ব্যাংকক সভায় আইএমএফের চোখে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নামল ৩.২ শতাংশে, মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১০.৯ শতাংশ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.২ শতাংশে নামিয়েছে, আর মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ১০.৯ শতাংশ ধরেছে, যা ২০১১ সালের পর দেখা যায়নি। ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় প্রকাশিত এই পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংক আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়েও বেশি হতাশাজনক। এমন সময় এই খবর এলো যখন ঢাকা দুই সংস্থার কাছ থেকেই জ্বালানি ও সারের ভর্তুকির জন্য নতুন অর্থায়নের আলোচনা করছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বেশ কমিয়ে দিয়েছে, আর মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটা। এই মাসে প্রকাশিত তিনটি বড় আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনের মধ্যে আইএমএফের হিসাবই সবচেয়ে হতাশাজনক। ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি বাড়বে মাত্র ৩.২ শতাংশ, যা এপ্রিলে দেওয়া ৪.৩ শতাংশের পূর্বাভাস থেকে অনেক কম। একই পূর্বাভাসে গড় মূল্যস্ফীতি গিয়ে দাঁড়াতে পারে ১০.৯ শতাংশে, যা ২০১০-১১ অর্থবছরের পর দেশ আর দেখেনি।
- আইএমএফ বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.২ শতাংশে নামিয়েছে, যা এপ্রিলে ছিল ৪.৩ শতাংশ আর জুলাইয়ে ৩.৫ শতাংশ।
- একই বছরের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস এপ্রিলের ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন প্রায় দ্বিগুণ, ১০.৯ শতাংশ হয়ে গেছে, যা ২০১০-১১ অর্থবছরের পর সবচেয়ে বেশি হবে।
- বিশ্বব্যাংক (৩.৪ শতাংশ) আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (৪ শতাংশ) আইএমএফের চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধির আশা করছে, তবে তিনটি সংস্থাই বছর জুড়ে তাদের হিসাব কমিয়ে আনছে।
- এই পূর্বাভাসগুলো এমন সময় এলো যখন ঢাকা ব্যাংককে বসে আইএমএফের কাছ থেকে নতুন ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ আর বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইছে।
এপ্রিলের পূর্বাভাস থেকে বড় পতন
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই পুরো বছরই বাংলাদেশের হিসাব কমিয়ে আসছিল, কিন্তু এবারের সংশোধনটা একটু বেশিই বড়। আইএমএফের নিজের হিসাবই তা বলে দেয়, এপ্রিলে প্রবৃদ্ধি ৪.৩ শতাংশ আর মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ ধরা হয়েছিল, জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ৩.৫ শতাংশে, আর অক্টোবরে এসে প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশ আর মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশ। মাত্র ছয় মাসে প্রবৃদ্ধি থেকে পুরো এক শতাংশ পয়েন্ট কমে গেছে, আর মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসে যুক্ত হয়েছে প্রায় পাঁচ পয়েন্ট। আইএমএফের হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থনীতি বেড়েছিল ৩.৬ শতাংশ, যা আগের বছরের ৩.৫ শতাংশ থেকে সামান্য বেশি। তাই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই পূর্বাভাস আসলে একটা নতুন মন্দার সংকেত, কর্মকর্তারা যে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছিলেন তার বিপরীত।
আইএমএফ কেন বিশ্বব্যাংক ও এডিবির চেয়ে বেশি হতাশ
বাংলাদেশের তিনটি প্রধান আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাই এই মাসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে, আর দিক ছাড়া আর কোনো বিষয়ে তাদের মধ্যে একমত হওয়া কঠিন। বিশ্বব্যাংকের অক্টোবরের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ আর মূল্যস্ফীতি ৮.৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সেপ্টেম্বরের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশ দেখছে, তবে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস জুলাইয়ের ৮.৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করেছে। দুই হিসাবেই আইএমএফ সবচেয়ে হতাশাজনক দিকে আছে।
| সংস্থা | ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস | মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস |
|---|---|---|
| আইএমএফ (অক্টোবর ২০২৬) | ৩.২% | ১০.৯% |
| বিশ্বব্যাংক (অক্টোবর ২০২৬) | ৩.৪% | ৮.৬% |
| এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (সেপ্টেম্বর ২০২৬) | প্রায় ৪.০% | ৯.০% |
তুলনার জন্য বলা যায়, একই বছরে আইএমএফ ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ আর ভুটানের ৬.৯ শতাংশ ধরেছে, যা দেখিয়ে দেয় আইএমএফের হিসাবে বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে কতটা পিছিয়ে পড়েছে। তিনটি সংস্থার কেউই এই পূর্বাভাসগুলোর ফারাকের একটিমাত্র কারণ বলেনি, তবে সবাই একই রকম কিছু চাপের কথা বলেছে, জ্বালানি সংকট, মন্দ ঋণের সংকট কাটিয়ে এখনো টিকে থাকা দুর্বল ব্যাংকিং খাত, আর নিজের লক্ষ্যই পূরণ করতে না পারা কর রাজস্ব ব্যবস্থা।
মূল্যস্ফীতি কেন এতটা বাড়ছে
মূল্যস্ফীতি বাড়ার পেছনে আইএমএফের নিজের ব্যাখ্যাটা স্থানীয়র চেয়ে বৈশ্বিক কারণের দিকে বেশি ঝুঁকে। তাদের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক বলছে, যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ধাক্কা লেগেছে তার জন্যই বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির নিম্নগতি থমকে গেছে। তারা ধারণা করছে ২০২৬ সালে বিশ্বের গড় মূল্যস্ফীতি হবে ৪.৭ শতাংশ, ২০২৫ সালের ৪.১ শতাংশ থেকে বেশি, আর ২০২৭ সালে সেটা আবার নেমে আসবে ৪.১ শতাংশে। আইএমএফ আলাদাভাবে বলছে, প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থার বাইরে থাকা জ্বালানি আমদানিকারক অর্থনীতিগুলো, যার মধ্যে বাংলাদেশও পড়ে, সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে আছে।
এডিবি বাংলাদেশের জন্য একটু নির্দিষ্ট করে কারণ দেখিয়েছে। তারা বলছে, জোরালো এল নিনোর বিলম্বিত প্রভাব, দেশের ভেতরের জ্বালানি সংকট থেকে সরবরাহের চাপ, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া, আর শিপিংয়ে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি, এসবই দায়ী। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধীরে ধীরে তার নীতি শিথিল করে তারল্য সহায়তা বাড়াচ্ছে। বিশ্বব্যাংক বলছে দেশের ভেতরে জ্বালানির দাম বাড়া, একই সরবরাহ সমস্যা, সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব নীতি, আর কম সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির দিকে ঝোঁকার কথা। বাস্তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে জুলাইয়ে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩২ শতাংশ, আগস্টে ৮.২৬ শতাংশ আর সেপ্টেম্বরে ৮.৩৪ শতাংশ, যা আরও বাড়ার আগেই আইএমএফের পুরো বছরের পূর্বাভাসের কাছাকাছি চলে এসেছে।
"ব্যাংকিং খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাজেট থেকে প্রতি বছর প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হবে, আর এটা করতে হবে পাঁচ থেকে আট বছর ধরে", ব্যাংককের সভায় বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, যা দেখিয়ে দেয় ভর্তুকি বা নতুন খরচের আগেই সরকারের রাজস্ব সামর্থ্যের কতটা অংশ এরইমধ্যে বাঁধা পড়ে গেছে।
পেছনের গল্প, ব্যাংককে ১০ বিলিয়ন ডলার আর নতুন আইএমএফ ঋণের আলোচনা
এই পূর্বাভাস একা একা আসেনি। অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল একই ব্যাংকক সভায় বিশ্বব্যাংকের কাছে আগামী তিন বছরে নিয়মিত ঋণের বাইরে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে, যা দিয়ে জ্বালানি ও সারের ভর্তুকি আর ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণে সহায়তা করার কথা। পাশাপাশি ঢাকা আইএমএফের সঙ্গে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ সুবিধা নিয়ে আলোচনা করছে, যেখানে তারা চাইছে সংস্থার শর্তগুলো একসাথে না করে ধাপে ধাপে পূরণ করতে। প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির দুর্বল পূর্বাভাস এই আলোচনায় দুই সংস্থাকেই বেশি দরকষাকষির সুযোগ দেয়, আবার অর্থায়ন দেরি হলে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
আপনার জন্য এর মানে কী
সঞ্চয়কারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাটা হলো এই ১০.৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস। বাংলাদেশ ব্যাংক গত কয়েকটি পর্যালোচনায় নীতি সুদের হার ৯.৫ শতাংশে ধরে রেখেছে, যার মানে অনেক ব্যাংকের স্থায়ী আমানতে যে সুদ দেওয়া হচ্ছে তা দাম বাড়ার প্রত্যাশিত হারের চেয়ে কম, আর আইএমএফের পূর্বাভাস যদি বিশ্বব্যাংকের চেয়ে বেশি সত্যি হয় তাহলে এই ফারাক আরও বাড়তে পারে। শুধু নামমাত্র সুদের হার না দেখে বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউয়ের এফডিআর ও ডিপিএস ক্যালকুলেটর দিয়ে নিজের আমানতের হিসাব করে দেখাটা ভালো, যাতে মূল্যস্ফীতি বাদ দিয়ে আসলে কতটা লাভ থাকছে তা বোঝা যায়।
ঋণগ্রহীতাদের জন্য কথা হলো, মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বেশি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ কমানোর সুযোগ কমে যায়, তাই প্রবৃদ্ধি কমলেও বিদ্যমান ঋণের ইএমআই কমার সম্ভাবনা কম। আমদানিকারক আর যারা বিদেশ থেকে টাকা পাঠান বা গ্রহণ করেন তাদের জন্য, দুর্বল প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আর আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অর্থায়নের আলোচনা মিলিয়ে টাকার গতিপথ আর ডলারের দাম নিয়ে নজর রাখাটা জরুরি হয়ে পড়ে, যা বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউয়ের কারেন্সি কনভার্টার দিয়ে দেখা যায়। ব্যবসায়ীদের জন্য বাস্তব কথা হলো, আইএমএফের হিসাবকে আপনি বিশ্বব্যাংক বা এডিবির চেয়ে যতটাই গুরুত্ব দিন না কেন, তিনটিই একই দিকের ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনে একটা সহজ বছর না ভেবে একটা কঠিন বছরের জন্য পরিকল্পনা করাই ভালো।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
ব্যয়বহুল এলএনজি টার্মিনাল পরিকল্পনা বাতিল করে চীন ও স্পট কার্গোর ওপর ভর করছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে, যার খরচ হতো ২০ বছরে ১৩,১৬১ কোটি টাকা পর্যন্ত, তার বদলে স্পট আর জি টু জি বাজার থেকে নয়টি এলএনজি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েক দিন পরে ব্যাংককে চীনের এক্সিম ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে বলেছে, তারা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ আর ঢাকার চারপাশের গ্রিড উন্নয়নে অর্থায়ন দ্রুত করতে চায়। এই দুটো পদক্ষেপ মিলে দেখায় সরকার কীভাবে সামনের জ্বালানি খরচ আর দীর্ঘমেয়াদে ব্যবস্থাটা ঠিক করার অর্থায়নের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে।
বাংলাদেশ আবার আইএমএফের দ্বারে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের আবেদন
সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচি থেকে নির্ধারিত সময়ের আট মাস আগেই সরে আসার পাঁচ মাস পর বাংলাদেশ ফিরে গেছে ব্যাংককের আলোচনার টেবিলে, এবার চাইছে নতুন করে সাড়ে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ঋণ। রাজস্ব জিডিপির অনুপাত নেমে এসেছে মাত্র সাত শতাংশে, আর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পৌঁছে গেছে মোট ঋণের প্রায় এক তৃতীয়াংশে, এমন সময়েই এসেছে এই নতুন আবেদন। অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, আলোচনা বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা, আর ঋণ ছাড় হবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক কিস্তিতে।
বিশ্বব্যাংক থেকে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলারের জন্য দ্রুত প্রকল্প অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছে আগামী তিন বছরে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে, যা দিয়ে জ্বালানি ভর্তুকি, ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ আর জরুরি আমদানি সামলানো হবে। বিনিময়ে ঢাকা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রকল্প অনুমোদনের সময় ১৮ মাস থেকে আট মাসে আর বাস্তবায়নের সময় সাত বছর থেকে পাঁচ বছরে কমাবে। ব্যাংকক সভায় করা এই চাওয়ার পাশাপাশি চলছে আইএমএফের সঙ্গে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলাদা আলোচনাও।