বাণিজ্য ও রপ্তানি

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ভিন্নতা, যুক্তরাষ্ট্রে ১১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি, ইইউতে ১৬.৪ শতাংশ পতন

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬4 মিনিটের পড়া
বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ভিন্নতা, যুক্তরাষ্ট্রে ১১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি, ইইউতে ১৬.৪ শতাংশ পতন

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি এই বছর গন্তব্যভেদে দুই বিপরীত গল্প বলছে। জুলাই আর আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ১১.৪২ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১৬১২.৯২ মিলিয়ন ডলারে, শুধু আগস্টেই বেড়েছে ২৫.৬৫ শতাংশ, অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে রপ্তানি কমেছে ১৬.৪৩ শতাংশ, নেমে এসেছে ৮.৬৪ বিলিয়ন ইউরোতে। ইইউতে এই পতন পুরো জোটের পোশাক আমদানির ৯.৭০ শতাংশ সামগ্রিক সংকোচনের চেয়েও বেশি হয়েছে, অর্থাৎ সংকুচিত বাজারের মধ্যেও বাংলাদেশ প্রতিযোগীদের তুলনায় জায়গা হারিয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় আর আর্থিকভাবে সক্ষম রপ্তানিকারকরাই ইইউর কঠোর হতে থাকা কমপ্লায়েন্স নিয়ম আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ভবিষ্যৎ অস্থিরতা দুটোই সামলাতে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে।

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা এখন একই সময়ে দুই রকম বাস্তবতার মুখোমুখি, নির্ভর করছে তারা কোন সাগর পাড়ি দিয়ে পণ্য পাঠাচ্ছেন তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই আর আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ১১.৪২ শতাংশ, গত বছরের একই দুই মাসের তুলনায়, দাঁড়িয়েছে ১৬১২.৯২ মিলিয়ন ডলারে, অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে রপ্তানি কমেছে ১৬.৪৩ শতাংশ, নেমে এসেছে ৮.৬৪ বিলিয়ন ইউরোতে। যে শিল্প তার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই পায় পোশাক থেকে, তার সবচেয়ে বড় দুই বাজারের মধ্যে এমন ফারাক কোনো সাধারণ খবর নয়, এটাই এই বছরের সবচেয়ে বড় গল্প।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার নীরবে ভালো করছে

জুলাই আর আগস্টের সংখ্যাগুলো বলে দিচ্ছে এটা কোনো এক লাফের ঘটনা নয়, বরং ধারাবাহিক গতি বেড়ে চলার গল্প। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আসলে সামান্য কমেছিল, বছরওয়ারি ০.১৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭৯৫.৭৯ মিলিয়ন ডলারে, তারপর আগস্টে হঠাৎ বেড়ে যায় ২৫.৬৫ শতাংশ, দাঁড়ায় ৮১৭.১৩ মিলিয়ন ডলারে। এতে নতুন অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬.৪৬ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের পুরো অর্থবছরের মাসিক গড় ৬৪৫.৩৮ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্র এমনিতেই ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় ২০.৮ শতাংশ নিয়ে নিয়েছিল, আর এই শুরুর তথ্য বলছে আগস্টের গতি ধরে রাখতে পারলে ২০২৭ অর্থবছরে এই অংশ আরও বাড়তে পারে।

বাজারসময়কালবছরওয়ারি পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রজুলাই-আগস্ট, অর্থবছর ২৭+১১.৪২%
যুক্তরাষ্ট্র (শুধু আগস্ট)আগস্ট, অর্থবছর ২৭+২৫.৬৫%
ইউরোপীয় ইউনিয়ন২০২৬ প্রথমার্ধ-১৬.৪৩%

সাবেক বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের এই কঠিন পরিবেশে খাতের প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের এই পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ, যা শুনতে যতটা আশাবাদী মনে হয়, ইইউর দিকের ব্যবসার এই বছরের ভরাডুবি বিবেচনায় ততটাই স্বস্তির কথাও মনে হয়।

ইউরোপের হিসাবটা একেবারে ভিন্ন

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বছরওয়ারি ১৬.৪৩ শতাংশ কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৬৪ বিলিয়ন ইউরোতে, এই পতনের পেছনে আছে চালানের পরিমাণে ৮.২২ শতাংশ কমা আর গড় রপ্তানি মূল্যে ৮.৯৪ শতাংশ পতন, দুটো মিলেই এই বড় সংখ্যা। এর কিছুটা অবশ্য পুরো ইইউ পোশাক আমদানি বাজারের বৃহত্তর মন্দার প্রতিফলন, যা একই সময়ে ৯.৭০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, ভোক্তাদের চাহিদা কমা আর দাম কমে যাওয়ায় সরবরাহকারীদের ওপর সবদিক থেকেই চাপ পড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের পতন এই সাধারণ বাজার সংকোচনের চেয়েও বেশি হয়েছে, অর্থাৎ সংকুচিত একটা বাজারের মধ্যেও বাংলাদেশ প্রতিযোগীদের তুলনায় জায়গা হারিয়েছে।

তবে এই তথ্যের মধ্যে একটা ক্ষীণ স্বস্তির আভাসও আছে, জুনে ইইউতে রপ্তানি আসলে বছরওয়ারি ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১.৩৭ বিলিয়ন ইউরোতে, যা ইঙ্গিত দেয় সবচেয়ে খারাপ সময়টা হয়তো পেছনে ফেলে আসা গেছে। তারপরও, ছয় মাস ধরে দুই অঙ্কের পতনের পর মাত্র এক মাসের সামান্য প্রবৃদ্ধি খুব বেশি প্রমাণ নয় যে পরিস্থিতি সত্যিই ঘুরে যাচ্ছে, আর এতে ২০২৬ সালের বাকি অংশে বাংলাদেশের ইইউ নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসার তুলনায় অনেক বেশি ভঙ্গুর মনে হচ্ছে।

দুই বাজারের এই ফারাক কেন তৈরি হলো

এই ফারাকের কিছুটা আসলে সময় আর চাহিদার চক্রের ব্যাপার, যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতারা এই বছর আরও আগ্রাসীভাবে মজুদ বাড়াচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে, অন্যদিকে ইউরোপের ভোক্তারা নিজেদের জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির চাপে পোশাকের মতো ঐচ্ছিক খরচ থেকে সরে আসছেন। তবে এই বিভাজন বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী ইইউ কৌশলের জন্যও বেশ অস্বস্তিকর একটা সময়ে এসেছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রকৌশল আর বৈদ্যুতিক পণ্য রপ্তানি, পোশাকের চেয়ে অনেক ছোট একটা খাত, এই বছর দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে বেড়েছে, আর শিল্প গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে ইইউর নতুন টেকসইতা সংক্রান্ত নিয়মকানুনের ঢেউ, যার মধ্যে ২০২৭ সাল থেকে বাধ্যতামূলক হতে যাওয়া ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টও আছে, বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকদের এমন সরবরাহ শৃঙ্খল যাচাই করতে বাধ্য করবে যা তাদের অনেকেই এখনও পুরোপুরি অনুসরণ করতে পারেন না। পোশাক রপ্তানিকারকরাও একই রকম নিয়মের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, আর সংকুচিত ইইউ অর্ডারের কারণে তাদের হাতে ভবিষ্যতে বাজার ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ট্রেসিং ব্যবস্থায় বিনিয়োগের জন্য সময় আর পুঁজি দুটোই কমে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও নিজস্ব ঝুঁকি আছে যা এই বছরের অর্জন সহজেই উল্টে দিতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুল্কনীতি আর বাণিজ্য উত্তেজনা বারবার আমেরিকান খুচরা বিক্রেতাদের সোর্সিং সিদ্ধান্ত পাল্টে দিয়েছে, আর যে বাজার এক মাসে ২৫ শতাংশ লাফ দিতে পারে, সোর্সিংয়ের ধরন আবার বদলে গেলে সেই বাজার একইভাবে তীব্র পতনও দেখাতে পারে। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা অন্য জায়গার বিঘ্ন থেকেও কিছুটা সুবিধা পেয়েছেন, যেমন ভারতের মধ্য দিয়ে ট্রান্সশিপমেন্টের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞার খবর, যা কিছু সোর্সিং সরাসরি বাংলাদেশের পথে ঠেলে দিয়েছে, তবে এই সুবিধাটা কাঠামোগত চেয়ে বরং পরিস্থিতিগতই বেশি।

খাতের জন্য সামনের দিনে এর অর্থ কী

হাতে গোনা কয়েকটা গন্তব্য বাজারের ওপর এতটা নির্ভরশীল একটা শিল্পের জন্য, এই বছরের তথ্য থেকে শিক্ষা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়া বা ইইউর সংখ্যা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশ এই দুই বাজারের যেকোনো একটির ওঠানামার সঙ্গে কতটা জড়িয়ে আছে তা বোঝা। যে দেশ তার রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ পায় পোশাক থেকে, আর পোশাক আয়ের সিংহভাগ পায় মাত্র দুটো বাণিজ্য জোট থেকে, তার হাতে একটা বাজারের খারাপ সময়কে অন্য বাজারের ভালো সময় দিয়ে পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব বেশি নেই, তার আগেই সামগ্রিক বাণিজ্য পরিসংখ্যানে চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় আর আর্থিকভাবে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোই ইইউর কঠোর হতে থাকা কমপ্লায়েন্স নিয়ম আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভবিষ্যৎ যেকোনো অস্থিরতা দুটোই সামলাতে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রায় চার হাজার পোশাক কারখানার বড় অংশ জুড়ে থাকা ছোট রপ্তানিকারকদের জন্য ভুল করার সুযোগ অনেক কম।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

নতুন বাণিজ্যনীতিতে অনেক আমদানিতেই বাধ্যতামূলক এলসি তুলে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

সরকারের ইমপোর্ট পলিসি অর্ডার ২০২৬-২০২৯ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এমন নির্দেশনা জারি করেছে, যাতে ব্যবসায়ীরা এখন অনেক ধরনের পণ্য সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানি করতে পারবেন, চালানের মূল্য যত বড়ই হোক না কেন বাধ্যতামূলক এলসির প্রয়োজন ছাড়াই। রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি বা বিনামূল্যে দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের, যাকে কর্মকর্তারা বলছেন বাংলাদেশি উৎপাদকদের দীর্ঘদিনের খরচ আর দেরি কমানোর একটা পদক্ষেপ। এই সংস্কার এমন সময়ে আসছে যখন আগস্টে রপ্তানি ১৩.১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলারে, যদিও বাণিজ্য অর্থায়ন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সহজতর আমদানির সঙ্গে অপব্যবহার ঠেকাতে দরকার হবে আরও চতুর নজরদারি।

বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য রপ্তানি রেকর্ড গতিতে বাড়ছে, তবে ইইউর নতুন নিয়ম প্রবৃদ্ধি থামিয়ে দিতে পারে

বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য রপ্তানি ২৩.৮২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৬.১৯ মিলিয়ন ডলারে, যা বৃহত্তর প্রকৌশল পণ্য ক্যাটাগরির অংশ, যেখানে রেকর্ড সাইকেল রপ্তানিসহ সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি দেশের মোট রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য নিয়ে গবেষণা দেখাচ্ছে এই খাত শুরু করছে একেবারে ছোট ভিত্তি থেকে, ২০২২ সালে ইইউতে মাত্র ১৬৭ মিলিয়ন ডলারের প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি হয়েছিল, যার ফলে কোটি কোটি ডলারের সম্ভাব্য আয় এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে। এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইইউর নতুন টেকসই নিয়মের একটা ঢেউ, যার মধ্যে ২০২৭ সালের মধ্যে বাধ্যতামূলক হতে যাওয়া ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টও আছে, যা রপ্তানিকারকদের এমন সরবরাহ চেইন খুঁজে বের করতে বলবে যা তারা এখন পুরোপুরি জানেও না। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন ওয়ালটনের মতো বড় প্রতিষ্ঠান দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছে, তবে ছোট রপ্তানিকারকরা একই ধরনের কমপ্লায়েন্সের চাপের মুখোমুখি যা ইতিমধ্যে কিছু পোশাক কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।

আরএমজির পুনরুত্থানে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ল ১৩.১৪ শতাংশ, তবে জুলাইয়ের চেয়ে গতি কমেছে

আগস্টে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৩.১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৪৩ বিলিয়ন ডলারে, যার নেতৃত্বে ছিল তৈরি পোশাক খাতের পুনরুত্থান এবং পাট, ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্যে বড় প্রবৃদ্ধি। তবে জুলাইয়ের ৪.৭২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এই অঙ্ক ৬.৩ শতাংশ কম, আর বিজিএমইএর সভাপতি সতর্ক করেছেন যে বার্ষিক এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশই গত বছরের নিচু ভিত্তির কারণে, প্রকৃত ঘুরে দাঁড়ানো নয়। এই পুনরুত্থান এসেছে এমন এক জুলাইয়ের পর, যে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাণিজ্য তথ্যে জ্বালানি আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়কে ছাড়িয়ে যাওয়ায় সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।