বাণিজ্য ঘাটতি ৭৮৬ কোটি ডলার ছাড়ানোয় ভারতকে আরও আমদানির আহ্বান বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এই সপ্তাহে ভারতের হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি আমদানি করতে আর শিল্প খাতে আরও বিনিয়োগ করতে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলার একটা চেষ্টা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭৮৬ কোটি ডলার, রপ্তানি ছিল মাত্র ১৭৬ কোটি ডলার আর আমদানি ৯৬২ কোটি ডলার। এই অনুরোধ এমন সময়ে এলো যখন বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি তিন বছরের সর্বোচ্চ ২৭২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যার পেছনে মূলত জ্বালানি তেলের দাম আর মূল্যস্ফীতি দায়ী, বিনিয়োগ নয়। ভারতের হাইকমিশনার জবাবে বিদেশি বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এই সপ্তাহে এক সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতের কাছে সরাসরি একটা অনুরোধ রাখলেন, আমাদের কাছ থেকে আরও বেশি পণ্য কিনুন। গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ২২ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেন, আর নয়াদিল্লিকে অনুরোধ করেন বাংলাদেশ থেকে আমদানি বাড়াতে, যাকে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় বলে উল্লেখ করেন। তিনি ভারতকে বাংলাদেশের প্রযুক্তি, উৎপাদন আর শিল্প খাতে আরও বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করার আহ্বানও জানান, আর দুই দেশের মধ্যে বাংলা কিউআর ও ক্রস বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট সংযোগ সম্প্রসারণের প্রসঙ্গও তোলেন।
এই অনুরোধের পেছনের সংখ্যাটা রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো। বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রী এ বছরের শুরুতে সংসদে জানিয়েছিলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭৮৬ কোটি ডলার, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের মধ্যে এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঘাটতি। ওই বছর বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছিল মাত্র ১৭৬ কোটি ডলারের পণ্য, অথচ আমদানি করেছিল ৯৬২ কোটি ডলারের, মানে প্রায় পাঁচ গুণ ব্যবধান। তুলনায় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘাটতি ছিল মাত্র ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার, আর আফগানিস্তান ও ভুটানের সঙ্গে তো কোটি ডলারের নিচেই। এর বিপরীতে নেপাল, শ্রীলঙ্কা আর মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের বরং উদ্বৃত্ত বাণিজ্য আছে, যা বিরল একটা চিত্র।
যে ঘাটতি কমার বদলে বাড়ছে
ভারত নির্দিষ্ট এই সংখ্যাগুলো আসলে একটা বড় আর সমান অস্বস্তিকর জাতীয় চিত্রের ভেতরেই বসে আছে। এফওয়াই২৬ এ বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি তিন বছরের সর্বোচ্চ ২৭২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি, অথচ রপ্তানি প্রায় একই জায়গায় থমকে ছিল। ওই বছর রপ্তানি হয়েছিল ৪৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের, প্রায় অপরিবর্তিত, আর আমদানি বেড়েছে ১০.৫ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৭১১ কোটি ৪০ লাখ ডলারে, যা এফওয়াই২২ এর পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি। বিশ্লেষকরা বলছেন এই আমদানি বৃদ্ধির বেশিরভাগ কারণ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি আর সার্বিক মূল্যস্ফীতি, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে কোনো গতি আসার কারণে নয়। সিপিডির খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম তখন বলেছিলেন, এই ক্রমবর্ধমান ঘাটতি দুর্বল বৈদেশিক পারফরম্যান্সের ইঙ্গিত দেয়, আর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, পশ্চিমা বাজারের মূল্যস্ফীতি, চলমান সরবরাহ বিঘ্নের মতো বৈশ্বিক কারণগুলোই এর জন্য দেশীয় কারণের চেয়ে বেশি দায়ী। র্যাপিডের আবদুর রাজ্জাক আরেকটা নির্দিষ্ট শঙ্কার কথা যোগ করেছিলেন, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি, যা ব্যবসাগুলো সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা তার একটা সংকেত, তা মোট আমদানি বাড়া সত্ত্বেও কমই থেকে গেছে, অর্থাৎ বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি এখনও বাস্তবে রূপ নেয়নি।
এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই গভর্নরের ভারতকে দেওয়া প্রস্তাবটাকে নিয়মিত কূটনৈতিক সৌজন্যের চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি বিলের সবচেয়ে বড় অংশ মোকাবিলার একটা চেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। সবশেষ পূর্ণ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য ঘাটতির প্রায় এক তৃতীয়াংশই আসে শুধু ভারতের সঙ্গের ঘাটতি থেকে, যা নয়াদিল্লিকে সামগ্রিক সংখ্যাটা নাড়াতে চাওয়া যেকোনো বাংলাদেশি কর্মকর্তার জন্য স্বাভাবিক প্রথম গন্তব্য বানিয়ে তোলে।
বিনিময়ে বাংলাদেশ যা দিচ্ছে
রহমান খালি হাতে বৈঠকে যাননি। তিনি ভারতীয় প্রতিনিধি দলকে, যাতে উপ হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে আর দ্বিতীয় সচিব গৌরব কুমার আগরওয়ালও ছিলেন, জানান যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে একাধিক বিনিয়োগবান্ধব নীতি উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে আছে এমন নিয়ম যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিজ দেশে পুঁজি আর মুনাফা ফেরত পাঠানো আগের চেয়ে সহজ করে দিয়েছে। এই বার্তা তার অনুরোধের বিনিয়োগ অংশটাকেই লক্ষ্য করে দেওয়া, কারণ ভারতীয় উৎপাদন আর শিল্প পুঁজি আকৃষ্ট করতে হলে বিনিয়োগকারীদের আগে বোঝাতে হবে যে বাংলাদেশ থেকে টাকা ফেরত নেওয়া তাদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হবে না।
ত্রিবেদীর জবাব থেকে বোঝা যায়, ভারত ঠিক এই ধরনের সহজীকরণেই আরও জায়গা দেখছে। হাইকমিশনার বাংলাদেশি পক্ষকে জানান, বিদেশি বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হলে তা সহায়ক হবে, ভদ্রভাবে বলা হলেও এই বার্তার অর্থ স্পষ্ট, ঢাকার সংস্কার সত্যিকারের হলেও তা এখনও ভারতীয় পুঁজির উল্লেখযোগ্য বড় প্রবাহ আনার মতো যথেষ্ট দূর যায়নি। দুই পক্ষ কারিগরি সহযোগিতা আর বাংলা কিউআরকে ভারতের নিজস্ব ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার কৌশল নিয়েও আলোচনা করেছে, এমন একটা ধারণা যা বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বছরের বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অর্থ গ্রহণের মূল মাধ্যম বাংলা কিউআরকে করে তোলার চেষ্টা চলছে, যার মধ্যে ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নিয়মও আছে, যা প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনে তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করে।
| সূচক (এফওয়াই২৪-২৫ বা এফওয়াই২৬) | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি | ১৭৬ কোটি ডলার |
| ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি | ৯৬২ কোটি ডলার |
| বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি | ৭৮৬ কোটি ডলার |
| বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য ঘাটতি | ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার |
| বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য ঘাটতি, এফওয়াই২৬ | ২৭২ কোটি ৮০ লাখ ডলার (বছরে ৩৪% বৃদ্ধি) |
| বাংলাদেশের মোট রপ্তানি, এফওয়াই২৬ | ৪৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় অপরিবর্তিত) |
| বাংলাদেশের মোট আমদানি, এফওয়াই২৬ | ৭১১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (১০.৫% বৃদ্ধি) |
এই বৈঠক শুধু ছবি তোলার অনুষ্ঠান নয় কেন
নতুন হাইকমিশনার আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়মিতই হয়ে থাকে, আর সাধারণত নিজে থেকে কোনো বড় খবর তৈরি করে না। এই বৈঠকটা নজরে আসার কারণ হলো এর সময়। এটা এমন সময়ে হচ্ছে যখন বাংলাদেশ একদিকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার জন্য পুঁজি আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে, যা নিয়ে বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ বিস্তারিত প্রতিবেদন করেছে, আর অন্যদিকে দেশের ভেতরে বাড়তে থাকা ট্রেজারি বন্ডের সুদহার দেখিয়ে দিচ্ছে সরকারের নিজের আর্থিক পরিস্থিতি কতটা চাপে আছে। একটা দেশ যখন আন্তর্জাতিক বন্ড ক্রেতাদের বোঝাতে চায় যে তার অর্থনীতি মজবুত, তখন একই সঙ্গে বড় প্রতিবেশী থেকে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ সক্রিয়ভাবে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করতে দেখানোর যথেষ্ট কারণ থাকে, যদিও কোনো একটা বৈঠকের বাস্তব ফল বাণিজ্য পরিসংখ্যানে দেখা যেতে মাস কিংবা বছরও লেগে যেতে পারে।
এর একটা দেশীয় রাজনৈতিক দিকও আছে। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী আলাদাভাবে সংসদে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ঘাটতির জন্য দায়ী ভারত, এই কথাটা প্রকাশ্যে বারবার উঠে এলে তা নিয়ে সমালোচনাও বাড়ে। গভর্নর প্রকাশ্যে আর নির্দিষ্টভাবে ভারতকে বাংলাদেশি পণ্য বেশি কিনতে বলায় সরকারের হাতে একটা কংক্রিট উত্তর থাকে, পরের বার এই প্রশ্ন উঠলে, তা ভারতীয় আমদানির পরিমাণ আসলেই বাড়ুক বা না বাড়ুক।
আপাতত এই বৈঠক থেকে সংখ্যা নয়, আশ্বাসই বেরিয়ে এসেছে, বেশি আমদানি, বেশি বিনিয়োগ, সহজ মুনাফা ফেরত পাঠানোর নিয়ম, সহজ ডিজিটাল পেমেন্ট সংযোগ, এসবের কোনোটার সঙ্গেই নির্দিষ্ট সময়সীমা বা লক্ষ্যমাত্রা জুড়ে দেওয়া হয়নি। এর কোনোটা আদৌ বছরের পর বছর ধরে বাড়তে থাকা এই ঘাটতি কমাতে পারবে কিনা, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনেক দূরে, ভারতীয় বোর্ডরুমে আর নয়াদিল্লির নিজস্ব বাণিজ্যনীতিতে নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর, কোনো একটা সেপ্টেম্বরের সৌজন্য সাক্ষাতের ওপর নয়।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
২৬ মাস বোর্ডশূন্য থাকার পর বিএসইসি পুনর্গঠন করল ১,৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল
বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড টানা ২৬ মাস কোনো পরিচালনা বোর্ড ছাড়াই চলেছে, শেষ পর্যন্ত এই সপ্তাহে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সাত সদস্যের একটা অন্তর্বর্তী প্যানেল গঠন করেছে। প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকার এই তহবিল, যা অদাবিকৃত লভ্যাংশ আর শেয়ারের সমন্বয়ে গড়া, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য তৈরি, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটা আইনি বিরোধ ২০২৪ সাল থেকে পুরো কাঠামোটাকেই স্থবির করে রেখেছিল। বিএসইসি এখন চায় এই প্রশ্নের চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ আইন, যার খসড়া শিগগিরই সংসদে যাওয়ার কথা।
অনিয়মের পর নগদ লভ্যাংশের নিয়মে কড়াকড়ি আনল বিএসইসি, স্বতন্ত্র পরিচালক পুনর্নিয়োগে দিল স্বস্তি
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এখন থেকে নগদ লভ্যাংশের প্রস্তাব এজিএমে তুলতে পারবে না যতক্ষণ না পুরো টাকা একটা আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা থেকে সনদায়িত হয়। সাম্প্রতিক অনিয়মের পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে, সঙ্গে আছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি। একই সভায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্বতন্ত্র পরিচালক পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করেছে, প্রতিবার নতুন পর্যালোচনার বদলে শুধু একটা ক্লিন ক্রেডিট রিপোর্টই এখন যথেষ্ট।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২৮ শতাংশ, সবচেয়ে বড় ধাক্কা ইকুইটিতে
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ কম অর্থ বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। নতুন বিনিয়োগকারীর আস্থার সবচেয়ে স্পষ্ট সূচক নিট ইকুইটি মূলধন প্রবাহ কমেছে ৫৫ শতাংশ, নেমে এসেছে মাত্র ১৫৫ মিলিয়ন ডলারে। অর্থনীতিবিদরা এই পতনের পেছনে জ্বালানি সংকট, বাণিজ্য বিঘ্ন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপকেই মূল কারণ বলছেন।