মুডিস বাংলাদেশের ঋণমান দৃষ্টিভঙ্গি স্থিতিশীল করল, তবে খেলাপি ঋণের শঙ্কা রয়েই গেল
মুডিস বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমান দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল করেছে, তবে বি২ রেটিং অপরিবর্তিত রেখেছে, এতে বোঝা যাচ্ছে গত দুই বছরের তীব্র রাজনৈতিক ও বাহ্যিক চাপ কিছুটা কমেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন, রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ আর নির্বাচন পরবর্তী শান্ত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই এই উন্নতি এসেছে, যদিও সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে ব্যাংক খাতে প্রায় এক তৃতীয়াংশ ঋণই এখনও খেলাপি। এই খবরে ঢাকার শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেছে, যা মাসের শুরুর দিকে টানা পাঁচ কার্যদিবসের বড় দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়ানোর ধারাবাহিকতা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আসল পরীক্ষা এখন এটাই যে সরকার এই বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে মুডিস যেসব গভীর সংস্কারের কথা বলছে, তাতে রূপান্তর করতে পারে কিনা।
রেটিং একই থাকল, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে গেল
আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা মুডিস ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমান দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল করেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুয়ার রেটিং আগের মতোই বি২ (B2) রেখে দিয়েছে। কাগজে কলমে এটা খুব একটা বড় খবর মনে না হলেও, বাস্তবে এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি যে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা অবশেষে কমতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের মার্চে মুডিস বাংলাদেশকে বি১ থেকে বি২ তে নামিয়ে দিয়েছিল, কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল ব্যাংকের সম্পদের মান খারাপ হওয়া, চড়া মূল্যস্ফীতি আর মন্থর প্রবৃদ্ধি। এরপর যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেওয়া হয়েছিল, তার মানে ছিল বিনিয়োগকারী আর ঋণদাতাদের সতর্ক করে দেওয়া যে আরেকটা অবনমন হতে পারে। বুধবারের এই সিদ্ধান্ত আপাতত সেই আশঙ্কা সরিয়ে দিল।
মুডিস তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, যে তীব্র রাজনৈতিক ও বাহ্যিক চাপের কারণে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেওয়া হয়েছিল, তা এখন কমে এসেছে। তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে নির্বাচন পরবর্তী পটপরিবর্তনের কথা, যেখানে একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার এসেছে, ফলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অর্থনৈতিক সংস্কার থমকে যাওয়ার ঝুঁকি কমেছে। যে দেশ গত দুই বছর ধরে নেতৃত্বের পরিবর্তন, মাঝে মাঝে অস্থিরতা আর নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্নের মধ্য দিয়ে গেছে, তার জন্য এটা একটা উল্লেখযোগ্য মন্তব্য। রেটিং সংস্থাগুলো সাধারণত রাজনীতি শান্ত হয়েছে এমন কথা বলে না, যদি না তারা সত্যিই সেটা বিশ্বাস করে, কারণ এই ধরনের মূল্যায়ন ভুল হলে তাদের নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।
আসলে কী বদলে দিল বাংলাদেশের গল্প
মুডিসের এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে ঠোস ভিত্তি হলো বৈদেশিক খাতের হিসাব, অর্থাৎ বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে নিজের দায় শোধ করতে পারবে কিনা তার সূচক। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যথেষ্ট বেড়েছে, মুডিসের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী ২০২৪ সালের শেষে মাত্র ২১.৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি প্রায় ৩২.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক তথ্য বলছে, ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট রিজার্ভ ছিল ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার, আর কড়া হিসাবের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ছিল ৩১.৪৭ বিলিয়ন ডলার, যা মাসিক আনুমানিক ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের আমদানি ব্যয়ের বিপরীতে প্রায় ৪.৮ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা দেয়। যেভাবেই দেখা হোক, বাংলাদেশ এখন আইএমএফের নির্ধারিত ন্যূনতম তিন মাসের নিরাপত্তা সীমার চেয়ে বেশ ভালো অবস্থানে আছে, যা ২০২৩ আর ২০২৪ সালে রিজার্ভ নিয়ে যে দুশ্চিন্তা ছিল তার তুলনায় বেশ বড় পরিবর্তন।
এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে রেমিট্যান্স। মুডিস স্পষ্টভাবে বলেছে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসার কারণেই জ্বালানি আমদানির বাড়তি খরচ সামলানো সম্ভব হয়েছে, আর সময়ের হিসাবেও তা মিলে যাচ্ছে। শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম তেরো দিনেই বাংলাদেশে ১.৪২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯.৩ শতাংশ বেশি, আর ১৩ সেপ্টেম্বর একদিনেই এসেছে ১৯৩ মিলিয়ন ডলার, যা একদিনের নতুন রেকর্ড। মুডিস আরেকটা বিষয়ের কথা বলেছে, তা হলো বেশি নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা, যার ফলে টাকা হঠাৎ করে বড় ধরনের অবমূল্যায়নের বদলে ধীরে ধীরে চাপ সামলাতে পারছে। শক্তিশালী রিজার্ভ, তুলনামূলক স্থিতিশীল মুদ্রা আর রেমিট্যান্সের বিশাল প্রবাহ মিলিয়ে সংস্থাটি এতটা আশ্বস্ত হয়েছে যে তারা আর বৈদেশিক খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছে না।
মুডিস আরও গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চলমান সম্পর্ককে, একে বৈদেশিক অর্থায়নের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভরসাস্থল বলে উল্লেখ করেছে, যদিও সংস্কারের গতি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে কিছুটা মতভেদের কথাও তারা স্বীকার করেছে। এই সতর্কবার্তাটা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের আইএমএফ কর্মসূচি সবসময় মসৃণভাবে এগোয়নি, আর প্রতিবেদনের ভাষা থেকে বোঝা যায় মুডিস এটা ধরে নিচ্ছে না যে ঢাকা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেই, বরং তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বাজারের প্রতিক্রিয়া, তবে সতর্কতার সঙ্গে
ঢাকার শেয়ারবাজার এই খবরে ভালোভাবে সাড়া দিয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ডিএসইএক্স সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৪৯৪ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে, যা আগের দিনের ৯৩ পয়েন্ট বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, যেদিন সূচক টানা পাঁচ কার্যদিবসের পতনের ধারা ভেঙেছিল। লেনদেনের পরিমাণ ১০ শতাংশ বেড়ে ৫৫৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, আর ব্রোকাররা বলছেন মুডিসের এই সিদ্ধান্ত, শিল্পে গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস, আর শীর্ষ ত্রিশটি ব্রোকারেজ হাউসের সঙ্গে নিয়ন্ত্রকদের নতুন করে আলোচনার কারণেই বিনিয়োগকারীরা কমমূল্যের শেয়ারে আবার ফিরেছেন। দিনের লেনদেনের ২৭.৬ শতাংশ এসেছে বস্ত্র খাত থেকে, এরপর সাধারণ বীমা আর ব্যাংক খাত থেকে।
তবে এক সপ্তাহের ভালো পারফরম্যান্স দেখে ভাবাটা ভুল হবে যে বাজারের মূল সমস্যাগুলো মিটে গেছে। এই একই সূচক মাত্র কয়েকদিন আগে তিন মাসের সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল, যেখানে প্রায় ৬,৪০০ কোটি টাকার বাজারমূল্য মুছে গিয়েছিল, তার আগে ৭ সেপ্টেম্বর একদিনের ধসেই মুছে গিয়েছিল ৬,৭৮১ কোটি টাকা। এই অর্থবছরের বেশিরভাগ সময় ধরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ধারাবাহিকভাবে ঢাকার শেয়ার থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন, আর শুধু মুডিসের খবরে এই ধারা বদলে যাবে এমনটা মনে করার কারণ নেই। স্থিতিশীল সার্বভৌম দৃষ্টিভঙ্গি বাজারের মনোভাব ভালো করতে সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু এটা নিজে থেকে জ্বালানি সংকট, পাতলা লেনদেনের পরিমাণ, বা মূলধনি মুনাফার কর নিয়ে যে প্রশ্নগুলো বিদেশি অর্থকে সাইডলাইনে রেখেছে, তা সমাধান করে না।
মুডিসের এখনও যা পছন্দ নয়
সংস্থাটি সতর্কভাবেই এটাকে শুধু পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা হিসেবে দেখিয়েছে, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ওপর আস্থার ভোট হিসেবে নয়। মোট বকেয়া ঋণের প্রায় ৩২.৮ শতাংশ এখন খেলাপি, যা একটা রেকর্ড হার, আর কয়েক সপ্তাহ আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তথ্যেও এটা নিশ্চিত হয়েছে। মুডিসের হিসাবে, এই ক্ষতি পুরোপুরি সামলাতে ব্যাংক খাতে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশের সমান পুনঃমূলধনায়ন দরকার হবে। সরকারের রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশই এখন সুদ পরিশোধেই চলে যাচ্ছে, ফলে দুর্বল ঋণদাতাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন আর্থিক জায়গা সরকারের হাতে নেই, বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সংকীর্ণ কর ভিত্তি, বাংলাদেশ তার অর্থনীতির আকারের তুলনায় প্রায় সব প্রতিবেশী দেশের চেয়ে কম রাজস্ব আদায় করে, যা সংকট মোকাবিলা বা সংস্কারে খরচ করার সরকারের সক্ষমতা সীমিত করে দেয়।
মুডিসের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও এই মিশ্র চিত্রই তুলে ধরে, কোনো স্পষ্ট ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা নয়। সংস্থাটি ধারণা করছে, প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে বাড়বে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৩ শতাংশ এবং শেষ পর্যন্ত ২০২৮ অর্থবছরে ৪.৯ শতাংশে পৌঁছাবে, তবে এই হিসাব ধরে নেয় যে চলমান সংস্কারগুলো সত্যিই টিকে থাকবে। মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এমন একটা দেশের জন্য এখনও বেশ অস্বস্তিকর যেখানে খাদ্য ও জ্বালানির খরচ পরিবারের বাজেটে বড় চাপ ফেলে। বাংলাদেশের নিজস্ব পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশে নেমেছে, টানা দ্বিতীয় মাসের মতো, যদিও সিপিডির অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে বাজারে এখনও সাধারণ মানুষ স্বস্তি অনুভব করছেন না, কারণ আটা, সুগন্ধি চাল আর ভোজ্যতেলের দাম সেপ্টেম্বরে আবার বেড়েছে।
সবাই একমত নয়
মুডিসের এই স্থিতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি আপাতত অন্য দুই বড় রেটিং সংস্থার সঙ্গে মেলে না। স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস (এসঅ্যান্ডপি) গত জুন ২০২৬ মাসে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক করেছিল, কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল ব্যাংক খাতের দুর্বলতা আর অস্থির জ্বালানি বাজারকে। ফিচ রেটিংসও মে মাসে একই কাজ করেছিল, তারা বিশেষভাবে বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার আর শিপিং রুটের সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকির কথা বলেছিল, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা মাঝে মাঝে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে আরও বেড়েছে। তিনটি বড় সংস্থা এখন বাংলাদেশের গতিপথ নিয়ে একমত না হওয়াটাই একটা তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, দেশটির ঝুঁকির চিত্র সত্যিই আগের চেয়ে জটিল হয়ে উঠেছে, কোনো কোনো দিক থেকে যেমন রিজার্ভ আর মুদ্রা উন্নতি হচ্ছে, তেমনি ব্যাংকের সম্পদের মান আর জ্বালানি নিরাপত্তার মতো দিকগুলো এখনও খারাপ হচ্ছে।
| সংস্থা | বর্তমান রেটিং বা দৃষ্টিভঙ্গি | সর্বশেষ সিদ্ধান্তের তারিখ |
|---|---|---|
| মুডিস | বি২, দৃষ্টিভঙ্গি স্থিতিশীল করা হয়েছে | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
| এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল | দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক করা হয়েছে | জুন, ২০২৬ |
| ফিচ রেটিংস | দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক করা হয়েছে | মে, ২০২৬ |
আসল অবনমন ঠেকাতে বা উন্নতি পেতে কী লাগবে
মুডিস স্পষ্ট করেই বলেছে, শুধু দৃষ্টিভঙ্গি নয়, প্রকৃত রেটিং বাড়াতে হলে কী দেখতে চায় তারা। সংস্থাটি বলেছে, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা মোকাবিলায় প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত অগ্রগতি, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদে রেটিং বাড়ানোর মতো চাপ তৈরি করতে পারে। এগুলোর কোনোটাই দ্রুত সমাধানযোগ্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এই দিকে একটা পদক্ষেপ নিয়েছে, এই মাসেই তারা একটা নতুন কেপিআই কাঠামো চালু করেছে, যেখানে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর বেতন আর চাকরি নির্ভর করবে প্রায় ত্রিশটি সলভেন্সি, সম্পদমান আর সুশাসন সংক্রান্ত সূচকের ওপর, আর অক্টোবর থেকে দুর্বল পারফরমারদের সরিয়ে দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। বছরের পর বছর দুর্বল তদারকির ফলে জমে ওঠা ৩২.৮ শতাংশ খেলাপি ঋণের হারে এই ধরনের জবাবদিহিতার কাঠামো আসলেই কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা, সেটাই আগামী বছর জুড়ে মুডিসসহ বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের দিকে নজর রাখা সবার কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।
সাধারণ বাংলাদেশিদের জন্য, একটা রেটিং সংস্থার শব্দচয়নে স্বল্প মেয়াদে দৈনন্দিন জীবনে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না। তবে ধীরে ধীরে যা প্রভাবিত হতে পারে তা হলো সরকার আর ব্যাংকগুলো বিদেশ থেকে কত সুদে ঋণ নিতে পারবে, আর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কতটা আস্থা নিয়ে এমন একটা বাজারের দিকে এগোবেন যেটাকে গত দুই বছরের বেশিরভাগ সময় বিনিয়োগের গল্প নয়, বরং সতর্কতার সঙ্গে দেখার মতো ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। স্থিতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি মানেই সবুজ সংকেত নয়। এটা বরং একটা সতর্ক স্বীকৃতি যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিটা আপাতত আরেকটু পিছিয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র
- 1Moody's revises Bangladesh outlook to stable from negative (The Daily Star)
- 2Moody's revises Bangladesh outlook to stable from negative (The Business Standard)
- 3Moody's updates Bangladesh's outlook to stable (Dhaka Tribune)
- 4DSE extends recovery streak on bargain hunting, Moody's outlook upgrade (The Business Standard)
এরপর পড়ুন
টানা তিন কার্যদিবসের উত্থানের পর মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপে থমকে গেল ডিএসইএক্স
বুধবার দিনের শুরুতে ঢাকার শেয়ারবাজারের মূল সূচক আগের দুই কার্যদিবসের মতোই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু লেনদেন শেষে সূচক ১.৬৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫,৬৬২.০৯ পয়েন্টে, কারণ বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেন আর লেনদেনও কিছুটা কমে যায়। সিমেন্ট আর লাইফ ইনস্যুরেন্স খাত সবচেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল, আর সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে ছিল টেক্সটাইল খাত।
টানা দ্বিতীয় দিনও ঊর্ধ্বমুখী ডিএসই, সূচক পৌঁছালো ৫,৬৬০ পয়েন্টে
দুই মাসের সর্বনিম্নে নামার পর টানা দুই কার্যদিবস উর্ধ্বমুখী রইলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। ২ সেপ্টেম্বর সূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে বন্ধ হয়েছে ৫,৬৬০ পয়েন্টে। লেনদেন বেড়েছে ২২.৫ শতাংশ, বিনিয়োগকারীরা কম দামে থাকা টেক্সটাইল, বিমা আর ফার্মা খাতের শেয়ার কিনতে আগ্রহী হয়েছেন, তবে বিশ্লেষকরা বলছেন সামগ্রিক বাজার মনোভাব এখনও সতর্ক।
টানা ১৩ কার্যদিবস দরপতনের পর দুই মাসের সর্বনিম্নে ডিএসইএক্স
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স টানা ১৩ কার্যদিবস ধরে পড়ছে, প্রায় ৫ শতাংশ হারিয়ে ৩১ আগস্ট ৫,৫৯৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে,গত প্রায় দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়া আর বাজারের হতাশাজনক পরিবেশ বলে দিচ্ছে, বিনিয়োগকারীরা দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন,যদিও অর্থনীতির অন্য দিকে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিন্তু ভালো খবরই দিচ্ছে।


