ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ঢাকার কাঁচাবাজারে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬6 মিনিটের পড়া
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ঢাকার কাঁচাবাজারে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

সরকার ২১ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে নতুন করে দাম বাড়ছে, ব্যবসায়ীরা এর প্রধান কারণ হিসেবে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন। কাঁচা মরিচের দাম কার্যত দ্বিগুণ হয়ে গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, আর আটা, চাল, ডিম আর দুধের মতো নিত্যপণ্যের দামও জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই বেড়ে গেছে। এর এক সপ্তাহ আগেও দাম বাড়ার আরেকটা ধাক্কা এসেছিল, যা বলে দেয় বাজার একবারের ধাক্কা নয়, বরং একের পর এক খরচ বৃদ্ধি সামলাচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফাহমিদা খাতুনের মতো অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশের সরকারি মূল্যস্ফীতির সংখ্যা সাধারণ পরিবারগুলোর প্রকৃত চাপকে কম করে দেখায়, কারণ খাবার আর পরিবহন খরচ নিম্ন আয়ের পরিবারের বাজেটে অনেক বেশি ভার বহন করে।

ঢাকার কাঁচাবাজারগুলো এই মাসে দ্বিতীয় দফা দাম বাড়ার ধাক্কা সামলাচ্ছে, আর এবারের কারণ কোনো খারাপ ফলন বা আমদানির সমস্যা না, বরং একদম সরাসরি একটা যান্ত্রিক কারণ, খাবার মাঠ থেকে দোকান পর্যন্ত আনার খরচ। কারওয়ান বাজার, নিউ মার্কেট আর কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া প্রতি লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পরিবহন খরচের মধ্য দিয়ে বাজারে ঢুকে পড়েছে, আর দাম বাড়ার এই ঢেউ কয়েক দিনের মধ্যেই সবজি থেকে ডিম, আটা থেকে ভোজ্যতেল, সবকিছুতেই লেগে গেছে।

দাম বাড়ার পেছনে জ্বালানি তেলের হিসাব

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা আর কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকায় বাড়িয়েছে, প্রতি লিটারে সমান ২০ টাকা বৃদ্ধি, যা কার্যকর হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। বিভাগটি এই সিদ্ধান্তকে অপরিহার্য বলে বর্ণনা করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে, যা তাদের ভাষ্যে মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম আর জাহাজ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে, আর এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা এখনো চলছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, দাম বাড়ানোর আগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান গুনছিল, যার অর্থ দৈনিক প্রায় ১০৯ কোটি টাকা লোকসান, আর মার্চ থেকে আগস্ট এই সময়ে দাম না বাড়িয়ে তাদের সঞ্চিত লোকসান দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২২,৮৭৫.৬৬ কোটি টাকা। খাবারের দামের ক্ষেত্রে ডিজেলই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ট্রাক, পিকআপ আর তিন চাকার যানবাহন যা মাঠ থেকে পাইকারি বাজার হয়ে পাড়ার দোকান পর্যন্ত ফসল নিয়ে আসে, সবই এই তেলে চলে, আর এই কারণেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব ভোক্তা বাজারের অন্য প্রায় সব পণ্যের চেয়ে আগে সবজির দামে দেখা যায়।

বাজারের দোকানে কী বদলেছে

সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ আসছে সরাসরি ব্যবসায়ীদের নিজেদের বাড়তি খরচের বর্ণনা থেকে। মানিকগঞ্জ থেকে কারওয়ান বাজারে সবজি আনা রহমত মিয়া বলেছেন, দাম বাড়ার পর তিনি এক ট্রিপেই পিকআপ ভাড়ায় ৪০০ টাকা বেশি দিয়েছেন, যা আগে থেকেই বাড়তি থাকা দামের ওপর নতুন যোগ হয়েছে। কুষ্টিয়া থেকে বাজারে চাল সরবরাহ করা এক ব্যবসায়ী বলেছেন, তার চেনা রুটে পরিবহন খরচ প্রায় ৫,০০০ টাকা বেড়েছে, আর প্রতি বস্তায় পাইকারি খরচ বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, যার প্রভাব পাইজাম আর আটাশ চালের খুচরা দামে প্রায় সাথে সাথেই দেখা গেছে, যা কিলোগ্রামে ৫৬-৫৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬০ টাকা। নিউ মার্কেটে মিরাজ নামের এক ব্যবসায়ী বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগেই মাত্র এক মাস আগে আটার দাম কিলোগ্রামে ১০ টাকা বেড়েছিল, আর তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার নতুন ধাক্কা যুক্ত হয়ে প্যাকেট আটার দাম প্রায় ৭৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৫ টাকা।

সবজির দাম শতাংশের হিসাবে আরও বেশি বেড়েছে। কাঁচা মরিচ, যা পরিবহনের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল পণ্যগুলোর একটা কারণ এটা তাড়াতাড়ি পচে যায় আর শস্যের মতো মজুত করে রাখা যায় না, তার দাম কার্যত দ্বিগুণ হয়ে কিলোগ্রামে ৮০-১০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬০-১৮০ টাকা। বাকি বেশিরভাগ সবজি কিলোগ্রামে ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭০-৮০ টাকা, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি। গোল বেগুন কিলোগ্রামে পৌঁছেছে ১৪০-১৬০ টাকায়। ডিমের দাম ডজনে বেড়ে হয়েছে ১৬০ টাকা, দুধের দাম লিটারে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে, আধা লিটারের প্যাকেট পৌঁছেছে ৫৫ টাকায় আর এক লিটারের প্যাকেট ১১০-১১৫ টাকায়। এমনকি নিম্ন আয়ের পরিবারের প্রোটিনের অন্যতম মূল উৎস মসুর ডালও কিলোগ্রামে ৯০-৯৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা।

দাম বাড়ার দুটি ঢেউ পাশাপাশি রেখে দেখা

এই মৌসুমে এটাই দাম বাড়ার প্রথম ধাক্কা না। এক সপ্তাহ আগে সংগ্রহ করা আলাদা বাজার তথ্যেই সবজির দাম একই রকম পরিসরে বাড়তে দেখা গিয়েছিল, শিমের দাম কিলোগ্রামে ১৬০-১৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছিল ১৭০-২০০ টাকা, আর দেশি শসার দাম ৫০-৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় উঠেছিল। সেই আগের জরিপেই মুরগির সরবরাহ কমে গিয়েছিল, ব্যবসায়ীরা প্রায় ১,০০০ পাখির চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছিলেন মাত্র ৩০০টির মতো, যার ফলে সোনালি মুরগির দাম কিলোগ্রামে পৌঁছেছিল ৩৩০ টাকায় আর ব্রয়লার ১৯০ টাকায়। দুটো ছবি একসাথে দেখলে বোঝা যায়, এটা কোনো একবারের ধাক্কা না, বরং কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক খরচ বৃদ্ধি সামলাতে থাকা একটা বাজার, আর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সেই আগে থেকে শুরু হওয়া পরিবহন সমস্যা আর সরবরাহ ঘাটতির ওপর যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে।

পণ্যআগের দামজ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরের দাম
কাঁচা মরিচ (প্রতি কেজি)৮০-১০০ টাকা১৬০-১৮০ টাকা
বেশিরভাগ সবজি (প্রতি কেজি)৫০-৬০ টাকা৭০-৮০ টাকা
প্যাকেট আটা (প্রতি কেজি)৭৫ টাকা৮৫ টাকা
পাইজাম/আটাশ চাল (প্রতি কেজি)৫৬-৫৮ টাকা৬০ টাকা
ডিম (প্রতি ডজন)১৫০-১৬০ টাকা১৬০ টাকা
মসুর ডাল (প্রতি কেজি)৯০-৯৫ টাকা১০০ টাকা
দুধ, এক লিটার প্যাকেট১০০-১০৫ টাকা১১০-১১৫ টাকা

পরিবারগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে

দাম বাড়ার মানবিক প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট বোঝা যায় সাধারণ ক্রেতারা তাদের সাপ্তাহিক বাজার নিয়ে যেভাবে কথা বলছেন তাতে। কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মনির সোজাসাপ্টা বলেছেন, এখন মনে হচ্ছে ঠিকমতো খাওয়ার মতো টাকাই থাকবে না, কারণ বাজারের খরচের সাথে পাল্লা দিয়ে আয় বাড়ছে না। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনও আলাদাভাবে একই কথা বলেছেন, বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার আগস্টে সামান্য কমে ৮.২৬ শতাংশে এসেছে বলা হলেও, সাধারণ পরিবারগুলো আসলে যতটা চাপে আছে তার তুলনায় এই সংখ্যা কম মনে হয়, কারণ খাবার আর পরিবহন খরচ নিম্ন আয়ের পরিবারের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির ঝুড়ির চেয়ে অনেক বেশি ভার বহন করে। কিছু দোকানি নিয়মিত ক্রেতাদের জন্য এই ধাক্কা একটু কমানোর চেষ্টা করছেন। নিউ মার্কেটের এক দোকানি বলেছেন, তিনি আগে কেনা মজুত পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন না, নতুন কেনা পণ্যেই কেজিতে ২-৩ টাকা বেশি নিচ্ছেন, একটা ছোট বাফার যা বাড়তি পরিবহন খরচের প্রভাব একদম বাদ দেয় না, কিছুদিন পিছিয়ে দেয় মাত্র।

এই দফা কেন আলাদা মনে হচ্ছে

এই দাম বাড়ার চক্রকে সাধারণ মৌসুমি ওঠানামা থেকে আলাদা করে তোলে একটাই বিষয়, একটা নির্দিষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্ত, ২১ সেপ্টেম্বরের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, আর সপ্তাহের বদলে কয়েক দিনের মধ্যেই দেশব্যাপী খাবারের খরচ বেড়ে যাওয়ার মধ্যে সরাসরি, ধরে দেখানোর মতো সম্পর্ক। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে ঠিক এই ধরনের ঝুঁকির কথাই উল্লেখ করেছিল, বলেছিল মুদ্রা নীতি কমিটি সুদহার নিয়ে আরও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব যাচাই করতে চায়। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকও একই প্রতি লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের জন্য আগামী অর্থবছরের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরজুড়ে যে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করছিল তার একটা অংশ উল্টে দিচ্ছে। কারওয়ান বাজারের বাস্তব প্রমাণ আর এডিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় পূর্বাভাস, দুটোই একই দিকে ইঙ্গিত করছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের আর্থিক চাপ কমাতে নেওয়া একটা জ্বালানি সিদ্ধান্ত এখন পরিবহন শৃঙ্খলের মধ্য দিয়ে বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে, আর সেই একই পুরনো ধারা মেনে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে সেই পরিবারগুলোর ওপর যাদের এই চাপ সামলানোর সামর্থ্য সবচেয়ে কম।

এরপর কী দেখার বিষয়

ব্যবসায়ী আর বিশ্লেষকরা প্রায় সবাই মনে করছেন বাজার স্থিতিশীল হওয়ার আগে দাম সমন্বয়ের অন্তত আরেক দফা হবে, কারণ পাইকাররা সাধারণত জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির প্রভাব একবারে না চাপিয়ে ধাপে ধাপে গ্রাহকের ওপর চাপান, আর এখানে উল্লেখ করা কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেছেন ডিলাররা আগামী সপ্তাহগুলোতে আটা আর ভোজ্যতেলের দাম আরও বাড়ার সংকেত দিচ্ছেন। দাম কমে আসবে কিনা তা ফসলের মৌসুমের চেয়ে বেশি নির্ভর করবে বিশ্ব তেলের দামের ওপর, যা এখন মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণেই বেশি, আর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন পরের দাম সমন্বয়ের আগেই আরেকটা অভ্যন্তরীণ দাম বাড়ানো এড়াতে পারে কিনা তার ওপর।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম নিয়মে লুকানো মুনাফা আর বাড়তে থাকা লেট ফি নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের জন্য প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা জারি করেছে, সুদ ভিত্তিক চার্জের বদলে একটা নির্দিষ্ট সার্ভিস ফি এবং লেট পেমেন্ট জরিমানাকে আগে থেকে ঠিক করা একটা দানে বদলে দিয়েছে যা বাড়তে পারবে না। ইসলামী কার্ড এখন প্রচলিত কার্ড থেকে কীভাবে আলাদা, এবং নতুন জালিয়াতি সুরক্ষা ও কুলিং অফ নিয়ম কার্ডধারীদের জন্য কী মানে রাখে, তা দেখে নেওয়া যাক।

সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশ, থেমে গেল তিন মাসের শীতল হওয়ার ধারা

টানা তিন মাস কমার পর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮.৩৪ শতাংশ, যা আগস্টের ১০ মাসের সর্বনিম্ন ৮.২৬ শতাংশ থেকে বেশি। এই বৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই এসেছে খাদ্যপণ্যের দাম থেকে, যা বেড়ে হয়েছে ৭.২২ শতাংশ, যদিও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এই বৃদ্ধিটা এমন একটা সপ্তাহে এসেছে যখন বিশ্বব্যাংকের একটা প্রতিবেদনে দেখা গেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই কোনো সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা পায় না, যা মনে করিয়ে দেয় জাতীয় গড়ে আট বেসিস পয়েন্টের একটা ছোট বৃদ্ধিও কম সামর্থ্যের পরিবারগুলোর জন্য আসলে কতটা কষ্টের কারণ হতে পারে।

আগস্টে প্রবাসী আয় তিন মাসের সর্বোচ্চ ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার, পরিবারের জন্য এর মানে কী

আগস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১০.৮২ শতাংশ বেশি। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে তুলনামূলক ভালো বিনিময় হার আর সরকারের আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা বেশি টাকা বৈধ পথে আনতে সাহায্য করছে, যা প্রতি মাসে এই টাকার উপর নির্ভরশীল লাখ লাখ পরিবারের জন্য সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ একটা পরিবর্তন