ভুয়া আমদানিকারকের মাধ্যমে সিগারেট ফিল্টার পাচার, ২,৪৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকিতে: এনবিআর
বাংলাদেশের কর গোয়েন্দা সংস্থা একটি সিগারেট ফিল্টার কাঁচামাল পাচার চক্র শনাক্ত করেছে, যেখানে সম্ভাব্য ২,৪৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানা গেছে, আর এর কেন্দ্রে আছে মতিঝিলের এমন এক প্রতিষ্ঠান যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই। শুল্ক কর্মকর্তারা আগস্টে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৮ টন সেলুলোজ অ্যাসিটেট টো জব্দ করেন, যখন তারা ইউনিক ট্রেডার্স নামের আমদানিকারককে খুঁজে পাননি, যে প্রতিষ্ঠান গত অর্থবছরে শূন্য বিক্রি দেখিয়ে ৩৬৩ টন কাঁচামাল এনেছিল। একই ধরনের প্যাটার্ন দেখানো আরও চারটি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত হয়েছে, আর সরকার কাঁচামাল আমদানি এখন শুধু লাইসেন্সধারী প্রস্তুতকারকদের মধ্যে সীমিত করে দিয়েছে। ২০২৪ সালে উদঘাটিত প্রায় একই রকম একটি পাচার চক্রের সঙ্গে এই ঘটনার মিল আছে, যা প্রশ্ন তোলে নতুন চিহ্নিত রাজস্বের কতটা আদৌ আদায় হবে তা নিয়ে।
বাংলাদেশের রাজস্ব বোর্ড একটি সিগারেট ফিল্টার পাচারের চক্র ধরে ফেলেছে, যেখানে সরকারের প্রায় ২,৪৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দারা এমন কিছু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম খুঁজে পেয়েছেন, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই অথচ শত শত টন স্পর্শকাতর কাঁচামাল আমদানি করে গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল এই সপ্তাহে যে ঘটনা প্রকাশ করেছে, তার কেন্দ্রে আছে মতিঝিলের ইউনিক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান, তবে তদন্তকারীরা বলছেন এটা তামাক সরবরাহ চেইনে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা একটা পুরনো প্যাটার্নের সবচেয়ে চোখে পড়া অংশ মাত্র।
ঘটনার শুরু ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে এক নিয়মিত পরীক্ষায়। শুল্ক কর্মকর্তারা দুটি কনটেইনারে প্রায় ৪৮ টন সেলুলোজ অ্যাসিটেট টো পান, সেই আঁশজাতীয় উপাদান যা দিয়ে সিগারেটের সাদা ফিল্টার তৈরি হয়। চালানটি ইউনিক ট্রেডার্সের আমদানি নিবন্ধনের অধীনে ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু ছাড়পত্রের কাগজপত্র সম্পূর্ণ করতে গিয়ে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির মতিঝিলের ঠিকানায় গিয়ে কিছুই খুঁজে পাননি। না অফিস, না সাইনবোর্ড, না কোনো কর্মী। তার বদলে তারা পেয়েছেন একজন সি অ্যান্ড এফ এজেন্টকে, যিনি চালানটি বন্দরে আটকে না রেখে নিজেই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ১৬.৪৪ কোটি টাকা আমদানি শুল্ক পরিশোধ করে দেন, শুধু পণ্যটা বন্দর থেকে বের করার জন্য।
সিআইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, "কোনো আমদানিকারক এগিয়ে না আসায় সি অ্যান্ড এফ এজেন্টই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক পরিশোধ করেছেন।" এমন এক ব্যবস্থার কথা তিনি বললেন, যেখানে পণ্যের প্রকৃত মালিক কে বা এটা শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে তা নিশ্চিত না হয়েও চালানটি ছাড় পেয়ে গেছে। এই একটিমাত্র পরিশোধ শুধু সীমান্তে প্রযোজ্য কর কভার করে। এরপর এই কাঁচামালের কী হলো, সেটা নিয়ে কিছুই বলে না, আর ঠিক এখান থেকেই বড় রাজস্ব ঝুঁকির হিসাব শুরু হয়।
যেভাবে ফিল্টার টিপ হয়ে ওঠে করফাঁকির পথ
বাংলাদেশের শুল্ক কাঠামোয় সেলুলোজ অ্যাসিটেট টো এক অদ্ভুত জায়গায় বসে আছে। শিল্প কাঁচামাল হিসেবে বাল্কে আমদানি করা হলে এর ওপর শুল্ক তুলনামূলক কম, অথচ একটা তৈরি সিগারেট ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর আগে ভারী ভ্যাট আর সম্পূরক শুল্কের আওতায় পড়ে। তদন্তকারীরা যে চক্রের কথা বলছেন, তার পুরো যুক্তিটাই এই ফাঁক ঘিরে। আমদানি নিবন্ধনের আওতায় সস্তায় কাঁচামাল আনো, এরপর চুপিসারে সেটা এমন কারখানায় পাঠাও যেগুলোর লাইসেন্স নেই বা নজরদারির বাইরে, যারা কোনো উৎপাদন না দেখিয়েই সিগারেট বানিয়ে ফেলে, ফলে বৈধ প্রস্তুতকারককে যে ভ্যাট আর সম্পূরক শুল্ক দিতে হতো, সেটা কখনো দেওয়াই হয় না।
এনবিআরের নিজস্ব হিসাবেই বোঝা যায় ফাঁকটা কতটা বড়। চট্টগ্রামে জব্দ হওয়া ৪৮ টন যদি মাঝারি মানের সিগারেট উৎপাদনে যেত, তাহলে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকার ভ্যাট আর সম্পূরক শুল্ক আদায় হতো। একই কাঁচামাল যদি প্রিমিয়াম সেগমেন্টের সিগারেটে যায়, যেখানে শুল্কের হার আরও বেশি, তাহলে অঙ্কটা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৬৪ কোটি টাকায়। তদন্তকারীরা বলছেন ইউনিক ট্রেডার্স যে পুরো ট্রেইল রেখে গেছে তাতে এই হিসাব আরও বড় হয়ে ওঠে। শুল্ক রেকর্ড বলছে প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৩৬৩ টন কাঁচামাল আমদানি করেছে, অগাস্টের জব্দ হওয়া চালানের সাত গুণেরও বেশি, আর সিআইসি এখন আরও চারটি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করেছে যাদের আমদানির পরিমাণ একইরকম অস্বাভাবিক অথচ কোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই। সব মিলিয়ে যোগ করলে এনবিআর এখন বলছে, শুধু একটা কনটেইনার নয়, পুরো গ্রুপ জুড়ে সম্ভাব্য ২,৪৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকিতে আছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, কনটেইনার খোলার অনেক আগেই কাগজপত্রেই এর ইঙ্গিত ছিল। ইউনিক ট্রেডার্স এমন একটা কাঁচামাল শত শত টন আমদানি করেও কর রিটার্নে শূন্য বিক্রি দেখিয়ে যাচ্ছিল, যার বাস্তবে ব্যবহার একটাই। সিআইসির ভাষায়, এত বড় পরিসরে আমদানি করেও কোনো বিক্রি থেকে আয় না দেখানো ঠিক সেই প্রোফাইল, যা একটা শেল কোম্পানি তৈরি করার সময় থাকে, শুল্ক ছাড় পাওয়ার মতো যথেষ্ট কাগজপত্র, কিন্তু বাস্তবে গিয়ে দেখলে টিকবে না এমন কিছুই নেই।
এই প্যাটার্ন আগেও দেখা গেছে
বাংলাদেশের তামাক খাতে এই পথ নতুন নয়। ২০২৪ সালের একটা তদন্তে একই ধরনের কাঁচামাল পাচার চক্রে প্রায় ২০টি ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছিল, আর শেষ পর্যন্ত এনবিআর নিশ্চিত করেছিল যে তার মধ্যে ১১টিই ঠিক ইউনিক ট্রেডার্সের মতোই ছিল, কাগজে নিবন্ধিত কিন্তু বাস্তবে অদৃশ্য। সেই সময়ের ঘটনার পর নজরদারি বাড়ানো হলেও, দুই বছর পর মূলত একই ধরনের চক্র আবার ফিরে আসা বলে দেয়, শুল্ক হারের ফাঁকটা যা ভুয়া আমদানিকারক তৈরি করাকে লাভজনক করে তোলে, সেটা আসলে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, শুধু সাময়িকভাবে থমকে গিয়েছিল।
এবার যেটা বদলেছে তা হলো নীতিগত জবাবের গতি আর ধরন। চট্টগ্রামে জব্দের এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে, ২৪ আগস্ট সরকার একটি গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করে, যাতে সেলুলোজ অ্যাসিটেট টোসহ সিগারেট ও বিড়ির কাঁচামাল আমদানি শুধু নিবন্ধিত সিগারেট বা বিড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমিত করা হয়েছে। ফলে উৎপাদন লাইসেন্স নেই এমন কোনো ট্রেডিং কোম্পানি আর আইনগতভাবে এই কাঁচামাল দেশে আনতে পারবে না, যা ইউনিক ট্রেডার্স ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ, সেই কাঠামোটাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে আমদানি নিবন্ধন থাকলেও বাস্তব উৎপাদন সক্ষমতার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এই গেজেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিবন্ধিত প্রস্তুতকারকদের মধ্যস্থতাকারী বানিয়ে পাশ কাটাতে পারবে কিনা, বা অন্য কোনো কৌশল বের করবে কিনা, সেটাই এখন শিল্প সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলছেন।
যা এখনও অমীমাংসিত
এই ঘটনার বেশ কিছু দিক এখনও পরিষ্কার হয়নি। ইউনিক ট্রেডার্সের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে, অথবা অগাস্টের জব্দের আগে চলে যাওয়া ৩১৫ টন কাঁচামাল আসলে কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, কোনো লাইসেন্সধারী কারখানায় যেখানে উৎপাদন কম দেখানো হয়েছে, নাকি সম্পূর্ণ অনিবন্ধিত কোনো কারখানায়, নাকি ফিল্টার বিক্রির কোনো কালোবাজারি নেটওয়ার্কে, এনবিআর এখনো তা প্রকাশ করেনি। নতুন চিহ্নিত হওয়া চারটি প্রতিষ্ঠানের নামও প্রকাশ্যে আসেনি, আর ২,৪৫০ কোটি টাকার এই হেডলাইন সংখ্যার কতটা এনবিআর আসলে আদায় করতে পারবে বলে আশা করছে, নাকি এটা শুধু কাগজে-কলমে ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তাও স্পষ্ট নয়। এ ধরনের মামলায় প্রকৃত আদায় সাধারণত প্রকাশের পর মাসের পর মাস পিছিয়ে যায়, যদি আদৌ হয়, কারণ শুরু থেকেই যে ঠিকানা ভুয়া, তার পেছনের সম্পদ বা ব্যক্তি খুঁজে বের করতে হয়।
আপাতত এই ঘটনা এনবিআরের সামগ্রিক প্রয়োগ সংকটের ছবিকেই আরও স্পষ্ট করে, যারা এমনিতেই এই অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন পদ্ধতি বদল নিয়ে এখনো অমীমাংসিত এক লড়াইয়ের মধ্যে আছে। একটা মাত্র পণ্য বিভাগ, সিগারেটের ফিল্টার কাঁচামাল, নিয়ে ২,৪৫০ কোটি টাকার ঝুঁকি মনে করিয়ে দেয়, কাঁচামাল আর তৈরি পণ্যের শুল্ক হারের মধ্যে বিশাল ফাঁক থাকলে তার ভেতর দিয়ে কতটা রাজস্ব বেরিয়ে যেতে পারে, আর কেউ প্যাটার্নটা লক্ষ্য করার আগেই মুষ্টিমেয় কিছু কাগুজে প্রতিষ্ঠান কত দ্রুত এর সুযোগ নিতে পারে।
| বিষয় | পরিমাণ |
|---|---|
| জব্দ হওয়া ৪৮ টন চালানের ওপর পরিশোধিত আমদানি শুল্ক | ১৬.৪৪ কোটি টাকা |
| জব্দ হওয়া চালান মাঝারি মানের সিগারেটে গেলে সম্ভাব্য ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক | ৩২৪ কোটি টাকা |
| জব্দ হওয়া চালান প্রিমিয়াম সিগারেটে গেলে সম্ভাব্য ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক | ৫৬৪ কোটি টাকা |
| ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিক ট্রেডার্সের মোট আমদানি | ৩৬৩ টন |
| ইউনিক ট্রেডার্স ও নতুন চিহ্নিত চারটি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ঝুঁকিপূর্ণ রাজস্ব | ২,৪৫০ কোটি টাকা |
| ২০২৪ সালের একই ধরনের চক্রে ভুয়া প্রমাণিত প্রতিষ্ঠান | প্রায় ২০টির মধ্যে ১১টি |
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
এপ্রিল মার্চ অর্থবছরে যাওয়ার পরিকল্পনা জমা দিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে ২৫ অক্টোবরের সময়সীমা দিল সরকার
বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও তার অধীনস্থ দপ্তরকে বলেছে, ২৫ অক্টোবরের মধ্যে একটা সময়বাঁধা পরিকল্পনা জমা দিতে, যেখানে জুলাই থেকে জুন অর্থবছর ধরে তৈরি করা আইন, বিধি আর ব্যবস্থাগুলো নতুন করে লেখার পথ বের করতে হবে। ২০২৮-২৯ সাল থেকে অর্থবছর এপ্রিল থেকে মার্চে নেওয়ার আগস্টের সিদ্ধান্তের পর এটাই সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা। একই সপ্তাহে আরেকটা ছোট সময়সীমাও বদলেছে, কর কর্তৃপক্ষ ভ্যাট রিটার্ন জমার তারিখও পিছিয়ে ২৫ অক্টোবর করেছে।
বাচ্চু কাণ্ডের তেরো বছর পরও মন্দ ঋণের গর্ত থেকে বের হতে পারছে না বেসিক ব্যাংক
বেসিক ব্যাংকের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের হিসাব বলছে, শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু আমলের ঋণ কেলেঙ্কারি প্রকাশ পাওয়ার তেরো বছরের বেশি সময় পরও ব্যাংকের মোট ঋণের ৬৪.৪৯ শতাংশ, অর্থাৎ ৮,১৫৩ কোটি টাকা, এখনও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। ব্যাংকটি এখন ৫,১৪৮ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি আর ৫,০৫১ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতিতে ভুগছে, আর এর শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকই একা বকেয়া রেখেছে ২,২৮৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে মাত্র প্রায় ২ শতাংশ কখনও আদায় হয়েছে। চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলছেন, ব্যাংক ৫,০০০ কোটি টাকার স্বল্প সুদের আমানত পেলে তিন বছরের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব, কিন্তু বেসিকের খেলাপি ঋণের অনুপাত এখনও পুরো ব্যাংকিং খাতের ৩২.৭৮ শতাংশ গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। ব্যাংকটির এই সংকট দেশের পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বৃহত্তর সমস্যার প্রতিচ্ছবি, যাদের মিলিত খেলাপি ঋণ চলতি বছরের প্রথমার্ধেই বেড়েছে ৬,৩০৪ কোটি টাকা।
৮৫ শতাংশ খাতে ভ্যাট লক্ষ্য হাতছাড়া এনবিআরের, নতুন বিআইএন বাধ্যবাধকতায় চাপে ছোট ব্যবসা
সদ্য প্রকাশিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তথ্যে দেখা যাচ্ছে ৩৪টি বড় করদাতা ইউনিটের মধ্যে ২৯টিই ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি, ১,০৮,০০০ কোটি টাকার লক্ষ্যের বিপরীতে প্রায় ২০,৫০০ কোটি টাকার ঘাটতি রয়ে গেছে, যদিও কর্মকর্তারা এখন স্বীকার করছেন অনেক লক্ষ্যই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট বিবেচনা না করে ঠিক করা হয়েছিল। একই সময়ে, ব্যাংক হিসাব খোলা বা ঋণ পাওয়ার জন্য ২০১২ সালের একটা বিধিবদ্ধ বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বরের শর্ত সত্যিকার অর্থে কার্যকর করা হচ্ছে, যা সবচেয়ে কঠিনভাবে আঘাত করছে বাংলাদেশের ১ কোটি ১৭ লাখ অর্থনৈতিক ইউনিটের ৯৯ শতাংশ তৈরি করা কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট আর মাঝারি উদ্যোগগুলোকে। এনবিআর বলছে ব্যাংক বা তাদের নিজের কর্মকর্তা কেউই প্রশাসনিকভাবে বিআইএন নিয়ম মাফ করতে পারেন না, যদিও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ছোট ব্যবসার জন্য ছাড় বা ধাপে ধাপে চালুর অনুরোধ করেছে। দুটো পথ মিলিয়ে বোঝা যায়, একটা রাজস্ব বোর্ড প্রতিরোধ করতে পারা বড় করদাতাদের থেকে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, অথচ দ্রুত মেনে চলার সক্ষমতা সবচেয়ে কম থাকা ব্যবসার ওপর নিয়ন্ত্রণ শক্ত করছে, এমন একটা প্যাটার্ন যা সরকারের এই প্রান্তিকে ব্যাংক থেকে ক্রমবর্ধমান ধার করার দরকারের সাথেও জড়িত।