ব্যাংকিং ও এফডিআর

ব্যাংকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের নিয়ম নরম করল বাংলাদেশ ব্যাংক, খেলাপি ঋণ কমাতে ১৮ মাসের পরিকল্পনা

৩ অক্টোবর, ২০২৬5 মিনিটের পড়া
ব্যাংকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের নিয়ম নরম করল বাংলাদেশ ব্যাংক, খেলাপি ঋণ কমাতে ১৮ মাসের পরিকল্পনা

বেসরকারি ব্যাংকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবিত ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনী নরম করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুই জনে নামাতে চাইলেও প্রতি বোর্ডে তিনজন পারিবারিক পরিচালকের সীমাই বহাল রাখা হয়েছে, যদিও মেয়াদসীমা কড়া করা হয়েছে আর পরিবারের আইনি সংজ্ঞা বিস্তৃত করা হয়েছে। একই সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক বুলেট পেমেন্ট মীমাংসা আর ওয়ান-টাইম এক্সিট সুবিধার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করতে ১৮ মাসের একটা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যখন তথ্যে দেখা গেছে শ্রেণিকৃত ঋণ ৬,০৬,৫৫৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৩২.৭৮ শতাংশ হার, যা এখনো বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সতর্ক করেছেন, পূর্ণাঙ্গ সংশোধনী না হলে ব্যাংক সুশাসন উন্নত করা বাধাগ্রস্ত হবে, আর আলাদা প্রতিবেদনে দেখা গেছে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ মাত্র ৫,৭৭৫ জন বড় ঋণগ্রহীতার কাছে কেন্দ্রীভূত। এই দুটো পদক্ষেপ একসাথে দেখায়, একজন নিয়ন্ত্রক দুর্বল সুশাসন আর পাহাড়সম খেলাপি ঋণ একসাথে ঠিক করার চেষ্টা করছেন, অথচ রাজনৈতিক আর ব্যবসায়িক চাপ সুশাসনের অংশটা ধীর করে দিচ্ছে।

দুটো সংস্কার, কিন্তু তর্কটা একটাই, ব্যাংক চালায় কে

সেপ্টেম্বরের শেষ আর অক্টোবরের শুরুর দিনগুলোতে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রকরা দুটো আলাদা কিন্তু একে অপরের সাথে জড়িত সংস্কার সামনে এনেছেন, আর দুটো মিলিয়ে একটাই গল্প বলছে, বাংলাদেশে পারিবারিক মালিকানা আর ব্যাংক পরিচালনাকে আলাদা করা এখনো কতটা কঠিন, আর ইচ্ছা থাকলেও খেলাপি ঋণ ব্যাংকের হিসাব থেকে সরানো কত ধীরগতিতে হচ্ছে। প্রথমটা হলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবিত ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনী নরম করে দেওয়া, যে আইনটা ঠিক করে একটা পরিবার বেসরকারি ব্যাংকের বোর্ডের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে। দ্বিতীয়টা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ১৮ মাসের একটা পরিকল্পনা, বুলেট পেমেন্ট মীমাংসা আর ওয়ান-টাইম এক্সিট সুবিধার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায় দ্রুত করার জন্য। দুটো পাশাপাশি রাখলে বোঝা যায়, একজন নিয়ন্ত্রক ব্যাংক খাতের দুটো সবচেয়ে বড় কাঠামোগত সমস্যা, কেন্দ্রীভূত পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ আর পাহাড়সম খেলাপি ঋণ, ঠিক করার চেষ্টা করছেন, অথচ রাজনৈতিক আর ব্যবসায়িক চাপের ভয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রথম সমাধানটা কতদূর যেতে পারবে তা পিছিয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক যা চেয়েছিল, আর যা পাচ্ছে

প্রস্তাবিত সংশোধনীর শুরুটা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা চাপ, একটা পরিবার থেকে বেসরকারি ব্যাংকের বোর্ডে পরিচালকের সংখ্যা তিন থেকে কমিয়ে দুই করা, যাতে গত এক দশকে খাতের সবচেয়ে খারাপ সুশাসন ব্যর্থতার জন্য নিয়ন্ত্রকরা যে ধরনের বংশানুক্রমিক নিয়ন্ত্রণকে দায়ী করেন সেটা কমানো যায়। এপ্রিল আর জুলাই জুড়ে তিনটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আর ২০ সেপ্টেম্বর শেষ পর্যালোচনার পর অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তিনজন পারিবারিক পরিচালকের বর্তমান সীমা কঠোর না করে বরং সেটাই রেখে দেওয়ার। তবে অন্য কিছু পরিবর্তন করেছে। একজন পারিবারিক পরিচালক সর্বোচ্চ যতদিন থাকতে পারবেন সেই মেয়াদ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবিত ছয় বছরের বদলে নয় বছরে নামানো হয়েছে, আর কোম্পানি খেলাপি হলে পরিচালকের পদ কেড়ে নেওয়ার যে বিধান ছিল সেটা বাদ দিয়ে এর বদলে ছয় মাসের একটা অপেক্ষার সময় রাখা হয়েছে, যার পর খেলাপি পরিচালকের সহযোগী আবার বোর্ডে ফিরতে পারবেন।

এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় সতেরোটি সংস্থা অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে আছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আর ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বিজিএমইএ আর বিকেএমইএর মতো ব্যবসায়ী সংগঠন, পাশাপাশি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস আর সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, যিনি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উপদেষ্টার ভূমিকায় এসে সুশাসন সংস্কারের জন্য জোরালো তাগিদ দিয়ে আসছেন, সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, এই সংশোধনীগুলো না হলে ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার বড় প্রকল্পটাই বাধাগ্রস্ত হবে। তবে সব প্রস্তাবই নরম হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত খসড়ায় আত্মীয়ের নামে ফাঁক গলানোর পথ বন্ধ করতে পরিবারের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে, প্রতিটি বোর্ডে স্বাধীন পরিচালক অর্ধেকে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে, আর একক কৌশলগত বিনিয়োগকারী কতটা শেয়ার রাখতে পারবে তার বর্তমান ১০ শতাংশের সীমা তুলে দেওয়ার কথাও আছে, যেগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাওয়া কঠোর পারিবারিক সীমা ছাড়াই একটা প্রকৃত পরিবর্তন বলে গণ্য হবে।

সমস্যার অন্য অর্ধেক, যে ঋণ কিছুতেই পরিষ্কার হচ্ছে না

মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক চলার সময়ই বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান ৩০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রথম প্রান্তিক মুদ্রানীতি ঘোষণার সুযোগে সরাসরি খেলাপি ঋণ লক্ষ্য করে ১৮ মাসের পরিকল্পনার কথা জানান। সমস্যার আকারই এই তাড়াহুড়োর কারণ ব্যাখ্যা করে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী জুন পর্যন্ত শ্রেণিকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬,০৬,৫৫৫ কোটি টাকায়, মোট বকেয়া ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশ, যেটা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৩৫.৭৩ শতাংশ থেকে ২.৯৫ শতাংশ পয়েন্ট উন্নতির পরও বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। এ বছরের শুরুর দিকে আলাদা একটা প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল, এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা মাত্র ৫,৭৭৫ জন ঋণগ্রহীতার কাছে কেন্দ্রীভূত, যা থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ সমস্যাটা সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের ব্যাপক ব্যর্থতার চেয়ে বরং বড়, প্রভাবশালী আর যুক্ত খেলাপিদের একটা দীর্ঘস্থায়ী প্যাটার্ন, যারা বছরের পর বছর গুরুতর পরিণতি এড়িয়ে গেছেন।

রহমান যে পরিকল্পনার কথা বলেছেন সেটা বুলেট পেমেন্ট কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, মানে একজন ঋণগ্রহীতা সাধারণত একটা আলোচিত ছাড়ে একবারেই পুরো ঋণ শোধ করে দিতে পারবেন, বহু বছর ধরে চলা কিস্তির সূচি দিয়ে যা অনেক খেলাপি হিসাবকে কোনো সমাধান ছাড়াই ঝুলিয়ে রেখেছিল তার বদলে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ওয়ান-টাইম এক্সিট সুবিধা, যাতে দীর্ঘদিনের খেলাপিরা মীমাংসা করে ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন, ঋণদাতা ব্যাংকের জন্য অনির্দিষ্টকাল ধরে প্রভিশনিং চাপের উৎস হয়ে থাকার বদলে। রহমান সতর্কতার সাথে এই পরিকল্পনাকে একটা বড় সমাধানের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, একাই সব সমস্যা মেটাবে এমন নয়, সাংবাদিকদের বলেছেন ঋণ আর তারল্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সরবরাহ চেইন উন্নত করা, অবকাঠামো সক্ষমতা তৈরি করা আর বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও দরকার, যা মনে করিয়ে দেয় খেলাপি ঋণের সমস্যাটা সেই একই বৃহত্তর অর্থনৈতিক চাপের সাথে জড়িয়ে আছে যা সরকারের নিজের এই প্রান্তিকের বাড়তে থাকা ঋণের চাহিদায়ও দেখা যাচ্ছে।

কেন সুশাসন আর খেলাপি ঋণ আসলে একই গল্প

দুটো সংস্কারের মধ্যে সংযোগটা কাকতালীয় নয়। ছোট্ট একটা গোষ্ঠীর কাছে কেন্দ্রীভূত সেই প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বেশিরভাগই আসলে ঠিক সেই ধরনের সম্পর্কযুক্ত ঋণদানের সাথে জড়িত যা দুর্বল পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ আইনের কারণেই সম্ভব হয়, একজন ব্যাংক পরিচালকের নিজের কোম্পানি, অথবা পরিচালকের সহযোগীদের কোনো কোম্পানি, এমন শর্তে ঋণ পাচ্ছে যা স্বাভাবিক একজন ঋণগ্রহীতা কখনো পেতেন না। সেই অর্থে, বোর্ডে কে কতদিন থাকতে পারবেন তা কঠোর করা আসলে আগামী দশকের খেলাপি ঋণ ঠেকানোর একটা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, আর বুলেট পেমেন্ট ও এক্সিট সুবিধার পরিকল্পনাটা হচ্ছে যা ইতিমধ্যে খাতায় আছে তার জরুরি চিকিৎসা। অর্থ মন্ত্রণালয় যখন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাটা নরম করছে, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই সময় বিদ্যমান মজুদের চিকিৎসা ত্বরান্বিত করছে, তখন ঝুঁকি থেকে যায় যে উপসর্গের চিকিৎসা কারণের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মকভাবে করা হচ্ছে, সতেরোটি পর্যালোচনাকারী সংস্থার কয়েকটি নাকি পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার সময় এই উদ্বেগ তুলেছিল, যদিও মন্ত্রণালয় শেষ পর্যন্ত নিজের খসড়াতেই স্থির থেকেছে।

সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধানগুলো সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে উঠার কথা, যেখানে আইনপ্রণেতারা মন্ত্রণালয় অপরিবর্তিত রাখা পারিবারিক পরিচালক সীমাটা নতুন করে বিবেচনা করার সুযোগ পাবেন। ১৮ মাসের খেলাপি ঋণ পরিকল্পনা আসলেই ৩২.৭৮ শতাংশের হারকে উল্লেখযোগ্যভাবে নামাতে পারবে কিনা তা অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক তথ্যে চিহ্নিত বড়, কেন্দ্রীভূত খেলাপিদের কতটা আক্রমণাত্মকভাবে তাড়া করে, ছোট ঋণগ্রহীতাদের পেছনে না ছুটে, যাদের থেকে আদায় কাগজে-কলমে সহজ হলেও মোট খেলাপি ঋণের একটা ছোট অংশ মাত্র।

সূচকপরিমাণ
শ্রেণিকৃত (খেলাপি) ঋণ, জুন ২০২৬৬,০৬,৫৫৫ কোটি টাকা
খেলাপি ঋণের হার, জুন ২০২৬৩২.৭৮ শতাংশ
খেলাপি ঋণের হার, সেপ্টেম্বর ২০২৫ (তুলনা)৩৫.৭৩ শতাংশ
নয় মাসে উন্নতি২.৯৫ শতাংশ পয়েন্ট
বৃহত্তম খেলাপিদের কাছে কেন্দ্রীভূত ঋণ৫,৭৭৫ জন ঋণগ্রহীতার কাছে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা
প্রতি ব্যাংক বোর্ডে পারিবারিক পরিচালক (অপরিবর্তিত)৩ জন
পরিচালকের মেয়াদসীমা, সংশোধিত (বিবি চেয়েছিল ৬ বছর)৯ বছর

এরপর কী হবে

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে খেলাপি ঋণ কমানোর পরিকল্পনার সম্পূর্ণ কার্যক্রমগত বিস্তারিত, ব্যাংকভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা আর আদায়ের সময়সীমাসহ, শিগগিরই প্রকাশ করা হবে, যেটা হবে প্রথম আসল পরীক্ষা, ১৮ মাস আসলে একটা নির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য হ্রাসের লক্ষ্যে পরিণত হয় নাকি শুধু একগুচ্ছ হাতিয়ার হয়েই থেকে যায় কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়া। সুশাসনের দিক থেকে আসল পরীক্ষাটা হবে সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন সংসদে পৌঁছানোর পর, যেখানে মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় নরম পারিবারিক পরিচালক সীমার জন্য চাপ দেওয়া ব্যবসায়ী লবিগুলো আইনে পরিণত হওয়ার আগে চূড়ান্ত ভাষা ঠিক করার আরেকটা সুযোগ পাবে।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

বিদেশি ব্যাংকের মুনাফা প্রথমার্ধে ৩৮ শতাংশ কমল, ট্রেজারি বাজিতে এগিয়ে দেশি ব্যাংক

বাংলাদেশে কার্যরত নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সম্মিলিত নিট মুনাফা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ৩৮ শতাংশ কমে হয়েছে ২,৩২১ কোটি টাকা, দুর্বল বাণিজ্য অর্থায়ন ও জ্বালানি সংকটের কারণে। একই সময়ে, অনেক তালিকাভুক্ত দেশি ব্যাংক ভালো মুনাফা বৃদ্ধি দেখিয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই এসেছে সরকারি সিকিউরিটিজের বিনিয়োগ আয় থেকে, নতুন ঋণ বিতরণ থেকে নয়। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার খাতের গড়ের চেয়ে এখনও অনেক কম এবং তাদের মূলধন মজুদ অনেক বেশি শক্তিশালী।

উত্তোলনের চাপে ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭,০০০ কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক, পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশের বেলআউট পরিকল্পনা

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭,০০০ কোটি টাকা ধার দিয়েছে, যার পুরোটার গ্যারান্টি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, তিন দিনে প্রায় ৭,৫০০টি উত্তোলনের আবেদন আসার পর। এই ঋণ ন্যাশনাল ব্যাংককে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পুরো উত্তোলন সুবিধা ফিরিয়ে আনার সময়সীমা পূরণে সহায়তা করার জন্য। ব্যাংকটি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণী, যা সিকদার পরিবারের আমলে শুরু হওয়া সমস্যার গভীরতার কথা মনে করিয়ে দেয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারকে তিনগুণ বোর্ড আসন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য একটি বোর্ড নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার ফলে ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার এখন একজনের পরিবর্তে তিনজন পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ দিতে পারবে। ১২ অক্টোবরের এই সার্কুলারে উপকৃত হচ্ছে ব্র্যাক, যার হাতে একজন কর্মকর্তার তথ্যানুযায়ী ব্যাংকটির ৪৬ শতাংশ শেয়ার আছে। এই বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় এমন নির্দিষ্ট ব্যাংকের জন্য দেওয়া ছাড়, এর আগে মার্চে ট্রাস্ট ব্যাংককেও একই ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল।