চারটি বিপর্যস্ত এনবিএফআইয়ের আমানতকারীদের জন্য ফেরতের সীমা ৫০ লাখ টাকায় বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক চারটি বিপর্যস্ত নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের জন্য একটা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়ার নীতি অনুমোদন করেছে, যেখানে আগের ফ্ল্যাট ১০ লাখ টাকার সীমা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরো মূল টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। অভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স আর ইন্টারন্যাশনাল লিজিং মিলে আমানতকারীদের কাছে পাওনা ১২,৪৮৩ কোটি টাকা, যাদের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগস্টে চারটি প্রতিষ্ঠানের বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করে, যা গত বছর থেকে চলা ২০টি দুর্বল এনবিএফআইয়ের বিরুদ্ধে একটা বড় পরিষ্কার অভিযানের অংশ। ৫০ লাখ টাকার বেশি আমানত থাকা বড় আমানতকারীরা ধাপে ধাপে কমতে থাকা হার অনুযায়ী তুলনামূলক কম টাকা ফেরত পাবেন, আর বেশিরভাগ সাধারণ সঞ্চয়কারী তাদের পুরো মূল টাকাই ফেরত পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক চারটি বিপর্যস্ত নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আটকে পড়া আমানতকারীদের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি সহনীয় একটা ফেরত দেওয়ার নীতি অনুমোদন করেছে। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল, এখন ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের পুরো টাকাটাই ফেরত পাওয়া যাবে, আর তার চেয়ে বেশি অঙ্কের আমানতের জন্য একটা ধাপে ধাপে কমতে থাকা হার অনুযায়ী আংশিক টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড ২৪ সেপ্টেম্বর এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে, আর তা প্রকাশ্যে আসে দুই দিন পর। এতদিন যাদের টাকা কার্যত জমে ছিল, নিয়ন্ত্রক সংস্থা আগস্ট মাসে হস্তক্ষেপ করার পর থেকে, তাদের হাজার হাজার আমানতকারীর জন্য এটা কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার একটা সমাপ্তি।
নতুন এই নীতির আওতায় থাকা চারটি প্রতিষ্ঠান হলো অভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স আর ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন এদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, তখন প্রতিটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশের মধ্যে। এই চারটি প্রতিষ্ঠান মিলে আমানতকারীদের কাছে পাওনা ১২,৪৮৩ কোটি টাকা, যা প্রতিষ্ঠানভেদে অসমভাবে ভাগ হয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ অভিভা ফাইন্যান্সের, ৫,৩৬৮ কোটি টাকা, তারপর ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৩,০১২ কোটি টাকা, ফাস ফাইন্যান্সের ১,২৪৬ কোটি টাকা, আর তুলনামূলক ছোট অঙ্কে ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৪৪৯ কোটি টাকা।
নতুন ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়ার নিয়ম কীভাবে কাজ করবে
আগের নিয়মে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো আমানতকারী যত টাকাই জমা রাখুক, তার নিশ্চিত ফেরত ছিল মাত্র ১০ লাখ টাকা, যার ফলে অনেক ছোট সঞ্চয়কারী আর অবসরপ্রাপ্ত মানুষ তাদের জমানো টাকার বড় অংশ হারানোর মুখে পড়েছিলেন। সংশোধিত নীতিতে এই সীমা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, আর আমানতের অঙ্ক যত বাড়ে তত বেশি কাটছাঁটের হার প্রয়োগ হয়। ৫০ লাখ টাকা বা তার কম আমানত থাকা কেউ এখন পুরো মূল টাকাই ফেরত পাবেন। ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে থাকা আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পাবেন। ১ কোটি থেকে ১.৫ কোটি টাকার মধ্যে থাকলে পাবেন ৮০ লাখ টাকা, সাথে ১ কোটির ওপরের অংশের অর্ধেক। ১.৫ কোটি থেকে ২ কোটি টাকার মধ্যে থাকা আমানতকারীরা পাবেন ১.০৫ কোটি টাকা, সাথে ১.৫ কোটির ওপরের অংশের ৪০ শতাংশ, আর ২ কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা কেউ পাবেন ১.২৫ কোটি টাকা, সাথে ২ কোটির ওপরের বাকি অংশের ৩০ শতাংশ।
| আমানতের পরিমাণ | ফেরতযোগ্য অর্থ |
|---|---|
| ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত | পুরো মূল টাকা |
| ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা | সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা |
| ১ কোটি থেকে ১.৫ কোটি টাকা | ৮০ লাখ টাকা + ১ কোটির ওপরের অংশের ৫০% |
| ১.৫ কোটি থেকে ২ কোটি টাকা | ১.০৫ কোটি টাকা + ১.৫ কোটির ওপরের অংশের ৪০% |
| ২ কোটি টাকার বেশি | ১.২৫ কোটি টাকা + ২ কোটির ওপরের অংশের ৩০% |
এই কাঠামোর মানে হলো, সাধারণ আমানতকারীদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ, যারা সাধারণত একটা মাঝারি হারে ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট রেখেছিলেন, ফলন তাড়া করা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নয়, তারা তাদের পুরো মূল টাকাই অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাবেন। বরং যে সামান্য সংখ্যক বড় আমানতকারী, যাদের মধ্যে কর্পোরেট ট্রেজারি আর ধনী ব্যক্তিরাও আছেন, যারা একটা সংকটে থাকা এনবিএফআইতে কয়েক দশ কোটি টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন, তারাই এই ধাপে ধাপে হার প্রয়োগের কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতির ভাগ বহন করবেন।
বছরের পর বছর জমতে থাকা একটা সংকট
এই হস্তক্ষেপ আকাশ থেকে পড়েনি। বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ আগস্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের বোর্ড ভেঙে দেয় আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য ঘোষণা করে, আর দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রশাসক নিয়োগ করে, যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঠিক করছিল আমানতকারীদের টাকা শেষ পর্যন্ত কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ নিজেই আগের বছরের মে মাসে শুরু হওয়া একটা বড় পরিষ্কার অভিযানের অংশ, যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক খাতের ২০টি দুর্বল পারফরম্যান্সের নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করতে উদ্যোগ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম পর্বেই বন্ধ করার জন্য বেছে নেওয়া হয়, আর আরও চারটিকে, যাদের সাথে এখনকার এই ফেরত দেওয়ার নীতির আওতায় থাকা কিছু প্রতিষ্ঠানের মিল থাকতে পারে, তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখানোর জন্য তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছিল, তা না হলে একই পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
এই সংকটের মূলে থাকা খেলাপি ঋণের হার, চার প্রতিষ্ঠানেই ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত, স্পষ্ট করে দেখায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যত কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। যে এনবিএফআইয়ের ঋণের খাতা প্রায় পুরোপুরি খেলাপি হয়ে গেছে, বাস্তবে তার মূল ব্যবসা থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য আয় থাকে না, আর ঠিক এই কারণেই আমানতকারীদের টাকা মূল্য হারানোর বদলে পুরোপুরি আটকে গিয়েছিল, প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে নিয়মিত টাকা তোলার আবেদন মেটানোর মতো কোনো চলমান আয়ের উৎসই ছিল না, ফিক্সড ডিপোজিট খোলার সময় যে রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা তো দূরের কথা।
বাংলাদেশের নন ব্যাংক আর্থিক খাতে আমানতকারীদের এভাবে উদ্ধার করার এটাই প্রথম ঘটনা নয়। কয়েক বছর আগে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে একই রকম ঋণের মান ধসে পড়ার পর অবসায়ন করতে হয়েছিল, আর সেই ঘটনাকে খাত বিশ্লেষকরা এখনো ছোট এনবিএফআইগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ভাঙার সূচনা বিন্দু বলে মনে করেন, যার ফলে অনেক সঞ্চয়কারী তুলনামূলক নিরাপদ মনে করা বড়, ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর দিকে ঝুঁকে যান। অভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স আর ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এখনকার পরিষ্কার অভিযান বলে দেয়, সেই আস্থার ক্ষয় পুরোপুরি কাটেনি, আর খাতের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ এমন ঋণের খাতা নিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপের অনেক আগেই আসলে উদ্ধারের অতীত হয়ে গিয়েছিল।
এই ঘটনা চারটি প্রতিষ্ঠানের বাইরেও কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত বছরের পর বছর সুশাসন আর সম্পদের মান নিয়ে সমস্যায় ভুগছে, যা প্রায়ই বড় বাণিজ্যিক ব্যাংকিং খাতের নিজের খেলাপি ঋণের সমস্যার আলোচনায় চাপা পড়ে যায়। কিন্তু পরিবারের সঞ্চয়ের আচরণে এনবিএফআইগুলোর একটা নিজস্ব জায়গা আছে, অনেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ে সামান্য বেশি হারে আমানতের সুদ দিয়ে সেই সঞ্চয়কারীদের আকর্ষণ করে যারা কিছুটা কম তারল্যের বিনিময়ে বেশি সুদ নিতে রাজি, আর এতে গ্রাহকদের বড় অংশ থাকেন অবসরপ্রাপ্ত মানুষ, ছোট ব্যবসায়ী আর সেই পরিবার যারা এনবিএফআইয়ের ফিক্সড ডিপোজিটকে একটা নিরাপদ, আয় দেওয়া সঞ্চয়ের জায়গা মনে করেন, ফাটকা বিনিয়োগ না। এই ধারণা ভেঙে পড়লে, যেমনটা হয়েছে এই চার প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের ক্ষেত্রে, তাতে বৃহত্তর এনবিএফআই শ্রেণীর প্রতি জনগণের আস্থার ক্ষতি একটা নির্দিষ্ট ঘটনার সমাধানের চেয়েও বেশিদিন টিকে থাকতে পারে।
সংশোধিত এই ফেরত দেওয়ার নীতিকে যতটা নির্দিষ্ট আমানতকারীদের সরাসরি উদ্ধার বলা যায়, ঠিক তার সমান বা তারও বেশি এটাকে সেই সুনামের ক্ষতি সীমিত করার চেষ্টা বলা যায়। ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরো মূল টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা দিয়ে, যা বেশিরভাগ সাধারণ খুচরা আমানতকারীর জমানো টাকার চেয়ে যথেষ্ট বেশি, বাংলাদেশ ব্যাংক একটা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে সাধারণ সঞ্চয়কারীদের প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনার দাম দিতে হবে না, যদিও ধাপে ধাপে কমতে থাকা এই হারের মাধ্যমে বড় আমানতকারীদের ক্ষতির অনুপাতে বেশি অংশ বহন করতে হচ্ছে। এই টাকা ফেরত দেওয়ার খরচ চার প্রতিষ্ঠানের সম্পদ উদ্ধার থেকে আসবে, নাকি একটা বৃহত্তর আমানত বিমা ব্যবস্থা থেকে, নাকি দুটোর মিশ্রণ থেকে, তা প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি, আর আমানতকারীরা সংশোধিত হিসাব ছাড়াও একটা সুনির্দিষ্ট অর্থ ছাড়ের সময়সূচির জন্য এখনো অপেক্ষা করছেন।
এরপর কী হবে
আপাতত এই ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়ার কাঠামোর অনুমোদন একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত, আমানতকারীদের হাতে নগদ টাকা পৌঁছে যাওয়া না। আগস্টে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের এখন আলাদা আলাদা আমানতের হিসাব যাচাই করতে হবে, একটা প্রক্রিয়া যা অন্যত্র আগের এনবিএফআই ধসের ঘটনায় সপ্তাহের বদলে মাসের পর মাস লেগেছে, বিশেষ করে যেখানে বিদায়ী ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো রেকর্ড রাখেনি। অভিভা ফাইন্যান্সের আমানতকারীরা, যারা একাই চার প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিতে থাকা মোট ১২,৪৮৩ কোটি টাকার প্রায় ৪৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করেন, তারাই অর্থ ছাড়ের সময়সূচি সবচেয়ে বেশি নজরে রাখা দলের অন্তর্গত হবেন। আগের বছরের বড় পরিষ্কার অভিযানের আওতায় তিন মাসের সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠানও নজর রাখার মতো একটা বিষয়, কারণ তাদের কেউ অভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স আর ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের মতো অবস্থায় গিয়ে পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংককে আবার এই ধরনের উদ্ধার কাঠামো কতটা পুনরাবৃত্তি করতে হবে, সেটাই তখন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
বিদেশি ব্যাংকের মুনাফা প্রথমার্ধে ৩৮ শতাংশ কমল, ট্রেজারি বাজিতে এগিয়ে দেশি ব্যাংক
বাংলাদেশে কার্যরত নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সম্মিলিত নিট মুনাফা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ৩৮ শতাংশ কমে হয়েছে ২,৩২১ কোটি টাকা, দুর্বল বাণিজ্য অর্থায়ন ও জ্বালানি সংকটের কারণে। একই সময়ে, অনেক তালিকাভুক্ত দেশি ব্যাংক ভালো মুনাফা বৃদ্ধি দেখিয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই এসেছে সরকারি সিকিউরিটিজের বিনিয়োগ আয় থেকে, নতুন ঋণ বিতরণ থেকে নয়। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার খাতের গড়ের চেয়ে এখনও অনেক কম এবং তাদের মূলধন মজুদ অনেক বেশি শক্তিশালী।
উত্তোলনের চাপে ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭,০০০ কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক, পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশের বেলআউট পরিকল্পনা
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭,০০০ কোটি টাকা ধার দিয়েছে, যার পুরোটার গ্যারান্টি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, তিন দিনে প্রায় ৭,৫০০টি উত্তোলনের আবেদন আসার পর। এই ঋণ ন্যাশনাল ব্যাংককে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পুরো উত্তোলন সুবিধা ফিরিয়ে আনার সময়সীমা পূরণে সহায়তা করার জন্য। ব্যাংকটি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণী, যা সিকদার পরিবারের আমলে শুরু হওয়া সমস্যার গভীরতার কথা মনে করিয়ে দেয়।
ব্র্যাক ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারকে তিনগুণ বোর্ড আসন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য একটি বোর্ড নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার ফলে ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার এখন একজনের পরিবর্তে তিনজন পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ দিতে পারবে। ১২ অক্টোবরের এই সার্কুলারে উপকৃত হচ্ছে ব্র্যাক, যার হাতে একজন কর্মকর্তার তথ্যানুযায়ী ব্যাংকটির ৪৬ শতাংশ শেয়ার আছে। এই বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় এমন নির্দিষ্ট ব্যাংকের জন্য দেওয়া ছাড়, এর আগে মার্চে ট্রাস্ট ব্যাংককেও একই ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল।