ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা

সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশ, থেমে গেল তিন মাসের শীতল হওয়ার ধারা

৯ অক্টোবর, ২০২৬6 মিনিটের পড়া
সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশ, থেমে গেল তিন মাসের শীতল হওয়ার ধারা

টানা তিন মাস কমার পর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮.৩৪ শতাংশ, যা আগস্টের ১০ মাসের সর্বনিম্ন ৮.২৬ শতাংশ থেকে বেশি। এই বৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই এসেছে খাদ্যপণ্যের দাম থেকে, যা বেড়ে হয়েছে ৭.২২ শতাংশ, যদিও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এই বৃদ্ধিটা এমন একটা সপ্তাহে এসেছে যখন বিশ্বব্যাংকের একটা প্রতিবেদনে দেখা গেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই কোনো সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা পায় না, যা মনে করিয়ে দেয় জাতীয় গড়ে আট বেসিস পয়েন্টের একটা ছোট বৃদ্ধিও কম সামর্থ্যের পরিবারগুলোর জন্য আসলে কতটা কষ্টের কারণ হতে পারে।

তিন মাসের স্বস্তি, তারপর একটা উল্টো টান

পর পর তিন মাস বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির হিসাবটা এমন একটা দিকে যাচ্ছিল যা মানুষ তাদের পকেটে টের পাচ্ছিল। মে মাসে সর্বোচ্চ ৯.৪২ শতাংশে ওঠার পর পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি জুনে কমে হয় ৯.১৬ শতাংশ, জুলাইয়ে ৮.৩২ শতাংশ, আর আগস্টে ৮.২৬ শতাংশ, যা গত দশ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম, আর এতে কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদরা কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন যে দামের চাপের সবচেয়ে কঠিন সময়টা পেছনে পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরে এই ধারা ভেঙে যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এই সপ্তাহে প্রকাশিত হিসাব বলছে, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে হয়েছে ৮.৩৪ শতাংশ, আগস্টের চেয়ে মাত্র আট বেসিস পয়েন্ট বেশি, তবে এটাই যথেষ্ট পর পর তিন মাসের শীতল হওয়ার ধারা থামিয়ে দিতে, আর এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে আসলে আগের স্বস্তিটা কতটা টেকসই ছিল।

সেপ্টেম্বরের এই হিসাবটা প্রযুক্তিগতভাবে এখনো এক বছর আগের চেয়ে একটু ভালো, কারণ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৬ শতাংশ, তাই এবারের হিসাবটা তার চেয়ে একটু কম। কিন্তু গত বছরের একটা মাসের সাথে তুলনা করলে ছবিটা যতটা ভালো দেখায়, বাস্তবে ততটা ভালো নয়। আসল তুলনাটা করতে হবে ঠিক আগের মাসগুলোর সাথে, আর সেই হিসাবে মে মাসের চূড়া থেকে এটাই প্রথম পেছনে হাঁটার পদক্ষেপ।

খাদ্যপণ্যের দামই মূল কারণ

এই উল্টো টানের প্রায় পুরোটাই এসেছে খাদ্যপণ্যের দাম থেকে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৭.০২ শতাংশ থেকে সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয়েছে ৭.২২ শতাংশ, বিশ বেসিস পয়েন্টের এই বৃদ্ধিই আসলে সামগ্রিক বৃদ্ধির চেয়েও বেশি। এর বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে, আগস্টের ৯.৩২ শতাংশ থেকে হয়েছে ৯.৩০ শতাংশ, মানে এখন মানুষ যে চাপটা অনুভব করছে তার পুরোটাই মূলত বাজারের থলিতে, বাড়ির বাজেটের সব জায়গায় সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি।

গ্রাম ও শহরের হিসাব আলাদা করে দেখলে জাতীয় হিসাবের চেয়েও একটু বেশি খুঁটিনাটি জানা যায়। গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৭.০১ শতাংশ থেকে সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয়েছে ৭.১৮ শতাংশ, আর শহরে ৭.০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭.২৫ শতাংশ, দুটোই প্রায় একই গতিতে বেড়েছে। গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় একই জায়গায় রয়ে গেছে, আগের মাসের ৯.৫৯ শতাংশের বিপরীতে ৯.৫৭ শতাংশ, আর শহরেও সেটা প্রায় নড়েনি, ৮.৯৭ শতাংশের জায়গায় ৮.৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ খাদ্যবহির্ভূত দিকে যতটুকু স্বস্তি এসেছে, তা খাদ্যের দিকের চাপের সামান্যই পুষিয়ে দিতে পেরেছে, আর সেই খাদ্যই, যা প্রতিটা পরিবারের খরচের সবচেয়ে অনিবার্য অংশ, শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক হিসাবটাকে উপরে তুলে দিয়েছে।

পরিমাপজুলাই ২০২৬আগস্ট ২০২৬সেপ্টেম্বর ২০২৬
সামগ্রিক (পয়েন্ট টু পয়েন্ট)৮.৩২%৮.২৬%৮.৩৪%
খাদ্য৭.১৬%৭.০২%৭.২২%
খাদ্যবহির্ভূততথ্য নেই৯.৩২%৯.৩০%
গ্রাম (সামগ্রিক)তথ্য নেই৮.৩১%৮.৩৮%
শহর (সামগ্রিক)তথ্য নেই৮.২০%৮.২৬%

দশ মাসের সর্বনিম্নে প্রথমে পৌঁছাল যেভাবে

সেপ্টেম্বরের এই ছোট বৃদ্ধিটা কেন গুরুত্বপূর্ণ বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে মে মাসের চূড়া থেকে বাংলাদেশ কীভাবে মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনল। ২০২৫ সালের নভেম্বরের ৮.২৯ শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে বেড়ে ২০২৬ সালের মে মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৯.৪২ শতাংশে ওঠে, তারপর পরের তিন মাসে মোট ১.১৬ শতাংশ পয়েন্ট কমে। অর্থনীতিবিদরা এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বলছেন খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, আর তাতে সাহায্য করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ভালো হওয়া আর সরকারের কিছু সরাসরি পদক্ষেপ, যেমন এফওয়াই২৭ বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর উৎসে কর কমানো, নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি আর খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) পরিধি বাড়ানো, আর ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কিছু আমদানি করা নিত্যপণ্য কোনো আনুষ্ঠানিক ভর্তুকি ছাড়াই খরচের চেয়েও কম দামে বিক্রি করা। এই পদক্ষেপগুলো মিলিয়ে দেশ তিন মাসের জন্য এমন একটা ধারা পেয়েছিল যা দেখে মনে হচ্ছিল এটা সত্যিকারের, কাঠামোগত শীতলতার লক্ষণ।

এটাও মনে রাখা দরকার, এই শীতল হওয়ার ধারা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে এমন ভাবনা সবার ছিল না। জুলাই মাসে, যখন মূল্যস্ফীতি তখনও ৮.৩২ শতাংশে ছিল আর তিন মাসের কমে আসার ধারা সবে শুরু হয়েছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দিয়েছিল পুরো ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি থাকবে ৮.৮ শতাংশ, আর দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কার চেয়েও বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি হবে। তখন, পরের আগস্টের স্বস্তিদায়ক হিসাবের পাশে এই পূর্বাভাসটাকে প্রায় অতিরিক্ত নিরাশাবাদী মনে হচ্ছিল। সেপ্টেম্বরের এই বৃদ্ধি সেই ফাঁকটা আবার কাছাকাছি নিয়ে এসেছে, আর শরৎকালজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম যদি আরও চড়তে থাকে, তাহলে এডিবির পুরো বছরের পূর্বাভাসটাকে একটা বিচ্ছিন্ন হিসাব মনে না হয়ে, বরং মূল ধারাটা আসলে কোন দিকে যাচ্ছিল তার একটা যুক্তিসঙ্গত পড়াশোনা বলেই মনে হতে পারে।

সেপ্টেম্বরের এই উল্টো টান মানে এই নয় যে ওই পদক্ষেপগুলো কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। একটা মাসের হিসাব খুব কমই কয়েক মাসের একটা ধারাকে একা একা পুরোপুরি উল্টে দিতে পারে, আর আট বেসিস পয়েন্টের এই পরিবর্তনটা এমনই ছোট যা শুধু খাদ্যপণ্যের মৌসুমি দামের ওঠানামা থেকেই আসতে পারে, সবজির দাম একটা খারাপ সপ্তাহ পার করা, সাময়িক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া, বা স্রেফ দুর্গাপূজা আর শীতের আগের ফসল কাটার সময়ের চিরাচরিত অস্থিরতা। কিন্তু এর মানে এটাও যে সরকারের এফওয়াই২৭ মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য, ৭.৫ শতাংশ, যা দেশ এই বছর কখনোই কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি, এখনও নাগালের বাইরে রয়ে গেল, আর জুলাই-আগস্ট জুড়ে যে ধারণা তৈরি হচ্ছিল, মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইটা মোটামুটি জিতে ফেলা হচ্ছে, এই হিসাব তাতে ভাঙন ধরাল।

গড় হিসাবে সবচেয়ে দরিদ্রদের কষ্টটা কেন কম দেখায়

সেপ্টেম্বরের এই মূল্যস্ফীতির হিসাবের সঙ্গে একই সপ্তাহে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের একটা প্রতিবেদন পরিস্থিতিটাকে আরও একটু অস্বস্তিকর প্রেক্ষাপট দিয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জ্বালানি, সার আর সামাজিক সহায়তা মিলিয়ে জিডিপির প্রায় ৩.৫ শতাংশ খরচ করে, তবুও সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই কোনো সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা পায় না। বিশ্বব্যাংক বলছে, জাতীয় দারিদ্র্যের হার বেড়ে প্রায় ২২.৮ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বর্ণিত এই গরমিলটাই বুঝিয়ে দেয়, কেন গড়ে প্রায় ৮ শতাংশের কাছাকাছি একটা মূল্যস্ফীতির হার এখনও আয়ের সবচেয়ে নিচের দিকের মানুষদের জন্য তীব্র কষ্টে রূপ নিতে পারে, জ্বালানি আর ফুয়েলের উপর বিস্তৃত, লক্ষ্যভ্রষ্ট ভর্তুকি অসামঞ্জস্যভাবে সুবিধা দেয় শহরের স্বচ্ছল ভোক্তা আর বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে, আর অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক এবং জমিহীন কৃষি শ্রমিকরা, যারা খাদ্যপণ্যের দামের উঠানামায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, প্রায়ই বাদ পড়ে যায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে থাকা ১০০টির বেশি আলাদা আলাদা সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি থেকে।

বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ, ভেঙে থাকা কর্মসূচিগুলো একত্র করা, যাচাই করা দরিদ্র পরিবারকে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়ার দিকে যাওয়া, আর অর্থ প্রদান ডিজিটাল করে কথিত ভুতুড়ে সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া, সেপ্টেম্বরের এই মূল্যস্ফীতির হিসাবের সরাসরি জবাব নয়। কিন্তু এর সময়টা একটা জিনিস স্পষ্ট করে দেয়, যা মূল্যস্ফীতির গড় হিসাব প্রায়ই আড়াল করে ফেলে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি যখন সামান্যও বাড়ে, যেমন এই মাসে হয়েছে, তখন যে পরিবারগুলোর হাতে সবচেয়ে কম বালিশ আছে, আর যাদের সুরক্ষা জালে পৌঁছানোর সুযোগ সবচেয়ে কম, তারাই এর ভারটা অসামঞ্জস্যভাবে বহন করে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশের কর আদায় জিডিপির মাত্র ৭.০ শতাংশ, যাকে প্রতিবেদনে একটা কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বলা হয়েছে, যা বিস্তৃত, লক্ষ্যভ্রষ্ট ভর্তুকি খরচ দিনকে দিন আরও কঠিন করে তুলছে, এমন সময়ে যখন সরকার একসাথে মূল্যস্ফীতি আর দারিদ্র্য দুটোই সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সামনে যা দেখার

আগামী কয়েক মাসেই বোঝা যাবে সেপ্টেম্বরের এই ঘটনাটা সাময়িক একটা ছোট ধাক্কা ছিল, নাকি নতুন করে বাড়তে থাকার শুরু। শীতের সবজি বদলের সময় আর বড় উৎসবের আগে খাদ্যপণ্যের দাম মৌসুমিভাবে একটু চড়া থাকে, তাই অক্টোবর আর নভেম্বরের হিসাবই আসলে বলে দেবে তিন মাসের শীতল হওয়ার ধারা আবার ফিরতে পারবে কিনা। নীতিনির্ধারকরা বিনিময় হারের দিকেও নজর রাখছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে টাকা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলোর মুদ্রার বিপরীতে বাস্তব হিসাবে কিছুটা শক্তিশালী হচ্ছে, যা তত্ত্বগতভাবে আমদানিজাত মূল্যস্ফীতি কমাতে সাহায্য করে, যদিও এর ফলে রপ্তানিকারকদের জন্য আলাদা মাথাব্যথা তৈরি হয়। আপাতত সেপ্টেম্বরের এই হিসাবটা মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই, গত কয়েক বছরের দুই অঙ্কের হিসাবের চেয়ে স্পষ্টতই ভালো হলেও, এখনও পুরোপুরি জেতা হয়নি, আর যতটুকু জায়গা হারানো যায়, তার ভারটা সবচেয়ে বেশি পড়ে সেই পরিবারগুলোর উপর যাদের তা সামলানোর জায়গা সবচেয়ে কম।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম নিয়মে লুকানো মুনাফা আর বাড়তে থাকা লেট ফি নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ক্রেডিট কার্ডের জন্য প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা জারি করেছে, সুদ ভিত্তিক চার্জের বদলে একটা নির্দিষ্ট সার্ভিস ফি এবং লেট পেমেন্ট জরিমানাকে আগে থেকে ঠিক করা একটা দানে বদলে দিয়েছে যা বাড়তে পারবে না। ইসলামী কার্ড এখন প্রচলিত কার্ড থেকে কীভাবে আলাদা, এবং নতুন জালিয়াতি সুরক্ষা ও কুলিং অফ নিয়ম কার্ডধারীদের জন্য কী মানে রাখে, তা দেখে নেওয়া যাক।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ঢাকার কাঁচাবাজারে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

সরকার ২১ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে নতুন করে দাম বাড়ছে, ব্যবসায়ীরা এর প্রধান কারণ হিসেবে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন। কাঁচা মরিচের দাম কার্যত দ্বিগুণ হয়ে গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, আর আটা, চাল, ডিম আর দুধের মতো নিত্যপণ্যের দামও জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই বেড়ে গেছে। এর এক সপ্তাহ আগেও দাম বাড়ার আরেকটা ধাক্কা এসেছিল, যা বলে দেয় বাজার একবারের ধাক্কা নয়, বরং একের পর এক খরচ বৃদ্ধি সামলাচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফাহমিদা খাতুনের মতো অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশের সরকারি মূল্যস্ফীতির সংখ্যা সাধারণ পরিবারগুলোর প্রকৃত চাপকে কম করে দেখায়, কারণ খাবার আর পরিবহন খরচ নিম্ন আয়ের পরিবারের বাজেটে অনেক বেশি ভার বহন করে।

আগস্টে প্রবাসী আয় তিন মাসের সর্বোচ্চ ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার, পরিবারের জন্য এর মানে কী

আগস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১০.৮২ শতাংশ বেশি। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে তুলনামূলক ভালো বিনিময় হার আর সরকারের আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা বেশি টাকা বৈধ পথে আনতে সাহায্য করছে, যা প্রতি মাসে এই টাকার উপর নির্ভরশীল লাখ লাখ পরিবারের জন্য সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ একটা পরিবর্তন