অর্থনীতি ও নীতি

সঞ্চয়পত্রে মানুষ ৫৭ শতাংশ বেশি টাকা ঢালল, সরকারও ব্যাংক ঋণে আরও বেশি ভর করল

৯ অক্টোবর, ২০২৬7 মিনিটের পড়াহালনাগাদ ১০ অক্টোবর, ২০২৬
সঞ্চয়পত্রে মানুষ ৫৭ শতাংশ বেশি টাকা ঢালল, সরকারও ব্যাংক ঋণে আরও বেশি ভর করল

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছরের জুলাই-আগস্টের তুলনায় এই বছরের জুলাই-আগস্টে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ, কারণ সঞ্চয়কারীরা এমন মুনাফার পেছনে ছুটছেন যা এখনও বেশিরভাগ ব্যাংক আমানতের চেয়ে ভালো। এই উল্লম্ফনটা এমন একটা সময়ে এসেছে যখন সরকার নিজেও বাণিজ্যিক ব্যাংকের উপর আরও বেশি ভর করছে, একই দুই মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নিট ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা, যা গত বছরের নিট পরিশোধের তুলনায় একটা বড় উল্টো টান। দুটো প্রবণতা মিলিয়ে একটা ছবি তৈরি হয়, যেখানে সরকার রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে হাতের কাছে যে চ্যানেল পাচ্ছে সেটাই ব্যবহার করছে, ডাকঘরের কাউন্টার থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ব্যাংক ব্যবস্থা পর্যন্ত।

সঞ্চয়পত্রে মানুষ আবার ঝুঁকছে

গত বছরের জুলাই-আগস্টের তুলনায় এই বছরের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশিরা জাতীয় সঞ্চয়পত্র কিনেছে প্রায় ৫৭ শতাংশ বেশি, অনেক বছর ধরে সরকার ছোট সঞ্চয়কারীদের এই উপকরণ থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করার পর এটা একটা বড় উল্টো টান। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এফওয়াই২৭ এর প্রথম দুই মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ২৪৬৩.১২ কোটি টাকার, যা এফওয়াই২৬ এর একই সময়ের ১৫৭২.২৯ কোটি টাকার চেয়ে বেশি। শুধু আগস্ট মাসেই বিক্রি হয়েছে ৪০৩.৬৫ কোটি টাকার, গত বছরের আগস্টের ২৭৮.৮১ কোটি টাকার বিপরীতে, বছরের হিসাবে প্রায় ৪৫ শতাংশ বা প্রায় ১২৪.৮৪ কোটি টাকার বৃদ্ধি।

এই আকর্ষণের কারণটা সহজ। সঞ্চয়পত্র দীর্ঘদিন ধরেই বেশিরভাগ ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিটের চেয়ে ভালো মুনাফা দিয়ে আসছে, আর এই বছরের জুলাই ১ থেকে ডিসেম্বর ৩১ এর মধ্যে করা নতুন বিনিয়োগের জন্য মুনাফার হার এমনভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে যা সংশ্লিষ্টরা বলছেন আকর্ষণটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যাংক আমানতের সুদের হার নিচের দিকে নামলেও বছরের বেশিরভাগ সময় মূল্যস্ফীতি যেখানে প্রায় ৮ শতাংশের কাছাকাছি গোঁয়ারভাবে থেকে গেছে, যে সঞ্চয়কারীরা কয়েক বছরের জন্য টাকা বেঁধে রাখতে পারেন, তাদের জন্য হিসাবটা দিনকে দিন সঞ্চয়পত্রের দিকেই বেশি ঝুঁকছে।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতেই এই চিত্রটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেই মাসে নিট বিক্রি হয়েছিল ২,০৫৯.৪৭ কোটি টাকার, যা গত চার বছরের মধ্যে কোনো একক মাসের সর্বোচ্চ, আর পুরো এফওয়াই২৬ এর মোট নিট বিক্রির প্রায় পাঁচ গুণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, এই উল্লম্ফন বলে দেয় ব্যাংক খাতে এখনও একটা আস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সঞ্চয়কারীরা তাদের হাতে থাকা টাকা রক্ষা করতে এমন একটা উপকরণের দিকে ঝুঁকছেন যার আসল টাকা হারানোর কোনো ঝুঁকি নেই, যা তুলনামূলক সহজে ভাঙানো যায়, আর যা এখনও প্রতিযোগিতামূলক মুনাফা দেয়। এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত কতদিন টিকবে তা অনেকটাই নির্ভর করে উচ্চ দামের এক বছর পার করার পর পরিবারগুলোর হাতে আসলে সঞ্চয় করার মতো কতটা সামর্থ্য বেঁচে আছে তার উপর, যে প্রশ্নটা মুজেরী নিজেই অনিশ্চিত বলে চিহ্নিত করেছেন।

নিঃশব্দে বদলে যাচ্ছে সরকারের অর্থায়নের মিশ্রণ

সঞ্চয়পত্র বিক্রির এই উল্লম্ফন আসলে এই অর্থবছরে বাংলাদেশ কীভাবে নিজের অর্থায়ন করছে তার বড় গল্পের অর্ধেকটা মাত্র। অর্থ বিভাগের আলাদা তথ্য বলছে, জুলাই-আগস্টে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটা একটা বড় উল্টো টান, কারণ তখন সরকার নতুন ঋণ নেওয়ার বদলে ব্যাংক ব্যবস্থাকে নিট অর্থ ফেরত দিচ্ছিল। এই দুই মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ঋণ নেওয়া হয়েছে ১৬,৬০১ কোটি টাকা, যা এফওয়াই২৬ এর একই সময়ের ৩,২৫৬ কোটি টাকার চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি, আর সরকার বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত দিয়েছে ৩,৭২৮ কোটি টাকা, ফলে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১২,৮৭২ কোটি টাকা, যা পুরো বছরের ১,১২,০০০ কোটি টাকার লক্ষ্যের প্রায় ১১.৫ শতাংশ, মাত্র দুই মাসেই পৌঁছে গেছে।

আগস্টের ৩০ তারিখ পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে সরকারের বকেয়া ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬,০৮,০২৫ কোটি টাকা, জুনের শেষে যা ছিল ৫,৯১,৪২৪ কোটি টাকা, আর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বকেয়া ঋণ বরং কিছুটা কমে হয়েছে ৯০,৩২২ কোটি টাকা, যা আগে ছিল ৯৪,০৫১ কোটি টাকা, ফলে ব্যাংক খাতে মোট বকেয়া ঋণ প্রায় ৭,০০,০০০ কোটি টাকা। কর্মকর্তারা একটা পরিচিত কারণের দিকেই আঙুল তুলছেন, এই অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায় বছরের হিসাবে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, যার একটা অংশ মাসিক থেকে ত্রৈমাসিক ভ্যাট পরিশোধে স্থানান্তরের সাথে জড়িত, যা কর্তৃপক্ষ এখন আবার মাসিক আদায়ে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সাথে যুক্ত হয়েছে বিদেশি ঋণ ছাড় ধীর হয়ে যাওয়া আর খরচের নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি, নতুন সরকারি বেতন কাঠামো, জ্বালানি ভর্তুকি, উন্নয়ন প্রকল্প, আর রাজস্ব ঘাটতিটা এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়েছে যা সরকারকে কোনোভাবে পূরণ করতেই হয়েছে।

অর্থায়ন সূচক (জুলাই-আগস্ট)এফওয়াই২৬এফওয়াই২৭
সঞ্চয়পত্র বিক্রি১৫৭২.২৯ কোটি টাকা২৪৬৩.১২ কোটি টাকা
মোট ব্যাংক ঋণ৩,২৫৬ কোটি টাকা১৬,৬০১ কোটি টাকা
নিট ব্যাংক ব্যবস্থার ঋণনিট পরিশোধ১২,৮৭২ কোটি টাকা
বাণিজ্যিক ব্যাংকের বকেয়া ঋণতথ্য নেই৬,০৮,০২৫ কোটি টাকা (৩০ আগস্ট)

দুটি আলাদা পথ, একই চাপ

একসাথে দেখলে, এই দুই সেট তথ্য আসলে একই রাজস্ব চাপকে দুটো আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা করছে। একদিকে সাধারণ সঞ্চয়কারীরা স্বেচ্ছায় সরকারকে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ঋণ দিচ্ছেন কারণ মুনাফা অন্য বিকল্পের চেয়ে ভালো। অন্যদিকে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকের উপর বেশি ভর করছে কারণ রাজস্ব ঘাটতি তাকে অন্য জায়গায় নড়াচড়া করার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। দুটো পথই শেষ পর্যন্ত একই বাজেটকে অর্থায়ন করে, কিন্তু এদের প্রভাব একেবারেই আলাদা। সঞ্চয়পত্র বিক্রি এমন একটা দায় যা সরকার সক্রিয়ভাবে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে, কারণ বেশি নিট বিক্রি মানে ভবিষ্যতে বেশি সুদ পরিশোধ। পুরো এফওয়াই২৬ হিসাব করলে, মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ৯২,৫১৩ কোটি টাকার, যার বিপরীতে মেয়াদ পূর্ণ হওয়া সঞ্চয়পত্রের আসল ফেরত দেওয়া হয়েছিল ৯২,০৭৭ কোটি টাকা, ফলে অর্থায়নে নিট অবদান দাঁড়ায় মাত্র ৪৩৬.০৬ কোটি টাকা, যেখানে বাজেট লক্ষ্য প্রথমে ঠিক করা হয়েছিল ১২,৫০০ কোটি টাকা, পরে কমিয়ে করা হয় ১১,৫০০ কোটি টাকা। তুলনা করলে, এফওয়াই২১ সালে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকারের নিট ঋণ পৌঁছেছিল প্রায় ৪২,০০০ কোটি টাকায়, যা মনে করিয়ে দেয় গত কয়েক বছরে এই উপকরণের উপর সরকারের নির্ভরতা কতটা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে, যদিও গ্রাহকদের বকেয়া বিনিয়োগ আগস্টের শেষে ৩,৩৬,৪৬৫ কোটি টাকায় পৌঁছে এখনও ধীরে ধীরে বাড়ছে, এক বছর আগের ৩,৩৩,৮৪৬ কোটি টাকার তুলনায়।

ব্যাংক ঋণের নিজের কিছু টানাপোড়েনও আছে। এই প্রবণতা নিয়ে কথা বলা ব্যাংকাররা বলছেন, সরকারের এই বাড়তি ঋণ এখনও পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণে বড় ধাক্কা দেয়নি, কিছুটা এই কারণে যে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি নিজেই ৫ শতাংশের নিচে নেমে গেছে, ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে সরকারি কাগজ শোষণ করার জন্য যথেষ্ট তারল্য আছে। আসলে বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল আর বন্ডে তাদের হোল্ডিং বাড়িয়েছে। কিন্তু এই উপকরণগুলোর কমতে থাকা ইল্ড এখন ব্যাংকের আয়ে চাপ ফেলছে, কিছু ক্ষেত্রে ইল্ড নাকি আমানতের সুদের হারের নিচেও নেমে গেছে, এমন একটা পরিস্থিতি যদি চলতেই থাকে তাহলে ব্যাংকগুলো একই গতিতে সরকারি ঋণ শোষণ করা থেকে পিছিয়ে আসতে পারে।

সাধারণ সঞ্চয়কারী আর বাজেটের জন্য এর মানে কী

যে পরিবারগুলো ভাবছে তাদের সঞ্চয় কোথায় রাখবে, তাদের জন্য এখনকার পরিবেশটা সঞ্চয়পত্রের দিকেই কিছুটা হেলে আছে, ব্যাংক আমানতের তুলনায় মুনাফা এখনও আকর্ষণীয়, আর সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেমন আকস্মিকভাবে মুনাফার হার কমানোর চেষ্টা করে পরে জনরোষের মুখে পিছিয়ে এসেছিল, এবার তেমন কিছুর ইঙ্গিত নেই। এই ইতিহাসটা মনে রাখার মতো। সরকার একবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বড়সড়ভাবে কমানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত আর নিয়মিত আয়ের উপর নির্ভরশীল সঞ্চয়কারীদের মধ্যে প্রচন্ড অজনপ্রিয় হয়ে পড়ায় সিদ্ধান্তটা প্রত্যাহার করে আগের, বেশি মুনাফার হারই রেখে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এই বছরের শেষ পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগের জন্য করা বর্তমান পুনর্নির্ধারণ বলে দেয়, নীতিনির্ধারকরা এখন বাজারের সঞ্চয়পত্রের প্রতি চাহিদার সাথে মিলিয়ে কাজ করার পথই বেছে নিচ্ছেন, এর বিরুদ্ধে না গিয়ে, যদিও এই পথে তোলা প্রতিটা বাড়তি টাকাই সরকারের দায়ের স্তূপে যুক্ত হচ্ছে, যা শেষমেশ ভবিষ্যতের বাজেট থেকেই মেটাতে হবে।

বাজেটের জন্য, ভ্যাট ঘাটতি, ভারী ব্যাংক ঋণ, আর সঞ্চয়পত্রের প্রতি নতুন করে বাড়া আগ্রহ, এই তিনটা মিলিয়ে একটা ছবি দেখায় যেখানে সরকার এই বছর যে চ্যানেল হাতের কাছে পাচ্ছে সেটা দিয়েই তার খরচ চালাচ্ছে, কোনো একটা স্পষ্ট প্রধান উৎসের উপর নির্ভর না করে। ব্যাংকের যথেষ্ট তারল্য আর সঞ্চয়পত্রের বাজারের এখনও ঋণ দিতে রাজি থাকার কারণে, আপাতত এটা সামাল দেওয়ার মতো। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা, যা ব্যাংকাররা ইতিমধ্যে ট্রেজারি ইল্ড পড়ে যাওয়া দেখে তুলছেন, তা হলো, মুনাফা যদি কমতেই থাকে তাহলে ব্যাংকগুলো কতদিন আজকের গতিতে সরকারি কাগজ শোষণ করতে থাকবে, আর ভ্যাট আদায়ের ব্যবস্থাটা কি যথেষ্ট দ্রুত ঠিক করা সম্ভব হবে, যাতে এই দুটো চ্যানেলের উপর সরকারের নির্ভরতা কমানো যায়, এদের কোনো একটা সত্যিকারের বাধায় পরিণত হওয়ার আগেই, স্রেফ একটা সুবিধাজনক নিরাপত্তা ভালভ হিসেবে না রেখে।

একটা অর্থবছর যা সবে শুরু হলো

মনে রাখা দরকার, এই পুরো হিসাবটা বারো মাসের একটা অর্থবছরের শুধু প্রথম দুই মাসের, আর দুটো প্রবণতাই এখনো যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে। ভ্যাট আদায় যদি মাসিক পদ্ধতিতে ফিরে যায় আর আসন্ন মাসগুলোতে রাজস্ব সামলে উঠে, তাহলে ব্যাংক ঋণের উপর চাপ অনেকটাই কমতে পারে, আর সরকারের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বরাদ্দ করা পুরো ১,১২,০০০ কোটি টাকা দরকারই পড়বে না। তা না হলে, দুই মাসের ১২,৮৭২ কোটি টাকার ঋণের গতিকে বছরে হিসাব করলে তা পুরো বছরের লক্ষ্যের চেয়েও বেশি হয়ে যাবে, যার ফলে নীতিনির্ধারকদের বেছে নিতে হবে পরিকল্পিত খরচ কমানো, নাকি এমন ব্যাংকগুলোর উপর আরও বেশি ভর করা যাদের সরকারি কাগজের প্রতি আগ্রহ এভাবে অনন্তকাল উদার থাকবে না, নাকি ছোট সঞ্চয়কারীদের কাছ থেকে আরও বেশি অর্থায়ন টানতে সঞ্চয়পত্রের হার আরও বাড়ানো। আপাতত প্রাথমিক পাঠটা হলো এটাই, বাংলাদেশিরা এখন একসাথে দুটো একেবারে আলাদা চ্যানেল দিয়ে তাদের নিজের সরকারকেই ঋণ দিচ্ছে, একটা ডাকঘরের কাউন্টার থেকে কেনা সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে, আরেকটা তাদের আমানত রাখা ব্যাংকের মাধ্যমে, আর দুটোকেই এক বছর আগের চেয়ে বেশি ভারী করে চাপানো হচ্ছে।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

ব্যয়বহুল এলএনজি টার্মিনাল পরিকল্পনা বাতিল করে চীন ও স্পট কার্গোর ওপর ভর করছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে, যার খরচ হতো ২০ বছরে ১৩,১৬১ কোটি টাকা পর্যন্ত, তার বদলে স্পট আর জি টু জি বাজার থেকে নয়টি এলএনজি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েক দিন পরে ব্যাংককে চীনের এক্সিম ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে বলেছে, তারা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ আর ঢাকার চারপাশের গ্রিড উন্নয়নে অর্থায়ন দ্রুত করতে চায়। এই দুটো পদক্ষেপ মিলে দেখায় সরকার কীভাবে সামনের জ্বালানি খরচ আর দীর্ঘমেয়াদে ব্যবস্থাটা ঠিক করার অর্থায়নের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে।

বাংলাদেশ আবার আইএমএফের দ্বারে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের আবেদন

সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচি থেকে নির্ধারিত সময়ের আট মাস আগেই সরে আসার পাঁচ মাস পর বাংলাদেশ ফিরে গেছে ব্যাংককের আলোচনার টেবিলে, এবার চাইছে নতুন করে সাড়ে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ঋণ। রাজস্ব জিডিপির অনুপাত নেমে এসেছে মাত্র সাত শতাংশে, আর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পৌঁছে গেছে মোট ঋণের প্রায় এক তৃতীয়াংশে, এমন সময়েই এসেছে এই নতুন আবেদন। অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, আলোচনা বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা, আর ঋণ ছাড় হবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক কিস্তিতে।

বিশ্বব্যাংক থেকে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলারের জন্য দ্রুত প্রকল্প অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছে আগামী তিন বছরে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে, যা দিয়ে জ্বালানি ভর্তুকি, ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ আর জরুরি আমদানি সামলানো হবে। বিনিময়ে ঢাকা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রকল্প অনুমোদনের সময় ১৮ মাস থেকে আট মাসে আর বাস্তবায়নের সময় সাত বছর থেকে পাঁচ বছরে কমাবে। ব্যাংকক সভায় করা এই চাওয়ার পাশাপাশি চলছে আইএমএফের সঙ্গে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলাদা আলোচনাও।