বাণিজ্য ও রপ্তানি

বাংলাদেশের গার্মেন্ট রপ্তানি দুই মাসে ৫ শতাংশ বেড়েছে, তবে কারখানা মালিকরা বলছেন সংখ্যাগুলো মিলছে না

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬5 মিনিটের পড়া
বাংলাদেশের গার্মেন্ট রপ্তানি দুই মাসে ৫ শতাংশ বেড়েছে, তবে কারখানা মালিকরা বলছেন সংখ্যাগুলো মিলছে না

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের গার্মেন্ট রপ্তানি ৫.১২ শতাংশ বেড়ে ৭.৪৯৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, তবে শিল্পের নিজস্ব বাণিজ্য সংগঠনগুলোই প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছে এই সংখ্যা আসলে কী বোঝায়। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলছেন এই প্রবৃদ্ধি শিল্পের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আর এটা প্রকৃত ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে গত বছরের দুর্বল তুলনার ভিত্তিকে প্রতিফলিত করে, আর বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম তো আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, চলমান গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে এই পরিসংখ্যান আদৌ প্রকৃত উৎপাদনের সঙ্গে মিলছে কিনা। শুধু আগস্ট মাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বার্ষিক তুলনায় ভালো দেখালেও জুলাইয়ের তুলনায় আয় আসলে কমেছে। হেডলাইন প্রবৃদ্ধির হার আর কারখানা মালিকদের বর্ণনার মধ্যে এই ফারাক এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট একটা লক্ষণ যে বাংলাদেশের রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানো সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি ভঙ্গুর।

এমন একটা প্রবৃদ্ধির হার যা খাতের ভেতরের মানুষরাই বিশ্বাস করছেন না

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের গার্মেন্ট রপ্তানি ৫.১২ শতাংশ বেড়ে ৭.৪৯৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা এমন একটা খাতের জন্য ভালো খবর হওয়ার কথা যেখানে প্রায় চল্লিশ লাখ শ্রমিক কাজ করেন আর যা অর্থনীতির অন্য যেকোনো খাতের চেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। কিন্তু যারা আসলে কারখানা চালান, তারা এর চেয়ে অনেক বেশি জটিল একটা গল্প বলছেন। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান খোলাখুলিই বলেছেন, জুলাই আগস্টের এই প্রবৃদ্ধির হার শিল্পের নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম, আর এর পেছনে আসল কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন গ্যাস সংকট, চড়া সুদহার আর কঠিন বাণিজ্য পরিস্থিতি। বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, চলমান ইউটিলিটি সংকটের মধ্যে কারখানাগুলো আসলে যা উৎপাদন করছে তার সঙ্গে প্রকাশিত রপ্তানির পরিসংখ্যান আদৌ মিলছে কিনা।

শিল্পের নিজস্ব বাণিজ্য সংগঠনগুলোর কাছ থেকে এই ধরনের প্রকাশ্য সংশয় খুব একটা দেখা যায় না, আর এটা এমন একটা রপ্তানি খবরকে জটিল করে তোলে যা অন্যথায় সরলভাবে ইতিবাচক মনে হতো। এটা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য পরিসংখ্যান পড়ার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরে, একটা ইতিবাচক শতাংশের হেডলাইন আর একটা সুস্থ শিল্প একই জিনিস নয়, আর এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান বর্তমানের মতো এত বেশি কমই দেখা গেছে।

দুই মাসের পরিসংখ্যান আসলে কী বলছে

খাতভিত্তিক বিভাজনে, ইপিবির জুলাই থেকে আগস্টের পরিসংখ্যানে নিটওয়্যার রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৪.১৯৩ বিলিয়ন ডলারে, বৃদ্ধি ৬.১৭ শতাংশ, আর ওভেন পোশাক ৩.৩০১ বিলিয়ন ডলারে, বৃদ্ধি ৩.৮১ শতাংশ। শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে ভালো করেছে হোম টেক্সটাইল, ১১.১৭ শতাংশ বেড়ে ১৫৪.৫৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, আর একমাত্র দুর্বল দিক ছিল তুলা ও তুলাজাত পণ্য, যা প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। ওভেনের চেয়ে নিটওয়্যারের বেশি প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে চাহিদা বাংলাদেশের বেশি মৌলিক, বেশি পরিমাণের পণ্যের দিকে ঝুঁকছে, বেশি মুনাফার বিশেষায়িত পোশাকের বদলে, এমন একটা প্যাটার্ন যা সাধারণত তখনই দেখা যায় যখন ক্রেতারা অর্ডার বাড়ানোর বদলে খরচ কমাচ্ছেন।

শুধু আগস্ট মাসের দিকে আলাদাভাবে তাকালে দরকারি প্রেক্ষাপট পাওয়া যায়। ওই মাসে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪.৪৩ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছর আগের ৩.৯২ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ১৩.১৪ শতাংশ বেশি, যার মধ্যে শুধু আরএমজি খাতেই এসেছে ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার, বৃদ্ধি ১৩.৯২ শতাংশ। শুধু আগস্ট মাসে নিটওয়্যার বেড়েছে ১৪.৮৮ শতাংশ আর ওভেন পোশাক ১২.৭০ শতাংশ, দুটোই দুই মাসের গড়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে, যা ইঙ্গিত দেয় জুলাই কিছুটা দুর্বল হলেও আগস্ট মাসটা সত্যিই ভালো গিয়েছে। নন আরএমজি খাতগুলোও আগস্টে ভালো করেছে, পাট ও পাটজাত পণ্য বেড়েছে ৩৭.০৯ শতাংশ, ওষুধ শিল্প ২৮.৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪.৮৫ শতাংশ, আর মুদ্রিত সামগ্রী ২৪.৮৩ শতাংশ। বাজারভিত্তিক হিসাবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে বৃদ্ধি হয়েছে ২৬.০৯ শতাংশ, তুরস্কে ছোট ভিত্তি থেকে বেড়েছে ১৪১.০৩ শতাংশ, আর দক্ষিণ কোরিয়ায় বেড়েছে ৪২.৩৭ শতাংশ।

খাত (জুলাই থেকে আগস্ট ২০২৬)মূল্যবার্ষিক প্রবৃদ্ধি
মোট আরএমজি রপ্তানি৭.৪৯৫ বিলিয়ন ডলার+৫.১২%
নিটওয়্যার৪.১৯৩ বিলিয়ন ডলার+৬.১৭%
ওভেন পোশাক৩.৩০১ বিলিয়ন ডলার+৩.৮১%
হোম টেক্সটাইল১৫৪.৫৫ মিলিয়ন ডলার+১১.১৭%
তুলা ও তুলাজাত পণ্য৮২.২৪ মিলিয়ন ডলার-১৩.০২%

কেন এই হেডলাইন প্রবৃদ্ধির হার প্রায় সবাইকেই বিভ্রান্ত করছে

শতাংশের প্রবৃদ্ধি আর কারখানার মেঝেতে বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে এই ফারাকের কারণ খান একটা শব্দেই বুঝিয়েছেন, ভিত্তি। ২০২৫ সালের আগস্ট বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য একটা অস্বাভাবিক দুর্বল মাস ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থার কারণে সেই বছর আমেরিকায় রপ্তানি প্রায় ৩ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এই দুর্বল ভিত্তির সঙ্গে এবারের আগস্টের তুলনা করলে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার দেখতে ভালো লাগে, কিন্তু তা চাহিদা বা উৎপাদন সক্ষমতার প্রকৃত উন্নতিকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে। খান স্পষ্টভাবেই বলেছেন, তার নিজের হিসাবে ২০২৬ সালের আগস্টে খাতের আয় ৩.৬১ বিলিয়ন ডলার হলেও, তা জুলাই ২০২৬ এর তুলনায় প্রায় ২৭৮ মিলিয়ন ডলার কমেছে, অর্থাৎ শুধু বার্ষিক তুলনা নয়, মাস ভিত্তিক প্রবণতাও ভুল দিকে গেছে, যদিও বার্ষিক তুলনায় সংখ্যাটা ভালো দেখাচ্ছিল।

২০২৫ আর ২০২৬ সাল ধরে বাংলাদেশের রপ্তানি পরিসংখ্যান যারা অনুসরণ করেছেন, তাদের কাছে এটা নতুন কোনো সমস্যা নয়। দুর্বল আগের বছরের সঙ্গে তুলনা করে হিসাব করা প্রবৃদ্ধির হার প্রায় সবসময়ই দেখতে চমৎকার লাগে, কিন্তু তা আসলে পরিস্থিতির প্রকৃত উন্নতি হচ্ছে কিনা তা নিয়ে খুব একটা কিছু বলে না। বেশি কার্যকর তুলনা, যা বিজিএমইএর নিজের নেতৃত্বই পরোক্ষভাবে করছে, তা হলো জুলাই ২০২৬ এর সঙ্গে আর শিল্পের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে তুলনা, যার দুটোই আগস্টের ১৩.১৪ শতাংশ হেডলাইন বা দুই মাসের ৫.১২ শতাংশ পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক কম আশাব্যঞ্জক চিত্র তুলে ধরে।

সংশয়ের পেছনের কাঠামোগত সমস্যা

খান আর হাতেমের প্রকাশ্য সন্দেহ এমন বাস্তব পরিচালন পরিস্থিতির মধ্যে নিহিত যা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে খাতটাকে চাপে রেখেছে। শিল্প এলাকায় মাঝে মাঝে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া একটা জ্বালানি সংকট এখনও সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা কারণ, যার ফলে কাগজে কলমে রপ্তানি আদেশ স্থির থাকলেও কিছু কারখানাকে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তথ্য বলছে, জুলাই পর্যন্ত টানা পঞ্চম মাসের মতো বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে, আর গার্মেন্টই শুধু নয়, পুরো অর্থনীতির ব্যবসাগুলোই সম্প্রসারণের আসল বাধা হিসেবে শুধু সুদহার নয়, জ্বালানি সংকট আর চড়া ঋণ খরচের কথা বলছে। যখন একটা শিল্প নির্ভরযোগ্যভাবে তার মেশিন চালাতে পারে না, তখন সে কত ডলারের পণ্য পাঠাতে পারল তার সঠিক পরিমাণ, কারখানাগুলো আসলে পুরো শিফটে চলছে কিনা তার তুলনায় খাতের স্বাস্থ্যের একটা কম অর্থবহ মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।

হাতেমের আরও তীক্ষ্ণ সংশয়, প্রকাশিত পরিসংখ্যান বাস্তব উৎপাদনের সঙ্গে মিলছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, ধীর প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে স্বাভাবিক অভিযোগের চেয়ে অনেক বেশি অবিশ্বাসের স্তর প্রতিফলিত করে। এটা ইঙ্গিত দেয় যে বিকেএমইএর নিজস্ব সদস্যরাই ঢাকা থেকে আসা রপ্তানির তথ্য আর তাদের কারখানার মেঝেতে বাস্তবতার মধ্যে যথেষ্ট ফারাক দেখছেন, যার ফলে শিল্প নেতৃত্ব একটা ইতিবাচক শোনানো হেডলাইন সংখ্যাকে চ্যালেঞ্জ না করে চুপ করে থাকার বদলে প্রকাশ্যে কথা বলতে বাধ্য বোধ করেছে। এই ফারাক তথ্য বিলম্বের কারণে, নাকি অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের পরিবর্তনের কারণে, নাকি সম্পূর্ণ অন্য কিছুর কারণে, তা স্পষ্ট করা হয়নি, কিন্তু বাইরের সমালোচকদের বদলে একটা শিল্প সংগঠন নিজেই এই প্রশ্ন তোলার বিষয়টা এই সতর্কতাকে সত্যিকারের গুরুত্ব দেয়।

অর্থবছরের বাকি সময়ের জন্য এর অর্থ কী

গার্মেন্ট রপ্তানি বাংলাদেশের একক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ভরসাস্থল হয়েই থেকে গেছে, আর এই খাতের কর্মক্ষমতা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে শুরু করে কারখানার মজুরির ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ পরিবারের বাজেট পর্যন্ত সবকিছুতেই প্রভাব ফেলে। দুই মাসের ইপিবি পরিসংখ্যান আর আগস্টের পূর্ণাঙ্গ বিভাজন দুটোই এমন একটা শিল্পের চিত্র তুলে ধরে যা কারিগরিভাবে বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু অসমভাবে, যার একটা অংশ সরকারি পরিসংখ্যানে দুর্বল তুলনার বিন্দুর ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে, শুধু শক্তিশালী চাহিদার ওপর নয়, আর সেইসঙ্গে এখনও লড়াই করছে জ্বালানি সংকট আর চড়া অর্থায়ন খরচের সঙ্গে, যার সঙ্গে রপ্তানি আদেশের কোনো সম্পর্কই নেই। বাংলাদেশের মুদ্রার স্থিতিশীলতা আর রিজার্ভের অবস্থান, দুটোই এই মাসে মুডিসের আরও আশাবাদী সার্বভৌম দৃষ্টিভঙ্গির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা মূলত এই ধরনের রপ্তানি কর্মক্ষমতা বাস্তবে টিকে থাকার ওপর নির্ভর করে, শুধু শতাংশের হিসাবে নয়। ২০২৫ সালের দুর্বল ভিত্তি হিসাব থেকে সরে গিয়ে বার্ষিক তুলনা আবার অনুকূল হয়ে উঠলেও শিল্পের নিজস্ব নেতৃত্ব সতর্কতার সুর ধরে রাখে কিনা, তা হবে বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত সত্যিই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে নাকি শুধু একটা সহজ তুলনার সুবিধা নিচ্ছে যা শিগগিরই ফুরিয়ে যাবে, তার একটা স্পষ্টতর সংকেত।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ভিন্নতা, যুক্তরাষ্ট্রে ১১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি, ইইউতে ১৬.৪ শতাংশ পতন

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি এই বছর গন্তব্যভেদে দুই বিপরীত গল্প বলছে। জুলাই আর আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ১১.৪২ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১৬১২.৯২ মিলিয়ন ডলারে, শুধু আগস্টেই বেড়েছে ২৫.৬৫ শতাংশ, অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে রপ্তানি কমেছে ১৬.৪৩ শতাংশ, নেমে এসেছে ৮.৬৪ বিলিয়ন ইউরোতে। ইইউতে এই পতন পুরো জোটের পোশাক আমদানির ৯.৭০ শতাংশ সামগ্রিক সংকোচনের চেয়েও বেশি হয়েছে, অর্থাৎ সংকুচিত বাজারের মধ্যেও বাংলাদেশ প্রতিযোগীদের তুলনায় জায়গা হারিয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় আর আর্থিকভাবে সক্ষম রপ্তানিকারকরাই ইইউর কঠোর হতে থাকা কমপ্লায়েন্স নিয়ম আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ভবিষ্যৎ অস্থিরতা দুটোই সামলাতে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে।

নতুন বাণিজ্যনীতিতে অনেক আমদানিতেই বাধ্যতামূলক এলসি তুলে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

সরকারের ইমপোর্ট পলিসি অর্ডার ২০২৬-২০২৯ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এমন নির্দেশনা জারি করেছে, যাতে ব্যবসায়ীরা এখন অনেক ধরনের পণ্য সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানি করতে পারবেন, চালানের মূল্য যত বড়ই হোক না কেন বাধ্যতামূলক এলসির প্রয়োজন ছাড়াই। রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি বা বিনামূল্যে দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের, যাকে কর্মকর্তারা বলছেন বাংলাদেশি উৎপাদকদের দীর্ঘদিনের খরচ আর দেরি কমানোর একটা পদক্ষেপ। এই সংস্কার এমন সময়ে আসছে যখন আগস্টে রপ্তানি ১৩.১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলারে, যদিও বাণিজ্য অর্থায়ন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সহজতর আমদানির সঙ্গে অপব্যবহার ঠেকাতে দরকার হবে আরও চতুর নজরদারি।

বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য রপ্তানি রেকর্ড গতিতে বাড়ছে, তবে ইইউর নতুন নিয়ম প্রবৃদ্ধি থামিয়ে দিতে পারে

বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য রপ্তানি ২৩.৮২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৬.১৯ মিলিয়ন ডলারে, যা বৃহত্তর প্রকৌশল পণ্য ক্যাটাগরির অংশ, যেখানে রেকর্ড সাইকেল রপ্তানিসহ সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি দেশের মোট রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য নিয়ে গবেষণা দেখাচ্ছে এই খাত শুরু করছে একেবারে ছোট ভিত্তি থেকে, ২০২২ সালে ইইউতে মাত্র ১৬৭ মিলিয়ন ডলারের প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি হয়েছিল, যার ফলে কোটি কোটি ডলারের সম্ভাব্য আয় এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে। এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইইউর নতুন টেকসই নিয়মের একটা ঢেউ, যার মধ্যে ২০২৭ সালের মধ্যে বাধ্যতামূলক হতে যাওয়া ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টও আছে, যা রপ্তানিকারকদের এমন সরবরাহ চেইন খুঁজে বের করতে বলবে যা তারা এখন পুরোপুরি জানেও না। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন ওয়ালটনের মতো বড় প্রতিষ্ঠান দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছে, তবে ছোট রপ্তানিকারকরা একই ধরনের কমপ্লায়েন্সের চাপের মুখোমুখি যা ইতিমধ্যে কিছু পোশাক কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।