পুঁজিবাজার

তিন মাসের সর্বনিম্নে ঢাকার শেয়ারবাজার, সংকট নিয়ে শীর্ষ ব্রোকারদের ডাকল নিয়ন্ত্রক সংস্থা

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬5 মিনিটের পড়া

গত ১৪ সেপ্টেম্বর টানা পাঁচ কার্যদিবসের দরপতনে প্রায় ৬,৪০০ কোটি টাকার বাজার মূলধন হারিয়ে তিন মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, যার জেরে পরদিনই শীর্ষ ৩০টি ব্রোকারেজ হাউজকে জরুরি বৈঠকে ডেকেছে এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর এক কার্যদিবসেই বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় ৬,৭৮১ কোটি টাকা, আর ব্রোকাররা এই আতঙ্কিত বিক্রির জন্য দায়ী করছেন ক্রমবর্ধমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট আর মধ্যপ্রাচ্যের নতুন উত্তেজনাকে। চলতি অর্থবছরের বেশিরভাগ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার বিক্রি করে যাওয়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি বাজার থেকে দূরে থাকার আরেকটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এদিকে নিয়ন্ত্রকরা সমাধান খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে বন্ধ হয়েছে, টানা পাঁচ কার্যদিবসের দরপতনে বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে প্রায় ৬,৪০০ কোটি টাকার বাজার মূলধন। আর এই অবস্থা সামলাতে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই দেশের বড় বড় ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসতে হচ্ছে। বেঞ্চমার্ক সূচক ডিএসইএক্স ওইদিন একাই ৯৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৫,৩৭৯ পয়েন্টে থিতু হয়, জুনের পর প্রথমবারের মতো নেমে যায় ৫,৪০০ পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক গণ্ডির নিচে। পুরো পাঁচদিনের হিসাবে সূচক হারিয়েছে মোট ১৮৮ পয়েন্ট, আর ব্লু চিপ সূচক ডিএস৩০ আরও ৯ পয়েন্ট কমে নেমেছে ২,০৬২ পয়েন্টে।

এ মাসে এটাই ছিল বাজারে আতঙ্কের দ্বিতীয় ধাক্কা। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর এক কার্যদিবসেই ডিএসইএক্স ১০৩ পয়েন্ট পড়ে গিয়ে নেমে আসে ৫,৫৫৮ পয়েন্টে, যার ফলে বাজার থেকে মুছে যায় ৬,৭৮১ কোটি টাকা, আর লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি শেয়ারের মধ্যে ৮৯ শতাংশ অর্থাৎ ৩৪৮টিরই দর কমে যায়। বর্তমান কমিশন জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এটাই ছিল একদিনে সবচেয়ে বড় দরপতন, আর এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে একটা প্রকাশ্য বিতর্কও। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এর জন্য দায়ী করেন ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটকে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে করে দিয়েছে বলে তার দাবি। অন্যদিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের এক মুখপাত্র পাল্টা যুক্তি দেন, বাজারের ওঠানামা স্রেফ চাহিদা আর জোগানের স্বাভাবিক খেলা, এখানে নিয়ন্ত্রক কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

সূচক পড়ে যাওয়ার পেছনে কী কাজ করছে

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ মাসের এই ধসের পেছনে আসলে দুটি শক্তি একসঙ্গে কাজ করছে। প্রথমটি হলো বাংলাদেশের এখন প্রায় নিয়মিত হয়ে ওঠা গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট, যা মাসের পর মাস ধরে শিল্প উৎপাদন আর কোম্পানিগুলোর মুনাফার প্রত্যাশা কমিয়ে দিচ্ছে, আর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে বিনিয়োগকারীরা এই ঝুঁকিকে শেয়ারের দামে আরও জোরালোভাবে হিসাবে নিতে শুরু করেছেন। দ্বিতীয়টি হলো মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে নতুন করে বাড়তে থাকা উদ্বেগ, যেখানে সংঘাত আরও ঘনীভূত হওয়ায় জ্বালানি আমদানির খরচ থেকে শুরু করে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, সবকিছু নিয়েই আশঙ্কা বাড়ছে। ব্রোকাররা বলছেন, এই দুই দুশ্চিন্তা একে অপরকে উসকে দিচ্ছে, কারণ জ্বালানি আমদানির খরচ বাড়া আর বৈদেশিক লেনদেনের হিসাব দুর্বল হওয়া, দুটোই ইঙ্গিত দেয় মুদ্রানীতি আরও কঠোর হওয়ার দিকে, ঠিক যে সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটা শিথিল করার চেষ্টা করছিল।

তৃতীয় একটি কারণ আরও দেশীয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা কয়েকটি নির্দিষ্ট শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে, আর ট্রেডাররা বলছেন, পরবর্তীতে আর কোন কোম্পানি এই তদন্তের আওতায় আসবে, সেই অনিশ্চয়তাই বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। পাঁচদিনের এই দরপতনে ঢাকা এক্সচেঞ্জের মোট লেনদেন ১৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮৬ কোটি টাকায়, আর ছোট চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে মাত্র ২১.৩৪ কোটি টাকার, দুটোই ইঙ্গিত করছে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে টাকা ঢালার বদলে অপেক্ষা করছেন। খাতভিত্তিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ছিল অসম, মিউচুয়াল ফান্ড কমেছে ৩.৫ শতাংশ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স শেয়ার কমেছে ৩.২ শতাংশ, বিবিধ খাত কমেছে ২.৭ শতাংশ। মোট লেনদেনের ২৫.৪ শতাংশ দখল করে থাকা টেক্সটাইল খাত সাধারণ বিমা আর কাগজ খাতের সঙ্গে বিক্রির চাপ সবচেয়ে বেশি সামলেছে। রেনাটা, সাউথইস্ট ব্যাংক আর বেক্সিমকো ছিল দিনের বড় লুজারদের তালিকায়, তবে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স আর বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ঠিকই মুনাফায় ছিল।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগে থেকেই বেরিয়ে যাচ্ছেন

সাম্প্রতিক এই দরপতন আসলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই প্রকাশনার নজরে থাকা একটি সমস্যাকেই আরও গভীর করেছে। চলতি অর্থবছরের বেশিরভাগ সময় ধরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ধারাবাহিকভাবে ঢাকার শেয়ারে তাদের বিনিয়োগ কমিয়ে আনছেন। আগস্ট মাসে সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক আর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসেও বিদেশি মালিকানা লক্ষণীয়ভাবে কমেছে, যদিও এর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কাগজপত্রের ঝামেলা কমিয়েছে, লভ্যাংশ পাঠানোর সময়সীমা শিথিল করেছে, এমনকি সূচক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসিআইয়ের কাছ থেকে নভেম্বরে বাংলাদেশকে নিয়ে পুনরায় পর্যালোচনা শুরুর প্রতিশ্রুতিও আদায় করেছে। বিশ্লেষকরা এর পেছনে দায়ী করছেন দেশের মূলধনী মুনাফার কর কাঠামো, উন্নত বাজারের দিকে বৈশ্বিক তহবিলের সাধারণ ঝোঁক, আর নীতির ধারাবাহিকতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে থেকে যাওয়া প্রশ্নকে, যেগুলোর কারণে এত সব প্রণোদনার পরও বিদেশিদের টাকা ফেরানো যাচ্ছে না। এই মাসের জ্বালানি সংকট তাড়িত দরপতন বিদেশি পোর্টফোলিও ম্যানেজারদের দূরে থাকার আরেকটি অজুহাত দিয়েছে, ঠিক যখন দেশীয় নিয়ন্ত্রকরা একটা পরিকল্পনা আছে বলে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

জরুরি বৈঠকে ব্রোকারেজ হাউজগুলো

এই তোড়জোড় প্রকাশ্যে আসে ১৪ সেপ্টেম্বর, যখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লেনদেনের পরিমাণ অনুযায়ী শীর্ষ ৩০টি ব্রোকারেজ হাউজকে ডেকে পাঠায় ১৫ সেপ্টেম্বরের এক জরুরি বৈঠকে। ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, এই বৈঠক ডাকা হয়েছে দরপতনের পেছনের কারণ বিশ্লেষণ করতে, পতন থামানোর মতো বাস্তবসম্মত কৌশল ঠিক করতে, আর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর তাৎক্ষণিক উপায় খুঁজে বের করতে। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে বাজারের তারল্য পরিস্থিতি, বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়া, লেনদেন প্রক্রিয়ায় থাকা কাঠামোগত জটিলতা, আর সাম্প্রতিক দরপতনের মূল কারণ। ব্রোকারেজ হাউজের প্রধানদের কাছ থেকে নিজ নিজ ফ্লোরের পর্যবেক্ষণ শোনা হবে, আর একক কোনো সমাধানের বদলে বাজার পরিচালক ও নিয়ন্ত্রকরা যৌথভাবে কী করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রস্তাব চাওয়া হবে।

এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত স্রেফ কথার বাইরে গিয়ে বাস্তব কিছু দেবে কি না, তা এখনই বলা মুশকিল, আর ডিএসইর নিজের অতীত অভিজ্ঞতা আশা আর সংশয়, দুটোরই কারণ জোগায়। এ বছর নিয়ন্ত্রকরা ইতিমধ্যে একগাদা প্রণোদনা চেষ্টা করেছেন, কাগজপত্র সহজ করা, লভ্যাংশের নিয়ম শিথিল করা, এমএসসিআইকে রাজি করানো, এমনকি ষোল বছর ধরে বন্ধ থাকা ডাইরেক্ট লিস্টিং ব্যবস্থা আবার চালু করে ইউনিলিভার, নেসলে বাংলাদেশ আর বিকাশের মতো বহুজাতিক ও বড় প্রতিষ্ঠানকে বাজারে টেনে আনার চেষ্টা, যাদের মধ্যে ষোলটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এই পরিকল্পনা নিয়ে সিকিউরিটিজ কমিশনের সঙ্গে বৈঠকও করেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এসবের কোনোটাই এখনো জ্বালানি সংকট আর ক্রমশ অস্থির হয়ে ওঠা ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির যুগল চাপ সামলাতে যথেষ্ট হয়নি। সাধারণ খুচরা বিনিয়োগকারীদের একটা বড় অংশ, যাদের সম্পর্কে ব্রোকাররা বলছেন তারা কোম্পানির মৌলভিত্তি বিচার করে নয়, স্রেফ আতঙ্ক আর ঝুঁকি এড়াতে শেয়ার বিক্রি করছেন, তাদের জন্য আগামী কয়েকদিনই বলে দেবে মঙ্গলবারের এই বৈঠক আসলেই মোড় ঘোরানোর সূচনা, নাকি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই ধসের আরেকটি সাধারণ পর্ব মাত্র।

এরপর কী

আগামী কয়েকদিনে বিনিয়োগকারী আর বিশ্লেষকদের নজর থাকবে দুটি বিষয়ে, ডিএসই আর বিএসইসি মঙ্গলবারের বৈঠক থেকে সার্কিট ব্রেকারের নিয়ম বদলানো, মার্জিন ঋণের বিধি স্পষ্ট করা বা সমন্বিত তারল্য সহায়তার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে বের হয় কি না, আর শীতে জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ার আগেই জ্বালানি পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যায় কি না। ব্রোকাররা বলছেন, এই দুটির অন্তত একটি না মেটা পর্যন্ত বাজার সম্ভবত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে চলতে থাকা সেই পুরনো ছকেই আটকে থাকবে, সামান্য উত্থান, তারপর আবার বিক্রির চাপ।

সূচক৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ডিএসইএক্স সমাপনী৫,৫৫৮৫,৩৭৯
একদিনের পরিবর্তন-১০৩ পয়েন্ট-৯৭ পয়েন্ট
ডিএস৩০ সমাপনী-২,০৬২ (-৯ পয়েন্ট)
বাজার মূলধন ক্ষতি৬,৭৮১ কোটি টাকা (একদিনে)৬,৪০০ কোটি টাকা (৫ দিনের সমষ্টি)
ডিএসই লেনদেন-৪৮৬ কোটি টাকা (-১৫%)
সিএসই লেনদেন-২১.৩৪ কোটি টাকা

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানা প্রণোদনার পরও ঢাকার শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি সরে যাচ্ছেই

বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো লেনদেনের কাগজপত্র সহজ করা, লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনের সময়সীমা শিথিল করা আর এমএসসিআইয়ের কাছ থেকে নভেম্বরে সূচক পর্যালোচনা আবার শুরুর প্রতিশ্রুতি আদায় করার পরও আগস্টে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে টাকা তুলে নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক আর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস সবগুলোতেই মাসজুড়ে বিদেশি মালিকানার লক্ষণীয় পতন দেখা গেছে, যা চলতি অর্থবছরের বেশিরভাগ সময় ধরে চলা একটা ধারারই অংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের মূলধনী মুনাফা কর ব্যবস্থা, উন্নত বাজারের দিকে বৈশ্বিক তহবিলের ঝোঁক, আর নীতির ধারাবাহিকতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগই সাম্প্রতিক প্রণোদনাগুলো যথেষ্ট না হওয়ার গভীরতর কারণ। জুলাইয়ের শেষদিকের একটা ঘটনা, যেখানে মাত্র একটা প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ নিয়ম তীব্র বিক্রির চাপ তৈরি করেছিল, দেখায় ঢাকায় বিদেশি অবস্থান কতটা স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

ষোলো বছর পর ডিরেক্ট লিস্টিং ফেরাচ্ছে বিএসইসি, ধুঁকতে থাকা বাজারে বড় কোম্পানি টানার চেষ্টা

বাংলাদেশের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক ষোলো বছর ধরে বন্ধ থাকা ডিরেক্ট লিস্টিং পদ্ধতি ফেরানোর খসড়া বিধিমালা অনুমোদন করেছে, লক্ষ্য বহুজাতিক আর বড় পারিবারিক কোম্পানিগুলোকে এমন এক শেয়ারবাজারে টেনে আনা যা সবেমাত্র আড়াই মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। ইউনিলিভার, নেসলে বাংলাদেশ আর বিকাশসহ ষোলোটি বড় প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বিএসইসির সঙ্গে বৈঠক করেছে, আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এর সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে এআই নজরদারি আর একই দিনে নিষ্পত্তির উদ্যোগ। কর্মকর্তারা বলছেন, স্বেচ্ছায় তালিকাভুক্ত না হলে ভবিষ্যতে বাধ্যও করা হতে পারে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে আড়াই মাসের সর্বনিম্নে ঢাকার শেয়ারবাজার

প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৫,৫৫৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হয়ে কারখানার উৎপাদন আর মুনাফায় চাপ পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা সতর্ক হয়ে ওঠায় লেনদেন কমেছে ২৪ শতাংশ, লেনদেন হওয়া ৩৮৯টির মধ্যে ৩৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। বিরোধী জোটের লংমার্চ ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও এই চাপ আরও বাড়িয়েছে।