বাংলাদেশে সোনার দাম কিছুটা বাড়লেও এখনো জানুয়ারির রেকর্ড থেকে অনেক নিচে
বাংলাদেশে এই সপ্তাহে ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকায়, বাজুস ১৯ সেপ্টেম্বর যে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়েছিল তার পর, তবে এই দাম এখনো জানুয়ারিতে নির্ধারিত সর্বকালের সর্বোচ্চ দর ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকার চেয়ে ১৮ শতাংশেরও বেশি কম। জুলাই নাগাদ সোনার দাম নেমে গিয়েছিল ভরি প্রতি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকায়, এই মাসের সামান্য পুনরুদ্ধারের আগে, এমন একটা ওঠানামা যা প্রায় পুরোপুরি আন্তর্জাতিক কারণে ঘটেছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতি, বাংলাদেশের নিজস্ব বুলিয়ন বাজারে ঘটা কোনো কিছুর কারণে নয়। বিয়ের মৌসুম চলাকালীন, জানুয়ারির সর্বোচ্চ দর আর জুলাইয়ের সর্বনিম্ন দরের মধ্যে ভরি প্রতি প্রায় ৬৬ হাজার টাকার ফারাক ইতিমধ্যেই পরিবারগুলোর সোনা কেনার সময় নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে।
সামান্য বৃদ্ধি, তবু সোনা এখনো সর্বোচ্চ দর থেকে অনেক নিচে
এই সপ্তাহে বাংলাদেশের স্থানীয় বুলিয়ন বাজারে ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকায়, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ১৯ সেপ্টেম্বর যে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়েছিল তা থেকে সামান্য পুনরুদ্ধার। যাদের কাছে সোনা আছে তাদের জন্য এটা শুনতে ভালো খবরের মতো লাগে, আর খুব স্বল্প মেয়াদে তা সত্যিও। কিন্তু এই সংখ্যাটা আসলে বোঝা যায় শুধু তখনই যখন এই বছর বাজার কোথায় কোথায় গেছে তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। জানুয়ারির শেষ দিকে একই ২২ ক্যারেট সোনা সর্বকালের সর্বোচ্চ দর ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা ভরি ছুঁয়েছিল, এমন একটা রেকর্ড যাকে বাজুস নিজেই সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ঘোষিত সবচেয়ে বড় একদিনের লাফ বলে অভিহিত করেছিল। সেই সর্বোচ্চ দরের সঙ্গে তুলনা করলে আজকের দর এখনো প্রায় ১৮ শতাংশ কম, যার মানে এই মাসের সামান্য বৃদ্ধিকে র্যালি না বলে বরং বছরের একটা কঠিন সময় পার করে বাজার তার পা মাটিতে ফেলার চেষ্টা বলাই বেশি যুক্তিসঙ্গত।
জানুয়ারি আর এখনকার মধ্যকার এই ফারাক কোনো সামান্য হিসাবের ভুল নয়। গ্রীষ্মকালজুড়ে ট্র্যাক করা বাজুসের দাম ঘোষণা অনুযায়ী, জুলাইয়ের মাঝামাঝি নাগাদ সোনার দাম সেই ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকার সর্বোচ্চ দর থেকে নেমে আসে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকায়, ছয় মাসেরও কম সময়ে প্রায় ৬৬ হাজার টাকা কমে যাওয়া। সেপ্টেম্বরের দর জুলাইয়ের সেই সর্বনিম্ন দরের চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও জানুয়ারির সর্বোচ্চ দরের ধারেকাছেও নেই, যা থেকে বোঝা যায় বছরের শুরুতে নির্দিষ্ট কিছু আশঙ্কার কারণে বাজার প্রবলভাবে লাফিয়ে ওঠে, সেই আশঙ্কা কমে যাওয়ার পর তীব্রভাবে সংশোধিত হয়, আর তারপরের মাসগুলোতে মাঝেমধ্যে এই ধরনের ছোটখাটো উত্থান ছাড়া মোটামুটি নিচের একটা সীমার মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে।
জানুয়ারির রেকর্ডের পেছনে আসলে কী ছিল
জানুয়ারির এই উল্লম্ফন কেবল বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো ঘটনা ছিল না। বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান স্থানীয় এই বৃদ্ধির জন্য কাঁচা, অপরিশোধিত সোনার দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করেছিলেন, যাকে স্থানীয়ভাবে তেজাবি সোনা বলা হয়, কিন্তু এর মূল কারণ ঢাকার জুয়েলারি দোকানের অনেক বাইরে গিয়ে পাওয়া যায়। সেই মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়, শুধু জানুয়ারিতেই প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি, ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা আর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে হুড়োহুড়ি শুরু করে। দুর্বল ডলার, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার নীতি নিয়ে প্রত্যাশা, আর বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক সোনা কেনাকাটা, সব মিলিয়ে এই উত্থানকে আরও জোরালো করে তোলে। বাজুসের সাবেক মহাসচিব দেওয়ান আমিনুল ইসলাম তখন সতর্ক করে বলেছিলেন, "ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যতদিন থাকবে, ততদিন এই ঝুঁকিও থেকে যাবে," যা বছরটা আসলে কতটা উত্থানপতনের মধ্য দিয়ে যাবে তার একটা মোটামুটি সঠিক পূর্বাভাসই ছিল।
বাংলাদেশ তার প্রায় সব সোনাই আমদানি করে বলে স্থানীয় দাম আন্তর্জাতিক বাজারকেই অনুসরণ করে, তবে কিছুটা দেরিতে, টাকার বিনিময় হার আর একটা বাড়তি প্রিমিয়াম হিসাব করে, যা নিয়ে বাজুস সভাপতি খান আগেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই বলে যে "স্থানীয়ভাবে বিশ্ববাজারের দামে সোনা কেনার কোনো সুযোগ নেই।" ভরি প্রতি উল্লেখিত দামের ওপর ক্রেতাদের বাধ্যতামূলক ৫ শতাংশ ভ্যাট আর ভরি প্রতি প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হওয়া মজুরি খরচও দিতে হয়, যা সোনার দামের সঙ্গে ওঠানামা করে না, আর এই কারণেই বাংলাদেশে খুচরা সোনা প্রতিবেশী ভারতের একই ওজনের সোনার চেয়ে সবসময় বেশি দামি হয়ে থাকে।
এত বড় বৃদ্ধির এত বড় অংশ কেন হারিয়ে গেল
জানুয়ারির রেকর্ড থেকে জুলাইয়ের সর্বনিম্ন দরে নেমে আসা সোনার বাজারের একটা পরিচিত ধরনকেই প্রতিফলিত করে, আশঙ্কাজনিত একটা লাফ সাধারণত তীব্র উদ্দীপকটা মিলিয়ে যাওয়ার পর নিজে থেকেই স্তিমিত হয়ে আসে, যদিও অন্তর্নিহিত অনিশ্চয়তা পুরোপুরি মুছে যায় না। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কিংবা ফেডের সুদহার নীতি, কোনোটাই বছরের মাঝামাঝি নাগাদ পরিষ্কারভাবে মীমাংসা হয়নি, কিন্তু বাজার যেন দুটোরই কম উদ্বেগজনক একটা সংস্করণ ধরে নিয়ে সোনাকে আবার এমন একটা স্তরে নামিয়ে এনেছে যা সংকটকালীন হেজিংয়ের চেয়ে স্বাভাবিক চাহিদা-জোগানকে বেশি প্রতিফলিত করে। সেপ্টেম্বরের সামান্য উত্থান, ১৯ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়া ২২ ক্যারেট সোনার জন্য বাজুস ঘোষিত ১ হাজার ৬৯১ টাকা বৃদ্ধি, ইঙ্গিত দেয় যে সেই হেজিং চাহিদার কিছুটা চুপচাপ ফিরে এসেছে, যদিও জানুয়ারিতে দেখা তীব্রতার ধারেকাছেও নয়।
বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এই উত্থানপতনের বাস্তব প্রভাব একেবারে সরল, যদিও এর পেছনের বাজার যুক্তি অতটা সরল নয়। সোনা এখনো সঞ্চয়ের সবচেয়ে সাধারণ মাধ্যমগুলোর একটা আর বিয়ে ও যৌতুক প্রথার একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার মানে বাজুসের প্রতিটা দাম ঘোষণা, তা ৬০ হাজার টাকার লাফ হোক বা ৫ হাজার টাকার পতন, সরাসরি পরিবারের বাজেটে গিয়ে আঘাত করে, যেভাবে সমান শতাংশের শেয়ারবাজারের ওঠানামা প্রায় কখনোই করে না। যে পরিবার জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ দামে সোনা কিনেছিল তারা এখন তাদের কেনা দামের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কাগুজে লোকসানে বসে আছে, আর যে কেউ জুলাইয়ের সর্বনিম্ন দরের জন্য অপেক্ষা করে এখন আবার কিনছে তাকে সেই সর্বনিম্ন দরের চেয়ে প্রায় ৭ শতাংশ বেশি দিতে হচ্ছে।
বিয়ের মৌসুমের হিসাব
শরৎ আর শীতকাল বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বিয়ের মৌসুম, আর বেশিরভাগ বিয়ের যৌতুক আর উপহার প্রথায় সোনার গয়না প্রায় অপরিহার্য একটা অংশ, যার মানে এই দামের ওঠানামার সময়টা শুধু বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী একটা সাধারণ বিয়ের সেট চার থেকে দশ ভরি পর্যন্ত হতে পারে, তাই জানুয়ারির সর্বোচ্চ দর আর জুলাইয়ের সর্বনিম্ন দরের মধ্যে ভরি প্রতি প্রায় ৬৬ হাজার টাকার পার্থক্য সহজেই একটা পরিবারের বিয়ের বাজেটে কয়েক লাখ টাকার হেরফের তৈরি করতে পারে। এত বড় কেনাকাটার ক্ষেত্রে, বাজুসের দাম ঘোষণার সময়টা, একটা পরিবার প্রত্যাশিত বৃদ্ধির ঠিক আগে কেনে নাকি দাম কমার একটা ধারা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করে, তা ডিজাইন বা ক্যারেট বাছাইয়ের সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে চূড়ান্ত বিলের ক্ষেত্রে।
ভ্যাট আর মজুরি খরচের কাঠামো আরেকটা স্তর যোগ করে যা অনেক ক্রেতা কাউন্টারে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত খেয়াল করেন না। ২২ ক্যারেট সোনার জন্য ভরি প্রতি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা ঘোষিত দাম আসলে বেশিরভাগ খুচরা গ্রাহক যা প্রকৃতপক্ষে দেন তার চেয়ে কম দেখায়, কারণ বাধ্যতামূলক ৫ শতাংশ ভ্যাট আর ভরি প্রতি প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হওয়া মজুরি খরচ যোগ হলে আজকের দরে এক ভরি গয়নার সোনার প্রকৃত খরচ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ওপরে গিয়ে ঠেকে। মজুরি খরচের অংশটা সোনার দামের শতাংশ হিসেবে না হয়ে মোটামুটি নির্দিষ্ট থাকায়, সোনা যখন সস্তা থাকে তখন এই খরচ আনুপাতিক হারে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যে কারণে জুলাইয়ের দরপতনের জন্য অপেক্ষা করা কিছু ক্রেতা বাস্তবে সাশ্রয়টা হেডলাইনের দরপতনের চেয়ে কম পেয়েছেন।
এখান থেকে সামনে কী
স্থানীয় বাজার পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকরা বলছেন, নিকট ভবিষ্যতের দিক নির্ভর করবে বাংলাদেশে ঘটতে থাকা কোনো ঘটনার চেয়ে বেশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আর যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি আগামী মাসগুলোতে কীভাবে এগোয় তার ওপর, যে একই দুটো শক্তির কথা বাজুস কর্মকর্তারা জানুয়ারিতে উল্লেখ করেছিলেন। উত্তেজনা টেকসইভাবে কমে এলে সোনা সম্ভবত বর্তমান সীমার মধ্যে বা তার নিচেই ঘোরাফেরা করবে; নতুন করে উত্তেজনা বাড়লে বাজুস আবারও আরেকটা রেকর্ড ঘোষণা করতে পারে ঠিক ততটাই সহজে। এই বছরের বেশিরভাগ ওঠানামাই যেহেতু বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটেছে, স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য হয়তো বেশি কাজের সংখ্যাটা কোনো একদিনের ভরির দাম নয়, বরং তার পেছনের প্যাটার্নটাই, একটা বাজার যা এখন প্রমাণ করে দিয়েছে যে কয়েক মাসের মধ্যেই যেকোনো দিকে ২০ শতাংশের বেশি সরে যেতে পারে।
| তারিখ | ভরি প্রতি ২২ ক্যারেট দাম | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২,৮৬,০০১ টাকা | সর্বকালের সর্বোচ্চ দর |
| ১৪ জুলাই, ২০২৬ | ২,১৯,৮০৮ টাকা | সংশোধনের পর গ্রীষ্মের সর্বনিম্ন দর |
| ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১,৬৯১ টাকা বৃদ্ধি ঘোষিত | সর্বশেষ বাজুস দাম সংশোধন |
| ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২,৩৪,৬২১ টাকা | বর্তমান দর, জানুয়ারির সর্বোচ্চ দরের চেয়ে ১৮% কম |
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
বাংলাদেশে সোনার দাম আবার উল্টো দিকে, বাজুস ২২ ক্যারেটের দাম কমিয়ে ২,২৮,০৩১ টাকা করল, বাড়ানোর চার দিনের মাথায়
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৩ অক্টোবর ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা কমিয়ে ২,২৮,০৩১ টাকা করেছে, যা মাত্র চার দিন আগে একই দাম ২,২১৬ টাকা বাড়ানোর পরের ঘটনা। সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে দাম দুই দিকেই ঘুরেছে, ২৬ সেপ্টেম্বরের ২,৩২,৯৩০ টাকা থেকে ৯ অক্টোবরের ২,৩১,২৯৭ টাকা হয়ে এখন ২,২৮,০৩১ টাকায়। একই সঙ্গে রূপার দামও কমেছে, ২২ ক্যারেট রূপা ভরিতে ১১৭ টাকা কমে হয়েছে ৪,১৯৯ টাকা।
বাজুসের দামে এক সপ্তাহে দুই দফা পরিবর্তন, আগে কমল পরে বাড়ল সোনার দাম
বাজুস ৫ অক্টোবর প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৬৯১ টাকা কমিয়েছিল, কিন্তু চার দিন পরই ৯ অক্টোবর সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি উল্টে দিয়ে ২,২১৬ টাকা বাড়িয়ে দেয়, ফলে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দাম দাঁড়ায় ২,৩১,২৯৭ টাকায়। এই ওঠানামা এ বছর নতুন কিছু নয়, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম অন্তত ৯০ বারের বেশি বদলেছে, মানে প্রায় দুই দিনে একবার। সর্বশেষ বাড়তি দামেও এটি এ বছরের সর্বোচ্চ ২,৮৬,০০১ টাকার চেয়ে অনেক কম, তবে গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় এখনও প্রায় ১০.৬ শতাংশ বেশি।
তিন দিনে দুইবার ওঠানামা করল বাংলাদেশে সোনার দাম, জানুয়ারির রেকর্ড থেকে এখনও অনেক দূরে
এই সপ্তাহে বাংলাদেশে সোনার দাম তিন দিনের মধ্যে দুইবার ওঠানামা করেছে, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন ২৮ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২,১৫৮ টাকা কমিয়েছে, পরদিন আরও ২,২১৬ টাকা কমিয়েছে, তারপর ৩০ সেপ্টেম্বর সেই দ্বিতীয় কমাটাই পুরোপুরি উল্টে দিয়ে ঠিক আগের ২,৩০,৭৭২ টাকায় ফিরিয়ে এনেছে। এই উথালপাথাল এমন একটা বছরের জন্য স্বাভাবিক, যেখানে ইতিমধ্যে ১১৯ বার দাম সংশোধন হয়েছে, ৫৮ বার বৃদ্ধি আর ৬০ বার হ্রাস, কারণ দেশীয় দাম ফেডারেল রিজার্ভের প্রত্যাশা আর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় গড়া অস্থির আন্তর্জাতিক বুলিয়ন বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে চলে। এই সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী সমন্বয়ের পরও দাম জানুয়ারির রেকর্ড সর্বোচ্চ ২,৮৬,০০১ টাকার চেয়ে ৫৫,০০০ টাকারও বেশি নিচে রয়ে গেছে। বিয়ের মৌসুম চলার মধ্যে ভ্যাট আর মজুরি খরচ প্রকৃত দামকে ঘোষিত দামের চেয়ে অনেক ওপরে ঠেলে দেওয়ায়, ক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কোনো একদিনের দাম স্থায়ী হবে ধরে না নিয়ে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দৈনিক বিজ্ঞপ্তি দেখে চলার জন্য।