বিদেশ যাত্রীদের জন্য নগদ ডলার কেনার সীমা ৩,০০০ ডলারে বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক একজন যাত্রী এক লেনদেনে মানি চেঞ্জার থেকে কত নগদ ডলার কিনতে পারবেন তার সীমা ২,০০০ থেকে ৩,০০০ ডলারে বাড়িয়েছে। গত মাসে বার্ষিক ভ্রমণ কোটা ১৮,০০০ ডলারে বাড়ানোর পরের এই পদক্ষেপ। ২০২৪ সাল থেকে এই সীমাগুলো কীভাবে বদলেছে এবং বিদেশ যাওয়ার প্ল্যান থাকলে এর মানে কী, তা দেখে নেওয়া যাক।
বিদেশ যাওয়ার প্ল্যান থাকলে এবার একটু স্বস্তি পাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে জানিয়েছে, লাইসেন্সধারী মানি চেঞ্জাররা এখন থেকে একজন বিদেশযাত্রীকে এক লেনদেনে ২,০০০ ডলারের বদলে ৩,০০০ ডলার পর্যন্ত নগদ বিক্রি করতে পারবে। গত বৃহস্পতিবার এই সার্কুলার জারি হয়েছে। গত দুই মাসে এটি দ্বিতীয়বার, যখন বিদেশ ভ্রমণের ডলার সীমা বাড়ানো হলো, এবং দুটো মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি মুদ্রা নীতিতে এটাই সবচেয়ে যাত্রী বান্ধব পরিবর্তন বলা যায়।
- মানি চেঞ্জারের কাছ থেকে এক লেনদেনে নগদ ডলার কেনার সীমা ২,০০০ থেকে ৩,০০০ ডলারে উঠেছে।
- গত মাসেই বার্ষিক ভ্রমণ কোটা ১২,০০০ থেকে ১৮,০০০ ডলারে বাড়ানো হয়েছিল, এটা তার পরের পদক্ষেপ।
- বছরে নগদ ডলার নোট তোলার সীমা এখনও ৫,০০০ ডলারেই আছে, এটা বড় বার্ষিক কোটার ভেতরেই থাকে।
- নগদ ডলার আইনিভাবে সঙ্গে নিতে হলে ব্যাংক বা মানি চেঞ্জারের পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট এখনও লাগবে।
এই সপ্তাহে যা বদলাল
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্টের নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, দেশের অনুমোদিত মানি চেঞ্জাররা এখন একজন যাত্রীকে এক ভিজিটে আগের ২,০০০ ডলারের জায়গায় ৩,০০০ ডলার পর্যন্ত নগদ নোট ও কয়েন দিতে পারবে। বছরের বাকি কোটা অন্য মুদ্রায় তোলা যাবে, তবে তা নির্দিষ্ট কোটার মধ্যেই থাকতে হবে এবং সেদিন ওই মানি চেঞ্জারের হাতে কত বৈদেশিক মুদ্রা আছে তার ওপরও নির্ভর করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সময়টা বেছে নেওয়ার কারণ খোলাসা করেনি, কিন্তু এটা এমন একটা সময়ে এলো যখন শীতের বিয়ের সিজন, হজের প্রস্তুতি আর জানুয়ারির ভর্তির জন্য বিদেশে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের ভিড় একসাথে মানি চেঞ্জারের কাউন্টারে চাপ ফেলে।
ভ্রমণের ডলার সীমা কীভাবে বদলেছে
এটা একবারের কোনো পরিবর্তন না। গত দুই বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি আলাদা আলাদা ভ্রমণ সংক্রান্ত ডলার সীমা একটু একটু করে শিথিল করেছে। এগুলো গুলিয়ে ফেলা সহজ, কারণ একটা নিয়ন্ত্রণ করে আপনি একবারে কত নগদ কিনতে পারবেন, আর আরেকটা নিয়ন্ত্রণ করে সারা বছরে বিদেশে মোট কত খরচ করতে পারবেন।
| সময় | কী নিয়ন্ত্রণ করে | আগের সীমা | নতুন সীমা |
|---|---|---|---|
| নভেম্বর ২০২৪ | মানি চেঞ্জারের নগদ বিক্রি, প্রতি লেনদেনে | ১,০০০ ডলার | ২,০০০ ডলার |
| সেপ্টেম্বর ২০২৬ | বার্ষিক ভ্রমণ কোটা, সব মিলিয়ে | প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি ১২,০০০ ডলার | প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি ১৮,০০০ ডলার |
| অক্টোবর ২০২৬ | মানি চেঞ্জারের নগদ বিক্রি, প্রতি লেনদেনে | ২,০০০ ডলার | ৩,০০০ ডলার |
আপনার জন্য এর মানে কী
বছরে এক দুইবার বিদেশ গেলেও এর বাস্তব সুবিধা হলো, মানি চেঞ্জারের কাউন্টারে কম ঘুরতে হবে আর ঝামেলাও কমবে। হজ বা উমরাহয় যাওয়া চার সদস্যের একটা পরিবার, বা বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে হাতখরচ তোলা একজন ছাত্র, এখন একবারেই আগের চেয়ে ১,০০০ ডলার বেশি তুলতে পারবেন, যা জরুরি হয়ে ওঠে যখন কাউন্টারে নির্দিষ্ট দিনে নোটের স্টক কম থাকে বা ফ্লাইট মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরে। মনে রাখা ভালো, এই ৩,০০০ ডলার একটা লেনদেনের সীমা, আপনার বার্ষিক কোটার ওপর অতিরিক্ত কিছু নয়। নগদ আর কার্ড মিলিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্কের বছরের মোট খরচ এখনও ১৮,০০০ ডলার এবং ১২ বছরের নিচের শিশুর জন্য ৯,০০০ ডলারেই বাঁধা আছে। ভ্রমণের জন্য বড় অঙ্কের ডলার ভাঙাতে গেলে কাউন্টারে যাওয়ার আগে বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউর কারেন্সি কনভার্টার দিয়ে সেদিনের রেট একবার দেখে নেওয়া ভালো, কারণ ডলারের চাহিদা বাড়লে রেট ঘণ্টায় ঘণ্টায় বদলাতে পারে।
খুঁটিনাটি: কোটা, এনডোর্সমেন্ট এবং ট্যুর প্যাকেজের আলাদা নিয়ম
কয়েকটা জিনিস গুলিয়ে ফেলা সহজ। প্রথমত, বছরে ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত নগদ নোট বহন বা তোলার সীমা বদলায়নি, এটা এখনও বড় ১৮,০০০ ডলারের কোটার ভেতরেই থাকে, এর বাইরে আলাদা কিছু নয়। দ্বিতীয়ত, নগদ ডলার কেনার প্রতিটা লেনদেনেই কাগজপত্র লাগে, প্রতিবার ব্যাংক বা মানি চেঞ্জারের পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট লাগবে, যা আপনার বছরের কোটার হিসাবে যুক্ত হয়ে যায়। তৃতীয়ত, এই সার্কুলার আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবন্ধিত ট্যুর অপারেটরদের জন্য করা একটি ব্যবস্থা থেকে আলাদা, যেখানে অপারেটররা ব্যক্তিগত কোটার বাইরে গিয়ে বছরে একজন যাত্রীর জন্য ৩,০০০ ডলার পর্যন্ত সরাসরি বিদেশি হোটেল বা সেবাদাতাকে পাঠাতে পারে। এই সুবিধা শুধু ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যের মাধ্যমে বুক করা প্যাকেজের জন্য, এটা আপনি ব্যক্তিগতভাবে মানি চেঞ্জারের কাউন্টারে কত নগদ কিনতে পারবেন তার সীমা বদলায় না।
ছোট কিছু প্রশ্নের উত্তর
এটা কি বিদেশে মোট খরচের সীমা বাড়িয়ে দিল? না। এটা শুধু এক লেনদেনে কত নগদ কেনা যাবে তা বাড়িয়েছে। বছরের মোট সীমা এখনও একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য ১৮,০০০ ডলার।
৩,০০০ ডলার নগদ কিনতে কী লাগবে? একটা বৈধ পাসপোর্ট এবং প্রয়োজনমতো টিকিট বা ভিসা, সাথে যে ব্যাংক বা মানি চেঞ্জার থেকে কিনছেন তাদের পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট।
এটা কি বিদেশে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের খরচে প্রভাব ফেলবে? না, কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে খরচ একই বার্ষিক কোটার আওতায় চলে, কিন্তু এই সার্কুলার তাতে হাত দেয়নি।
এক ট্রিপের জন্য ৩,০০০ ডলারের বেশি নগদ নেওয়া যাবে কি? যাবে, তবে একাধিক লেনদেনে বা একাধিক ভিজিটে নিতে হবে, যতক্ষণ আপনার বার্ষিক কোটার মধ্যে থাকছেন।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স সহজ করতে টাকা রুফিয়া বিনিময়ের প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
মালদ্বীপে থাকা এক লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী যাতে সহজে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মালদ্বীপ মনিটরি অথরিটিকে একটা মুদ্রা সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স প্রায় ১৬.৪ শতাংশ কমে ১১৮ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হলো, যদিও সেখানে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা এক লাখের ওপরেই আছে। প্রস্তাবে আছে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের মাধ্যমে রুফিয়া নিষ্পত্তি, টাকায় মূল্যায়িত ট্রাভেল কার্ড এবং সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা বিনিময়, তবে তিনটি পথই এখনও দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায়।
শক্তিশালী টাকা নিঃশব্দে কমিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা, ঠিক যখন রপ্তানি রেকর্ড ছুঁয়েছে
দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও জুলাই আর আগস্ট দুই মাসেই ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশের টাকা, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিয়াল এফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট সূচককে বাড়িয়ে নিয়ে গেছে ১০৫.৩৭ এ, এমন একটা মাত্রা যা বলে দেয় মুদ্রাটা এখন তার বাণিজ্য সহযোগীদের তুলনায় অতিমূল্যায়িত। নাম প্রকাশ না করা বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকাকে অবমূল্যায়ন হতে দেওয়ার কথা ভাবা উচিত, আর সতর্ক করেছেন টাকা এভাবে শক্তিশালী থাকলে রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময়টা একটু বেখাপ্পা, এই সতর্কবার্তা এসেছে ঠিক তখনই যখন বাংলাদেশের রপ্তানি এফওয়াই২৭ এর প্রথম প্রান্তিকে ৬.৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১৩.১ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রশ্ন তোলে একটা স্থায়ীভাবে অতিমূল্যায়িত মুদ্রা এই পুনরুদ্ধারের কতটুকু টিকিয়ে রাখতে দেবে।
সেপ্টেম্বরের ১১ মাসের সর্বনিম্ন থেকে ঘুরে অক্টোবরের শুরুতে রেমিট্যান্স বাড়ল ২১ শতাংশ
প্রবাসী আয় অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিনে আগের বছরের তুলনায় ২১.৪ শতাংশ বেড়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, যা সেপ্টেম্বরের ১১ মাসের সর্বনিম্ন ২.৭৭ বিলিয়ন ডলার থেকে একটা বড় ঘুরে দাঁড়ানো। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক তবু আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি, ৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে বন্ধ হয়েছে, কারণ ব্যাংক আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর কারণ বলছে হুন্ডির ওপর কড়াকড়ি আর ডলারের বিনিময় হারের তুলনামূলক স্থিতিশীলতা, যা প্রবাসী আয়কে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, কয়েক দিনের ভালো সংখ্যা সেপ্টেম্বরের পতনের অন্তর্নিহিত কারণ পুরোপুরি মুছে দেয় না, তবে অক্টোবরের শুরুর এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ যে এটা একটা সাময়িক ধাক্কা ছিল, কোনো স্থায়ী মোড় পরিবর্তন নয়।