অর্থনীতি ও নীতি

বাংলাদেশ ব্যাংক ছয় মাসের অভ্যাস ছেড়ে চালু করল ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬6 মিনিটের পড়াহালনাগাদ ১০ অক্টোবর, ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক ছয় মাসের অভ্যাস ছেড়ে চালু করল ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বিকেলে প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি বিবৃতি প্রকাশ করছে, যা ২০২৪ সাল থেকে চলা ছয় মাসিক প্রথার অবসান ঘটাচ্ছে। বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির শর্ত হিসেবে আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী এই পরিবর্তন আসছে, ঠিক এমন সময়ে যখন আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.২৬ শতাংশে, তবে জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এখনও সরকারের ৭.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির আভাস আছে। মূল প্রশ্ন হলো, জুলাইয়ে ছয় বছরে প্রথমবার কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশ করা সুদহার আজ অপরিবর্তিত থাকবে নাকি আবার বদলাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ থেকে একেবারে নতুন সময়সূচিতে চলা শুরু করছে। আজ বিকেল ৩টায় মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের মুদ্রানীতি বিবৃতি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। এটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছয় মাস পরপর নয়, বরং প্রতি তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণা। নামটা শুনতে সাদামাটা মনে হলেও, গত দুই দশকে মাত্র দুইবার নিজের সময়সূচি বদলানো একটা প্রতিষ্ঠানের জন্য এটা বেশ বড় একটা পরিবর্তন।

কেন হঠাৎ এই গতি বাড়ানো

এই আইডিয়াটা কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের বোর্ডরুম থেকে আসেনি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ প্রায় এক বছরেরও বেশি আগে পরামর্শ দিয়েছিল যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেন ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মুদ্রানীতি প্রকাশ করে, আর এটা ছিল বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির শর্তগুলোর একটা অংশ। যুক্তি ছিল সহজ, দ্রুত পর্যালোচনা চক্র থাকলে মূল্যস্ফীতি বা বিনিময় হারের চাপ বড় সমস্যা হয়ে ওঠার আগেই নীতিনির্ধারকরা তাতে হাত দিতে পারবেন। জুলাই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নীতি প্যানেল এই পরিবর্তনে আনুষ্ঠানিকভাবে সায় দেয়, আর এর পরপরই সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও অনুমোদন দিয়ে দেয়। আজকের ঘোষণার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সহজভাবে বিষয়টা বুঝিয়ে দিয়েছেন, মুদ্রানীতি কমিটি তো এমনিতেই প্রতি তিন মাস পরপর বসে দেশি বিদেশি অর্থনৈতিক সূচক পর্যালোচনা করে, তাহলে একই সময়ে জনসমক্ষে বিবৃতি প্রকাশ করলে ভেতরের আলোচনা আর বাইরের প্রকাশের মধ্যে ফাঁকটাই তো কমে যায়।

বার্ষিক থেকে ছয় মাসিক, এখন ত্রৈমাসিক

বাংলাদেশের মুদ্রানীতির সময়সূচি ধাপে ধাপে বদলেছে। সাবেক গভর্নর ফজলে কবিরের আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে একবারই মুদ্রানীতি প্রকাশ করত, যার ফলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেলে বাজারকে অনেক সময় অন্ধকারে থেকে যেতে হতো। তার উত্তরসূরি আব্দুর রউফ তালুকদারের সময় থেকে ছয় মাস পরপর মুদ্রানীতি প্রকাশের নিয়ম চালু হয়, যেখানে জুলাই থেকে ডিসেম্বরের জন্য একটা এইচ১ বিবৃতি আর জানুয়ারি থেকে জুনের জন্য একটা এইচ২ বিবৃতি থাকত। আজকের পরিবর্তনে সেই একই ছয় মাসের জানালা তিন মাসে নেমে আসছে, অর্থাৎ বছরে দুটির বদলে এখন চারটি বিবৃতি প্রকাশ হবে।

সময়কালকাঠামোগভর্নর
২০১৬ এর আগেবার্ষিক বিবৃতিপূর্ববর্তী গভর্নরদের আমল
২০১৬ থেকে ২০২৪বার্ষিক বিবৃতিফজলে কবির
২০২৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ছয় মাসিক (এইচ১/এইচ২)আব্দুর রউফ তালুকদারের কাঠামো
অক্টোবর ২০২৬ থেকেত্রৈমাসিকবর্তমান নেতৃত্ব

এই বদলটা শুধু দেখানোর জন্য নয়। ছয় মাস পরপর মুদ্রানীতি ঠিক করলে সেই অবস্থান পুরো ছয় মাসের জন্য আটকে থাকে, আর মূল্যস্ফীতি বা বিনিময় হার যদি তার চেয়ে দ্রুত বদলায়, তাহলে সমস্যায় পড়তে হয়। ত্রৈমাসিক চক্র থাকলে বছরে চারবার দিক পরিবর্তনের সুযোগ থাকে, তবে এর বিনিময়ে বাজার, ব্যাংক আর আমদানিকারকদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্যালেন্ডারের দিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

সুদের হার এতদিন যেমন ছিল

আজকের বিবৃতির পটভূমিতে আছে একটা সুদের হার যেটা বছরের পর বছর প্রায় নড়েইনি, আর তারপর হঠাৎ একবারেই নড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রেপো রেট ১০ শতাংশে ধরে রেখেছিল, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে দীর্ঘ একটানা অবস্থান, তারপর জুলাইয়ে সেটা কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশ করা হয়, গত ছয় বছরের মধ্যে এই প্রথম হার কমানো হলো। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে করা সেই জুলাইয়ের বিবৃতিতে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটির সিলিং ঠিক করা হয় ১১.৫০ শতাংশ আর স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির ফ্লোর ৭.৫০ শতাংশ, এই দুইয়ের মধ্যেই স্বল্পমেয়াদি আন্তঃব্যাংক সুদহার ওঠানামা করার কথা।

তারিখরেপো রেটমন্তব্য
অক্টোবর ২০২৪১০.০০%হার ঠিক করে ধরে রাখা হয়
জুলাই ২০২৬৯.৫০%ছয় বছরে প্রথম হার কমানো
এসএলএফ সিলিং (জুলাই ২০২৬ থেকে)১১.৫০%সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা
এসডিএফ ফ্লোর (জুলাই ২০২৬ থেকে)৭.৫০%সুদহার করিডোরের নিম্নসীমা

আজকের বিবৃতিতে এই ৯.৫০ শতাংশ হার অপরিবর্তিত থাকবে, নাকি আবার বদলাবে, সেটাই বিকেল ৩টায় বাজারের সবচেয়ে বড় নজরের বিষয়। হার কমানো হলে বোঝা যাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রবৃদ্ধিকে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, আর হার ধরে রাখা বা বাড়ানো হলে বোঝা যাবে ধীরগতির ঋণ প্রবৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের দুশ্চিন্তা এখনও বেশি।

আসল চরিত্র এখনও মূল্যস্ফীতি

সাধারণ মানুষের জন্য এই পুরো বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে মূল্যস্ফীতির কারণেই, শুধু বন্ড ব্যবসায়ীদের জন্য নয়। বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ এই সপ্তাহের শুরুতেই জানিয়েছিল, আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.২৬ শতাংশে, টানা দ্বিতীয় মাসের পতন এবং গত দশ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন, মে মাসের ৯.৪২ শতাংশের সর্বোচ্চ থেকে অনেকটাই নিচে। তবে জুলাইয়ের মুদ্রানীতি বিবৃতিতে সামনের পথ নিয়ে ততটা আশাবাদী কিছু বলা হয়নি, সেখানে বলা হয়েছিল ডিসেম্বর ২০২৬ নাগাদ মূল্যস্ফীতি থাকবে ৮.৯ শতাংশে আর জুন ২০২৭ নাগাদ ৮.৬ শতাংশে, দুটোই সরকারের নিজের বেঁধে দেওয়া চলতি অর্থবছরের ৭.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশ ওপরে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমছে অখাদ্য মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুত গতিতে, আর অখাদ্য মূল্যস্ফীতি আসলে বাড়ছেই, যার ফলে হেডলাইন সংখ্যাটা যতটা স্বস্তির কথা বলে, বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষ ততটা স্বস্তি অনুভব করছে না।

উন্নতির দিকে যাওয়া হেডলাইন সংখ্যা আর তুলনামূলক অস্বস্তিকর পূর্বাভাসের মধ্যের এই ফাঁকটাই আসলে সেই জায়গা, যেখানে ত্রৈমাসিক কাঠামো আরও ভালো কাজ করার কথা। আগের ছয় মাসিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংককে জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো নিজের দৃষ্টিভঙ্গি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্বিবেচনা করার জন্য। নতুন ব্যবস্থায় আজকের বিবৃতিতেই আগস্টের উন্নত তথ্য আর সেপ্টেম্বরের নতুন চাপ, যেমন ২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে মাসের শেষ ভাগে ঢাকার কাঁচাবাজারে পরিবহন আর খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া, দুটোই প্রতিফলিত হতে পারে।

আজ বিকেলে কোন বিষয়গুলোর দিকে নজর থাকবে

সুদের হারের মূল সিদ্ধান্তের বাইরেও বিশ্লেষকরা আজকের বিবৃতিতে তিনটা বিষয় খতিয়ে দেখবেন, আগস্টের উন্নতি আর সেপ্টেম্বরের জ্বালানি ধাক্কার আলোকে চলতি প্রান্তিকের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বদলানো হয়েছে কিনা, সুদহার করিডোর সংকুচিত নাকি প্রসারিত হচ্ছে, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজের এই নতুন ত্রৈমাসিক শৃঙ্খলাকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী আর রেটিং সংস্থাগুলোর সামনে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে কতটা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৭ মেয়াদের পরের বিবৃতিটা এখন ছয় মাস নয়, মাত্র তিন মাস পরেই আসছে, অর্থাৎ ব্যাংকার, আমদানিকারক আর সাংবাদিকদের আজকের এই একই ঘরে চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই আবার ফিরে আসতে হবে।

ঋণগ্রহীতা, সঞ্চয়কারী আর ব্যাংকগুলোর জন্য এর মানে কী

সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের কাছে ত্রৈমাসিক এই ছন্দটা একটা বড় নাটকীয় পরিবর্তনের বদলে বরং ছোট ছোট কয়েকটা দিক সংশোধনের মতো মনে হবে। যেসব ব্যাংক কার্যকরী মূলধন ঋণ আর ভোক্তা ঋণের দাম ঠিক করে সুদহার করিডোর ধরে, তারা এখন আরও ঘনঘন হিসাব পুনর্বিবেচনা করবে। এতে দুইদিকেই প্রভাব পড়বে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নরম অবস্থান নিলে সস্তা ঋণের জন্য পুরো ছয় মাস অপেক্ষা করতে হবে না একটা ব্যবসাকে, তবে যে সঞ্চয়কারী পরিকল্পনার জন্য আমানতের হার স্থির থাকার আশা করেন, তাকেও এখন আগের চেয়ে বেশি ঘনঘন পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি বিভাগ, যারা আগের ছয় মাসিক চক্র ধরে নিজেদের পূর্বাভাস মডেল তৈরি করেছিল, তারাও এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া বদলে বছরে দুইবারের বদলে চারবার ব্যালান্স শিট পর্যালোচনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যাংকার।

বন্ড বাজারেই হয়তো এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে সরাসরি পড়বে। বাংলাদেশের সরকারি ট্রেজারি বিলের সুদহার এমনিতেই এবছর ঊর্ধ্বমুখী, কারণ সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়া নিজের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, এই প্রবণতা বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ আগেও তুলে ধরেছে সরকারের প্রথমবারের মতো সার্বভৌম ডলার বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনার প্রতিবেদনে। ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি বিবৃতি বন্ড বিনিয়োগকারীদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ হার নিয়ে চিন্তাভাবনার একটা বেশি ঘনঘন আভাস দেয়, তাত্ত্বিকভাবে এতে প্রতিটা ঘোষণার আশেপাশে ইল্ড কার্ভের ওঠানামা কম হওয়ার কথা, কারণ কম সময়ের পর্যালোচনা চক্রে বিস্ময় জমা হওয়ার সুযোগ কম থাকে। এই তত্ত্ব বাস্তবে কতটা মিলবে, তা বোঝা যাবে বাংলাদেশ পুরো একবছর এই নতুন ত্রৈমাসিক ছন্দে চলার পরই, অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের বিবৃতিতে প্রথম সম্পূর্ণ ত্রৈমাসিক চক্র শেষ হওয়ার পর।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

ব্যয়বহুল এলএনজি টার্মিনাল পরিকল্পনা বাতিল করে চীন ও স্পট কার্গোর ওপর ভর করছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে, যার খরচ হতো ২০ বছরে ১৩,১৬১ কোটি টাকা পর্যন্ত, তার বদলে স্পট আর জি টু জি বাজার থেকে নয়টি এলএনজি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েক দিন পরে ব্যাংককে চীনের এক্সিম ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে বলেছে, তারা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ আর ঢাকার চারপাশের গ্রিড উন্নয়নে অর্থায়ন দ্রুত করতে চায়। এই দুটো পদক্ষেপ মিলে দেখায় সরকার কীভাবে সামনের জ্বালানি খরচ আর দীর্ঘমেয়াদে ব্যবস্থাটা ঠিক করার অর্থায়নের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে।

বাংলাদেশ আবার আইএমএফের দ্বারে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের আবেদন

সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচি থেকে নির্ধারিত সময়ের আট মাস আগেই সরে আসার পাঁচ মাস পর বাংলাদেশ ফিরে গেছে ব্যাংককের আলোচনার টেবিলে, এবার চাইছে নতুন করে সাড়ে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ঋণ। রাজস্ব জিডিপির অনুপাত নেমে এসেছে মাত্র সাত শতাংশে, আর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পৌঁছে গেছে মোট ঋণের প্রায় এক তৃতীয়াংশে, এমন সময়েই এসেছে এই নতুন আবেদন। অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, আলোচনা বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা, আর ঋণ ছাড় হবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক কিস্তিতে।

বিশ্বব্যাংক থেকে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলারের জন্য দ্রুত প্রকল্প অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছে আগামী তিন বছরে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে, যা দিয়ে জ্বালানি ভর্তুকি, ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ আর জরুরি আমদানি সামলানো হবে। বিনিময়ে ঢাকা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রকল্প অনুমোদনের সময় ১৮ মাস থেকে আট মাসে আর বাস্তবায়নের সময় সাত বছর থেকে পাঁচ বছরে কমাবে। ব্যাংকক সভায় করা এই চাওয়ার পাশাপাশি চলছে আইএমএফের সঙ্গে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলাদা আলোচনাও।