অর্থনীতি ও নীতি

চলতি প্রান্তিকে ব্যাংক থেকে ৩০,১০৭ কোটি টাকা ধার করবে সরকার, রাজস্ব ঘাটতি অব্যাহত

৩ অক্টোবর, ২০২৬5 মিনিটের পড়াহালনাগাদ ১০ অক্টোবর, ২০২৬
চলতি প্রান্তিকে ব্যাংক থেকে ৩০,১০৭ কোটি টাকা ধার করবে সরকার, রাজস্ব ঘাটতি অব্যাহত

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে ট্রেজারি বিল আর বন্ড থেকে নিট ৩০,১০৭ কোটি টাকা ধার করার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার, যা গত প্রান্তিকের ৩৫,০০০ কোটি টাকার চেয়ে কম হলেও অর্থনীতিবিদদের মতে এটি গভীর হতে থাকা নগদ সংকটেরই প্রতিফলন। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যের চেয়ে প্রায় ২৯,০০০ কোটি টাকা পিছিয়ে আছে, আর নতুন বেতন কাঠামোর ডিসেম্বরের কিস্তিতেই লাগবে আরও ৩৭,৩৭২ কোটি টাকা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফাহমিদা খাতুন সতর্ক করেছেন, ব্যাংক থেকে এভাবে ধার করা সরকারের কোষাগারে তারল্য সংকটের লক্ষণ, টেকসই অর্থায়নের উপায় নয়, আর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের এক অর্থনীতিবিদ বলেছেন এতে বাজেটের নিজের সুদ খরচই বেড়ে যাবে। একই সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ৯.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে আর রিজার্ভ জুনের শীর্ষ থেকে নেমে এসেছে, যা দেখিয়ে দেয় রাজস্ব আর মুদ্রানীতির চাপ এখন কতটা পরস্পর জড়িয়ে আছে।

চাহিদা কমেছে একটু, কিন্তু চাপটা একই রকম আছে

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর, মানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সরকার ট্রেজারি বিল আর বন্ড থেকে নিট ৩০,১০৭ কোটি টাকা ধার করার লক্ষ্য ঠিক করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এই হিসাব দিয়েছে। শুনতে ভালোই লাগে, কারণ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সরকার ধার করেছিল ৩৫,০০০ কোটি টাকার বেশি, তার চেয়ে এবারের অঙ্কটা কম। কিন্তু একটু গভীরে গেলে বোঝা যায়, সমস্যাটা আসলে কমেনি। সরকার এখনো ব্যাংক থেকে ধার করে বাজেটের ফাঁক ভরাট করছে, আর এই ফাঁক তৈরি হচ্ছে দুটো আলাদা কারণে। এক, রাজস্ব আদায় চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যের চেয়ে প্রায় ২৯,০০০ কোটি টাকা পিছিয়ে আছে। দুই, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ডিসেম্বরের কিস্তিতেই লাগবে ৩৭,৩৭২ কোটি টাকা।

এই ধার করার ক্যালেন্ডারটা তৈরি করে ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, আর প্রতি প্রান্তিকেই এটা প্রকাশ হয়। সপ্তাহে সপ্তাহে ট্রেজারি বিল আর বন্ডের নিলামে ব্যাংক, বিমা কোম্পানি আর অন্যান্য প্রাইমারি ডিলাররা সরকারি কাগজ কিনে সরকারকে টাকা দেয়, এটা একটা নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। অর্থনীতিবিদরা যেটা নিয়ে চিন্তিত, সেটা এই প্রক্রিয়া নয়, বরং এর পেছনের প্রবণতা, সরকার দিন দিন নিজের দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে দৈনন্দিন খরচ মেটাতে, অথচ সেই একই ব্যাংক ব্যবস্থা ইতিমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের বোঝা নিয়ে ধুঁকছে।

চাপটা আসছে কোথা থেকে

এই ধার করার দরকার তৈরি হয়েছে দুটো শক্তি থেকে, আর দুটোই সাময়িক নয়। প্রথমটা রাজস্বের দিক থেকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই অর্থবছরেও গতবারের মতোই হিমশিম খাচ্ছে, গত বছর পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেষের দুই মাসে বড় উল্লম্ফন সত্ত্বেও আদায় লক্ষ্যের চেয়ে প্রায় ৮৮,০০০ কোটি টাকা কম হয়েছিল। বিডি ফিন্যান্সিয়াল রিভিউ এই সপ্তাহে যে তথ্য দেখেছে তাতে বোঝা যায়, এই ধারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও চলছে, ৩৪টি বড় করদাতা ইউনিটের মধ্যে ২৯টিই ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি, যদিও সার্বিক আদায় বেড়েছে। দ্বিতীয় শক্তিটা খরচের দিক থেকে, নির্দিষ্টভাবে বললে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো, যেটা ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে। পুরো প্রকল্পের তিন বছরের খরচ প্রায় ১,০৫,৩৮০ কোটি টাকা, আর এর দ্বিতীয় ধাপ আসছে ডিসেম্বরে, একমাসেই যোগ হবে ৩৭,৩৭২ কোটি টাকার নতুন খরচ, যেটার টাকা বাজেটকে কোনো না কোনোভাবে জোগাড় করতে হবে।

এই দুটো চাপ একসঙ্গে রাখলেই হিসাবটা নিজে থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়। রাজস্ব আসছে পরিকল্পনার চেয়ে ধীরে, অথচ একটা বড় নতুন খরচের দায় আসছে স্বাভাবিক চ্যানেলে বাজেট যতটা হজম করতে পারে তার চেয়ে দ্রুত গতিতে। ব্যাংক খাত থেকে ধার হয়ে উঠছে এই ধাক্কা সামলানোর বালিশ, আর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রান্তিক ক্যালেন্ডারটা আসলে প্রতি তিন মাসে সেই বালিশটা কতটা বড় হতে হচ্ছে তার একটা চলমান হিসাব।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন এটা সতর্কসংকেত, স্বস্তির বিষয় নয়

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন সরাসরি বলেছেন এই ধরনটা কী বোঝায়। তার মতে, সরকার ব্যাংক খাতের ওপর এভাবে নির্ভর করছে মানে সরকারের নিজের কোষাগারে তারল্যের ঘাটতি আছে, আর এভাবে ধার বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে বাজেট চালানোর টেকসই উপায় নয়। তার এই উদ্বেগ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঘাটতি স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই বলে আসছে, সরকারের আয় আর ব্যয়ের মধ্যে ফাঁকটা প্রতি প্রান্তিকে একই পদ্ধতিতে ভরাট করে গেলে বেসরকারি ঋণ আর সুদের খরচের ওপর এর প্রভাব এড়ানো যাবে না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মো. এজাজুল ইসলাম এর সাথে জুড়ে আরেকটা ভিন্ন কিন্তু সম্পর্কিত বিষয় তুলে ধরেছেন, এটা বাজেটের ওপর নিজেই কী প্রভাব ফেলবে সেদিকে। তার কথায়, অতিরিক্ত খরচ মেটাতে ব্যাংক থেকে ধার করলে সরকারের নিজের সুদ পরিশোধের খরচ বেড়ে যাবে, মানে আজকের ঘাটতির একটা অংশ আসলে আগামী দিনের ঋণ পরিশোধের বিল দিয়েই মেটানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজেটগুলোতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের খরচ যেভাবে বেড়েছে তাতে এই প্রবণতা আগে থেকেই স্পষ্ট, আর এই প্রান্তিকে নিট ব্যাংক ঋণ আবারও ৩০,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সেই গতিপথ উল্টানোর কোনো লক্ষণ নেই, আগের প্রান্তিকের চেয়ে অঙ্কটা ছোট হলেও।

ব্যাংক খাত আগে থেকেই বোঝা বইছে

সময়টা গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, যে ব্যাংক খাত এই ধার শুষে নিচ্ছে সেটা শক্তিশালী অবস্থানে নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের হার ৩২.৭৮ শতাংশ, আগের নয় মাসে ২.৯৫ শতাংশ পয়েন্ট উন্নতি হওয়ার পরও এটা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের প্রথম প্রান্তিক মুদ্রানীতি ঘোষণায় নীতি সুদহার ৯.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে, আর খেলাপি ঋণ আদায় দ্রুত করতে বুলেট পেমেন্ট আর ওয়ান-টাইম এক্সিট সুবিধার মতো পদক্ষেপ নিয়ে ১৮ মাসের একটা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জুনের শীর্ষ প্রায় ৩৭.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে নেমে এখন প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলারে আছে। এটা মনে করিয়ে দেয়, রাজস্ব চাপ সামলানোর জন্য যে বাইরের বালিশটা আছে সেটাও ছোট হয়ে আসছে, যদিও দুই বছর আগের তুলনায় এখনো অনেক ভালো অবস্থায়।

এর কোনোটাই আলাদা করে নতুন কিছু নয়। অক্টোবর-ডিসেম্বরের এই ধার করার অঙ্কটা শুধু এগুলোকে একসাথে জুড়ে দেখাচ্ছে। যে সরকার রাজস্বে ঘাটতিতে ভুগছে আর নতুন বেতনের বোঝা বইছে, সে এমন একটা ব্যাংক ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে যেটা একইসাথে নিজের ব্যালেন্স শিট পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার কমানোর বদলে স্থির রাখছে। এই পথে সরকার যত টাকা ধার করছে, তার প্রতিটা টাকা মানে বেসরকারি ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর হাতে ততটা কম টাকা থাকছে, এমন এক সময়ে যখন বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি নিজেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষায় দুর্বল।

সূচকপরিমাণ
অক্টোবর-ডিসেম্বরে নিট ব্যাংক ঋণের লক্ষ্য৩০,১০৭ কোটি টাকা
জুলাই-সেপ্টেম্বরে নিট ব্যাংক ঋণ (আগের প্রান্তিক)৩৫,০০০ কোটি টাকার বেশি
চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতিপ্রায় ২৯,০০০ কোটি টাকা
ডিসেম্বর ২০২৬-এ বেতন কাঠামোর বাড়তি খরচ৩৭,৩৭২ কোটি টাকা
নতুন বেতন কাঠামোর তিন বছরের মোট খরচ১,০৫,৩৮০ কোটি টাকা
২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো বছরের রাজস্ব ঘাটতি (তুলনা)৮৮,০০০ কোটি টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহার (৩০ সেপ্টেম্বর অপরিবর্তিত)৯.৫০ শতাংশ

এরপর নজর রাখতে হবে যেদিকে

আসল পরীক্ষাটা হবে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে, যখন বেতন কাঠামোর সম্পূর্ণ তিন মাসের সঞ্চিত খরচ একসাথে যোগ হবে, ডিসেম্বরের মতো একক কিস্তি হিসেবে নয়। সেই প্রান্তিকে ধার করার অঙ্ক যদি জুলাই-সেপ্টেম্বরের লেভেল ছাড়িয়ে আবার বেড়ে যায়, তার মানে হবে এই প্রান্তিকের ৩০,১০৭ কোটি টাকা ছিল একটা সাময়িক দমে যাওয়া, কোনো স্থায়ী স্বস্তির শুরু নয়। এনবিআরের একই সময়ের রাজস্ব আদায়, বিশেষ করে যেসব বড় করদাতা ইউনিট এ বছর ভ্যাটের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি তারা সেই ফাঁক পূরণ করতে পারে কিনা, সেটাই এই অঙ্ক কোন দিকে যাবে তা অনেকটা ঠিক করে দেবে। আপাতত প্রান্তিক ঋণ ক্যালেন্ডারটা ফাহমিদা খাতুনের ভাষায় যা বোঝায় তা-ই থেকে যাচ্ছে, সরকার প্রতি প্রান্তিকে ক্রমাগত নগদ ঘাটতি সামলাচ্ছে, সেটা মিটিয়ে ফেলছে না।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

ব্যয়বহুল এলএনজি টার্মিনাল পরিকল্পনা বাতিল করে চীন ও স্পট কার্গোর ওপর ভর করছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে, যার খরচ হতো ২০ বছরে ১৩,১৬১ কোটি টাকা পর্যন্ত, তার বদলে স্পট আর জি টু জি বাজার থেকে নয়টি এলএনজি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েক দিন পরে ব্যাংককে চীনের এক্সিম ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে বলেছে, তারা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ আর ঢাকার চারপাশের গ্রিড উন্নয়নে অর্থায়ন দ্রুত করতে চায়। এই দুটো পদক্ষেপ মিলে দেখায় সরকার কীভাবে সামনের জ্বালানি খরচ আর দীর্ঘমেয়াদে ব্যবস্থাটা ঠিক করার অর্থায়নের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে।

বাংলাদেশ আবার আইএমএফের দ্বারে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের আবেদন

সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচি থেকে নির্ধারিত সময়ের আট মাস আগেই সরে আসার পাঁচ মাস পর বাংলাদেশ ফিরে গেছে ব্যাংককের আলোচনার টেবিলে, এবার চাইছে নতুন করে সাড়ে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ঋণ। রাজস্ব জিডিপির অনুপাত নেমে এসেছে মাত্র সাত শতাংশে, আর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পৌঁছে গেছে মোট ঋণের প্রায় এক তৃতীয়াংশে, এমন সময়েই এসেছে এই নতুন আবেদন। অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, আলোচনা বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা, আর ঋণ ছাড় হবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক কিস্তিতে।

বিশ্বব্যাংক থেকে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলারের জন্য দ্রুত প্রকল্প অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছে আগামী তিন বছরে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে, যা দিয়ে জ্বালানি ভর্তুকি, ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ আর জরুরি আমদানি সামলানো হবে। বিনিময়ে ঢাকা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রকল্প অনুমোদনের সময় ১৮ মাস থেকে আট মাসে আর বাস্তবায়নের সময় সাত বছর থেকে পাঁচ বছরে কমাবে। ব্যাংকক সভায় করা এই চাওয়ার পাশাপাশি চলছে আইএমএফের সঙ্গে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলাদা আলোচনাও।