পুঁজিবাজার

ব্রোকারেজদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর টানা পাঁচ দিনের পতন থামিয়ে ৯৩ পয়েন্ট বাড়ল ডিএসইএক্স

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬4 মিনিটের পড়া
ব্রোকারেজদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর টানা পাঁচ দিনের পতন থামিয়ে ৯৩ পয়েন্ট বাড়ল ডিএসইএক্স

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ১৫ সেপ্টেম্বর টানা পাঁচ কার্যদিবসের পতনের ধারা থামিয়ে দিয়েছে, ডিএসইএক্স ৯৩ পয়েন্ট বেড়ে বন্ধ হয়েছে ৫৪৭২ পয়েন্টে, এর একদিন আগেই এক্সচেঞ্জ শীর্ষ ৩০টি ব্রোকারেজ হাউজকে জরুরি বৈঠকে ডেকেছিল। এই উত্থানের আগে বাজার থেকে প্রায় ৬৪০০ কোটি টাকা উবে গিয়েছিল আর সূচক নেমে গিয়েছিল তিন মাসের সর্বনিম্নে, ব্রোকাররা এর জন্য দুষছিলেন জ্বালানি সংকট আর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে। বৈঠকে ব্রোকাররা প্রি ওপেনিং সেশন আবার চালু, বন্ডের পরিসর বাড়ানো আর মার্জিন নেট অফ সুবিধার দাবি তুলেছেন, আর ডিএসই তাদের ডেরিভেটিভস মার্কেট আর নতুন ওয়েবসাইটের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এই উত্থান ধরে রাখা যাবে কিনা তা নির্ভর করছে অনেক বড় কিছু বিষয়ের ওপর, যেমন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাজার ছেড়ে যাওয়া আর মাসের পর মাস ধরে চলা জ্বালানি সংকট।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ টানা পাঁচ কার্যদিবসের ধসের পর শীর্ষ ৩০টি ব্রোকারেজ হাউজকে জরুরি বৈঠকে ডাকার একদিন পরই বাজার দেখাল এই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের উত্থান। ১৫ সেপ্টেম্বর ডিএসইএক্স বেড়েছে ৯৩ পয়েন্ট বা ১.৭৪ শতাংশ, সূচক গিয়ে থামে ৫৪৭২ পয়েন্টে, যা টানা দরপতনের ধারা ভেঙে দেয়। এর আগের পাঁচ কার্যদিবসে বাজার মূলধন থেকে প্রায় ৬৪০০ কোটি টাকা উবে গিয়েছিল এবং সূচক নেমে গিয়েছিল তিন মাসের সর্বনিম্নে। এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিল, ঢাকার বাজারে আস্থা কত দ্রুত ওঠানামা করতে পারে, আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা যখনই সক্রিয় হওয়ার সংকেত দেয়, ধস আর ঘুরে দাঁড়ানোর মধ্যে ফারাক কত সামান্য হতে পারে।

পতনটা আসলে কতটা খারাপ ছিল

সোমবারের বৈঠকের প্রেক্ষাপট মোটেও সুখকর ছিল না। এর একদিন আগেই ডিএসইএক্স টানা পাঁচ কার্যদিবসের পতনের পর নেমে যায় তিন মাসের সর্বনিম্নে, ব্রোকাররা এর জন্য দুষছিলেন গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট আরও খারাপ হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়াকে, যা মিলে আতঙ্কিত বিক্রির চাপ তৈরি করে। এর আগে মাসের শুরুতেই আরও তীব্র একদিনের ধসে বাজার থেকে এক দিনেই উবে গিয়েছিল ৬৭৮১ কোটি টাকা। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যারা চলতি অর্থবছরের বেশিরভাগ সময় ধরেই ঢাকার শেয়ার থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছিলেন, তাদের কাছে বাজারের বাইরে থাকার আরও একটা কারণ যোগ হয়, আর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওপর স্পষ্ট চাপ তৈরি হয় একটা পরিকল্পনা দেখানোর জন্য।

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

সূচক১৫ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তনক্লোজিং লেভেল
ডিএসইএক্স+৯৩ পয়েন্ট (+১.৭৪%)৫৪৭২
ডিএস৩০ (ব্লু চিপ)+২৪ পয়েন্ট (+১.২১%)২০৮৭
ডিএসইএস (শরিয়াহ)+১৬ পয়েন্ট (+১.৫৫%)১০৯৩

বাজারের চিত্রও ঠিক ততটাই দ্রুত উল্টে গিয়েছিল যতটা সূচক নিজেই। যেসব শেয়ারের লেনদেন হয়েছে তার মধ্যে ৩৩৬টির দাম বেড়েছে, মাত্র ২১টি কমেছে আর ৩৭টি অপরিবর্তিত ছিল, আগের সপ্তাহের ঠিক বিপরীত চিত্র, যখন ৩১০টি শেয়ারের দাম কমেছিল আর মাত্র ৬০টি বেড়েছিল ব্যাপক বিক্রির চাপে। দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫০৪.৮৭ কোটি টাকা, যা আসলে ধসের কিছু দিনের চেয়েও কম, যা থেকে বোঝা যায় এই উত্থান নতুন করে বাইরে থেকে আসা ক্রেতাদের চেয়ে বরং বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলের কারণেই বেশি হয়েছে।

ব্রোকারেজ বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো

১৫ সেপ্টেম্বর শীর্ষ ৩০টি ব্রোকারেজ হাউজের সঙ্গে ডিএসইর বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে, মোটামুটি চারটি ভাগে, নতুন ট্রেডিং পণ্য, নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, তারল্য সহায়তা আর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। ব্রোকাররা দাবি তুলেছেন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রি ওপেনিং ট্রেডিং সেশন আবার চালু করার, বন্ডের পরিসর বাড়ানোর যাতে বাজার শুধু শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল না থাকে, আর মার্জিন নেট অফ সুবিধা চালুর, যাতে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব খরচ কমে। এর পাশাপাশি ডিলারদের জন্য স্পষ্ট নিয়মকানুন, বিদেশি বিনিয়োগের পথে বাধা কমানো, আর এই বছর যেসব উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারী মূলত বাজার থেকে দূরে ছিলেন তাদের সঙ্গে আরও যোগাযোগের দাবি উঠেছে।

নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে অংশগ্রহণকারীরা ডিএসইকে অনুরোধ করেছেন তাদের নিজস্ব পরিদর্শন ব্যবস্থা আরও নিয়মিত, তথ্যনির্ভর আর অস্বাভাবিক দাম ওঠানামার দিকে বেশি মনোযোগী করতে, শুধু লেনদেনের পরিমাণ পরিবর্তনের ওপর নজর না রেখে। এক্সচেঞ্জ এই বৈঠকে ইতিমধ্যে চলমান কিছু কাজের কথা তুলে ধরেছে, যার মধ্যে আছে ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর প্রস্তুতি, ২২ সেপ্টেম্বর নতুন ডিএসই ওয়েবসাইট চালু, অনলাইনে হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা, আর বিনিয়োগকারী সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত কর্মী প্রশিক্ষণ। এগুলোর কোনোটাই দ্রুত ফল দেওয়ার মতো সমাধান নয়, আর ডিএসই কর্মকর্তারাও একটা ভালো ট্রেডিং সেশন দেখে দ্রুত পুরো পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে সতর্ক ছিলেন।

একটা ভালো দিনেই কেন সব প্রশ্নের উত্তর মেলে না

ঢাকার বাজারের সামনে বড় প্রশ্ন হলো, সোমবারের এই উত্থান কি সত্যিকারের কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি এটা শুধু অতিরিক্ত বিক্রির পর একরকম কারিগরি প্রতিক্রিয়া, এমন বার্গেইন হান্টিং যা এই অর্থবছরে আগেও কয়েকবার দেখা গেছে আর তারপর মিলিয়ে গেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কাগজপত্রের নিয়ম সহজ করা, লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনের সময়সীমা শিথিল করা, এমনকি এমএসসিআইয়ের কাছ থেকে নভেম্বরে সূচক পর্যালোচনা আবার শুরুর প্রতিশ্রুতি আদায় করার পরও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মাসের পর মাস ধরে ঢাকার শেয়ার থেকে নিট বিক্রেতা হয়েই থেকেছেন। সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক আর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো ব্লু চিপ প্রতিষ্ঠানেও আগস্টে বিদেশি মালিকানা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, আর বিশ্লেষকরা এর পেছনে বাংলাদেশের মূলধনি মুনাফা কর কাঠামো, বৈশ্বিক তহবিলের উন্নত বাজারের দিকে ঝোঁক, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তার মতো গভীরতর কারণকেই দায়ী করছেন, যেগুলো শুধু প্রণোদনা দিয়ে ফেরানো যাচ্ছে না।

যে জ্বালানি সংকটকে ব্রোকাররা সাম্প্রতিক পতনের জন্য দায়ী করেছেন, সেটাও একটামাত্র বৈঠকে মিটিয়ে ফেলার মতো বিষয় নয়। গ্যাস আর বিদ্যুতের ঘাটতি মাসের পর মাস ধরে শিল্প উৎপাদন আর কোম্পানিগুলোর মুনাফার ওপর চাপ তৈরি করছে, যা সরাসরি যুক্ত সেই দুর্বল আয়ের পূর্বাভাসের সঙ্গে, যাকে বিশ্লেষকরা সেপ্টেম্বরের ধসের একটা কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন, শুধু আর্থিক বাজারের নিজস্ব হিসাব নিকাশের বাইরে গিয়েও। এই অন্তর্নিহিত চাপ না কমা পর্যন্ত ১৫ সেপ্টেম্বরের মতো সেশন ব্যতিক্রমই থেকে যাবে, নিয়ম হয়ে উঠবে না, দীর্ঘ পতনের পর স্বাগত জানানোর মতো স্বস্তি ঠিকই, তবে বড় পতনের ধারা থেমে গেছে তার প্রমাণ এখনও নয়।

এরপর নজর রাখতে হবে যেসব বিষয়ে

বিনিয়োগকারীরা এখন লক্ষ্য রাখবেন ১৫ সেপ্টেম্বরের এই উত্থান পরের সপ্তাহেও ধরে রাখা যায় কিনা, আর ব্রোকারেজ বৈঠকে উঠে আসা নির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলো, প্রি ওপেনিং সেশন, মার্জিন নেট অফ সুবিধা, বন্ডের পরিসর বাড়ানো, শুধু আলোচনার কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে সত্যিই কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়িত হয় কিনা। ডিএসইর ২২ সেপ্টেম্বরের নতুন ওয়েবসাইট চালু আর ডেরিভেটিভস মার্কেটের প্রস্তুতি আপাতত দুটো স্পষ্ট মাইলফলক হিসেবে সামনে আছে। যে বাজার এক সপ্তাহের মধ্যে আড়াই মাসের সর্বনিম্ন থেকে পাঁচ কার্যদিবসের ধসে গিয়ে আবার একদিনের বড় উত্থান দেখাল, তার জন্য আপাতত সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত এটাই যে, এই সেপ্টেম্বরে ঢাকার শেয়ারবাজারের প্রধান বৈশিষ্ট্য অস্থিরতা, কোনো নির্দিষ্ট দিক নয়।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

তিন মাসের সর্বনিম্নে ঢাকার শেয়ারবাজার, সংকট নিয়ে শীর্ষ ব্রোকারদের ডাকল নিয়ন্ত্রক সংস্থা

গত ১৪ সেপ্টেম্বর টানা পাঁচ কার্যদিবসের দরপতনে প্রায় ৬,৪০০ কোটি টাকার বাজার মূলধন হারিয়ে তিন মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, যার জেরে পরদিনই শীর্ষ ৩০টি ব্রোকারেজ হাউজকে জরুরি বৈঠকে ডেকেছে এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর এক কার্যদিবসেই বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় ৬,৭৮১ কোটি টাকা, আর ব্রোকাররা এই আতঙ্কিত বিক্রির জন্য দায়ী করছেন ক্রমবর্ধমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট আর মধ্যপ্রাচ্যের নতুন উত্তেজনাকে। চলতি অর্থবছরের বেশিরভাগ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার বিক্রি করে যাওয়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি বাজার থেকে দূরে থাকার আরেকটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এদিকে নিয়ন্ত্রকরা সমাধান খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানা প্রণোদনার পরও ঢাকার শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি সরে যাচ্ছেই

বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো লেনদেনের কাগজপত্র সহজ করা, লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনের সময়সীমা শিথিল করা আর এমএসসিআইয়ের কাছ থেকে নভেম্বরে সূচক পর্যালোচনা আবার শুরুর প্রতিশ্রুতি আদায় করার পরও আগস্টে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে টাকা তুলে নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক আর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস সবগুলোতেই মাসজুড়ে বিদেশি মালিকানার লক্ষণীয় পতন দেখা গেছে, যা চলতি অর্থবছরের বেশিরভাগ সময় ধরে চলা একটা ধারারই অংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের মূলধনী মুনাফা কর ব্যবস্থা, উন্নত বাজারের দিকে বৈশ্বিক তহবিলের ঝোঁক, আর নীতির ধারাবাহিকতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগই সাম্প্রতিক প্রণোদনাগুলো যথেষ্ট না হওয়ার গভীরতর কারণ। জুলাইয়ের শেষদিকের একটা ঘটনা, যেখানে মাত্র একটা প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ নিয়ম তীব্র বিক্রির চাপ তৈরি করেছিল, দেখায় ঢাকায় বিদেশি অবস্থান কতটা স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

ষোলো বছর পর ডিরেক্ট লিস্টিং ফেরাচ্ছে বিএসইসি, ধুঁকতে থাকা বাজারে বড় কোম্পানি টানার চেষ্টা

বাংলাদেশের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক ষোলো বছর ধরে বন্ধ থাকা ডিরেক্ট লিস্টিং পদ্ধতি ফেরানোর খসড়া বিধিমালা অনুমোদন করেছে, লক্ষ্য বহুজাতিক আর বড় পারিবারিক কোম্পানিগুলোকে এমন এক শেয়ারবাজারে টেনে আনা যা সবেমাত্র আড়াই মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। ইউনিলিভার, নেসলে বাংলাদেশ আর বিকাশসহ ষোলোটি বড় প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বিএসইসির সঙ্গে বৈঠক করেছে, আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এর সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে এআই নজরদারি আর একই দিনে নিষ্পত্তির উদ্যোগ। কর্মকর্তারা বলছেন, স্বেচ্ছায় তালিকাভুক্ত না হলে ভবিষ্যতে বাধ্যও করা হতে পারে।