বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ৯.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখল, তারপর সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতিই প্রমাণ করল সতর্কতা সঠিক ছিল
বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ সেপ্টেম্বর তার নীতি সুদহার ৯.৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রেখেছে, আইএমএফের শর্ত মেনে নতুন করে শুরু হওয়া ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি বিবৃতির প্রথমটিতে সতর্ক থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে। ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান বলেছেন, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৩২ শতাংশে আটকে থাকা আর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪.৭৫ শতাংশে নেমে আসার কারণেই আগস্টের সুদহার কমানোর পরপরই আরেকবার কমানোর পথে না গিয়ে অপেক্ষা করা হয়েছে। কয়েক দিন পরই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের তথ্যই দেখাল সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশে উঠেছে, টানা তিন মাসের শীতল হওয়ার ধারা ভেঙে, যা অনেকটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতাকেই সঠিক প্রমাণ করে দিল। বিশ্বব্যাংক এর মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৪ শতাংশে নামিয়ে আনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত আরও যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে।
নতুন ত্রৈমাসিক নিয়ম
বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ সেপ্টেম্বর তার প্রথম ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যা বছরের পর বছর চলে আসা অর্ধ-বার্ষিক পদ্ধতি থেকে একটা পরিবর্তন। ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত এসেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের একটা শর্ত মেনে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও ঘন ঘন আর তথ্যভিত্তিক নীতি জানাতে বাধ্য করেছে। এই বিবৃতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিক নিয়ে, আর এসেছে ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির ১৪তম সভার এক সপ্তাহ পর।
ব্যাংক কী সিদ্ধান্ত নিল
ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, বেঞ্চমার্ক রেপো রেট ৯.৫ শতাংশেই থাকবে, সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি রেট থাকবে ১১ শতাংশ আর স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি রেট থাকবে ৭.৫ শতাংশ। তিনটি হারের একটিও বদলায়নি, কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ পরিবর্তন ছিল ২ আগস্টের ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানো, যা নীতি সুদহারকে ১০ শতাংশ থেকে নামিয়ে আনে। সেই আগস্টের কাটটাই ছিল লক্ষ্যণীয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম এটাকে প্রায় দুই বছরের মধ্যে প্রথম সুদহার কমানো বলে বর্ণনা করেছিল, আগের দুই বছর ধরে চলা কড়া মুদ্রানীতির পর, যা লক্ষ্যের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় নেওয়া হয়েছিল।
| হার | ২ আগস্ট ২০২৬ থেকে নির্ধারিত | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অপরিবর্তিত রাখা |
|---|---|---|
| নীতি (রেপো) সুদহার | ৯.৫০% | ৯.৫০% |
| স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি | ১১.০০% | ১১.০০% |
| স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি | ৭.৫০% | ৭.৫০% |
২ আগস্টের আগে নীতি সুদহার ছিল ১০.০০ শতাংশ, সেখান থেকেই ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানো হয়েছিল। আবার কমানোর বদলে অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্ত আসলে একটা সহজ হিসাবের প্রশ্ন ছিল, আগস্টের একটামাত্র কমানোই অর্থনীতির জন্য যথেষ্ট ছিল কিনা, নাকি মূল্যস্ফীতি যথেষ্ট কমেছে যে আরও এগোনো যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক অপেক্ষা করার পক্ষে গিয়েছিল, আর তখনকার হাতে থাকা তথ্য দেখে সিদ্ধান্তটা যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গতও মনে হয়েছিল।
মূল্যস্ফীতির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি
৩০ সেপ্টেম্বরের বিবৃতির সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে থাকা তথ্য মোটামুটি আশাব্যঞ্জক লাগছিল। জুনের ৯.১৬ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছিল ৮.২৬ শতাংশে, যা দশ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছিল ৭.০২ শতাংশে। এই ধারা একা দেখলে আরেকবার সুদহার কমানোর পক্ষেই যুক্তি দাঁড়ায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজের বিবৃতিতেই হেডলাইন সংখ্যার নিচে একটা কম স্বস্তিদায়ক তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আটকে ছিল ৯.৩২ শতাংশে, খাদ্যের দাম কমলেও এটা প্রায় নড়েনি, যা বোঝাচ্ছিল দামের চাপ হেডলাইন সংখ্যার চেয়ে আরও বিস্তৃত আর আঠালো হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও কিছু ঝুঁকির কথা তুলেছিল, যার সঙ্গে দেশের ভেতরের চাহিদার সরাসরি সম্পর্ক কম, বৈশ্বিক জ্বালানির উচ্চমূল্য, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে সরবরাহে বিঘ্ন, দেশের ভেতরে জ্বালানির দাম বাড়ানো, আর সরকারি নতুন বেতনস্কেলের সম্ভাবনা, যা বেতনভুক্ত পরিবারগুলোর হাতে বাড়তি টাকা তুলে দিতে পারে। এর কোনোটাই আগস্টের ধারা অব্যাহত থাকলেও মূল্যস্ফীতি আবার উসকে দিতে পারত, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছিলেন, মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা যখন স্থির হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে, তখন আগেভাগে সুদহার কমালে সেই প্রত্যাশাই আবার অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
সেই সতর্কতাই শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হলো। নীতি বিবৃতির কয়েক দিন পরই বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা গেল সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩৪ শতাংশে, আগস্টের ৮.২৬ শতাংশ থেকে বেড়ে, টানা তিন মাসের শীতল হওয়ার ধারা ভেঙে, যা বিডি ফিনান্সিয়াল রিভিউ ৯ অক্টোবর প্রতিবেদনে জানিয়েছিল। খাদ্যের দামই এই বৃদ্ধির বড় কারণ, যা বেড়ে হয়েছিল ৭.২২ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি মোটামুটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগেই সতর্ক করা উঁচু জায়গাতেই রইল। এই উল্টো চালটা এল বাংলাদেশ ব্যাংক কমানোর বদলে অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাত্র এগারো দিনের মাথায়, যা দেখলে বাড়তি সতর্কতা মনে হওয়া সিদ্ধান্তটাকেই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সঠিক প্রমাণ করে দিল।
প্রবৃদ্ধির হিসাব ছিল উল্টো পথে
মূল্যস্ফীতিই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় ছিল না। প্রবৃদ্ধির তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অন্যদিক থেকে ভাবাচ্ছিল, সুদহার বেশিদিন বেশি কড়া রাখলে কী ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন দাঁড়িয়েছে ৪.১৪ শতাংশ, আর ওই অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমে গিয়েছিল ২.২ শতাংশে, শিল্প উৎপাদন একই সময়ে আসলে ০.২৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি, ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ আর সম্প্রসারণের জন্য কতটা ঋণ নিচ্ছেন তার একটা মোটামুটি হিসাব, কমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৪.৭৫ শতাংশে, সুস্থ প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণত যা মেলে তার চেয়ে অনেক নিচে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের ৩০ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতেই বিশ্বব্যাংকের ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের কথা উল্লেখ ছিল, আর বলা হয়েছিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল নিজের পূর্বাভাস ৪.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩.৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, যা নিজেই পুনরুদ্ধারের ওপর আস্থা কমে যাওয়ার একটা লক্ষণ। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জানার উপায় ছিল না যে বিশ্বব্যাংক নিজেই নিজের সংখ্যাটা বড় করে কমাতে চলেছে। ৭ অক্টোবরের মধ্যে, বিডি ফিনান্সিয়াল রিভিউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস নামিয়ে এনেছিল মাত্র ৩.৪ শতাংশে, আগের বছরের মতোই ধীর গতিতে, আর এর কারণ হিসেবে বলেছিল ব্যাংক খাতে মন্দ ঋণ বেড়ে ৩৩.২ শতাংশে উঠে যাওয়া আর মূলধন পর্যাপ্ততা ঋণাত্মক হয়ে পড়ার কথা। এই নতুন পূর্বাভাস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সপ্তাহ আগে ব্যবহার করা ৪.৬ শতাংশের চেয়ে বরং আইএমএফের বেশি পেসিমিস্টিক ৩.৫ শতাংশের অনেক কাছাকাছি গিয়ে পড়েছিল।
এক সপ্তাহও টিকল না যে পূর্বাভাস
সবকিছু একসঙ্গে দেখলে পুরো ঘটনাটা যেন বাস্তব সময়ে লেখা একটা প্রমাণের মতো দাঁড়ায়। বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ সেপ্টেম্বর সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছিল আংশিকভাবে এই কারণে যে মূল্যস্ফীতি যথেষ্ট কমেছে বলে তখনও নিশ্চিত হতে পারেনি, আর প্রবৃদ্ধির সংখ্যা সহজ করার পক্ষে কথা বললেও। দুই সপ্তাহের মধ্যেই, যে মূল্যস্ফীতি নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল তা আবার বেড়ে গেল, আর যে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসকে কিছুটা আশার কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, সেটাই যে প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিল সে নিজেই এক পূর্ণ শতাংশ পয়েন্টের বেশি কমিয়ে দিল। এর কোনোটাই ৩০ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তের হিসাব বদলে দিত না, কারণ নতুন তথ্য আসলেই নীতি সুদহার বদলানো যায় না, কিন্তু দুটোই দেখায় প্রবৃদ্ধির জন্য দ্রুত সুদহার কমানোর দাবি তোলা সমালোচকদের তুলনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপেক্ষা করার সিদ্ধান্তটাই অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত ছিল।
এতে অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সামলাতে থাকা মূল টানাপোড়েনটা মিটে যায় না। ৩০ সেপ্টেম্বরের বিবৃতি অনুযায়ী জুন ২০২৬ পর্যন্ত মন্দ ঋণ মোট ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশে পৌঁছেছিল, আর কয়েক সপ্তাহ পরেই বিশ্বব্যাংকের উল্লেখ করা হিসাবে তা বেড়ে হয় ৩৩.২ শতাংশ। ব্যাংক খাতের ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যখন খারাপ হয়ে পড়ে, তখন শুধু সুদহার কমিয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি ফেরানো কঠিন হয়ে যায়, কারণ অনেক ব্যাংক মূলধন আর প্রভিশনিং-এর শর্তে বাঁধা থাকে, নীতি সুদহার যেখানেই থাকুক না কেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সস্তা তহবিল পাওয়া ব্যাংক পর্যায়ের দেউলিয়াত্বের সমস্যা মেটায় না, আর এই কারণেই কিছু বিশ্লেষক বলছেন, মন্দ ঋণ সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঁচ বছরের যে পরিকল্পনা সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে ৬ অক্টোবর উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা বিডি ফিনান্সিয়াল রিভিউ প্রতিবেদন করেছিল, প্রবৃদ্ধির জন্য নীতি সুদহারের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর কী
নতুন ত্রৈমাসিক নিয়মে পরের নির্ধারিত পর্যালোচনা হবে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক আগেও দেখিয়েছে পরিস্থিতি দাবি করলে নিয়মিত ক্যালেন্ডারের বাইরেও সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যেমন ২ আগস্টের কাটটাও কোনো অর্ধ-বার্ষিক পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। আপাতত ব্যবসায়ী আর ঋণগ্রহীতাদের ধরে নেওয়া উচিত অর্থায়নের খরচ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত এখন যেখানে আছে সেখানেই থাকবে, কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজের বিবৃতিই বলছে তারা মূল্যস্ফীতি কমার আরও ধারাবাহিক প্রমাণ চায়, কেবল এক-দুই মাসের ভালো তথ্য নয়, আবার সুদহার নিয়ে এগোনোর আগে। আর সবশেষ মূল্যস্ফীতির তথ্যই যখন উল্টো দিকে গেছে, তখন সস্তা ঋণের আশায় থাকা ঋণগ্রহীতাদের জন্য সেই প্রমাণ আসতে যতটা সময় চাইছেন তার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
ব্যয়বহুল এলএনজি টার্মিনাল পরিকল্পনা বাতিল করে চীন ও স্পট কার্গোর ওপর ভর করছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে, যার খরচ হতো ২০ বছরে ১৩,১৬১ কোটি টাকা পর্যন্ত, তার বদলে স্পট আর জি টু জি বাজার থেকে নয়টি এলএনজি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েক দিন পরে ব্যাংককে চীনের এক্সিম ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে বলেছে, তারা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ আর ঢাকার চারপাশের গ্রিড উন্নয়নে অর্থায়ন দ্রুত করতে চায়। এই দুটো পদক্ষেপ মিলে দেখায় সরকার কীভাবে সামনের জ্বালানি খরচ আর দীর্ঘমেয়াদে ব্যবস্থাটা ঠিক করার অর্থায়নের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে।
বাংলাদেশ আবার আইএমএফের দ্বারে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের আবেদন
সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচি থেকে নির্ধারিত সময়ের আট মাস আগেই সরে আসার পাঁচ মাস পর বাংলাদেশ ফিরে গেছে ব্যাংককের আলোচনার টেবিলে, এবার চাইছে নতুন করে সাড়ে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ঋণ। রাজস্ব জিডিপির অনুপাত নেমে এসেছে মাত্র সাত শতাংশে, আর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পৌঁছে গেছে মোট ঋণের প্রায় এক তৃতীয়াংশে, এমন সময়েই এসেছে এই নতুন আবেদন। অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, আলোচনা বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা, আর ঋণ ছাড় হবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক কিস্তিতে।
বিশ্বব্যাংক থেকে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলারের জন্য দ্রুত প্রকল্প অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছে আগামী তিন বছরে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে, যা দিয়ে জ্বালানি ভর্তুকি, ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ আর জরুরি আমদানি সামলানো হবে। বিনিময়ে ঢাকা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রকল্প অনুমোদনের সময় ১৮ মাস থেকে আট মাসে আর বাস্তবায়নের সময় সাত বছর থেকে পাঁচ বছরে কমাবে। ব্যাংকক সভায় করা এই চাওয়ার পাশাপাশি চলছে আইএমএফের সঙ্গে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলাদা আলোচনাও।