এডিবি বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশে আনল, মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে ওঠার শঙ্কা
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশের আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, দুই মাস আগে যা ছিল ৪.৫ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন আর জ্বালানি সংকটকে এর কারণ বলা হচ্ছে। সংস্থাটি মনে করছে, মূল্যস্ফীতি কমার বদলে আবার বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছাবে ২০২৭ অর্থবছরে। এই মাসে লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এই পূর্বাভাসে ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ার শঙ্কাও করছে সংস্থাটি, যদিও রেমিট্যান্সকে অর্থনীতির বড় ভরসা বলছে তারা।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪.০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, যেখানে মাত্র দুই মাস আগেই তারা ৪.৫ শতাংশের কথা বলেছিল। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলছে, মূল্যস্ফীতি কমার বদলে আবার বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এডিবির সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংস্করণের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে প্রকাশিত এই পূর্বাভাস সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে অন্যতম বড় পুনর্মূল্যায়ন, আর এটা এমন এক সময়ে এলো যখন সরকার বিনিয়োগকারী ও রেটিং সংস্থাগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে নির্বাচন পরবর্তী অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।
এডিবির হিসাবে, গত জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে অর্থনীতি বেড়েছে ৩.৭ শতাংশ হারে, যা বাংলাদেশের নিজস্ব সাম্প্রতিক মানদণ্ডেও খুব একটা বড় সংখ্যা নয়। এরপর ২০২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪.০ শতাংশে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা জুলাইয়ের হিসাবের চেয়ে পুরো অর্ধ শতাংশ পয়েন্ট কম। সঙ্গে একটা সতর্কবার্তাও আছে, মূল্যস্ফীতি যেটা ২০২৬ অর্থবছরে কমে ৮.৭ শতাংশে নেমেছিল আগের বছরের ১০.০ শতাংশ থেকে, সেটা আবার বেড়ে ৯.০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে আগামী বছর, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাঙ্ক্ষিত মাত্রার দিকে ধীরে ধীরে নামার বদলে।
দুই মাসেই এত বড় পতন কেন
এই পূর্বাভাসের সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো ব্যাপার হলো এর মাত্রা। এডিবি সাধারণত একটা প্রান্তিকের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আধা পয়েন্ট বদলায় না, যদি না মাটিতে সত্যিই কিছু বদলে যায়। এবার তারা সরাসরি একটা কারণ চিহ্নিত করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ চেইনে যে বিঘ্ন ঘটেছে, তার প্রভাব ২০২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পড়েছে। ওই অঞ্চলের শিপিং রুট দিয়ে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের একটা বড় অংশ চলাচল করে, আর সেখানে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে তার প্রভাব দ্রুতই ফ্রেইট খরচ আর ডেলিভারির সময়ে দেখা যায়, তুলা থেকে মেশিনারি পার্টস, সবকিছুতেই।
এর উপর আরও কিছু চেনা সমস্যা যোগ হয়েছে। এডিবি বলছে, উচ্চ ঋণের সুদহার, ঋণ পাওয়ার সীমিত সুযোগ, জ্বালানি সংকট আর দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদা শিল্প ও বিনিয়োগকে পিছিয়ে রাখছে, এই ভাষা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের সাম্প্রতিক বিবৃতিতেও যারা চোখ রেখেছেন তাদের কাছে পরিচিত মনে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি টানা পাঁচ মাস ধরে ৫ শতাংশের নিচে আটকে আছে, যে গতি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা বারবার বলে আসছেন যে সরকার যে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি চাইছে তার জন্য এটা যথেষ্ট নয়। এডিবির প্রতিবেদন বলছে সেই চাপ এখন আর শুধু পেছনের উদ্বেগ হয়ে নেই, সরাসরি প্রবৃদ্ধির সংখ্যায় প্রতিফলিত হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতির যাওয়া-আসা
নীতিনির্ধারকদের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসটাই সম্ভবত বেশি অস্বস্তিকর। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ মূল্যস্ফীতিকে দুই অঙ্ক থেকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেছে, আর ২০২৬ অর্থবছরে ৮.৭ শতাংশে নামাটা প্রকৃত অর্থেই একটা অগ্রগতি ছিল, যদিও অসম্পূর্ণ। এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৭ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ৯.০ শতাংশে পৌঁছালে সেই অগ্রগতি থমকে যাবে, এমনকি কিছুটা উল্টেও যাবে।
এর একটা ব্যাখ্যা প্রায় সময়মতোই চলে এসেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাংলাদেশ এই মাসেই ডিজেল, পেট্রল, অকটেন আর কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে, যা জ্বালানির ধরনভেদে সর্বোচ্চ ১৭.৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি। জ্বালানির খরচ পরিবহন আর উৎপাদন খরচে সরাসরি প্রভাব ফেলে, বাজারে চাল পৌঁছানোর ট্রাক ভাড়া থেকে শুরু করে একটা পোশাক কারখানার বিদ্যুৎ বিল পর্যন্ত সবকিছুতেই, আর এডিবির নিজের প্রতিবেদনেও জ্বালানি সংকট আর উচ্চ উৎপাদন-পরিবহন খরচকে মূল্যস্ফীতি চড়া থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সময়টা এমনভাবে মিলে গেছে যে এডিবি যখন তাদের পূর্বাভাস চূড়ান্ত করছিল, তখন জ্বালানির দাম বাড়ানোর খবরটা একদম টাটকা ছিল, আর এর প্রভাব এখনও সিপিআই তথ্যে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
এডিবি আরও বলেছে, শিপিংয়ে নতুন করে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি এবং এল নিনোর কারণে খাদ্যপণ্যের দামে চাপের সম্ভাবনাও আছে, অর্থাৎ সংস্থাটি মনে করছে আগামী বছর একাধিক পথ দিয়ে দাম আরও বাড়তে পারে।
সংখ্যাগুলো কীভাবে বদলাল
পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, এডিবির জুলাইয়ের হিসাব আর সেপ্টেম্বরের সংশোধিত হিসাবের মধ্যে অল্প সময়েই কতটা পার্থক্য তৈরি হয়েছে, আর চলতি হিসাবের ঘাটতির চিত্রও কতটা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
| সূচক | জুলাই ২০২৬ পূর্বাভাস (২০২৭ অর্থবছর) | সেপ্টেম্বর ২০২৬ পূর্বাভাস (২০২৭ অর্থবছর) | ২০২৬ অর্থবছরের প্রাক্কলন |
|---|---|---|---|
| জিডিপি প্রবৃদ্ধি | ৪.৫% | ৪.০% | ৩.৭% |
| মূল্যস্ফীতি | আলাদাভাবে সংশোধন করা হয়নি | ৯.০% | ৮.৭% |
| চলতি হিসাবের ঘাটতি (জিডিপির %) | আলাদাভাবে সংশোধন করা হয়নি | ০.৬% | ০.৩% |
একমাত্র স্বস্তির জায়গা, রেমিট্যান্স
পুরো প্রতিবেদনটা কিন্তু হতাশাজনক নয়। এডিবি মনে করছে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকবে এবং আগামী বছর বেসরকারি ভোগের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে, যা এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের সঙ্গেও মিলে যায়, ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসেই রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি এসেছে। সংস্থাটি আরও মনে করছে, সেবা ও কৃষি খাত প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা ভারসাম্য দেবে, যদিও জ্বালানি খরচ আর অর্থায়ন সংকটে শিল্প খাত ধুঁকছে। বৈদেশিক চাহিদা দুর্বল হওয়া আর চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে ২০২৭ অর্থবছরে জিডিপির ০.৬ শতাংশে পৌঁছানোর (আগের বছর যা ছিল ০.৩ শতাংশ) যে টান, তা সামলাতে এই ইতিবাচক দিকগুলো যথেষ্ট কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এডিবি এরপর কী দেখতে চায়
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং এই পূর্বাভাস কমানোকে চূড়ান্ত রায় নয়, বরং একটা তাগিদ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, "সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়।" এই বক্তব্য পূর্বাভাসটাকে একটু ভিন্ন আলোয় দেখায়, সংস্থাটি যে সংস্কার এজেন্ডার কথা বাজেট চক্রের পর চক্র ধরে ঢাকাকে বলে আসছে, ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কত দ্রুত বাড়ানো যায় পর্যন্ত, সেই একই এজেন্ডার দিকে চাপ বাড়াতেই যেন এই পূর্বাভাস ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই বিশ্লেষণ পূর্বাভাসটিকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখায়। শুধু আগামী বছরটা খারাপ যাবে সেটা জানানোর বদলে, এডিবি যেন এই পূর্বাভাস কমানোকে ব্যবহার করছে জ্বালানি নিরাপত্তা, আর্থিক খাতের তদারকি আর সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মতো কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য চাপ দিতে, যেগুলো নিয়ে তারা বারবার কথা বলে এসেছে কিন্তু খুব একটা অগ্রগতি দেখেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ব্যাংকিং খাত সংস্কার, যার মধ্যে ব্যাংকগুলোকে আরও কঠোর প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতি কাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগও আছে, সেই বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ, যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী বাস্তবায়ন ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ কী
সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য বাস্তব প্রভাবটা এই দুই বড় সংখ্যার মাঝামাঝি কোথাও। প্রবৃদ্ধি ধীর হলে সাধারণত নতুন চাকরি কমে যায় আর মজুরি বৃদ্ধিও দুর্বল হয়ে পড়ে, বিশেষ করে রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাতে যেখানে নিয়োগ সরাসরি অর্ডারের পরিমাণের সঙ্গে জড়িত। আবার মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে ফিরে গেলে তা সরাসরি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, আর সদ্য বাড়ানো জ্বালানির দাম আগামী মূল্যস্ফীতির হিসাব প্রকাশের আগেই পরিবহন ভাড়া আর পরিবহন করা পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে। সব মিলিয়ে এডিবির এই সংশোধিত পূর্বাভাস বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে অনেক পরিবার যে স্বস্তি পাওয়ার আশা করছিল, তা জুলাইয়ের পূর্বাভাসে যতটা মনে হয়েছিল তার চেয়ে বেশি সময় নিতে পারে, যদিও রেমিট্যান্স প্রবাহ লাখো পরিবারের জন্য একটা ভরসার জায়গা হয়ে থাকবে যারা প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
ব্যয়বহুল এলএনজি টার্মিনাল পরিকল্পনা বাতিল করে চীন ও স্পট কার্গোর ওপর ভর করছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে, যার খরচ হতো ২০ বছরে ১৩,১৬১ কোটি টাকা পর্যন্ত, তার বদলে স্পট আর জি টু জি বাজার থেকে নয়টি এলএনজি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েক দিন পরে ব্যাংককে চীনের এক্সিম ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে বলেছে, তারা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ আর ঢাকার চারপাশের গ্রিড উন্নয়নে অর্থায়ন দ্রুত করতে চায়। এই দুটো পদক্ষেপ মিলে দেখায় সরকার কীভাবে সামনের জ্বালানি খরচ আর দীর্ঘমেয়াদে ব্যবস্থাটা ঠিক করার অর্থায়নের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে।
বাংলাদেশ আবার আইএমএফের দ্বারে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের আবেদন
সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচি থেকে নির্ধারিত সময়ের আট মাস আগেই সরে আসার পাঁচ মাস পর বাংলাদেশ ফিরে গেছে ব্যাংককের আলোচনার টেবিলে, এবার চাইছে নতুন করে সাড়ে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ঋণ। রাজস্ব জিডিপির অনুপাত নেমে এসেছে মাত্র সাত শতাংশে, আর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পৌঁছে গেছে মোট ঋণের প্রায় এক তৃতীয়াংশে, এমন সময়েই এসেছে এই নতুন আবেদন। অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, আলোচনা বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা, আর ঋণ ছাড় হবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক কিস্তিতে।
বিশ্বব্যাংক থেকে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলারের জন্য দ্রুত প্রকল্প অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছে আগামী তিন বছরে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে, যা দিয়ে জ্বালানি ভর্তুকি, ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ আর জরুরি আমদানি সামলানো হবে। বিনিময়ে ঢাকা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রকল্প অনুমোদনের সময় ১৮ মাস থেকে আট মাসে আর বাস্তবায়নের সময় সাত বছর থেকে পাঁচ বছরে কমাবে। ব্যাংকক সভায় করা এই চাওয়ার পাশাপাশি চলছে আইএমএফের সঙ্গে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলাদা আলোচনাও।