এমএসসিআই তিন বছরের বিশেষ ব্যবস্থা তুলে নেওয়ায় ঢাকার শেয়ারবাজারে ফিরছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা
সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৭০ কোটি টাকার নিট বিনিয়োগ করেছেন, বিদেশি লেনদেনে এক বছরের তীব্র ওঠানামার পর এটা ছোট হলেও বাস্তব একটা ঘুরে দাঁড়ানো। ২০২৩ সালের ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থার কারণে চালু হওয়া এমএসসিআইয়ের তিন বছরের বিশেষ ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই পুনরুদ্ধার মিলে যাচ্ছে, নভেম্বর থেকে সূচকের স্বাভাবিক ব্যবস্থা আবার চালু হবে। বিএসইসি আর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্কার, যার মধ্যে পুঁজি প্রত্যাবাসন অনুমোদনের সীমা দশগুণ বাড়ানো অন্যতম, এই পরিবর্তনের চালিকাশক্তি বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও বিদেশি মালিকানা এখনও প্রায় ৩৬০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৩২টিতে কেন্দ্রীভূত।
অনেক বছর পর প্রথমবারের মতো ঢাকার শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি অর্থ বের হয়ে যাওয়ার ধারাটা উল্টে গিয়ে ফিরে আসার ধারায় পরিণত হয়েছে। ১ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৭০ কোটি টাকার নিট বিনিয়োগ করেছেন, ২৫০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন আর ১৮০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন, ২৪ কার্যদিবসের মধ্যে ১৩ দিনই ছিল ক্রয়মুখী আর মাত্র দুই দিন নিট বিক্রি। সংখ্যাটা একেবারে হিসেবে ছোট হলেও এটা এমন একটা বছরের শেষভাগে এসেছে যেখানে বিদেশি লেনদেন প্রচণ্ড ওঠানামা করেছে, আর ঠিক এই সময়েই এমএসসিআই তিন বছরের বিশেষ ব্যবস্থা তুলে নিতে রাজি হয়েছে, যে ব্যবস্থা কার্যত বাংলাদেশকে নিজের সূচক পর্যালোচনা থেকে বাইরে রেখে দিয়েছিল।
একটা কঠিন বছর অবশেষে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে
২০২৬ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি অংশগ্রহণ মোটেও স্থির ছিল না। ফেব্রুয়ারিতে বিদেশি লেনদেন ছিল ৬৬৩ কোটি টাকা, তারপর বসন্তকালে ধসে পড়ে, মার্চে নেমে আসে ২৭২ কোটি টাকায় আর মে মাসে তলানিতে গিয়ে ঠেকে মাত্র ৭৩.৯২ কোটি টাকায়, ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় নয়ভাগের একভাগ। জুন জুলাইয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫২৩ থেকে ৫৪০ কোটি টাকায় ফিরে আসে, আগস্টে আবার নেমে যায় ৩১৮ কোটি টাকায়, আর সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে আবার ফিরে এসেছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায়। এই ওঠানামা আসলে দেখায় যে এই বাজার পুরো বছরের বেশিরভাগ সময় একটা স্পষ্ট দিকে না গিয়ে একের পর এক নীতিগত পরিবর্তনে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে গেছে।
| মাস (২০২৬) | বিদেশি লেনদেন |
|---|---|
| ফেব্রুয়ারি | ৬৬৩ কোটি টাকা |
| মার্চ | ২৭২ কোটি টাকা |
| মে | ৭৩.৯২ কোটি টাকা |
| জুন থেকে জুলাই | ৫২৩ থেকে ৫৪০ কোটি টাকা |
| আগস্ট | ৩১৮ কোটি টাকা |
| সেপ্টেম্বর (১ থেকে ২৪) | প্রায় ৪০০ কোটি টাকা |
প্রথমে কেন এমএসসিআই বাংলাদেশকে বাইরে রেখেছিল
এই পুরো বিরোধের শুরু ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন শেয়ারের দামের দীর্ঘ পতন ঠেকাতে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা তালিকাভুক্ত শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন দাম বেঁধে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে। এমএসসিআই এই হস্তক্ষেপকে ভালো চোখে দেখেনি, তারা বলেছিল এই ফ্লোর প্রাইস "বাজারে প্রবেশাধিকার মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে আর দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া বিকৃত করেছে", আর তাই তারা বাংলাদেশের সূচকের সব পর্যালোচনা পরিবর্তন আর কর্পোরেট ইভেন্ট বাস্তবায়ন বন্ধ করে দেয়, কারণ যে বাজারে দাম স্বাধীনভাবে নড়তে পারে না, সেখানে পুনর্বিন্যাস চালিয়ে যাওয়ার মানে হয় না। এই স্থগিতাদেশ সাড়ে তিন বছর ধরে বহাল ছিল, এই সময়ে এমএসসিআইয়ের ফ্রন্টিয়ার মার্কেট সূচক অনুসরণকারী প্যাসিভ ফান্ডগুলো কার্যত বাংলাদেশে তাদের বরাদ্দ একদমই সমন্বয় করেনি, ব্যক্তিগত কোম্পানিগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাই হোক না কেন।
এই ফ্লোর প্রাইস কিন্তু এই বছরের আগে সরেনি। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ৯ জুন বেক্সিমকো আর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়, দুটো কোম্পানির আকার আর দৃশ্যমানতা বিবেচনায় প্রতীকীভাবে এটা গুরুত্বপূর্ণ একটা পদক্ষেপ ছিল, আর তারপর ২০২৬ সালের আগস্টের ইক্যুইটি ইনডেক্স রিভিউতে এমএসসিআই নিশ্চিত করে যে নভেম্বর থেকে বাংলাদেশের সূচকের স্বাভাবিক ব্যবস্থা আবার চালু হবে, ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে কর্পোরেট ইভেন্টও স্বাভাবিকভাবে প্রক্রিয়া করা হবে। তবে এমএসসিআই এই স্বস্তির সঙ্গে একটা সতর্কবার্তাও জুড়ে দিয়েছে, বলেছে যে ফ্লোর প্রাইস আবার ফিরিয়ে আনা হলে বাংলাদেশকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে আরও অস্পষ্ট স্ট্যান্ডঅ্যালোন মার্কেট শ্রেণিতে নামিয়ে আনার পরামর্শ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে, যা দেশটিকে প্যাসিভ বিনিয়োগ প্রবাহ থেকে আরও দূরে ঠেলে দেবে, যেটা এখন তারা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
এই পরিবর্তনের পেছনের সংস্কার প্যাকেজ
বিএসইসির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়াটা একা কোনো পদক্ষেপ ছিল না। গত কয়েক মাসে কমিশন আরও বেশ কিছু নিয়ম বাতিল করেছে, যেগুলো নিয়ে বিদেশি ফান্ড ম্যানেজাররা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন, যেমন প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর নিয়ম সংশোধন করা, আর্থিকভাবে সচ্ছল কোম্পানিগুলোর জন্য প্রথাগত আইপিও প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে নতুন ডাইরেক্ট লিস্টিং নিয়ম তৈরি করা, আর মার্জিন প্রয়োজনীয়তা শিথিল করা। বাংলাদেশ ব্যাংকও একই সঙ্গে এগিয়েছে, মার্চ মাসে পুঁজি প্রত্যাবাসনের জন্য পৃথক অনুমোদনের প্রয়োজন হয় এমন সীমা ১০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা করেছে, দশগুণ বৃদ্ধি, যার ফলে বড় বিদেশি বিনিয়োগ প্রতিবার আলাদা অনুমোদন ছাড়াই বাজার থেকে বের হয়ে যেতে পারে, আর ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা প্রত্যাবাসনের আগে নিরীক্ষকের সনদ জমা দেওয়ার দীর্ঘদিনের শর্তও তুলে নিয়েছে। আরেকটা নতুন এবং কম আলোচিত পরিবর্তন হলো, এখন মূলধনি মুনাফা বাস্তবায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরাসরি কর কর্তন করা হয়, আলাদা রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।
ঢাকার একটা ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই পরিবর্তনকে খুব সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তিনি বলেছেন "জাতীয় নির্বাচন আর নতুন সরকার গঠনের পর, নিয়ন্ত্রক শিথিলতা...পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আবার ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।" এই ব্যাখ্যাটা বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউর নিজস্ব প্রতিবেদনের সঙ্গেও মিলে যায়, যেখানে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে ডিএসইএক্স সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারার মধ্যে ব্যাংকের পরিচালকরা নিজেদের শেয়ারহোল্ডিং বাড়াচ্ছিলেন বলে জানানো হয়েছিল, যদিও তখন বাজার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছিলেন যে এই র্যালি হেডলাইন সূচক যতটা বোঝায় তার চেয়ে সংকীর্ণ। এমএসসিআইয়ের এই খবর এতদিন মূলত অভ্যন্তরীণভাবে চালিত এই পুনরুদ্ধারের গল্পে একটা বাহ্যিক স্বীকৃতির স্তর যোগ করেছে।
বিদেশি মালিকানা এখনও কতটা ছোট
এই সব খবরকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা হঠাৎ ঢাকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছেন বলে ভুল বোঝার কোনো কারণ নেই। মোট বিদেশি শেয়ারহোল্ডিং প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা, যা এক্সচেঞ্জের প্রায় ৩৬০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৩২টিতে ছড়িয়ে আছে, অর্থাৎ তালিকাভুক্ত প্রায় দুই তৃতীয়াংশ কোম্পানিতেই উল্লেখযোগ্য কোনো বিদেশি মালিকানা নেই। যেটুকু আছে তাও বেশ কেন্দ্রীভূত, ব্র্যাক ব্যাংকে বিদেশি মালিকানা প্রায় ৩৫ শতাংশ আর অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজে প্রায় ২৫ শতাংশ, যা অন্য বেশিরভাগ তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিদেশি অংশের তুলনায় অনেক বেশি। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক্সচেঞ্জে অনিবাসী বিনিয়োগকারীর হিসাব ছিল ৪১,৯৩৭টি, লেনদেন বেড়ে যাওয়ার সময়গুলোতেও এই সংখ্যা ধীরেই বেড়েছে।
| সূচক | পরিমাণ |
|---|---|
| মোট বিদেশি শেয়ারহোল্ডিংয়ের মূল্য | ~১৩,০০০ কোটি টাকা |
| বিদেশি শেয়ারহোল্ডিং থাকা কোম্পানি | ~৩৬০টির মধ্যে ১৩২টি |
| ব্র্যাক ব্যাংকে বিদেশি মালিকানা | ~৩৫% |
| অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজে বিদেশি মালিকানা | ~২৫% |
| অনিবাসী বিনিয়োগকারী হিসাব (২৪ সেপ্টেম্বর) | ৪১,৯৩৭ |
এখন থেকে নভেম্বরের মধ্যে কী ঘটবে
আজ থেকে এমএসসিআইয়ের নভেম্বরের সূচক পর্যালোচনার মধ্যেকার এই সময়টাই আসল পরীক্ষা। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রকদের এখন শেয়ারের দামে হাত না দেওয়ার একটা বাস্তব কারণ আছে, কারণ ফ্লোর প্রাইসের মতো প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে আবার ফিরে গেলে এমএসসিআইয়ের হাতে স্ট্যান্ডঅ্যালোন মার্কেটে নামিয়ে দেওয়ার একটা প্রস্তুত কারণ চলে আসবে, যেটা তারা আগেই স্পষ্ট করে জানিয়ে রেখেছে। এমএসসিআইয়ের ফ্রন্টিয়ার সূচক অনুসরণকারী প্যাসিভ ফান্ডগুলো নভেম্বরের পর্যালোচনায় স্থগিত থাকা পরিবর্তনগুলো আসলে কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে তাদের বরাদ্দ তেমন সমন্বয় করবে না, তাই সেপ্টেম্বরের এই প্রবাহ সম্ভবত বড় আকারে প্যাসিভ অর্থ আসার চেয়ে বরং সক্রিয় ফান্ড ম্যানেজারদের ওই তারিখের আগে অবস্থান নেওয়ার প্রতিফলন। নভেম্বরের পুনর্শ্রেণিকরণ নির্বিঘ্নে এগোলে আর ডিসেম্বরে কর্পোরেট ইভেন্টের জমে থাকা তালিকা কোনো ঝামেলা ছাড়াই সাফ হয়ে গেলে, বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রকদের হাতে দেখানোর মতো একটা সত্যিকারের প্রমাণ থাকবে যে বিদেশি পুঁজি যা খুঁজছিল তা স্রেফ কথার কথা নয়, বাস্তব সংস্কার।
ফ্রন্টিয়ার মার্কেটগুলোর জন্য একটা চেনা ধরন
বাংলাদেশই প্রথম ফ্রন্টিয়ার মার্কেট নয় যেখানে ফ্লোর প্রাইস বা পুঁজি নিয়ন্ত্রণ এমএসসিআইয়ের নিজস্ব সূচক নিয়মের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, আর অন্য বাজারগুলোর অভিজ্ঞতা দেখে মোটামুটি আন্দাজ করা যায় সামনে কী হতে পারে। যেসব বাজার এমএসসিআইয়ের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ কাটিয়ে ওঠে, সেখানে সাধারণত বিদেশি লেনদেন একবারে লাফিয়ে না বেড়ে কয়েক প্রান্তিক ধরে ধীরে ধীরে বাড়ে, কারণ প্রাতিষ্ঠানিক ম্যান্ডেট পুনর্বিন্যাস হতে সময় লাগে আর অনেক ফান্ড আগেভাগে লেনদেন না করে প্রকৃত সূচক পুনর্বিন্যাসের তারিখের জন্যই অপেক্ষা করে। এর মানে এই মাসের সামান্য ৭০ কোটি টাকার নিট প্রবাহ একবারের কোনো উল্লম্ফনের চেয়ে বরং একটা দীর্ঘ সমন্বয় প্রক্রিয়ার শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, আর এটাও বোঝায় যে বিদেশি পুঁজি বাংলাদেশ সম্পর্কে সত্যিকার অর্থে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে কিনা তার আসল পরীক্ষা দেখা যাবে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের লেনদেনের তথ্যে, নভেম্বর আর ডিসেম্বরের সূচক সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাজারে কার্যকর হওয়ার পর।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
২৬ মাস বোর্ডশূন্য থাকার পর বিএসইসি পুনর্গঠন করল ১,৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল
বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড টানা ২৬ মাস কোনো পরিচালনা বোর্ড ছাড়াই চলেছে, শেষ পর্যন্ত এই সপ্তাহে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সাত সদস্যের একটা অন্তর্বর্তী প্যানেল গঠন করেছে। প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকার এই তহবিল, যা অদাবিকৃত লভ্যাংশ আর শেয়ারের সমন্বয়ে গড়া, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য তৈরি, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটা আইনি বিরোধ ২০২৪ সাল থেকে পুরো কাঠামোটাকেই স্থবির করে রেখেছিল। বিএসইসি এখন চায় এই প্রশ্নের চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ আইন, যার খসড়া শিগগিরই সংসদে যাওয়ার কথা।
অনিয়মের পর নগদ লভ্যাংশের নিয়মে কড়াকড়ি আনল বিএসইসি, স্বতন্ত্র পরিচালক পুনর্নিয়োগে দিল স্বস্তি
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এখন থেকে নগদ লভ্যাংশের প্রস্তাব এজিএমে তুলতে পারবে না যতক্ষণ না পুরো টাকা একটা আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা থেকে সনদায়িত হয়। সাম্প্রতিক অনিয়মের পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে, সঙ্গে আছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি। একই সভায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্বতন্ত্র পরিচালক পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করেছে, প্রতিবার নতুন পর্যালোচনার বদলে শুধু একটা ক্লিন ক্রেডিট রিপোর্টই এখন যথেষ্ট।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২৮ শতাংশ, সবচেয়ে বড় ধাক্কা ইকুইটিতে
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ কম অর্থ বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। নতুন বিনিয়োগকারীর আস্থার সবচেয়ে স্পষ্ট সূচক নিট ইকুইটি মূলধন প্রবাহ কমেছে ৫৫ শতাংশ, নেমে এসেছে মাত্র ১৫৫ মিলিয়ন ডলারে। অর্থনীতিবিদরা এই পতনের পেছনে জ্বালানি সংকট, বাণিজ্য বিঘ্ন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপকেই মূল কারণ বলছেন।