স্বর্ণ ও রৌপ্য

বাংলাদেশে সোনার দাম আবার উল্টো দিকে, বাজুস ২২ ক্যারেটের দাম কমিয়ে ২,২৮,০৩১ টাকা করল, বাড়ানোর চার দিনের মাথায়

১৪ অক্টোবর, ২০২৬5 মিনিটের পড়াহালনাগাদ ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৩ অক্টোবর ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা কমিয়ে ২,২৮,০৩১ টাকা করেছে, যা মাত্র চার দিন আগে একই দাম ২,২১৬ টাকা বাড়ানোর পরের ঘটনা। সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে দাম দুই দিকেই ঘুরেছে, ২৬ সেপ্টেম্বরের ২,৩২,৯৩০ টাকা থেকে ৯ অক্টোবরের ২,৩১,২৯৭ টাকা হয়ে এখন ২,২৮,০৩১ টাকায়। একই সঙ্গে রূপার দামও কমেছে, ২২ ক্যারেট রূপা ভরিতে ১১৭ টাকা কমে হয়েছে ৪,১৯৯ টাকা।

বাংলাদেশে সোনার দাম আবার দিক বদলেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৩ অক্টোবর ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা কমিয়ে ২,২৮,০৩১ টাকা করেছে, যা মাত্র চার দিন আগে ২,২১৬ টাকা বাড়ানোর পরের ঘটনা। যারা সোনা কেনা বা বেচার সময় ঠিক করতে চান, তাদের জন্য এই ওঠানামাই এখন বাজারের নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, ব্যতিক্রম নয়।

  • বাজুস ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা কমিয়ে ২,২৮,০৩১ টাকা করেছে, একই অনুপাতে কমেছে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট আর সনাতন পদ্ধতির সোনাও।
  • এই কমানোর মাত্র চার দিন আগে, ৯ অক্টোবর, বাজুস একই দাম ২,২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২,৩১,২৯৭ টাকা করেছিল।
  • রূপার দামও কমেছে, ২২ ক্যারেট রূপা ভরিতে ১১৭ টাকা কমে হয়েছে ৪,১৯৯ টাকা।
  • বাজুস প্রতিটি পরিবর্তনের কারণ হিসেবে স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি সোনার দামের পরিবর্তনকে দায়ী করে, কোনো একটি নির্দিষ্ট সূত্র অনুসরণ করে না।

তিন সপ্তাহে অন্তত তিনটি ভিন্ন দাম

সংস্থাটির নিজের ঘোষণাগুলো খেয়াল করলে দেখা যায় সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে দাম দুই দিকেই ঘুরেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর বাজুস তেজাবি সোনার দাম কমার কারণ দেখিয়ে ২২ ক্যারেট সোনা ভরিতে ২,৩২,৯৩০ টাকায় নির্ধারণ করে। ৯ অক্টোবরের মধ্যে দাম আবার উপরে উঠে যায়, বাজুস ২,২১৬ টাকা বাড়িয়ে তা ২,৩১,২৯৭ টাকায় নেয়। চার দিন পর, ১৩ অক্টোবর, আবার উল্টো দিকে ঘুরে ৩,২৬৬ টাকা কমে দাম হয় ২,২৮,০৩১ টাকা। মোট হিসাবে, এই তিন সপ্তাহে দাম প্রায় ৪,৮০০ টাকার বেশি কমেছে, তবে কেউ যদি শুধু শিরোনাম দেখে বিচার করতেন, তাহলে কোন দিন তিনি খবর দেখলেন তার উপর নির্ভর করে সহজেই মনে করতে পারতেন সোনা দিন দিন দামি হচ্ছে, সস্তা হচ্ছে, অথবা একই জায়গায় স্থির আছে।

ভরি, যে একক বাজুস আর বাংলাদেশের প্রায় সব গয়নার দোকান ব্যবহার করে, তার ওজন ১১.৬৬৪ গ্রাম, যা দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অন্য বাজারে ব্যবহৃত ১০ গ্রামের একক থেকে একটু বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি গ্রাম বা প্রতি আউন্সে দেওয়া সোনার দামের সঙ্গে বাংলাদেশের দাম সরাসরি তুলনা করার আগে এই পার্থক্যটা মাথায় রাখা জরুরি, নইলে ভুল হিসাব বেরিয়ে আসতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নতুন দামে ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম ভ্যাট আর মজুরি খরচ বাদ দিয়ে প্রতি গ্রামে প্রায় ১৯,৫৫০ টাকায় পড়ে।

চারটি মানেই এখন দাম কেমন দাঁড়াল

বাজুস সোনার দাম চার ধরনে নির্ধারণ করে, আর ১৩ অক্টোবরের এই কমানো সবগুলোকেই কাছাকাছি অনুপাতে নিচে নামিয়েছে। নিচের টেবিলে নতুন দাম আর আগের দামের তুলনা দেওয়া হলো।

সোনার মাননতুন দাম (প্রতি ভরি)আগের দামপরিবর্তন
২২ ক্যারেট২,২৮,০৩১ টাকা২,৩১,২৯৭ টাকা৩,২৬৬ টাকা কম
২১ ক্যারেট২,১৭,৭৬৭ টাকা২,২০,৯১৭ টাকা৩,১৫০ টাকা কম
১৮ ক্যারেট১,৮৭,০৩২ টাকা১,৮৯,৭১৫ টাকা২,৬৮৩ টাকা কম
সনাতন পদ্ধতি১,৫২,৭৯৮ টাকা১,৫৪,৯৫৬ টাকা২,১৫৮ টাকা কম

ভরি মানে ১১.৬৬৪ গ্রাম, যা স্থানীয়ভাবে গয়নার দোকানগুলো দাম বলার সময় মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে, আর এই দামে ৫ শতাংশ ভ্যাট আর সর্বনিম্ন ৬ শতাংশ মজুরি খরচ যুক্ত থাকে না, যা দোকান থেকে আসলে গয়না কেনার সময় যুক্ত হয়। বাজুস বলছে এই সিদ্ধান্ত এসেছে তাদের মূল্য নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক সভার পর, যেখানে তেজাবি সোনার স্থানীয় দাম পর্যালোচনা করে তার ভিত্তিতে দাম সমন্বয় করা হয়। একই সঙ্গে রূপার দামও কমানো হয়েছে, ২২ ক্যারেট রূপা ভরিতে ১১৭ টাকা কমে হয়েছে ৪,১৯৯ টাকা, আর অন্য মানগুলো কিছুটা কম অনুপাতে কমেছে।

দাম স্থির না হয়ে কেন বারবার বদলায়

বাজুস কোনো একক আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সোনার দাম বাঁধে না যা অবিরাম আপডেট হয়। বরং তাদের মূল্য নির্ধারণ কমিটি সময়ে সময়ে বৈঠক করে স্থানীয় তেজাবি সোনার দাম পর্যালোচনা করে, যা চারটি মানেরই ভিত্তি, আর তার ভিত্তিতে দাম সমন্বয় করে। এর মানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সোনার দাম বিশ্ব বাজারের গতির থেকে কয়েক দিন পিছিয়ে থাকতে পারে, তারপর একবারে বড় একটা পরিবর্তনে ধরে ফেলতে পারে, সেটা বাড়তি হোক বা কমতি, ধীরে ধীরে নয়। এর মানে এটাও যে একই দিকে দুটো পরিবর্তন, বা ১৩ অক্টোবরের মতো আকস্মিক উল্টো দিকে ঘোরা, দুটোই একই ব্যবস্থার সম্ভাব্য পরিণতি, বিশ্ব বাজারে কোনো অস্বাভাবিক কিছু ঘটার প্রমাণ না হয়েও।

গয়না ব্যবসায়ীদের জন্য এই ঘনঘন সংশোধন ইনভেন্টরির দাম নির্ধারণকে জটিল করে তোলে, আর আগের শিল্প আলোচনায় এটিকে মুনাফার উপর চাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এক দামে কেনা সোনা দাম কমার পর বিক্রি করতে হয়। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য, বিশেষ করে বিয়ের জন্য গয়না কেনার পরিকল্পনা করা পরিবারগুলোর জন্য, যাদের কাছে সোনার গয়না এখনো প্রায় অপরিহার্য খরচ, এই ওঠানামা বোঝা কঠিন করে দেয় যে কয়েকদিন অপেক্ষা করলে লাভ হবে নাকি ক্ষতি।

বাজুস বলছে, "স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনার দামের পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে" দাম সমন্বয় করা হয়েছে, সার্বিক বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর।

আপনার জন্য এর মানে কী

আপনি যদি কাছাকাছি সময়ে সোনা কেনার পরিকল্পনা করেন, তাহলে ১৩ অক্টোবরের এই কমানো অক্টোবরের প্রথমার্ধের তুলনায় এই সপ্তাহটাকে কিছুটা সস্তা করে দিয়েছে, তবে ২০২৬ সালের শুরুর তুলনায় এখনো দামি। বাজুসের পরের সংশোধন আরেকটা কমানো হবে নাকি আবার উপরে উঠবে তা নির্ভরযোগ্যভাবে আগে থেকে বলার কোনো উপায় নেই, তাই এই ঘোষণাগুলোর চারপাশে সময় মিলিয়ে কেনার চেষ্টা করা মূলত অনুমানের উপর নির্ভর করা। আরও কার্যকর পদ্ধতি হলো আপনার আসলে কখন সোনা প্রয়োজন তার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া, বিয়ের জন্য হোক, উপহারের জন্য হোক বা সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসেবে, যে স্বল্পমেয়াদি দামের ওঠানামা আপনি পূর্বানুমান করতে পারবেন না তার উপর ভিত্তি করে নয়।

আপনি যদি সোনাকে মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে ধরে রাখেন, পরিধানের জন্য না, তাহলে তিন সপ্তাহে প্রায় দুই শতাংশ নিট কমার এই প্রবণতা অন্য সঞ্চয়ের বিকল্পের তুলনায় লক্ষ্য রাখার মতো বিষয়। বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউয়ের গোল্ড প্রাইস ক্যালকুলেটর এই ভরি হারগুলোর কোনোটিকেই আপনার কাছে থাকা গয়না বা বারের মূল্যে রূপান্তর করে দেখাতে পারে, আর এই মৌসুমে সোনার বিপরীতে একটা স্থায়ী আমানতকে ওজন করে দেখতে চাইলে এফডিআর রেট তুলনা টুলটাও কাজে লাগবে।

কোট করা ভরি দামকে দোকানের কাউন্টারে আসলে কত দিতে হবে তার থেকে আলাদা করে দেখাও জরুরি। উপরের টেবিলের প্রতিটি দামের উপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আর অন্তত ৬ শতাংশ মজুরি খরচ বসে, জটিল ডিজাইনের ক্ষেত্রে যা প্রায়ই বেশি হয়, তাই ২,২৮,০৩১ টাকার এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনা গয়না বানিয়ে ফেলার পর অর্থপূর্ণভাবে বেশি পড়ে। বিভিন্ন দোকানের মজুরি খরচের তুলনা করে দেখা, যা মূল সোনার দামের চেয়ে বেশি পরিবর্তিত হয় দোকানে দোকানে, বাজুসের ঘোষণার সময় মেলানোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

বাজুসের দামে এক সপ্তাহে দুই দফা পরিবর্তন, আগে কমল পরে বাড়ল সোনার দাম

বাজুস ৫ অক্টোবর প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৬৯১ টাকা কমিয়েছিল, কিন্তু চার দিন পরই ৯ অক্টোবর সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি উল্টে দিয়ে ২,২১৬ টাকা বাড়িয়ে দেয়, ফলে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দাম দাঁড়ায় ২,৩১,২৯৭ টাকায়। এই ওঠানামা এ বছর নতুন কিছু নয়, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম অন্তত ৯০ বারের বেশি বদলেছে, মানে প্রায় দুই দিনে একবার। সর্বশেষ বাড়তি দামেও এটি এ বছরের সর্বোচ্চ ২,৮৬,০০১ টাকার চেয়ে অনেক কম, তবে গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় এখনও প্রায় ১০.৬ শতাংশ বেশি।

তিন দিনে দুইবার ওঠানামা করল বাংলাদেশে সোনার দাম, জানুয়ারির রেকর্ড থেকে এখনও অনেক দূরে

এই সপ্তাহে বাংলাদেশে সোনার দাম তিন দিনের মধ্যে দুইবার ওঠানামা করেছে, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন ২৮ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২,১৫৮ টাকা কমিয়েছে, পরদিন আরও ২,২১৬ টাকা কমিয়েছে, তারপর ৩০ সেপ্টেম্বর সেই দ্বিতীয় কমাটাই পুরোপুরি উল্টে দিয়ে ঠিক আগের ২,৩০,৭৭২ টাকায় ফিরিয়ে এনেছে। এই উথালপাথাল এমন একটা বছরের জন্য স্বাভাবিক, যেখানে ইতিমধ্যে ১১৯ বার দাম সংশোধন হয়েছে, ৫৮ বার বৃদ্ধি আর ৬০ বার হ্রাস, কারণ দেশীয় দাম ফেডারেল রিজার্ভের প্রত্যাশা আর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় গড়া অস্থির আন্তর্জাতিক বুলিয়ন বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে চলে। এই সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী সমন্বয়ের পরও দাম জানুয়ারির রেকর্ড সর্বোচ্চ ২,৮৬,০০১ টাকার চেয়ে ৫৫,০০০ টাকারও বেশি নিচে রয়ে গেছে। বিয়ের মৌসুম চলার মধ্যে ভ্যাট আর মজুরি খরচ প্রকৃত দামকে ঘোষিত দামের চেয়ে অনেক ওপরে ঠেলে দেওয়ায়, ক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কোনো একদিনের দাম স্থায়ী হবে ধরে না নিয়ে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দৈনিক বিজ্ঞপ্তি দেখে চলার জন্য।

বাংলাদেশে সোনার দাম কিছুটা বাড়লেও এখনো জানুয়ারির রেকর্ড থেকে অনেক নিচে

বাংলাদেশে এই সপ্তাহে ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকায়, বাজুস ১৯ সেপ্টেম্বর যে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়েছিল তার পর, তবে এই দাম এখনো জানুয়ারিতে নির্ধারিত সর্বকালের সর্বোচ্চ দর ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকার চেয়ে ১৮ শতাংশেরও বেশি কম। জুলাই নাগাদ সোনার দাম নেমে গিয়েছিল ভরি প্রতি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকায়, এই মাসের সামান্য পুনরুদ্ধারের আগে, এমন একটা ওঠানামা যা প্রায় পুরোপুরি আন্তর্জাতিক কারণে ঘটেছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতি, বাংলাদেশের নিজস্ব বুলিয়ন বাজারে ঘটা কোনো কিছুর কারণে নয়। বিয়ের মৌসুম চলাকালীন, জানুয়ারির সর্বোচ্চ দর আর জুলাইয়ের সর্বনিম্ন দরের মধ্যে ভরি প্রতি প্রায় ৬৬ হাজার টাকার ফারাক ইতিমধ্যেই পরিবারগুলোর সোনা কেনার সময় নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে।