শক্তিশালী টাকা নিঃশব্দে কমিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা, ঠিক যখন রপ্তানি রেকর্ড ছুঁয়েছে
দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও জুলাই আর আগস্ট দুই মাসেই ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশের টাকা, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিয়াল এফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট সূচককে বাড়িয়ে নিয়ে গেছে ১০৫.৩৭ এ, এমন একটা মাত্রা যা বলে দেয় মুদ্রাটা এখন তার বাণিজ্য সহযোগীদের তুলনায় অতিমূল্যায়িত। নাম প্রকাশ না করা বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকাকে অবমূল্যায়ন হতে দেওয়ার কথা ভাবা উচিত, আর সতর্ক করেছেন টাকা এভাবে শক্তিশালী থাকলে রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময়টা একটু বেখাপ্পা, এই সতর্কবার্তা এসেছে ঠিক তখনই যখন বাংলাদেশের রপ্তানি এফওয়াই২৭ এর প্রথম প্রান্তিকে ৬.৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১৩.১ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রশ্ন তোলে একটা স্থায়ীভাবে অতিমূল্যায়িত মুদ্রা এই পুনরুদ্ধারের কতটুকু টিকিয়ে রাখতে দেবে।
অদ্ভুত একটা সময়ে শক্তিশালী হচ্ছে টাকা
বাংলাদেশের টাকা এমন একটা কাজ করছে যা দুই অঙ্কের কাছাকাছি মূল্যস্ফীতির একটা দেশের মুদ্রার জন্য একটু অস্বাভাবিক, শক্তিশালী হচ্ছে। আগস্ট মাস শেষ হয়েছে টাকা প্রতি ডলার ১২১.৬১ টাকায়, মাসজুড়ে দুর্বল হওয়ার বদলে বরং শক্তিশালী হয়ে, এমনকি যখন দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি, আর বাংলাদেশের মূল বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলোর অর্থনীতিতে এটা মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিয়াল এফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট (রিয়ার) সূচক, যা টাকাকে ১৭টি প্রধান বাণিজ্য সহযোগী দেশের মুদ্রার বিপরীতে আপেক্ষিক মূল্যস্ফীতি আর বাণিজ্যের পরিমাণ হিসাব করে মাপে, আগস্টে ১.৩৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০৫.৩৭। ১০০ এর উপরে কোনো হিসাব একটা মুদ্রার অতিমূল্যায়িত হওয়ার লক্ষণ, আর এটা আসলে একটা ধারার অংশ, জুলাইয়ে রিয়ার ১.২৮ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছিল ১০৩.৯৩, যখন নামমাত্র বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলার ১২৩.৯৮ টাকা, আর জুন থেকে জুলাইয়ের মধ্যে টাকা ডলারের বিপরীতে মাত্র ০.৩৫ শতাংশ দুর্বল হয়েছিল, তখনও ভারতীয় রুপি একই সময়ে এক শতাংশের বেশি পড়ে গিয়েছিল।
সোজা কথায়, বাংলাদেশের মুদ্রা অন্তত পর পর দুই মাস ধরে তার বাণিজ্য সহযোগীদের বিপরীতে বাস্তব ক্রয় ক্ষমতা অর্জন করছে, ঠিক এমন একটা সময়ে যখন দেশের ভেতরের দাম তার প্রায় সব বাণিজ্য সহযোগীর চেয়ে বেশি গতিতে বাড়ছে। এই মিলটা বাজার নিজে থেকে একটা স্বাভাবিক জায়গায় পৌঁছানোর কোনো দুর্ঘটনা নয়। অর্থনীতিবিদরা, এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরের কর্মকর্তারাও বলছেন, এটা এমন একটা মুদ্রার লক্ষণ যাকে অন্তর্নিহিত মূল্যস্ফীতির ফাঁক যতটা দ্রুত সমন্বয় করা উচিত, তার চেয়ে ধীরে সমন্বয় করতে দেওয়া হচ্ছে।
| সূচক | জুলাই ২০২৬ | আগস্ট ২০২৬ |
|---|---|---|
| প্রতি ডলারে টাকা | ১২৩.৯৮ টাকা | ১২১.৬১ টাকা |
| রিয়াল এফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট (রিয়ার) | ১০৩.৯৩ | ১০৫.৩৭ |
| মাসিক রিয়ার পরিবর্তন | +১.২৮ পয়েন্ট | +১.৩৯% |
অতিমূল্যায়িত টাকা রপ্তানিকারকদের জন্য কেন সুখবর নয়
উপর থেকে দেখলে একটা শক্তিশালী হতে থাকা, অতিমূল্যায়িত মুদ্রা শক্তির লক্ষণ মনে হতে পারে। বাস্তবে, বাংলাদেশের মতো একটা অর্থনীতির জন্য যা পোশাক রপ্তানি আর রেমিট্যান্সের উপর এতটা নির্ভরশীল, এটা দেশের মূল প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার বিরুদ্ধে কাজ করে। শক্তিশালী টাকা মানে একজন পোশাক রপ্তানিকারক যে ডলার আয় করছেন তা থেকে কম টাকা পাচ্ছেন, যখন দেশের ভেতরের উৎপাদন খরচ, মজুরি, ইউটিলিটি, ভাড়া, দেশের মূল্যস্ফীতির সাথে তাল মিলিয়ে বেড়েই চলেছে। এই মুনাফার সংকোচনের সাথে যুক্ত হয় এই বাস্তবতা যে প্রতিযোগী উৎপাদনকারী দেশগুলো অনেক ক্ষেত্রেই তাদের নিজের মুদ্রাকে আরও দ্রুত দুর্বল হতে দিয়েছে, মানে বাণিজ্য আলোচনার কোনো পক্ষ থেকে কোনো নীতির পরিবর্তন না হলেও বাংলাদেশি পণ্য প্রতিযোগিতার তুলনায় নিঃশব্দে আরও দামি হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগস্টে প্রকাশিত মন্তব্যে একেবারে সরাসরি বলেছিলেন, রিয়ার যতটা বেড়ে গেছে তা দেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা অবমূল্যায়নের কথা ভাবা উচিত, আর টাকা অতিমূল্যায়িত থাকলে রপ্তানি আয়ের খাত আসল সমস্যায় পড়তে পারে। রপ্তানিকারকরা নিজেরাও সরকারকে অবমূল্যায়নের কথা ভাবতে অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে, যদিও তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা সরাসরি নাম প্রকাশ করে বলেননি।
সময়টা এই ঝুঁকিটাকে একটু অস্বাভাবিকভাবে দৃশ্যমান করে তুলেছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আসলে এফওয়াই২৭ এর প্রথম প্রান্তিকে ৬.৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১৩.১ বিলিয়ন ডলারে, শুধু সেপ্টেম্বরেই বেড়েছে ৮.৫ শতাংশ, জুলাইয়ের একটা অপ্রত্যাশিত পতনের পর এই পুনরুদ্ধার। তৈরি পোশাক, এখনও এই প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি ১০.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি নিয়ে, মোটামুটি ভালো কিন্তু অসম প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে, যখন ফার্মাসিউটিক্যালস, পাট পণ্য আর লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ছোট ভিত্তির উপর থেকে আরও দ্রুত বেড়েছে আর তুর্কিয়েতে চালান দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এই রপ্তানি শক্তিটাই ঠিক তা যা একটা স্থায়ীভাবে অতিমূল্যায়িত টাকা ভবিষ্যতে ঝুঁকিতে ফেলে দেয়, রিয়ারের তথ্য বলছে ঠিক ওই মাসগুলোতেই মুদ্রাটা রপ্তানিকারকদের জন্য কম প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছিল যখন রপ্তানির পরিমাণ পুনরুদ্ধার হচ্ছিল, যা একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলে, হেডলাইন প্রবৃদ্ধির হিসাব যতই উৎসাহজনক দেখাক, বিনিময় হার জাহাজিকারীদের জন্য যদি ভুল দিকেই যেতে থাকে তাহলে এই পুনরুদ্ধারের কতটুকু আসলে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
দুই দিকের চাপে আটকে থাকা একটা কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক টাকাকে সহজেই দুর্বল হতে দিতে চাইছে না, এর পেছনে নিজস্ব একটা যুক্তিও আছে। একটা দুর্বল টাকা মানে আমদানি, জ্বালানি আর সার যার উপর বাংলাদেশ বিদেশ থেকে ভীষণভাবে নির্ভরশীল, আরও দামি হয়ে যাবে, এমন একটা সময়ে যখন খাদ্য আর জ্বালানির দামই দেশের মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টার পেছনে সবচেয়ে বড় বাধা, একটা বিষয় যা আরও স্পষ্ট হয় এই তথ্য দেখে যে তিন মাসের স্বস্তির পর সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে হয়েছে ৮.৩৪ শতাংশ। অন্য কথায়, রপ্তানিকারকদের সাহায্য করতে মুদ্রা অবমূল্যায়ন করলে ঠিক সেই দামের চাপটাই আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে যা পরিবারগুলোর উপর চেপে বসছে, যেটা নীতিনির্ধারকরা পুরো গ্রীষ্মকাল ধরে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এটা একটা সত্যিকারের দ্বন্দ্ব, টাকাকে স্থির রাখলে বা আরও শক্তিশালী হতে দিলে রপ্তানিকারকরা বিদেশি প্রতিযোগীদের কাছে জমি হারাবে, আর রিয়ার যেখানে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করে সেদিকে দুর্বল হতে দিলে, আমদানিজাত মূল্যস্ফীতি নতুন করে ধাক্কা খাবে, ঠিক যখন হেডলাইন হিসাবগুলো সামলানোর মতো দেখাতে শুরু করেছিল।
এখনও কোনো পরিষ্কার সমাধান দেখা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারের মৌলিক নিয়ম যেখানে টাকাকে দাঁড় করানো উচিত বলে মনে করে সেদিকে ফিরিয়ে আনতে শেষ পর্যন্ত আরও অবমূল্যায়ন দরকার হবে, কিন্তু এর কোনো সময়সীমা বা নির্দিষ্ট লক্ষ্য হার প্রকাশ করা হয়নি। এরই মধ্যে রিয়ার বেড়েই চলছে, জুলাই আর আগস্ট দুই মাসেই বৃদ্ধি হয়েছে, যা বলে দেয় যে সমন্বয়টা আসছে তা এখনও সত্যিকারভাবে শুরু হয়নি।
নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টায় একটা মুদ্রা
প্রেক্ষাপটটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক গত কয়েক বছর ধরে টাকাকে একটা স্থির, কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত পেগ থেকে সরিয়ে আরও বাজারভিত্তিক, ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনশীল একটা ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, এই রূপান্তরের লক্ষ্য হলো বিনিময় হারকে অর্থনৈতিক ধাক্কা শোষণ করতে দেওয়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একটা কৃত্রিম স্তর রক্ষা করতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ খরচ করতে বাধ্য করার বদলে। এই পরিবর্তনটা নিজেই এসেছে এমন কয়েক বছরের প্রতিক্রিয়া হিসেবে যেখানে একটা অতিমূল্যায়িত, প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রিত টাকা রিজার্ভ শুষে নিয়েছিল আর একটা দীর্ঘস্থায়ী ডলার সংকট তৈরি করেছিল। এই সাম্প্রতিক ইতিহাসের মাপকাঠিতে দেখলে, ১০০ এর উপরে থাকা আর বেড়ে চলা একটা রিয়ার বলে দেয়, নতুন, আরও নমনীয় এই ব্যবস্থাটা এখনও দেশের বাণিজ্য সহযোগীদের বিপরীতে মূল্যস্ফীতির ফাঁকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটা স্তরে পুরোপুরি বসতে পারেনি, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনও এই সমন্বয়ের গতিটা নিজেই নিয়ন্ত্রণ করছে, পুরোপুরি বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বদলে।
এই বিনিময় হারের প্রশ্নটাকে এই বছর বাংলাদেশের বৈদেশিক হিসাবের আরও দুটো সুতো থেকেও আলাদা করে দেখা যায় না। রেমিট্যান্স, যা পোশাক রপ্তানির পাশাপাশি টাকার মূল্য ধরে রাখার আরেকটা স্তম্ভ, বেশ অস্থির ছিল, সেপ্টেম্বরে একটা তীব্র ধীরগতির পর অক্টোবরের শুরুতে একটা পুনরুদ্ধার দেখা গেছে, আর রেমিট্যান্স প্রবাহ টিকিয়ে রাখা শক্তিশালী হলে তা নিজেই একটা শক্তিশালী টাকাকে সমর্থন করবে, যা এখন রপ্তানিকারকদের উদ্বিগ্ন করা অতিমূল্যায়নের চাপটাকেই আরও বাড়িয়ে দেয়। একই সময়ে, এই অর্থবছরে জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি তীব্রভাবে বেড়ে চলেছে, এমন একটা অবস্থা যা স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্য হিসাব পুনঃসামঞ্জস্য করতে একটা শক্তিশালী নয়, বরং দুর্বল মুদ্রার পক্ষে যুক্তি দেয়। টাকা তা সত্ত্বেও শক্তিশালী হয়েছে, এমনকি বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে চলার মধ্যেও, এটা নিজেই একটা লক্ষণ যে শুধু বাণিজ্যের মৌলিক হিসাবের বাইরে অন্য কিছু, সম্ভবত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ অথবা সরকারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আর বন্ড অর্থায়নের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার সাথে জড়িত পুঁজি প্রবাহ, মুদ্রাটাকে বাণিজ্যের অবস্থান যা নির্দেশ করে তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী রাখছে।
যে রপ্তানি খাত সম্প্রতি স্মরণকালের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রান্তিক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে, তার জন্য মুদ্রার বাজার থেকে বার্তাটা নিঃশব্দে একটু অস্বস্তিকর, এই প্রবৃদ্ধির নিচের জমিনটাই এমন একটা দিকে সরে যাচ্ছে যা আগামী প্রান্তিকে এই গতি আবার ধরে রাখাটা অনেক কঠিন করে দিতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই চাপ কমাতে টাকাকে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে দেওয়ার পথ বেছে নেবে, নাকি রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলকতার চেয়ে আমদানিজাত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকেই অগ্রাধিকার দিতে থাকবে, সেটাই হতে পারে এই অর্থবছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর একটা, আর আপাতত এর কোনো সমাধান হয়নি।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স সহজ করতে টাকা রুফিয়া বিনিময়ের প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
মালদ্বীপে থাকা এক লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী যাতে সহজে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মালদ্বীপ মনিটরি অথরিটিকে একটা মুদ্রা সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স প্রায় ১৬.৪ শতাংশ কমে ১১৮ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হলো, যদিও সেখানে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা এক লাখের ওপরেই আছে। প্রস্তাবে আছে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের মাধ্যমে রুফিয়া নিষ্পত্তি, টাকায় মূল্যায়িত ট্রাভেল কার্ড এবং সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা বিনিময়, তবে তিনটি পথই এখনও দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায়।
বিদেশ যাত্রীদের জন্য নগদ ডলার কেনার সীমা ৩,০০০ ডলারে বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক একজন যাত্রী এক লেনদেনে মানি চেঞ্জার থেকে কত নগদ ডলার কিনতে পারবেন তার সীমা ২,০০০ থেকে ৩,০০০ ডলারে বাড়িয়েছে। গত মাসে বার্ষিক ভ্রমণ কোটা ১৮,০০০ ডলারে বাড়ানোর পরের এই পদক্ষেপ। ২০২৪ সাল থেকে এই সীমাগুলো কীভাবে বদলেছে এবং বিদেশ যাওয়ার প্ল্যান থাকলে এর মানে কী, তা দেখে নেওয়া যাক।
সেপ্টেম্বরের ১১ মাসের সর্বনিম্ন থেকে ঘুরে অক্টোবরের শুরুতে রেমিট্যান্স বাড়ল ২১ শতাংশ
প্রবাসী আয় অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিনে আগের বছরের তুলনায় ২১.৪ শতাংশ বেড়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, যা সেপ্টেম্বরের ১১ মাসের সর্বনিম্ন ২.৭৭ বিলিয়ন ডলার থেকে একটা বড় ঘুরে দাঁড়ানো। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক তবু আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি, ৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে বন্ধ হয়েছে, কারণ ব্যাংক আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর কারণ বলছে হুন্ডির ওপর কড়াকড়ি আর ডলারের বিনিময় হারের তুলনামূলক স্থিতিশীলতা, যা প্রবাসী আয়কে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, কয়েক দিনের ভালো সংখ্যা সেপ্টেম্বরের পতনের অন্তর্নিহিত কারণ পুরোপুরি মুছে দেয় না, তবে অক্টোবরের শুরুর এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ যে এটা একটা সাময়িক ধাক্কা ছিল, কোনো স্থায়ী মোড় পরিবর্তন নয়।