুরুর প্রতিশ্রুতি আদায় করার পরও আগস্টে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে টাকা তুলে নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক আর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস সবগুলোতেই মাসজুড়ে বিদেশি মালিকানার লক্ষণীয় পতন দেখা গেছে, যা চলতি অর্থবছরের বেশিরভাগ সময় ধরে চলা একটা ধারারই অংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের মূলধনী মুনাফা কর ব্যবস্থা, উন্নত বাজারের দিকে বৈশ্বিক তহবিলের ঝোঁক, আর নীতির ধারাবাহিকতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগই সাম্প্রতিক প্রণোদনাগুলো যথেষ্ট না হওয়ার গভীরতর কারণ। জুলাইয়ের শেষদিকের একটা ঘটনা, যেখানে মাত্র একটা প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ নিয়ম তীব্র বিক্রির চাপ তৈরি করেছিল, দেখায় ঢাকায় বিদেশি অবস্থান কতটা স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।