বৈদেশিক মুদ্রা ও রেমিট্যান্স

শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহে স্বস্তিতে বৈদেশিক মুদ্রা ও রিজার্ভের স্থিতি

২৮ আগস্ট, ২০২৬1 মিনিটের পড়াহালনাগাদ ১০ অক্টোবর, ২০২৬
শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহে স্বস্তিতে বৈদেশিক মুদ্রা ও রিজার্ভের স্থিতি

বাংলাদেশের প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি, ডলার বাজারের স্থিতিশীলতা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ইতিবাচক চিত্র।

বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্ট মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই প্রবাসীরা ২১๔ কোটি ৮০ লাখ (২.১৪৮ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৬ শতাংশ বেশি, যা একটি বড় ধরনের বৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি ৬০ লাখ (৫.০০৬ বিলিয়ন) ডলার পার হয়ে গেছে। প্রবাসীদের মধ্যে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানোর আগ্রহ বৃদ্ধি, ভালো রেমুনারেশন বা প্রণোদনা সুবিধা এবং ব্যাংকগুলোতে আকর্ষণীয় ডলার রেইট পাওয়ার কারণেই মূলত এই আয় দ্রুত বাড়ছে।

বৈদেশিক মুদ্রার এই জোয়ার দেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্টস বা লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ব্যাংকগুলোর ডলার সংকট কাটাতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট রিজার্ভের ওপর থেকে চাপ অনেকটাই কমে এসেছে, যা সরকারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির বিল সহজেই পরিশোধ করতে সাহায্য করছে। এর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দেশে ভালো খাদ্য উৎপাদনের কারণে খোলা বাজারে টাকার মানও বেশ মজবুত অবস্থানে রয়েছে।

ঢাকার ব্যবসায়ী, আমদানিকারক এবং যারা bdfinancialreview.com অনুসরণ করেন, তাদের জন্য এই খবরটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। রিজার্ভ ও বৈদেশিক মুদ্রা ভালো অবস্থানে থাকার অর্থ হলো ব্যবসায়িক লেনদেনে অস্থিতিশীলতা বা ঝুঁকি কমে আসা। এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের জোগান উন্নত হওয়ায় শিল্পকারখানার কাঁচামাল এবং ভারী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ব্যাংক থেকে আগের চেয়ে অনেক সহজে এলসি (LC) খোলা সম্ভব হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসীদের এই রেমিট্যান্স প্রবাহ আগামী দিনগুলোতে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং ব্যবসার পরিবেশকে আরও মসৃণ করবে।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স সহজ করতে টাকা রুফিয়া বিনিময়ের প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ

মালদ্বীপে থাকা এক লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী যাতে সহজে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মালদ্বীপ মনিটরি অথরিটিকে একটা মুদ্রা সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স প্রায় ১৬.৪ শতাংশ কমে ১১৮ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হলো, যদিও সেখানে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা এক লাখের ওপরেই আছে। প্রস্তাবে আছে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের মাধ্যমে রুফিয়া নিষ্পত্তি, টাকায় মূল্যায়িত ট্রাভেল কার্ড এবং সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা বিনিময়, তবে তিনটি পথই এখনও দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায়।

বিদেশ যাত্রীদের জন্য নগদ ডলার কেনার সীমা ৩,০০০ ডলারে বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক একজন যাত্রী এক লেনদেনে মানি চেঞ্জার থেকে কত নগদ ডলার কিনতে পারবেন তার সীমা ২,০০০ থেকে ৩,০০০ ডলারে বাড়িয়েছে। গত মাসে বার্ষিক ভ্রমণ কোটা ১৮,০০০ ডলারে বাড়ানোর পরের এই পদক্ষেপ। ২০২৪ সাল থেকে এই সীমাগুলো কীভাবে বদলেছে এবং বিদেশ যাওয়ার প্ল্যান থাকলে এর মানে কী, তা দেখে নেওয়া যাক।

শক্তিশালী টাকা নিঃশব্দে কমিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা, ঠিক যখন রপ্তানি রেকর্ড ছুঁয়েছে

দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও জুলাই আর আগস্ট দুই মাসেই ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশের টাকা, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিয়াল এফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট সূচককে বাড়িয়ে নিয়ে গেছে ১০৫.৩৭ এ, এমন একটা মাত্রা যা বলে দেয় মুদ্রাটা এখন তার বাণিজ্য সহযোগীদের তুলনায় অতিমূল্যায়িত। নাম প্রকাশ না করা বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকাকে অবমূল্যায়ন হতে দেওয়ার কথা ভাবা উচিত, আর সতর্ক করেছেন টাকা এভাবে শক্তিশালী থাকলে রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময়টা একটু বেখাপ্পা, এই সতর্কবার্তা এসেছে ঠিক তখনই যখন বাংলাদেশের রপ্তানি এফওয়াই২৭ এর প্রথম প্রান্তিকে ৬.৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১৩.১ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রশ্ন তোলে একটা স্থায়ীভাবে অতিমূল্যায়িত মুদ্রা এই পুনরুদ্ধারের কতটুকু টিকিয়ে রাখতে দেবে।