ব্যাংকিং ও এফডিআর

পাঁচ বছরের খেলাপি ঋণ পরিকল্পনা নিয়ে সংসদে বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দুর্বল ঋণ তুলে দেওয়ার বাজি

৬ অক্টোবর, ২০২৬6 মিনিটের পড়া
পাঁচ বছরের খেলাপি ঋণ পরিকল্পনা নিয়ে সংসদে বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দুর্বল ঋণ তুলে দেওয়ার বাজি

বাংলাদেশ ব্যাংক সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির কাছে পাঁচ বছরের, তেরো দফার একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, যার লক্ষ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজের হিসাবে ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ মোকাবিলা করা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। এই পরিকল্পনার একটা বড় ভিত্তি হলো প্রস্তাবিত ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, যার মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তা থেকে বিদেশি প্রাইভেট ইকুইটি ফান্ড পর্যন্ত লাইসেন্সধারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক থেকে সরাসরি খেলাপি ঋণ কিনে বাণিজ্যিকভাবে আদায় করতে পারবে, সাথে থাকছে নতুন ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা এবং নতুন করে লেখা দেউলিয়া আইন। বিডি ফাইন্যান্শিয়াল রিভিউ বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৮ মাসের বুলেট পেমেন্ট সেটেলমেন্ট পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার দুই দিন পর এবং বেসিক ব্যাংকের সেপ্টেম্বরের হিসাবে এর ৬৪.৪৯ শতাংশ ঋণ এখনও খেলাপি দেখানোর একদিন পর এই পরিকল্পনা আসে, যা দেখিয়ে দেয় আইন থেকে একটি সংগ্রামরত ব্যাংকের হিসাবের খাতা পর্যন্ত বাস্তবায়নের পথ এখনও কতটা দীর্ঘ।

বাংলাদেশ ব্যাংক এই সপ্তাহে তার খেলাপি ঋণ সমস্যা নিয়ে সংসদের দ্বারস্থ হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে পাঁচ বছরের, তেরো দফার একটি সংস্কার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, যেখানে কঠোর তদারকি, নতুন আইন এবং দুর্বল ঋণ সরিয়ে ফেলার জন্য এমন একটি বাজারভিত্তিক পদ্ধতির মিশ্রণ রয়েছে যা ব্যাংকিং খাত আগে এই মাত্রায় কখনও চেষ্টা করেনি। তারা যে সমস্যা সমাধান করতে চাইছে তার আকার নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, এই পরিকল্পনা উপস্থাপনের সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় এক তৃতীয়াংশ, এই হিসাবে বাংলাদেশ এখনও বিশ্বের সবচেয়ে ভারাক্রান্ত ব্যাংকিং খাতগুলোর একটি।

তেরো দফা, একটা মূল বাজি

পরিকল্পনাটি মূলত পরিচিত বিষয়গুলোকেই একটা দীর্ঘ সময়সীমার মধ্যে নতুনভাবে সাজিয়েছে, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি যেখানে প্রতিটি ব্যাংককে একইভাবে না দেখে ব্যবস্থাপনার মান, সুশাসন এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে স্কোর দেওয়া হবে, একজন ঋণগ্রহীতা একসাথে একাধিক ব্যাংক থেকে কত ঋণ নিতে পারবে তার ওপর কঠোর সীমা, কারণ এই ফাঁকটাই বারবার খেলাপিদের একসাথে একাধিক জায়গায় ঋণ জমানোর সুযোগ দিয়েছে, এবং এমন ব্যবস্থা যা সত্যিকারের কঠিন পরিস্থিতিতে পিছিয়ে পড়া ঋণগ্রহীতাদের বদলে স্বেচ্ছাকৃত খেলাপিদের খুঁজে বের করার দিকে মনোযোগী। এর কোনোটাই মূলভাবে নতুন নয়, বাংলাদেশ ব্যাংক বছরের পর বছর ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির কথা বলে আসছে। যা নতুন, এবং যার ওপর এই পরিকল্পনা সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে, তা হলো বেসরকারি পুঁজিকে দুর্বল ঋণ পুরোপুরি ব্যাংকের খাতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটা প্রস্তাবিত আইন, ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট বা দামা, যা কার্যকর হতে সংসদের অনুমোদন লাগবে।

আইনটি আসলে কী করতে দিচ্ছে

দামা আইনের খসড়া, যা জুলাই থেকেই জনমত নেওয়ার জন্য ঘুরছে, লাইসেন্সধারী বেসরকারি ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে ব্যাংক থেকে সরাসরি খেলাপি ঋণ কেনার অনুমতি দেবে এবং তারপর বাণিজ্যিকভাবে প্রায় যা চায় তাই করতে পারবে, ঋণকে ইকুইটিতে রূপান্তর, ঋণগ্রহীতার পরিশোধের শর্ত নতুন করে সাজানো, সংগ্রামরত ব্যবসাকে আধুনিকায়নের জন্য পুঁজি ঢালা, জামানতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তা বিক্রি করা, বা দেউলিয়া-সুরক্ষিত ট্রাস্ট কাঠামোর ভেতরে সম্পদটিকে গুটিয়ে নেওয়া। যোগ্য ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় উদ্যোক্তা, বিদেশি অ্যাসেট ম্যানেজার, প্রাইভেট ইকুইটি ও ক্রেডিট ফান্ড এবং বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সংস্থা, যদিও আইনে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ কেনার টাকা জোগাড়ের জন্য স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে নিষেধ করা হবে, যাতে এই পদ্ধতি যে ঝুঁকি কমাতে চাইছে সেই ঝুঁকিই আবার একই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে না আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি নতুন ইউনিট, ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট, একজন ডেপুটি গভর্নর পদমর্যাদার কর্মকর্তার অধীনে এই নতুন খাতকে লাইসেন্স দেওয়া ও তদারকি করার জন্য গঠিত হবে, আর আলাদা লোন সার্ভিসিং কোম্পানিগুলো ঋণগ্রহীতাদের খুঁজে বের করা ও সমঝোতা করার কম চটকদার কাজটা করবে, এবং তাদের মামলা করা, আমানত নেওয়া বা জোরজবরদস্তি করে আদায়ের কৌশল ব্যবহার করা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক আইনের জনমত গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্টদের বলেন, বাংলাদেশে খসড়া আইন সাধারণত খুব কম মন্তব্য পায়, এবং মন্ত্রণালয় আশা করছে দামা এর ব্যতিক্রম হবে। এখন পর্যন্ত যে প্রতিক্রিয়াগুলো রেকর্ডে আছে তাতে উৎসাহের চেয়ে সতর্ক স্বাগতমই বেশি চোখে পড়ে। সাবেক আইসিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু আহমেদ বেসরকারি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি চালুকে একটা অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োচিত সংস্কার বলে অভিহিত করেন, আর অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের বুখতিয়ার আহমেদ বলেন তিনি আশা করেন এই আইন বছরের পর বছর থাকা দুর্বলতাগুলো ঠিক করবে। ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রিফাত উল্লাহ খান এই পদ্ধতিটা কাগজে না থেকে বাস্তবে কাজ করার জন্য আরও বেশি বাস্তবমুখী কিছু সুপারিশ দিয়েছেন, এই ধরনের খুঁটিনাটিই সাধারণত আচরণ বদলে দেওয়া আইন আর কেবল প্রেস রিলিজ তৈরি করা আইনের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে।

পাহাড়টা আসলে কত বড়

এই গল্পটা স্পষ্টভাবে বলা কঠিন করে তোলে এই কারণেও যে বাংলাদেশ একই সমস্যার জন্য একাধিক সংখ্যা প্রকাশ করে, কোন সংজ্ঞা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কখন মাপা হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। এই সপ্তাহে সংসদে উপস্থাপিত পরিকল্পনায় সরকারিভাবে শ্রেণীকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ ৩২.৭৮ শতাংশ, এই অনুপাত বিডি ফাইন্যান্শিয়াল রিভিউ আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকের আলাদা ১৮ মাসের বুলেট পেমেন্ট সেটেলমেন্ট পরিকল্পনার প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে জানিয়েছিল। জুলাইয়ে দামা আইনের খসড়া তৈরির সময় উল্লেখ করা একটি বিস্তৃত পরিমাপ, যা কড়া নিয়ন্ত্রক সংজ্ঞার চেয়ে আরও বিস্তৃত শ্রেণী, মোট দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণকে ১০.৯১ ট্রিলিয়ন টাকা বা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ বলে দেখিয়েছিল। দুটো সংখ্যাই ভুল নয়, তারা কেবল আলাদা জিনিস মাপছে, এবং এই দুটোর মধ্যে যে ফারাক, সেটাই মনে করিয়ে দেয় প্রধান খেলাপি ঋণের অনুপাত ব্যাংকিং ব্যবস্থার কতটা ঋণ নিয়ন্ত্রকরা ব্যক্তিগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন তার তুলনায় কম দেখায়।

পরিমাপসংখ্যাযেভাবে জানানো হয়েছে
সরকারিভাবে শ্রেণীকৃত খেলাপি ঋণ (সারা খাতে)৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা (৩২.৭৮%)সংসদে উপস্থাপিত, অক্টোবর ২০২৬
বিস্তৃত দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ (সারা খাতে)১০.৯১ ট্রিলিয়ন টাকা (প্রায় ৬০%)দামা খসড়া আইন, ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত তথ্য
বেসিক ব্যাংকের নিজস্ব শ্রেণীকৃত ঋণ৮,১৫৩ কোটি টাকা (৬৪.৪৯%)বেসিক ব্যাংক, সেপ্টেম্বর ২০২৬

যে ব্যাংক দেখিয়ে দেয় কাজটা কতটা কঠিন

একটা সুপরিকল্পিত রোডম্যাপও বাস্তবে সুস্থ হিসাবের খাতায় রূপান্তরিত হতে কতটা ধীর গতিতে চলে, তার একটা আগাম নমুনা দেখতে চাইলে বেসিক ব্যাংকই সেই সতর্কতামূলক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিডি ফাইন্যান্শিয়াল রিভিউ এই সপ্তাহে জানিয়েছে, ব্যাংকটির সেপ্টেম্বরের হিসাবে তার ঋণের ৬৪.৪৯ শতাংশ বা ৮,১৫৩ কোটি টাকা এখনও খেলাপি দেখানো হচ্ছে, শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু যুগের ঋণ কেলেঙ্কারি সামনে আসার তেরো বছরেরও বেশি সময় পরে, সাথে রয়েছে ৫,১৪৮ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি এবং শীর্ষ ২০ খেলাপি যারা তাদের পাওনার মাত্র প্রায় ২ শতাংশ ফিরিয়ে দিয়েছে। বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেছেন ৫,০০০ কোটি টাকার সস্তা আমানত পেলে তিন বছরের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব, এই সময়সীমা এখান থেকে শুরু করলেও নতুন পাঁচ বছরের পরিকল্পনার নিজস্ব সময়সীমার বাইরে গিয়ে পড়বে। একটা জাতীয় সংস্কার পরিকল্পনা যা সংসদীয় কমিটির কক্ষে ঘোষণা করা হয়, আর একটা মাত্র ব্যাংকের খেলাপিরা যারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় কিছুই ফেরত দেয়নি, এই দুইয়ের মধ্যে যে ফারাক, ঠিক সেই ফারাকটাই দামা ঘোচাতে চায়, আদালতের মাধ্যমে যে ঋণ সরানো যায়নি তার জন্য বেসিক ব্যাংকের মতো ব্যাংকগুলোকে একটা ক্রেতা দিয়ে।

কী কী ঠিকঠাক হতে হবে

খসড়া আইন নিয়ে উদ্ধৃত অর্থনীতিবিদরা মূলত এই ধারণাকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে সতর্ক করে দিয়েছেন যে এর সাফল্য পুরোপুরি নির্ভর করবে এমন সব বাস্তবায়নের খুঁটিনাটির ওপর যা পরিকল্পনায় এখনও স্পষ্ট করা হয়নি, নতুন ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট সেই ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কতটা কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেবে যারা শুধু সহজে আদায়যোগ্য ঋণগুলোই বেছে নেয়, দুর্বল ঋণ বিক্রির দাম এতটা স্বচ্ছ কিনা যাতে ব্যাংক বোর্ড ও পছন্দের ক্রেতার মধ্যে ভেতরকার সমঝোতা এড়ানো যায়, এবং ঋণ নিয়ে ক্রয় করার নিষেধাজ্ঞা আসলেই টিকে থাকবে কিনা যখন প্রাইভেট ইকুইটি ফান্ডগুলো এর চারপাশে বিদেশি অর্থায়ন সাজাতে শুরু করবে। এর কোনোটাই বাংলাদেশের জন্য একান্ত নতুন নয়, অন্য দেশের দুর্বল ঋণের বাজারও ঠিক এই সমস্যাগুলোর সাথে লড়েছে। বাংলাদেশের জন্য যা নির্দিষ্ট তা হলো এর আকার, এমন একটা ব্যাংকিং ব্যবস্থা যেখানে কড়া হিসাবে প্রায় এক তৃতীয়াংশ, আর বিস্তৃত হিসাবে হয়তো তিন পঞ্চমাংশ ঋণের কোথাও না কোথাও যাওয়া প্রয়োজন, এবং পাঁচ বছরের একটা সময়সীমা যার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সংসদের সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে যে এটা হবে।

এরপর কী দেখার বিষয়

দামা কার্যকর হওয়ার আগে এখনও সংসদের অনুমোদন পেতে হবে, এবং মন্ত্রণালয় যা আশা করেছিল তার চেয়ে কম মন্তব্য পাওয়া একটা জনমত গ্রহণ পর্ব মানে এই নয় যে বিলটি সংসদে পাসের জন্য তৈরি। বাইরে থেকে পরিস্থিতি দেখা ব্যাংক বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের জন্য আগামী মাসগুলোতে বেশি কাজের সংকেত হবে এই তেরো দফা নিজেরা নয়, বরং তিনটা ছোট বিষয়, নতুন ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট আসলেই লোকবল ও বরাদ্দ পেয়ে কাজ শুরু করে কিনা নাকি কাগজেই থেকে যায়, প্রথম দিকের দামা লেনদেনে বেসিক ব্যাংকের মতো সত্যিকারের কঠিন খেলাপিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় কিনা নাকি শুধু সহজে বিক্রি করা যায় এমন ঋণই বেছে নেওয়া হয়, এবং বাজার চালু হওয়ার পর দুর্বল ঋণ আসলে কত দামে বিক্রি হচ্ছে তার লেনদেন পর্যায়ের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ করে কিনা। এই তিনটা না ঘটা পর্যন্ত ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার সংখ্যা এবং তার সাথে জুড়ে দেওয়া পাঁচ বছরের প্রতিশ্রুতি একটা পরিকল্পনাই থেকে যায়, কোনো প্রমাণিত সাফল্যের ইতিহাস নয়।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

বিদেশি ব্যাংকের মুনাফা প্রথমার্ধে ৩৮ শতাংশ কমল, ট্রেজারি বাজিতে এগিয়ে দেশি ব্যাংক

বাংলাদেশে কার্যরত নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সম্মিলিত নিট মুনাফা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ৩৮ শতাংশ কমে হয়েছে ২,৩২১ কোটি টাকা, দুর্বল বাণিজ্য অর্থায়ন ও জ্বালানি সংকটের কারণে। একই সময়ে, অনেক তালিকাভুক্ত দেশি ব্যাংক ভালো মুনাফা বৃদ্ধি দেখিয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই এসেছে সরকারি সিকিউরিটিজের বিনিয়োগ আয় থেকে, নতুন ঋণ বিতরণ থেকে নয়। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার খাতের গড়ের চেয়ে এখনও অনেক কম এবং তাদের মূলধন মজুদ অনেক বেশি শক্তিশালী।

উত্তোলনের চাপে ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭,০০০ কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক, পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশের বেলআউট পরিকল্পনা

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭,০০০ কোটি টাকা ধার দিয়েছে, যার পুরোটার গ্যারান্টি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, তিন দিনে প্রায় ৭,৫০০টি উত্তোলনের আবেদন আসার পর। এই ঋণ ন্যাশনাল ব্যাংককে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পুরো উত্তোলন সুবিধা ফিরিয়ে আনার সময়সীমা পূরণে সহায়তা করার জন্য। ব্যাংকটি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণী, যা সিকদার পরিবারের আমলে শুরু হওয়া সমস্যার গভীরতার কথা মনে করিয়ে দেয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারকে তিনগুণ বোর্ড আসন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য একটি বোর্ড নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার ফলে ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার এখন একজনের পরিবর্তে তিনজন পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ দিতে পারবে। ১২ অক্টোবরের এই সার্কুলারে উপকৃত হচ্ছে ব্র্যাক, যার হাতে একজন কর্মকর্তার তথ্যানুযায়ী ব্যাংকটির ৪৬ শতাংশ শেয়ার আছে। এই বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় এমন নির্দিষ্ট ব্যাংকের জন্য দেওয়া ছাড়, এর আগে মার্চে ট্রাস্ট ব্যাংককেও একই ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল।