ব্যাংকিং ও এফডিআর

আইডিআরএর তৃতীয় দফার পরিশোধে বিমা দাবি নিষ্পত্তি ছাড়াল ৬৪ কোটি টাকা

১২ অক্টোবর, ২০২৬3 মিনিটের পড়া
আইডিআরএর তৃতীয় দফার পরিশোধে বিমা দাবি নিষ্পত্তি ছাড়াল ৬৪ কোটি টাকা

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ৪ অক্টোবর ৭,৬৪১ জন পলিসিহোল্ডারকে ২৬.৩৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দফা এবং সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে চলা একটা অভিযানের তৃতীয় দফা, যার মাধ্যমে মোট ১৬,০৫৮ জন পলিসিহোল্ডারের ৬৩.৯১ কোটি টাকার দাবি মেটানো হয়েছে। সর্বশেষ দফায় সবচেয়ে বেশি অংশ পেয়েছেন পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের পলিসিহোল্ডাররা, ২,৩৪৮ জনকে দেওয়া হয়েছে ৯ কোটি টাকা, আরও পাঁচটি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিও এই দফায় ছিল। এই পরিশোধের টাকা আসছে বিমা কোম্পানিগুলোর নিজস্ব সম্পদ ও সরকারি সিকিউরিটি থেকে, সরকারি বেলআউট থেকে নয়, যা আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভীনের এমন একটা খাতে আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ যেখানে দাবি বছরের পর বছর অপরিশোধিত থেকে গেছে।

৪ অক্টোবর বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) তার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় এককালীন কিস্তি পরিশোধ করেছে, ছয়টি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ৭,৬৪১ জন পলিসিহোল্ডারকে দিয়েছে ২৬.৩৭ কোটি টাকা। এটা একটা নিষ্পত্তি অভিযানের তৃতীয় দফা, যার মাধ্যমে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৬,০৫৮ জন পলিসিহোল্ডারের ৬৩.৯১ কোটি টাকার দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি মেটানো হয়েছে।

  • আইডিআরএর তৃতীয় দফার পরিশোধে ৪ অক্টোবর ৭,৬৪১ জন পলিসিহোল্ডারকে দেওয়া হয়েছে ২৬.৩৭ কোটি টাকা, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দফা
  • আগের দুই দফার সাথে মিলিয়ে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ৩ সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ১৬,০৫৮ জন পলিসিহোল্ডারের ৬৩.৯১ কোটি টাকার দাবি মিটিয়েছে
  • তৃতীয় দফায় সবচেয়ে বেশি অংশ পেয়েছেন পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের পলিসিহোল্ডাররা, ২,৩৪৮ জনকে দেওয়া হয়েছে ৯ কোটি টাকা
  • এই অভিযানের নেতৃত্বে আছেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভীন, এবং এর টাকা আসছে বিমা কোম্পানিগুলোর নিজস্ব সম্পদ ও সরকারি সিকিউরিটি থেকে, সরকারি বেলআউট থেকে নয়

যে খাতে পলিসিহোল্ডাররা বছরের পর বছর এমন দাবির জন্য অপেক্ষা করেছেন যা বিমা কোম্পানিগুলো দিতে পারেনি বা দিতে চায়নি, সেখানে এই গতি বেশ লক্ষণীয়। ৩ সেপ্টেম্বরের প্রথম দফায় ২,৫৪৯ জন পলিসিহোল্ডারের ১৪.৫১ কোটি টাকার দাবি মেটানো হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় দফায় এই অঙ্ক প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ৫,৮৬৮ জনের ২৩.০৪ কোটি টাকায়। তৃতীয় দফা এখন টাকা এবং মানুষ দুই হিসাবেই আগের দুই দফাকে ছাড়িয়ে গেছে।

তৃতীয় দফার টাকা কোথায় গেল

আইডিআরএর ৪ অক্টোবরের পরিশোধ ছয়টি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পলিসিহোল্ডারদের কভার করেছে, প্রতিটি কোম্পানির বকেয়ার পরিমাণ অনুযায়ী টাকার ভাগ ছিল অসমান।

বিমা কোম্পানিপরিশোধিত অর্থপলিসিহোল্ডার সংখ্যা
পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স৯ কোটি টাকা২,৩৪৮
প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনস্যুরেন্স৬.৭৮ কোটি টাকা২,১৪০
সানলাইফ ইনস্যুরেন্স৫.৩৫ কোটি টাকা১,৫৭৩
হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স৪.৮৮ কোটি টাকা১,৩৮১
সানফ্লাওয়ার লাইফ ইনস্যুরেন্স৩০ লাখ টাকা১৬৫
বাইরা লাইফ ইনস্যুরেন্স৫.৮২ লাখ টাকা৩৪

পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের পলিসিহোল্ডাররা এখন পর্যন্ত তিনটি দফাতেই এসেছেন, যা থেকে বোঝা যায় নিষ্পত্তি অভিযান শুরুর আগে এই কোম্পানির বকেয়া দাবির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ছিল। আইডিআরএর প্রতিটি দফার নিজস্ব প্রকাশনা অনুযায়ী, হোমল্যান্ড লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ এবং ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পলিসিহোল্ডাররাও তিন দফাতেই বারবার এসেছেন।

বার চার্টে দেখানো হয়েছে আইডিআরএর বিমা দাবি নিষ্পত্তি তিন দফায় বেড়েছে, প্রথম দফার ১৪.৫১ কোটি টাকা থেকে তৃতীয় দফায় ২৬.৩৭ কোটি টাকায়
চার্ট: বিডি ফিনান্সিয়াল রিভিউ, তথ্যসূত্র আইডিআরএ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের মাধ্যমে।

এখন কেন এটা হচ্ছে

এই নিষ্পত্তি অভিযান আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভীনের একটা বড় প্রচেষ্টার অংশ, যার লক্ষ্য বিমা খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা, এমন একটা খাত যাকে এ বছরের শুরুর দিকে বিভিন্ন সেমিনারে দুর্বল গভর্নেন্স এবং ভেঙে পড়া দাবি নিষ্পত্তি সংস্কৃতির শিকার বলে বর্ণনা করা হয়েছিল, যেখানে কোটি কোটি টাকার দাবি বছরের পর বছর অপরিশোধিত থেকে গেছে। পুরো সমস্যার একটা ব্যাপক সমাধানের জন্য অপেক্ষা না করে, আইডিআরএ বিমা কোম্পানিগুলোর নিজস্ব সম্পদ ও সরকারি সিকিউরিটি থেকে টাকা সংগ্রহ করে ধাপে ধাপে দাবি মেটাচ্ছে, অগ্রাধিকার দিচ্ছে এমন পলিসিহোল্ডারদের যাদের দাবি যাচাই হয়ে গেছে এবং যারা শুধু টাকার জন্য অপেক্ষা করছেন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা আগেও বলেছে, সরকারি বেলআউট প্যাকেজের প্রশ্ন ওঠার আগে বিমা কোম্পানি এবং পুরো খাতকে নিজেদের সব উপায় শেষ করতে হবে, যার মধ্যে আছে আটকে থাকা টাকা উদ্ধার এবং সম্পদ বিক্রি সহজ করা। ধাপে ধাপে এই পদ্ধতিটা সেই অবস্থানের একটা বাস্তব প্রকাশ বলে মনে হচ্ছে, বিদ্যমান সম্পদ থেকে এখন যা পরিশোধ করা সম্ভব তা করে ফেলা, আর বকেয়ার আসল গভীরতা কতটুকু তার মতো কঠিন কাঠামোগত প্রশ্নগুলো পরে সমাধানের জন্য রেখে দেওয়া।

"এই পরিশোধের লক্ষ্য দীর্ঘদিনের বৈধ দাবি মেটানো এবং খাতে পলিসিহোল্ডারদের আস্থা পুনর্গঠন করা।" , আইডিআরএ, তৃতীয় দফার নিষ্পত্তি সংক্রান্ত প্রেস বিবৃতিতে

আপনার জন্য এর মানে কী

আপনার বা পরিবারের কারো যদি এই তিন দফায় উল্লেখিত কোনো বিমা কোম্পানিতে লাইফ ইনস্যুরেন্স পলিসি থাকে এবং বকেয়া দাবি থাকে, তাহলে আইডিআরএর ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া বলছে যে দাবিগুলো নিয়ে কাজ চলছে, ধীরে হলেও, স্থায়ীভাবে আটকে নেই। সরাসরি বিমা কোম্পানি বা আইডিআরএর সাথে যোগাযোগ করে দেখা ভালো আপনার নির্দিষ্ট দাবিটা আসন্ন কোনো দফার জন্য অপেক্ষায় আছে কিনা।

বৃহত্তর অর্থে, এই দীর্ঘসূত্রী দাবির জট মনে করিয়ে দেয় যে বাংলাদেশে বিমা পণ্যগুলোতে এখনও এমন নিষ্পত্তি ঝুঁকি থাকে যা সাধারণত ফিক্সড ডিপোজিটে থাকে না। বিমা সংযুক্ত সঞ্চয় পণ্য আর সরাসরি ব্যাংক আমানতের মধ্যে তুলনা করতে চাইলে বিডি ফিনান্সিয়াল রিভিউয়ের এফডিআর রেট তুলনা টুল দিয়ে বর্তমান ফিক্সড ডিপোজিট রেট তুলনা করে নতুন সঞ্চয় কোথায় রাখা উচিত তা ঠিক করতে পারেন।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

বিদেশি ব্যাংকের মুনাফা প্রথমার্ধে ৩৮ শতাংশ কমল, ট্রেজারি বাজিতে এগিয়ে দেশি ব্যাংক

বাংলাদেশে কার্যরত নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সম্মিলিত নিট মুনাফা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ৩৮ শতাংশ কমে হয়েছে ২,৩২১ কোটি টাকা, দুর্বল বাণিজ্য অর্থায়ন ও জ্বালানি সংকটের কারণে। একই সময়ে, অনেক তালিকাভুক্ত দেশি ব্যাংক ভালো মুনাফা বৃদ্ধি দেখিয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই এসেছে সরকারি সিকিউরিটিজের বিনিয়োগ আয় থেকে, নতুন ঋণ বিতরণ থেকে নয়। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার খাতের গড়ের চেয়ে এখনও অনেক কম এবং তাদের মূলধন মজুদ অনেক বেশি শক্তিশালী।

উত্তোলনের চাপে ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭,০০০ কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক, পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশের বেলআউট পরিকল্পনা

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭,০০০ কোটি টাকা ধার দিয়েছে, যার পুরোটার গ্যারান্টি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, তিন দিনে প্রায় ৭,৫০০টি উত্তোলনের আবেদন আসার পর। এই ঋণ ন্যাশনাল ব্যাংককে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পুরো উত্তোলন সুবিধা ফিরিয়ে আনার সময়সীমা পূরণে সহায়তা করার জন্য। ব্যাংকটি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণী, যা সিকদার পরিবারের আমলে শুরু হওয়া সমস্যার গভীরতার কথা মনে করিয়ে দেয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারকে তিনগুণ বোর্ড আসন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য একটি বোর্ড নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার ফলে ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার এখন একজনের পরিবর্তে তিনজন পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ দিতে পারবে। ১২ অক্টোবরের এই সার্কুলারে উপকৃত হচ্ছে ব্র্যাক, যার হাতে একজন কর্মকর্তার তথ্যানুযায়ী ব্যাংকটির ৪৬ শতাংশ শেয়ার আছে। এই বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় এমন নির্দিষ্ট ব্যাংকের জন্য দেওয়া ছাড়, এর আগে মার্চে ট্রাস্ট ব্যাংককেও একই ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল।