বৈদেশিক মুদ্রা ও রেমিট্যান্স

সেপ্টেম্বরের ১১ মাসের সর্বনিম্ন থেকে ঘুরে অক্টোবরের শুরুতে রেমিট্যান্স বাড়ল ২১ শতাংশ

৮ অক্টোবর, ২০২৬4 মিনিটের পড়াহালনাগাদ ১০ অক্টোবর, ২০২৬
সেপ্টেম্বরের ১১ মাসের সর্বনিম্ন থেকে ঘুরে অক্টোবরের শুরুতে রেমিট্যান্স বাড়ল ২১ শতাংশ

প্রবাসী আয় অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিনে আগের বছরের তুলনায় ২১.৪ শতাংশ বেড়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, যা সেপ্টেম্বরের ১১ মাসের সর্বনিম্ন ২.৭৭ বিলিয়ন ডলার থেকে একটা বড় ঘুরে দাঁড়ানো। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক তবু আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি, ৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে বন্ধ হয়েছে, কারণ ব্যাংক আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর কারণ বলছে হুন্ডির ওপর কড়াকড়ি আর ডলারের বিনিময় হারের তুলনামূলক স্থিতিশীলতা, যা প্রবাসী আয়কে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, কয়েক দিনের ভালো সংখ্যা সেপ্টেম্বরের পতনের অন্তর্নিহিত কারণ পুরোপুরি মুছে দেয় না, তবে অক্টোবরের শুরুর এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ যে এটা একটা সাময়িক ধাক্কা ছিল, কোনো স্থায়ী মোড় পরিবর্তন নয়।

সেপ্টেম্বরের ধাক্কা সামলে প্রান্তিকজুড়ে প্রবৃদ্ধি

অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৫১৩ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৪২২ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে ২১.৪ শতাংশ বেশি। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তথ্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে, সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স নেমে যাওয়া ছিল সাময়িক একটা ধাক্কা, কোনো দীর্ঘমেয়াদি পতনের শুরু নয়। সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ২.৭৭ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। তবে জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে পুরো প্রথম প্রান্তিক হিসাব করলে ২০২৬-২৭ অর্থবছর আগের বছরের তুলনায় এগিয়েই আছে, আর অক্টোবরের শুরুর দিনগুলো সেই লিড আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য প্রান্তিকের পুরো চিত্রটা স্পষ্ট করে দেয়। জুলাইয়ে এসেছিল ২,৮৫৮.৭৬ মিলিয়ন ডলার, আগস্টে বেড়ে হয় ২,৯৬৭.৫৩ মিলিয়ন ডলার, আর সেপ্টেম্বরে নেমে যায় ২,৭৬৬.২৪ মিলিয়ন ডলারে, যা গত নভেম্বরের পর সবচেয়ে কম মাসিক আয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক আর বেসরকারি ব্যাংক, সবারই সেপ্টেম্বরে কিছুটা পতন দেখা গেছে। সবচেয়ে বড় অংশ হ্যান্ডেল করা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আয় আগস্টের প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার থেকে নেমে যায় ১.৯৭ বিলিয়ন ডলারে। প্রান্তিক শেষে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট দাঁড়ায় ৮.৫৭ বিলিয়ন ডলার, ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৭.৫৮ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি।

অক্টোবরের শুরুতে কী বদলে গেল

ঘুরে দাঁড়ানোটা বেশি দিন অপেক্ষা করায়নি। অক্টোবরের প্রথম তিন দিনেই এসেছে ২০৬.১৩ মিলিয়ন ডলার, আর ৫ অক্টোবর নাগাদ পাঁচ দিনের মোট গিয়ে দাঁড়ায় ৫১৩ মিলিয়ন ডলারে, যার মধ্যে একদিনেই, মানে ৫ অক্টোবরেই এসেছে ১০৯ মিলিয়ন ডলার। এই গতি পুরো মাস ধরে বজায় থাকলে অক্টোবর সহজেই সেপ্টেম্বরকে ছাড়িয়ে যাবে, এমনকি আগস্টের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। অক্টোবরের শুরুতেও বেশিরভাগ লেনদেন হয়েছে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে, তবে তুলনামূলক কম বাজার হিস্যার বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো মাসের প্রথম তিন দিনে শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।

১ জুলাই থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব করলে বাংলাদেশ পেয়েছে প্রায় ৯.১ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৮.০ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। এই ব্যবধানটা পাঁচ দিন আগে প্রান্তিকের হিসাবে দেখা ১৩ শতাংশের চেয়েও বড়, যা বলে দেয় অক্টোবরের শুরুর এই উল্লম্ফন কেবল গত বছরের গতি ধরে ফেলা নয়, বরং তার চেয়েও এগিয়ে যাওয়া।

সময়কাল২০২৬-২৭ অর্থবছর (মিলিয়ন ডলার)২০২৫-২৬ অর্থবছর (মিলিয়ন ডলার)পরিবর্তন
জুলাই২,৮৫৮.৭৬--
আগস্ট২,৯৬৭.৫৩--
সেপ্টেম্বর২,৭৬৬.২৪-১১ মাসের সর্বনিম্ন
প্রথম প্রান্তিক মোট (জুল-সেপ্ট)৮,৫৭০৭,৫৮০+১৩.০%
১-৫ অক্টোবর৫১৩৪২২+২১.৪%
৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট~৯,১০৪~৮,০০৮+১৩.৭%

হুন্ডি দমন আর ডলারের দর স্থিতিশীলতার গল্প

ইউএনবির প্রতিবেদনে ব্যাংক কর্তারা আর বিশ্লেষকরা এই প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির পেছনে একটা নির্দিষ্ট কারণ না বলে কয়েকটা মিলিত কারণের কথা বলছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট দর থেকে বাজারনির্ভর দরে সরে আসার পর ডলারের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় সরকারি আর হুন্ডির দরের মধ্যে ফারাক কমে গেছে, যার ফলে প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে টাকা পাঠানোর আকর্ষণও কমেছে। অবৈধ হুন্ডি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোরতা, যার মধ্যে হুন্ডি সন্দেহে শত শত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এজেন্টের অ্যাকাউন্ট আগে স্থগিত করার মতো ঘটনাও আছে, অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে উৎসবকেন্দ্রিক রেমিট্যান্স, যা সাধারণত ধর্মীয় উৎসব আর নতুন বছরের আগে বেড়ে যায়, আর মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মসংস্থানের তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থা মিলে পুরো ছবিটা তৈরি করছে, এমনটাই বলছেন ব্যাংকাররা।

বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউয়ের আগের প্রতিবেদন অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের বর্তমান গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেকর্ড ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ উদ্বৃত্তের একটা লেনদেন ভারসাম্য তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল, মোট উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছিল ৬.৬১ বিলিয়ন ডলার। সেই প্রতিবেদনেই দেখা গেছে, চলতি হিসাবের ঘাটতি আসলে বছরজুড়ে বেড়েছে, আর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সতর্ক করেছিল যে ভালো দেখতে এই বৈদেশিক হিসাবের আড়ালে দেশের ভেতরের চাপ, মূল্যস্ফীতি আর উঁচু সুদের হার চাপা পড়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ রেমিট্যান্স এখন বৈদেশিক ভারসাম্যের এমন একটা জায়গা হয়ে উঠেছে যা একা বাণিজ্য দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব না, আর এই কারণেই সেপ্টেম্বরের এই পতন এত নজর কেড়েছিল, এবং অক্টোবরের শুরুর ঘুরে দাঁড়ানোটাও স্রেফ সংখ্যার চেয়ে বেশি কিছু বোঝায়।

পরিসংখ্যানের সঙ্গে কেন এখনো সতর্কতার দরকার

পাঁচ দিনের ভালো তথ্য মানেই কোনো ট্রেন্ড নয়, আর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কথা বলা ব্যাংকাররাও অক্টোবরের এই সংখ্যাকে আশাব্যঞ্জক বলছেন, একেবারে নিশ্চিত কিছু বলছেন না। সেপ্টেম্বরের ১১ মাসের সর্বনিম্নে নামাটা নিজেই যথেষ্ট অস্বাভাবিক ছিল, কারণ তখনো ডলারের দর স্থিতিশীল ছিল আর হুন্ডির বিরুদ্ধে একই কঠোরতা চলছিল, যেগুলোকে এখন অক্টোবরের উল্লম্ফনের কারণ বলা হচ্ছে। ব্যাংকের ট্রেজারি কর্মকর্তাদের একটা অনানুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা হলো, সেপ্টেম্বরে যে টাকা আসার কথা ছিল তা শরৎকালীন ঈদ আর অন্য ধর্মীয় উৎসবের প্রক্রিয়াগত সময়ের কারণে অক্টোবরের শুরুতে এসে পড়েছে, যার অর্থ অক্টোবরের এই উল্লম্ফনের একটা অংশ আসলে সেপ্টেম্বরের ঘাটতি দেরিতে পূরণ হওয়া, পুরোপুরি নতুন প্রবৃদ্ধি নয়। তাই তুলনা করার জন্য একক পাঁচ দিনের চেয়ে সাপ্তাহিক গড়ের দিকে তাকানোই বেশি যুক্তিযুক্ত।

হুন্ডি দমন অভিযান আর কতদূর আনুষ্ঠানিক প্রবাহ বাড়াতে পারবে, সেই প্রশ্নও থেকে যায়। বছরের পর বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিযান ইতিমধ্যে রেমিট্যান্সের বড় অংশ ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে এসেছে, ফলে আরও কঠোরতা চালালে নতুন করে কতটা বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে, তা অনিশ্চিত। এখান থেকে কী হবে তা অনেকটাই নির্ভর করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়ের ওপর, যেমন মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের অবস্থা, তেলের দাম যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর খরচ আর অভিবাসী শ্রমিকদের মজুরিকে প্রভাবিত করে, আর অর্থবছরের বাকি সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার এই আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা টিকে থাকে কিনা। আপাতত এই তথ্য বাংলাদেশের বৈদেশিক হিসাবকে পরপর দুই প্রান্তিক ধরে এমন একটা প্রবাহে প্রবৃদ্ধি দিচ্ছে যা লেনদেন ভারসাম্যের বাকি সব খাতের চেয়ে নিয়মিতভাবে এগিয়ে থেকেছে, তবে সেপ্টেম্বরের এই ধাক্কা পুরোপুরি পেছনে ফেলা হয়েছে বলে এখনই কেউ নিশ্চিত করে বলছেন না।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স সহজ করতে টাকা রুফিয়া বিনিময়ের প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ

মালদ্বীপে থাকা এক লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী যাতে সহজে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মালদ্বীপ মনিটরি অথরিটিকে একটা মুদ্রা সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স প্রায় ১৬.৪ শতাংশ কমে ১১৮ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হলো, যদিও সেখানে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা এক লাখের ওপরেই আছে। প্রস্তাবে আছে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের মাধ্যমে রুফিয়া নিষ্পত্তি, টাকায় মূল্যায়িত ট্রাভেল কার্ড এবং সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা বিনিময়, তবে তিনটি পথই এখনও দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায়।

বিদেশ যাত্রীদের জন্য নগদ ডলার কেনার সীমা ৩,০০০ ডলারে বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক একজন যাত্রী এক লেনদেনে মানি চেঞ্জার থেকে কত নগদ ডলার কিনতে পারবেন তার সীমা ২,০০০ থেকে ৩,০০০ ডলারে বাড়িয়েছে। গত মাসে বার্ষিক ভ্রমণ কোটা ১৮,০০০ ডলারে বাড়ানোর পরের এই পদক্ষেপ। ২০২৪ সাল থেকে এই সীমাগুলো কীভাবে বদলেছে এবং বিদেশ যাওয়ার প্ল্যান থাকলে এর মানে কী, তা দেখে নেওয়া যাক।

শক্তিশালী টাকা নিঃশব্দে কমিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা, ঠিক যখন রপ্তানি রেকর্ড ছুঁয়েছে

দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও জুলাই আর আগস্ট দুই মাসেই ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশের টাকা, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিয়াল এফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট সূচককে বাড়িয়ে নিয়ে গেছে ১০৫.৩৭ এ, এমন একটা মাত্রা যা বলে দেয় মুদ্রাটা এখন তার বাণিজ্য সহযোগীদের তুলনায় অতিমূল্যায়িত। নাম প্রকাশ না করা বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকাকে অবমূল্যায়ন হতে দেওয়ার কথা ভাবা উচিত, আর সতর্ক করেছেন টাকা এভাবে শক্তিশালী থাকলে রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময়টা একটু বেখাপ্পা, এই সতর্কবার্তা এসেছে ঠিক তখনই যখন বাংলাদেশের রপ্তানি এফওয়াই২৭ এর প্রথম প্রান্তিকে ৬.৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১৩.১ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রশ্ন তোলে একটা স্থায়ীভাবে অতিমূল্যায়িত মুদ্রা এই পুনরুদ্ধারের কতটুকু টিকিয়ে রাখতে দেবে।