পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ

প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে রূপান্তর করতে ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল চালু করল এমক্যাপিটাল

৩ অক্টোবর, ২০২৬6 মিনিটের পড়াহালনাগাদ ১০ অক্টোবর, ২০২৬
প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে রূপান্তর করতে ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল চালু করল এমক্যাপিটাল

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ২৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে অনাবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের একটা বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম উন্মোচন করেছেন, যা তিনটা আলাদা তহবিলে গঠিত, ফিনটেক ও ব্যাংক সংস্কার, খেলাপি ব্যাংক সম্পদ, আর স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে। ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফান্ড সরাসরি ব্যাংক থেকে খেলাপি ঋণ কেনার প্রস্তাব দিচ্ছে, জুন পর্যন্ত ৩২.৭৮ শতাংশ শ্রেণিকৃত ঋণের হারের জবাবে একটা বেসরকারি খাতের সমাধান, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বরের রেমিট্যান্স ১১ মাসের সর্বনিম্ন ২.৭৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসার মধ্যেই এই উদ্বোধন হলো, যা মনে করিয়ে দেয় শুধু নগদ স্থানান্তর কতটা অস্থির একটা চ্যানেল, আর একই সপ্তাহে ভিওন আলাদা একটা ১ বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল অর্থনীতি লক্ষ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এ বছর তাজা বিদেশি বিনিয়োগে প্রায় ৭০ শতাংশ পতনের পর পুঁজি আকৃষ্ট করার বৃহত্তর দৌড়ঝাঁপের অংশ হিসেবে। এমক্যাপিটাল বিশ্বজুড়ে ১০০টি শহরে রোডশোর পরিকল্পনা করেছে কিন্তু এখনো জানায়নি লক্ষ্যের কতটা পুঁজি তারা আসলে সংগ্রহ করেছে।

সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের বাজি প্রবাসীদের ওপর

২০২৬ সালের বেশিরভাগ সময় ড. আহসান এইচ মনসুর কাটিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাংক খাত ভেতর থেকে ঠিক করার চেষ্টায়, প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে, আর সম্প্রতি ব্যাংক বোর্ডে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের নিয়ম কঠোর করার জন্য নিয়ন্ত্রকদের ওপর চাপ দিয়ে। ২৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে তিনি হাজির হলেন একদম অন্য ভূমিকায়, এমক্যাপিটাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে, যেখানে তিনি অনাবাসী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে একটা ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম উন্মোচন করলেন, নাম দাকছে বাংলাদেশ। লক্ষ্যটা সহজ শোনালেও বাস্তবায়ন সহজ নয়, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা এমনিতেই যে টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে পাঠান তার একটা অংশকে সংসার খরচ থেকে সরিয়ে দেশের ভেতরে প্রকৃত, নিয়ন্ত্রিত, আয়-উৎপাদনকারী সম্পদের মালিকানায় নিয়ে যাওয়া।

মনসুর লক্ষ্যটা একদম সরাসরি বলেছেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য রেমিট্যান্সকে উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তর করা, যাতে প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা শুধু টাকা পাঠানোর বদলে লাভজনক, নিয়ন্ত্রিত সম্পদের মালিক হতে পারেন। এটা একটা লক্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি বদল। নীতিনির্ধারকরা দীর্ঘদিন ধরে রেমিট্যান্সকে দেখেছেন সর্বোচ্চ করার মতো একটা বৈদেশিক মুদ্রার জীবনরেখা হিসেবে, শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য পুঁজির একটা ভাণ্ডার হিসেবে নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি বদল আসলেই বড় আকারে প্রবাসীদের আচরণ বদলাবে কিনা, সেটাই এই উদ্বোধনের পেছনের আসল প্রশ্ন।

তিনটা তহবিল, তিনটা ভিন্ন বাজি

এমক্যাপিটাল ১ বিলিয়ন ডলারের এই প্ল্যাটফর্মকে একটা সাধারণ তহবিল না করে তিনটা আলাদা বাহনে ভাগ করেছে, প্রতিটা দেশের অর্থনীতির আলাদা একটা সমস্যাকে লক্ষ্য করে। ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস ফান্ডের লক্ষ্য ফিনটেক সম্প্রসারণ আর ব্যাংক খাত সংস্কার, যার মধ্যে আছে শরিয়াহ-সম্মত ডিজিটাল ব্যাংকিং, এমন একটা খাত যেটা এ বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক একগুচ্ছ ডিজিটাল ব্যাংকিং লাইসেন্স দেওয়ার পর থেকে নতুন করে নিয়ন্ত্রকদের মনোযোগ পেয়েছে। ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফান্ড সরাসরি লক্ষ্য করছে ঠিক সেই সমস্যাটাকেই যা বিডি ফিন্যান্সিয়াল রিভিউ এই সপ্তাহে নিয়ন্ত্রক দিক থেকে প্রতিবেদন করেছে, জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে ৬,০৬,৫৫৫ কোটি টাকার শ্রেণিকৃত ঋণ, অর্থাৎ ৩২.৭৮ শতাংশের খেলাপি ঋণের হার, যা সাম্প্রতিক উন্নতির পরও বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের ১৮ মাসের বুলেট পেমেন্ট মীমাংসার মাধ্যমে আদায়ের পরিকল্পনা কাজ করার অপেক্ষায় না থেকে, এমক্যাপিটালের এই তহবিল সরাসরি ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে দুর্দশাগ্রস্ত আর খেলাপি সম্পদ কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে, কার্যত নিয়ন্ত্রকরা যে খেলাপি ঋণ শুধু প্রশাসনিক উপায়ে সরাতে হিমশিম খাচ্ছেন তার জন্য একটা বেসরকারি বাজার তৈরি করছে। তৃতীয় বাহন, হেলথকেয়ার ইমপ্যাক্ট ফান্ড, টাকা পাঠাচ্ছে হাসপাতাল, একটা পরিকল্পিত হেলথকেয়ার সিটি প্রকল্প আর সুখী নামে একটা ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্মের দিকে, এমন একটা খাত যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঐতিহাসিকভাবে বিনিয়োগে অনাগ্রহী থেকেছেন, যদিও তারা প্রায়ই টাকা পাঠানোর একটা কারণ হিসেবে স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতার কথা বলেন।

কাঠামোগতভাবে এই তহবিলে বিনিয়োগকারীদের জন্য দুই বছরের একটা লক-ইন সময় আছে, আর ব্র্যাক ব্যাংক ট্রাস্টি আর কাস্টোডিয়ান হিসেবে কাজ করছে, এমন একটা পছন্দ যা প্ল্যাটফর্মটাকে নিজের কমপ্লায়েন্স অবকাঠামোসহ একটা প্রতিষ্ঠিত দেশীয় ব্যাংকিং অংশীদার দেয়, শূন্য থেকে কাস্টোডি ব্যবস্থা তৈরি করার বদলে। এমক্যাপিটাল বলেছে তারা বিশ্বজুড়ে ১০০টা শহরে বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের কাছে সরাসরি এই উদ্যোগ তুলে ধরার পরিকল্পনা করছে, এমন একটা আকারের প্রচারাভিযান যা থেকে বোঝা যায় প্রতিষ্ঠানটা বিনিয়োগকারী সংগ্রহকে একটা একক উদ্বোধন অনুষ্ঠান নয় বরং বহু বছরের একটা বিপণন প্রচারণা হিসেবে দেখছে।

কেন এখন, আর কেন রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করাটা ঠিক প্রবণতা নয়

এই সময়টা কাকতালীয় নয়। এই মাসে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে সেপ্টেম্বরের রেমিট্যান্স নেমে এসেছে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলারে, যা ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন, আর ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ভালো মাসগুলোর পর এটা নিয়ে টানা চতুর্থ মাস যখন আয় ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে থেকে গেছে। সার্বিক অর্থবছরের চিত্র এখনো ভালো, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এখনো ১৩.৩ শতাংশ বেশি, কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত বিডি ফিন্যান্সিয়াল রিভিউ যে মাস-ভিত্তিক শ্লথগতি দেখেছে তা একটা কাঠামোগত বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে যার ওপর এমক্যাপিটালের প্রস্তাবটা পরোক্ষভাবে তৈরি, বিশুদ্ধ নগদ স্থানান্তর হিসেবে রেমিট্যান্স একটা অস্থির আর শেষ পর্যন্ত সীমিত উৎস, যেটা বাংলাদেশি শ্রমিকরা যেসব দেশে কাজ করেন সেসব দেশের শ্রমবাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল। সেই প্রবাহের সামান্য একটা অংশকেও লক-ইন করা শেয়ার বিনিয়োগে রূপান্তর করতে পারলে, নীতিগতভাবে, বিদেশি চাকরির বাজারের ওঠানামার সাথে ওঠানামা করা মাসিক রেমিট্যান্সের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল আর উৎপাদনশীল একটা চ্যানেল তৈরি হবে।

এমক্যাপিটালের উদ্বোধন একই সপ্তাহে বিদেশি পুঁজি আকৃষ্ট করার আরেকটা আলাদা, বড় প্রচেষ্টার সাথেও মিলে গেছে। টেলিকম গ্রুপ ভিওন আর তাদের বাংলাদেশ ইউনিট বাংলালিংক ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে ব্ল্যাকরক, রথসচাইল্ড, আইএফসি আর বিশ্বব্যাংককে একত্র করে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ১ বিলিয়ন ডলার টেনে আনার আশায় ভিওনের নিজের ২৫০ মিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সেই একই পার্শ্ববৈঠকের সুযোগে যেখানে এমক্যাপিটাল নিজের প্রস্তাব দুই দিন আগে তুলে ধরেছিল। এর সাথে যোগ করুন সরকারের ৪০০ কোটি টাকার ফান্ড অব ফান্ডস, যার লক্ষ্য এমন একটা স্টার্টআপ খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা যা এ বছরের প্রথমার্ধে মাত্র ৬ মিলিয়ন ডলার তুলতে পেরেছে, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৯৫ শতাংশ পতন। তাহলে একটা প্যাটার্ন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনটা আলাদা পুঁজি সংগ্রহের প্রচেষ্টা, তিনটা ভিন্ন বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে, প্রায় এক মাসের মধ্যেই সব চালু হয়েছে, সবগুলোই একই অন্তর্নিহিত সমস্যার জবাব খুঁজছে, এ বছর তাজা বিদেশি বিনিয়োগে প্রায় ৭০ শতাংশ পতন, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং, ডিজিটাল আর স্টার্টআপ খাতকে তাদের প্রয়োজনীয় পুঁজি থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে।

প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা যে সংশয় নিয়ে আসবেন

এই উদ্যোগগুলোর কোনোটাই বিনিয়োগকারীদের আস্থার শূন্যতায় কাজ করছে না। যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি দেখেছেন ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বিশ্বের সর্বোচ্চ স্তর ছাড়িয়ে যেতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জুনের শীর্ষ থেকে নেমে আসতে, আর টাকার বিনিময় হার মাঝেমধ্যে চাপে থাকতে, তাদের কাছে যেকোনো দেশীয় বাহনে দুই বছরের জন্য পুঁজি আটকে রাখার আগে সতর্ক থাকার কারণ আছে, তার ট্রাস্টি যতই সুনামধন্য হোক বা চেয়ারম্যান যতই সম্মানিত হোক। বিশেষ করে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফান্ড প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের এমন ঝুঁকি নিতে বলছে যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজেরাই বছরের পর বছর সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে, বাজি ধরছে ভিন্ন প্রণোদনা আর পরিষ্কার লক্ষ্যসহ বেসরকারি পুঁজি সেখানে সফল হতে পারবে যেখানে ব্যাংক ব্যবস্থার নিজের আদায় পদ্ধতি ধীরগতিতে এগিয়েছে। মনসুরের নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা, একজন সাবেক গভর্নর যিনি প্রকাশ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়কে ব্যাংক সুশাসন সংস্কার নরম করার জন্য সমালোচনা করেছেন, এখানে সাহায্য করতে পারে, এমন একজন বার্তাবাহক যিনি বলছেন তিনি ঠিক জানেন ব্যাংক খাতের কোন ঝুঁকিগুলো অতিরঞ্জিত আর কোনগুলো বাস্তব।

সূচকপরিমাণ
এমক্যাপিটালের মোট তহবিলের আকার১ বিলিয়ন ডলার
উপ-তহবিলের সংখ্যা৩টি (ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস, ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, হেলথকেয়ার ইমপ্যাক্ট)
বিনিয়োগকারীর লক-ইন সময়২ বছর
প্রবাসী রোডশোর লক্ষ্য শহরবিশ্বজুড়ে ১০০টি শহর
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর রেমিট্যান্স (প্রেক্ষাপট)২.৭৭ বিলিয়ন ডলার, ১১ মাসের সর্বনিম্ন
জুলাই-সেপ্টেম্বর রেমিট্যান্স, গত বছরের তুলনায়১৩.৩ শতাংশ বেশি
ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের হার (প্রেক্ষাপট)৩২.৭৮ শতাংশ, ৬,০৬,৫৫৫ কোটি টাকা
ভিওনের সমান্তরাল নিউ ইয়র্ক প্রতিশ্রুতি (একই সপ্তাহ)১ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলার

সাফল্য আসলে কেমন দেখাবে

এমক্যাপিটাল এখনো জানায়নি ১ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যের কতটা পুঁজি তারা ইতিমধ্যে প্রতিশ্রুতি হিসেবে পেয়েছে বা সংগ্রহ করেছে, ফলে নিউ ইয়র্কের এই উদ্বোধনকে একটা নিশ্চিত পুঁজি সংগ্রহের চেয়ে বরং উদ্দেশ্য আর অবকাঠামোর ঘোষণা বলাই বেশি যুক্তিসঙ্গত, তহবিলগুলো, ট্রাস্টি ব্যবস্থা, রোডশো পরিকল্পনা। আসল পরীক্ষা হবে আগামী কয়েক মাসে ১০০ শহরের প্রবাসী সফর আসলেই স্বাক্ষরিত সাবস্ক্রিপশনে রূপান্তরিত হয় কিনা, আর ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফান্ড আসলেই বাংলাদেশি ব্যাংক থেকে খেলাপি ঋণ এমন আকর্ষণীয় ছাড়ে কিনে দেখাতে পারে কিনা যা প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছে লোভনীয়, আবার একইসাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের প্রশাসনিক আদায় পরিকল্পনার চেয়ে দ্রুত সেই সম্পদ ব্যাংকের হিসাব থেকে সরাতে পারে কিনা। এটা কাজ করলে, বিদেশি বিনিয়োগের খরার জবাবে এ পর্যন্ত যতগুলো সৃজনশীল উদ্যোগ দেখা গেছে তার মধ্যে এটা অন্যতম হবে, যেখানে এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ জবাব এসেছে সরকারি তহবিল আর এককালীন কর্পোরেট প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে, প্রবাসীদের নিজস্ব পুঁজি ঘিরে তৈরি একটা নিবেদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নয়।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

২৬ মাস বোর্ডশূন্য থাকার পর বিএসইসি পুনর্গঠন করল ১,৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল

বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড টানা ২৬ মাস কোনো পরিচালনা বোর্ড ছাড়াই চলেছে, শেষ পর্যন্ত এই সপ্তাহে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সাত সদস্যের একটা অন্তর্বর্তী প্যানেল গঠন করেছে। প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকার এই তহবিল, যা অদাবিকৃত লভ্যাংশ আর শেয়ারের সমন্বয়ে গড়া, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য তৈরি, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটা আইনি বিরোধ ২০২৪ সাল থেকে পুরো কাঠামোটাকেই স্থবির করে রেখেছিল। বিএসইসি এখন চায় এই প্রশ্নের চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ আইন, যার খসড়া শিগগিরই সংসদে যাওয়ার কথা।

অনিয়মের পর নগদ লভ্যাংশের নিয়মে কড়াকড়ি আনল বিএসইসি, স্বতন্ত্র পরিচালক পুনর্নিয়োগে দিল স্বস্তি

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এখন থেকে নগদ লভ্যাংশের প্রস্তাব এজিএমে তুলতে পারবে না যতক্ষণ না পুরো টাকা একটা আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা থেকে সনদায়িত হয়। সাম্প্রতিক অনিয়মের পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে, সঙ্গে আছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি। একই সভায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্বতন্ত্র পরিচালক পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করেছে, প্রতিবার নতুন পর্যালোচনার বদলে শুধু একটা ক্লিন ক্রেডিট রিপোর্টই এখন যথেষ্ট।

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২৮ শতাংশ, সবচেয়ে বড় ধাক্কা ইকুইটিতে

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ কম অর্থ বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। নতুন বিনিয়োগকারীর আস্থার সবচেয়ে স্পষ্ট সূচক নিট ইকুইটি মূলধন প্রবাহ কমেছে ৫৫ শতাংশ, নেমে এসেছে মাত্র ১৫৫ মিলিয়ন ডলারে। অর্থনীতিবিদরা এই পতনের পেছনে জ্বালানি সংকট, বাণিজ্য বিঘ্ন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপকেই মূল কারণ বলছেন।