কর ও নিয়ন্ত্রণ

বাচ্চু কাণ্ডের তেরো বছর পরও মন্দ ঋণের গর্ত থেকে বের হতে পারছে না বেসিক ব্যাংক

৪ অক্টোবর, ২০২৬6 মিনিটের পড়াহালনাগাদ ১০ অক্টোবর, ২০২৬
বাচ্চু কাণ্ডের তেরো বছর পরও মন্দ ঋণের গর্ত থেকে বের হতে পারছে না বেসিক ব্যাংক

বেসিক ব্যাংকের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের হিসাব বলছে, শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু আমলের ঋণ কেলেঙ্কারি প্রকাশ পাওয়ার তেরো বছরের বেশি সময় পরও ব্যাংকের মোট ঋণের ৬৪.৪৯ শতাংশ, অর্থাৎ ৮,১৫৩ কোটি টাকা, এখনও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। ব্যাংকটি এখন ৫,১৪৮ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি আর ৫,০৫১ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতিতে ভুগছে, আর এর শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকই একা বকেয়া রেখেছে ২,২৮৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে মাত্র প্রায় ২ শতাংশ কখনও আদায় হয়েছে। চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলছেন, ব্যাংক ৫,০০০ কোটি টাকার স্বল্প সুদের আমানত পেলে তিন বছরের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব, কিন্তু বেসিকের খেলাপি ঋণের অনুপাত এখনও পুরো ব্যাংকিং খাতের ৩২.৭৮ শতাংশ গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। ব্যাংকটির এই সংকট দেশের পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বৃহত্তর সমস্যার প্রতিচ্ছবি, যাদের মিলিত খেলাপি ঋণ চলতি বছরের প্রথমার্ধেই বেড়েছে ৬,৩০৪ কোটি টাকা।

শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংক থেকে বিদায় নেওয়ার তেরো বছরের বেশি সময় পরও এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি তার করা ক্ষতি থেকে বের হতে পারছে না। ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাবে দেখা যায়, ব্যাংকের মোট ঋণের ৬৪.৪৯ শতাংশ, অর্থাৎ ৮,১৫৩ কোটি টাকা, এখনও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। এত বিপুল পরিমাণ মন্দ ঋণের কারণে ব্যাংকটি এখন ৫,১৪৮ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি এবং ৫,০৫১ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতিতে ভুগছে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজেই স্বীকার করেছেন, এই কেলেঙ্কারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার লড়াই এখনও চলছে, যা অনেকে ধরে নিয়েছিলেন বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে।

মূল ক্ষতির পরিমাণ এখন পুরোপুরি স্পষ্ট। ২০০৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাচ্চুর চেয়ারম্যান থাকার সময়ে বেসিক ব্যাংক প্রায় ৪,৪২৪.৯৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে, যার পেছনে পরে বড় রকমের অনিয়ম পাওয়া যায়। দুর্বল জামানত, বাড়িয়ে দেখানো সম্পদের মূল্য এবং তদন্তকারীদের ভাষ্যে অনেক অনুমোদনের পেছনে রাজনৈতিক চাপ কাজ করেছিল। দুর্নীতি দমন কমিশন এক দশকের বেশি সময় ধরে টুকরো টুকরো করে এই মামলার তদন্ত চালিয়েছে, কিন্তু অর্থ ফেরত আনার গতি ঋণ বিতরণের গতির চেয়ে অনেক ধীর।

এখনকার হিসাব

মন্দ ঋণের ভারী বোঝা শুধু বেসিক ব্যাংকের একার সমস্যা নয়, কিন্তু অনুপাতের হিসাবে এর সমস্যাটাই সবচেয়ে খারাপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী এবং বেসিকের মিলিত খেলাপি ঋণ ৬,৩০৪ কোটি টাকা বেড়ে মোট প্রায় ১,৫১,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ঋণের আকারে পাঁচটির মধ্যে বেসিক সবচেয়ে ছোট, আর ঠিক এই কারণেই এর ৬৪.৪৯ শতাংশ খেলাপি অনুপাত এত বেশি চোখে পড়ে।

ব্যাংকখেলাপি ঋণ (২০২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধ)ছয় মাসের পরিবর্তন
জনতা ব্যাংক৭৫,৫৫৮ কোটি টাকাসবচেয়ে বড় বোঝা
অগ্রণী ব্যাংক৩২,১৩৩ কোটি টাকা৩,৫১৮ কোটি টাকা বেড়েছে
সোনালী ব্যাংক১৫,৭১০ কোটি টাকাসামান্য কমেছে
বেসিক ব্যাংক৮,১৫৩ কোটি টাকা১০২ কোটি টাকা কমলেও মোট ঋণের ৬৪.৪৯ শতাংশ
রূপালী ব্যাংকপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত নয়মিলিত ৬,৩০৪ কোটি টাকা বৃদ্ধির অংশ

শেষ কলামটিই এখানে আসল কথা বলে। বছরের প্রথমার্ধে বেসিকের খেলাপি ঋণ সংখ্যার হিসাবে প্রায় ১০২ কোটি টাকা কমেছে, কিন্তু অনুপাত তেমন একটা বদলায়নি, কারণ ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণও কমে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১২,৫২১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে আমানত আছে ১৭,২২৪ কোটি টাকা। একটি ব্যাংক যখন একই সঙ্গে লোকসান করছে আর ঋণের পোর্টফোলিও ছোট হয়ে যাচ্ছে, তখন নিজের জোরে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসার জায়গা প্রায় থাকেই না, আর বেসিক ব্যাংক ঠিক এই ফাঁদেই আটকে আছে। লোকসানও বেড়েছে, ২০২৩ সালে ৪১৬ কোটি টাকা থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ ৬৫৫ কোটি টাকায়।

কেন আদায় থমকে আছে

বেসিকের নিজের ঋণ আদায়ের চেষ্টা দেখেই বোঝা যায়, এক দশকের বেশি সময় ধরে খেলাপি হয়ে থাকা ঋণ ফেরত আনা কতটা কঠিন। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নগদে আদায় হয়েছে মাত্র ৭৯ কোটি টাকা, আর অ-নগদ মাধ্যমে আরও ২২৯ কোটি টাকা, যা ৮,১৫৩ কোটি টাকার মন্দ ঋণের তুলনায় প্রায় নগণ্য। ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকই একা বকেয়া রেখেছে ২,২৮৮.২৫ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের চার ভাগের এক ভাগের বেশি, আর তার মধ্যে মাত্র ৩৬.৪ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ২ শতাংশ, কখনও ফেরত আনা গেছে। এই গ্রাহকদের অনেকেই বাচ্চু আমলের সেই একই দুর্বল কাগজপত্র আর বাড়িয়ে দেখানো জামানতের সুবিধা নিয়েছিলেন, যা আইনি প্রক্রিয়ায় আদায়কে একেকটি মামলা ধরে ধরে এগোনো এক ধীর গতির লড়াইয়ে পরিণত করেছে, কারণ ব্যাংকাররা বলছেন দেশের আদালত ব্যবস্থায় মামলার স্তূপ জমে আছে।

এই চিত্র কেবল বেসিকের একার নয়। পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিশ্লেষকরা বড় করপোরেট গ্রাহকদের, যাদের অনেকের রাজনৈতিক সংযোগ আছে, আদায়ে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। জনতা ব্যাংকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের খেলাপি ঋণের প্রায় ৭২ শতাংশই মাত্র ২০টি বড় করপোরেট হিসাবে আটকে আছে। দুর্বল আইনি প্রয়োগ আর দীর্ঘদিনের প্রভিশন ঘাটতি সব জায়গায় সমস্যাটা আরও জটিল করে তুলেছে, কিন্তু বেসিকের সমস্যা পুরনো, অঙ্কের হিসাবে ছোট হলেও অনুপাতের হিসাবে অন্য সবার চেয়ে অনেক বেশি খারাপ।

তিন বছরের প্রতিশ্রুতি

বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী সমস্যার গভীরতা স্বীকার করেও কিছুটা আশাবাদী সুরে কথা বলেছেন। বাচ্চু আমলের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার লড়াই এখনও চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন, কিন্তু সঙ্গে এটাও বলেন যে আগামী তিন বছরের মধ্যে ব্যাংককে ঘুরে দাঁড় করানোর সম্ভাবনা আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা মূলত একটি বাইরের সহায়তার উপর নির্ভর করছে, চৌধুরী সরকার ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে বেসিকে ৫,০০০ কোটি টাকার স্বল্প সুদের আমানত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, যা ব্যাংকটিকে আবার লাভজনকভাবে ঋণ দেওয়ার সুযোগ দিতে পারে, শুধু ঋণ আদায়ের মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে, যে পথে এখন পর্যন্ত বছরে মাত্র কয়েকশ কোটি টাকাই এসেছে।

এই আবেদন মঞ্জুর হয় কিনা, তা থেকে বোঝা যাবে সরকারের ধীরগতির দুর্বল ব্যাংকগুলোর প্রতি ধৈর্যের পরিমাণ এখনও কতটা আছে। অতীতে বেসিক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের একীভূতকরণের প্রস্তাব উঠেছিল, এবং সিটি ব্যাংকও কয়েক বছর আগে ধীরে ধীরে পুনর্গঠনের মাধ্যমে বেসিককে নিজের মধ্যে নেওয়ার আলোচনা করেছিল, কিন্তু কোনোটিই এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। স্বল্প সুদের আমানত পেলে অন্তত নিকট ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে কঠিন একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত না নিয়েও ব্যাংকটি কিছুটা সময় পাবে।

পুরো খাতের মাথাব্যথা

বেসিকের সমস্যা মূলত বাংলাদেশের পুরো ব্যাংকিং খাতের একটি সমস্যারই বড় আকারের প্রতিচ্ছবি। বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ আগেই জানিয়েছিল, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পুরো খাতের খেলাপি ঋণের অনুপাত দাঁড়িয়েছিল ৩২.৭৮ শতাংশে, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ, এবং মোট ৬,০৬,৫৫৫ কোটি টাকার মন্দ ঋণ মূলত সারা দেশের মাত্র ৫,৭৭৫টি বড় গ্রাহকের মধ্যে কেন্দ্রীভূত। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক বুলেট পেমেন্ট সেটেলমেন্ট ও এককালীন প্রস্থান সুবিধার মাধ্যমে আদায়ের গতি বাড়ানোর জন্য ১৮ মাসের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা নিয়ন্ত্রকরা আশা করছেন বেসিক একা এক দশকেরও বেশি চেষ্টায় যা করতে পারেনি, পুরো খাতের জন্য তা করে দেখাবে।

যে মামলা কখনও পুরোপুরি শেষ হয় না

বেসিক ব্যাংকের অবস্থা এত কঠিন থেকে যাওয়ার একটা বড় কারণ হলো, মূল কেলেঙ্কারিটাই কখনও পরিষ্কারভাবে, একটা চূড়ান্ত পরিণতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন বছরের পর বছর ধরে বাচ্চু আর তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা করেছে, কিন্তু সাজা হয়েছে ধীরে ধীরে আর টুকরো টুকরো করে, আর ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ব্যাংক থেকে যে টাকা বেরিয়ে গিয়েছিল তার বেশিরভাগই দেশের ভেতরে উদ্ধারযোগ্য সম্পদে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তখন থেকে প্রতিটি নতুন চেয়ারম্যানই একটা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যালান্সশিটের পাশাপাশি একটা খোলা আইনি প্রক্রিয়াও উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছেন, যা নতুন খবরের শিরোনাম, নতুন আদালতের তারিখ আর নতুন হতাশা তৈরি করেই চলে, কিন্তু এমন কোনো সিদ্ধান্তমূলক সমাপ্তি কখনও দেয় না যা ব্যাংকটিকে এই পর্বের উপর স্পষ্টভাবে একটা রেখা টেনে একটা জানা শুরুর বিন্দু থেকে পুনর্গঠন শুরু করতে দিতে পারে।

যারা বছরের পর বছর ধরে এই মামলা দেখছেন, সেই ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসিক কার্যত বাংলাদেশ কীভাবে এমন একটা ব্যাংককে সামলায় যাকে নিছক ভুল ব্যবস্থাপনা নয় বরং ইচ্ছাকৃতভাবে লুট করা হয়েছিল, তার একটা পরীক্ষামূলক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ ঋণ ঝুঁকির মতো নয়, যেখানে একটা ব্যাংক ঋণ অনুমোদনের মান কঠোর করে ধীরে ধীরে তার ঋণের বইকে ভালো করতে পারে, বেসিকের মূল সমস্যা এক দশকের পুরনো একটা গর্ত যাকে নতুন ঋণ দিয়ে সহজে ঢেকে ফেলা যায় না। এই কারণেই চৌধুরীর ৫,০০০ কোটি টাকার স্বল্প সুদের আমানতের আবেদনটা এত গুরুত্বপূর্ণ, এটা কার্যত সরকারকে স্বীকার করতে বলা যে এই আকারের ক্ষত কোনো যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে কেবল আদায় আর সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সারানো সম্ভব না।

আপাতত বেসিক ব্যাংকই সবচেয়ে স্পষ্ট দৃষ্টান্ত, একটি ঋণ কেলেঙ্কারির প্রভাব কতদিন ধরে থেকে যেতে পারে তার। ২০১২ সালে যে কেলেঙ্কারি তুঙ্গে উঠেছিল, তার প্রভাব ২০২৬ সালেও একটি ব্যাংকের ব্যালান্সশিটকে প্রভাবিত করছে, যা মনে করিয়ে দেয় বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে মন্দ ঋণ সহজে মিলিয়ে যায় না, বরং তা সামলানো হয়, নিয়ে আলোচনা চলে, আর ধীরে ধীরে, খুব সামান্য করে, তা কমানোর চেষ্টা চলতেই থাকে।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

এপ্রিল মার্চ অর্থবছরে যাওয়ার পরিকল্পনা জমা দিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে ২৫ অক্টোবরের সময়সীমা দিল সরকার

বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও তার অধীনস্থ দপ্তরকে বলেছে, ২৫ অক্টোবরের মধ্যে একটা সময়বাঁধা পরিকল্পনা জমা দিতে, যেখানে জুলাই থেকে জুন অর্থবছর ধরে তৈরি করা আইন, বিধি আর ব্যবস্থাগুলো নতুন করে লেখার পথ বের করতে হবে। ২০২৮-২৯ সাল থেকে অর্থবছর এপ্রিল থেকে মার্চে নেওয়ার আগস্টের সিদ্ধান্তের পর এটাই সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা। একই সপ্তাহে আরেকটা ছোট সময়সীমাও বদলেছে, কর কর্তৃপক্ষ ভ্যাট রিটার্ন জমার তারিখও পিছিয়ে ২৫ অক্টোবর করেছে।

৮৫ শতাংশ খাতে ভ্যাট লক্ষ্য হাতছাড়া এনবিআরের, নতুন বিআইএন বাধ্যবাধকতায় চাপে ছোট ব্যবসা

সদ্য প্রকাশিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তথ্যে দেখা যাচ্ছে ৩৪টি বড় করদাতা ইউনিটের মধ্যে ২৯টিই ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি, ১,০৮,০০০ কোটি টাকার লক্ষ্যের বিপরীতে প্রায় ২০,৫০০ কোটি টাকার ঘাটতি রয়ে গেছে, যদিও কর্মকর্তারা এখন স্বীকার করছেন অনেক লক্ষ্যই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট বিবেচনা না করে ঠিক করা হয়েছিল। একই সময়ে, ব্যাংক হিসাব খোলা বা ঋণ পাওয়ার জন্য ২০১২ সালের একটা বিধিবদ্ধ বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বরের শর্ত সত্যিকার অর্থে কার্যকর করা হচ্ছে, যা সবচেয়ে কঠিনভাবে আঘাত করছে বাংলাদেশের ১ কোটি ১৭ লাখ অর্থনৈতিক ইউনিটের ৯৯ শতাংশ তৈরি করা কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট আর মাঝারি উদ্যোগগুলোকে। এনবিআর বলছে ব্যাংক বা তাদের নিজের কর্মকর্তা কেউই প্রশাসনিকভাবে বিআইএন নিয়ম মাফ করতে পারেন না, যদিও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ছোট ব্যবসার জন্য ছাড় বা ধাপে ধাপে চালুর অনুরোধ করেছে। দুটো পথ মিলিয়ে বোঝা যায়, একটা রাজস্ব বোর্ড প্রতিরোধ করতে পারা বড় করদাতাদের থেকে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, অথচ দ্রুত মেনে চলার সক্ষমতা সবচেয়ে কম থাকা ব্যবসার ওপর নিয়ন্ত্রণ শক্ত করছে, এমন একটা প্যাটার্ন যা সরকারের এই প্রান্তিকে ব্যাংক থেকে ক্রমবর্ধমান ধার করার দরকারের সাথেও জড়িত।

ভুয়া আমদানিকারকের মাধ্যমে সিগারেট ফিল্টার পাচার, ২,৪৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকিতে: এনবিআর

বাংলাদেশের কর গোয়েন্দা সংস্থা একটি সিগারেট ফিল্টার কাঁচামাল পাচার চক্র শনাক্ত করেছে, যেখানে সম্ভাব্য ২,৪৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানা গেছে, আর এর কেন্দ্রে আছে মতিঝিলের এমন এক প্রতিষ্ঠান যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই। শুল্ক কর্মকর্তারা আগস্টে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৮ টন সেলুলোজ অ্যাসিটেট টো জব্দ করেন, যখন তারা ইউনিক ট্রেডার্স নামের আমদানিকারককে খুঁজে পাননি, যে প্রতিষ্ঠান গত অর্থবছরে শূন্য বিক্রি দেখিয়ে ৩৬৩ টন কাঁচামাল এনেছিল। একই ধরনের প্যাটার্ন দেখানো আরও চারটি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত হয়েছে, আর সরকার কাঁচামাল আমদানি এখন শুধু লাইসেন্সধারী প্রস্তুতকারকদের মধ্যে সীমিত করে দিয়েছে। ২০২৪ সালে উদঘাটিত প্রায় একই রকম একটি পাচার চক্রের সঙ্গে এই ঘটনার মিল আছে, যা প্রশ্ন তোলে নতুন চিহ্নিত রাজস্বের কতটা আদৌ আদায় হবে তা নিয়ে।