স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি

পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংককে চালুর প্রস্তুতির অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬5 মিনিটের পড়াহালনাগাদ ১০ অক্টোবর, ২০২৬
পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংককে চালুর প্রস্তুতির অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংককে সম্মতিপত্র দিয়েছে, যার মধ্যে আছে বিকাশ, রবি আজিয়াটা আর বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওনের সমর্থনপুষ্ট উদ্যোগ, তিন বছর ধরে চলা লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় ১৪টি আবেদনকারীর মধ্য থেকে বেছে নিয়ে। এই অনুমোদন এখনো শর্তসাপেক্ষ প্রথম ধাপ মাত্র, চূড়ান্ত লাইসেন্স নয়, আর সঙ্গে এসেছে অনেক বেশি মূলধনের শর্ত, ৩০০ কোটি টাকা, যাতে দুর্বল মূলধনের প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ে। নিয়ন্ত্রকরা বলছেন এই শাখাবিহীন ব্যাংকগুলো ছোট গ্রাহক ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারদের জন্য, প্রচলিত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে করপোরেট ঋণে প্রতিযোগিতার জন্য নয়। এই মডেল সত্যিই আনুষ্ঠানিক ঋণের নাগাল বাড়াবে কিনা তা এখনো পরীক্ষিত নয়, আসল ফল জানতে এখনো বছরের পর বছর লাগবে।

পাঁচটি নাম, শাখাবিহীন ব্যাংকিংয়ে একটি বাজি

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২৪ সেপ্টেম্বর পাঁচটি নতুন ডিজিটাল ব্যাংককে সম্মতিপত্র দিয়েছে, গত নভেম্বরে দ্বিতীয় দফার আবেদন জমা পড়ার পর থেকে অপেক্ষায় থাকা ১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে বেছে নিয়ে। এই পাঁচটি হলো বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, যার পেছনে আছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবার শেয়ারহোল্ডাররা; বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক, যেটির উদ্যোক্তা রবি আজিয়াটা; নোভা ডিজিটাল ব্যাংক, যার পেছনে আছে বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন এবং স্কয়ার গ্রুপ; ডিকে ডিজিটাল ব্যাংক, ভুটানের ডিকে ব্যাংকের একটি শাখা যারা প্রথমবারের মতো বিদেশি বাজারে পা রাখছে; আর কোরি ডিজিটাল ব্যাংক, যার নেতৃত্বে আছেন টেকনোহেভেনের প্রধান নির্বাহী হাবিবুল্লাহ এন করিম, যার আবেদন আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে ঝুলে ছিল।

সম্মতিপত্র মানে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং লাইসেন্স নয়। এটা অনেকটা শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাবের মতো, যা প্রতিটি আবেদনকারীকে বলে দেয় যে এখন তারা প্রযুক্তি গড়ে তুলতে, কমপ্লায়েন্স কর্মী নিয়োগ দিতে এবং নিয়ন্ত্রকদের কাছে নিরাপদে কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা প্রমাণ করতে অর্থ খরচ করতে পারবে, তারপরই বাংলাদেশ ব্যাংক চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, "পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। সব শর্ত পূরণ হলেই চূড়ান্ত লাইসেন্স ইস্যু করা হবে।" পরবর্তী ধাপের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা কেউ এখনও জানায়নি, আর এই খাতের সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে ধৈর্য ধরাই ভালো।

তিন বছরের অপেক্ষা, মাঝে একটা কেলেঙ্কারিও ছিল

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম ডিজিটাল ব্যাংকিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে, তখন ৫২টি কোম্পানি আবেদন করেছিল আর মাত্র দুটি, কোরি ও নগদ, সম্মতিপত্র পেয়েছিল। নগদ পুরনো সরকারের আমলে চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়ে যায়, যে সিদ্ধান্ত পরে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে, আর কোরির অনুমোদন কার্যত আটকে থাকে যতদিন না নিয়ন্ত্রকরা নিয়মকানুন নতুন করে সাজান। দ্বিতীয় দফার আবেদনের সময়সীমা শেষ হয় ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর, তাতে আরও ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে, টেলিকম অপারেটর থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ব্যাংক আর বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী পর্যন্ত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি অনুমোদন এগিয়ে নেওয়ার একটা চেষ্টা ভেস্তে যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রতিবাদের মুখে, আর এতদিনে গিয়ে পর্ষদ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকায় স্থির হলো।

এই পুরো সময়ে প্রবেশের বাধা অনেকটাই বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের আগস্টে ডিজিটাল ব্যাংকিং নির্দেশিকা সংশোধন করে ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের সীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করেছে, যা প্রথম দফার আবেদন শুরুর সময়কার ১২৫ কোটি টাকার সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। নিয়ন্ত্রকরা বলছেন, এই সীমা বাড়ানো হয়েছে যাতে দুর্বল মূলধনের প্রতিষ্ঠানগুলো এমন একটা ব্যবসায় ঢুকে না পড়ে যেখানে শাখা না থাকা আর কম স্থায়ী খরচের সুবিধা নিয়ে দাম কমিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে। এর মানে এটাও যে, নতুন করে সুযোগ পাওয়া কিছু আবেদনকারীর পেছনে আছে টেলিকম অপারেটর বা প্রতিষ্ঠিত আর্থিক প্ল্যাটফর্ম, যাদের ব্যালান্স শিটে এই সীমা পেরোনো সহজ, অন্যদিকে ছোট, শুধু ফিনটেক নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ডিজিটাল ব্যাংক কী করতে পারবে, কী পারবে না

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বড় করপোরেট ঋণের ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য নয়। খান বলেন, "ডিজিটাল ব্যাংকগুলো ছোট গ্রাহকদের নিয়ে কাজ করবে, বড় ঋণ দেওয়ার অনুমতি তাদের থাকবে না।" অর্থাৎ পুরো মডেলটা গড়ে উঠবে ছোট আমানত, ক্ষুদ্রঋণ আর প্রতিদিনকার লেনদেন ঘিরে, যা পুরোপুরি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই হবে, শাখায় গিয়ে নয়। এই বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা সেই একই অবহেলিত অংশ, ছোট ব্যবসায়ী, দিনমজুর শ্রেণির কর্মী, গ্রামের পরিবার, যাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টায় বাংলাদেশের মোবাইল আর্থিক সেবা খাত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মিশ্র সাফল্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিকাশ আর নগদ মিলিয়ে এমনিতেই কোটি কোটি সক্রিয় গ্রাহক আছে, আর ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স থাকলে বিকাশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুদভিত্তিক আমানত আর আনুষ্ঠানিক ঋণ পণ্য দিতে পারবে, যা মোবাইল ওয়ালেট অপারেটর হিসেবে আইনগতভাবে দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর প্রকাশ্যেই বলেছেন, এই পুরো ডিজিটাল ব্যাংকিং উদ্যোগের সাফল্য মাপার আসল মাপকাঠি হওয়া উচিত এটাই, ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা কতজন মানুষ, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসার মালিকরা, শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঋণের নাগাল পেলেন। বাংলাদেশের ব্যাংক খাত বছরের পর বছর ধরে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাশ্রয়ী অর্থায়ন দিতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণ তাদের কাছে প্রচলিত ঋণদাতাদের চাওয়া জামানত বা কাগজপত্র প্রায়ই থাকে না। ডিজিটাল ব্যাংকগুলোকে এমনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে যেন তারা লেনদেনের তথ্য আর মোবাইল ব্যবহারের ধরন দিয়েই প্রচলিত ঋণ ইতিহাসের বিকল্প তৈরি করতে পারে।

টেলিকমের টাকা কেন বারবার এই তালিকায় আসছে

এটা কাকতালীয় নয় যে অনুমোদন পাওয়া পাঁচটির মধ্যে তিনটি, বিকাশ, বুস্ট আর নোভা, শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর বা তাদের সহযোগী ফিনটেক প্রতিষ্ঠানে। টেলিকম কোম্পানিগুলোর কাছে এমনিতেই প্রিপেইড রিচার্জ, মোবাইল ডেটা ব্যবহার আর বিকাশের ক্ষেত্রে বছরের পর বছরের ওয়ালেট লেনদেনের বিশাল তথ্যভান্ডার আছে, যেগুলো দিয়ে ঠিক সেই বিকল্প ক্রেডিট স্কোরিং তৈরি করা যায় যার ওপর ভরসা করে ডিজিটাল ব্যাংকগুলো এমন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে চাইছে যাদের কোনো আনুষ্ঠানিক আর্থিক ইতিহাস নেই। রবির বুস্টে বিনিয়োগ আর বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওনের নোভায় যুক্ত হওয়া কার্যত এক দশক আগে মোবাইল আর্থিক সেবা যে দৌড় শুরু করেছিল তারই ধারাবাহিকতা, যখন টেলিকম সংযুক্ত ওয়ালেটগুলো ব্যাংকভিত্তিক বিকল্পগুলোকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল মূলত একটা কারণে, তাদের কাছে মোবাইল ফোনের মতো বিতরণ নেটওয়ার্ক ছিল যা প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ছিল না। সেই একই সুবিধা আমানত সংগ্রহ আর ঋণদানেও কাজ করবে কিনা, যা মোবাইল ওয়ালেট চালানোর চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত একটা ব্যবসা, সেটাই এখন লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার এই পরবর্তী ধাপে পরীক্ষা হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে দেরিতে এসেছে, ভারত আর পাকিস্তান এই খাতে কয়েক বছর ধরেই সীমিত পরিসরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে, ফলও মিশ্র। এখানকার নিয়ন্ত্রকরা সতর্কতার পথ বেছে নিয়েছেন অনেকটা মোবাইল আর্থিক সেবা নিয়ে দেশের নিজস্ব অভিজ্ঞতার কারণেই, যা দ্রুত বেড়েছিল কিন্তু সঙ্গে এজেন্ট প্রতারণা, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা আর গ্রাহক সুরক্ষার ফাঁকফোকর নিয়ে ক্রমাগত উদ্বেগ তৈরি করেছিল, যা ঠিক করতে বছরের পর বছর লেগেছে। ৩০০ কোটি টাকার মূলধন সীমা, ছোট গ্রাহকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার শর্ত, আর আবেদন থেকে সম্মতিপত্র হয়ে চূড়ান্ত লাইসেন্স পর্যন্ত দীর্ঘ বছরব্যাপী প্রক্রিয়া, সবকিছু মিলিয়ে মনে হয় বড় পরিসরে গিয়ে আগের ভুলগুলো এড়ানোর চেষ্টা, যদিও এর ফল হলো প্রযুক্তি তৈরি হওয়ার বহু বছর পর গিয়ে বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাত বাস্তবে চালু হচ্ছে।

ডিজিটাল ব্যাংকমূল উদ্যোক্তাএই অনুমোদনের আগের অবস্থা
বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকবিকাশ শেয়ারহোল্ডাররাদ্বিতীয় দফায় নতুন আবেদনকারী
বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকরবি আজিয়াটাদ্বিতীয় দফায় নতুন আবেদনকারী
নোভা ডিজিটাল ব্যাংকভিওন (বাংলালিংক) ও স্কয়ার গ্রুপদ্বিতীয় দফায় নতুন আবেদনকারী
ডিকে ডিজিটাল ব্যাংকডিকে ব্যাংক, ভুটানদ্বিতীয় দফায় নতুন আবেদনকারী
কোরি ডিজিটাল ব্যাংকহাবিবুল্লাহ এন করিম / টেকনোহেভেন২০২৩ সালের প্রথম দফা থেকে ঝুলে থাকা

নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন এখন ৩০০ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে প্রথম দফার আবেদন শুরুর সময় যা ছিল ১২৫ কোটি টাকা।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

কেন আপনার দোকানের ট্রেড লাইসেন্স এখন বাংলা কিউআর কোড দেখানোর ওপর নির্ভর করছে

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া বা নবায়ন করার সঙ্গে এখন একটা অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত হয়েছে, বাংলা কিউআর পেমেন্ট গ্রহণ করছেন তা দেখাতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা আর জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে লাইসেন্সিংয়ের শর্ত হিসেবে বাংলা কিউআর সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করতে, আর এই মাসে তাদের বলেছে মাঠপর্যায়ে এটা কার্যকর করা শুরু করতে। এই নিয়ম এক বছরের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনার ওপর দাঁড়িয়ে, যার পেছনে আছে ব্যাংক আর পেমেন্ট প্রদানকারীদের জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আর কারাদণ্ডের বিধান।

আজ থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্ট বিনামূল্যে আর তাৎক্ষণিক, খরচ বহন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ সেপ্টেম্বর নিশ্চিত করেছে যে ১ অক্টোবর থেকে প্রতিটা বাংলা কিউআর মার্চেন্ট পেমেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে জমা হবে, সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট তুলে দেওয়া হয়েছে আর ইন্টারচেঞ্জ ফি শূন্যে নামানো হয়েছে, যাতে ব্যাংকগুলো এই সেবা বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে দিতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজস্ব প্রণোদনা দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করবে, প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা পর্যন্ত, যা এমন একটা নেটওয়ার্কের ওপর বাজি যার লেনদেনের পরিমাণ গত ৯০ দিনেই ৩.৫ গুণ বেড়েছে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনও ১ নভেম্বর থেকে একইভাবে তাৎক্ষণিক হবে, আর গ্রাহকরা কীভাবে সেবাটা ব্যবহার করেন তার কয়েকটা ঘাটতি ঠিক করতে ব্যাংকগুলোর হাতে সময় আছে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

বাংলাদেশে স্টার্টআপ বিনিয়োগ পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে, ঘাটতি পূরণে সরকারের নতুন ৪০০ কোটি টাকার তহবিল

বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো এ বছরের প্রথমার্ধে বিনিয়োগ পেয়েছে মাত্র ৬০ লাখ ডলার, ২০২৫ সালের একই সময়ের ১২ কোটি ডলারের তুলনায় যা ৯৫ শতাংশ কম, অথচ একই সময়ে বৈশ্বিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সরকারের জবাব হলো স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত ৪০০ কোটি টাকার একটা ফান্ড অব ফান্ডস, যেটা আগস্ট থেকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আগ্রহপত্র নেওয়া শুরু করেছে, লক্ষ্য সরকারি টাকা সেই বেসরকারি তহবিলগুলোর মাধ্যমে পাঠানো যাদের সাথে স্টার্টআপরা প্রতিদিন কাজ করে। প্রতিষ্ঠাতা আর শিল্প সংশ্লিষ্টরা দায়ী করছেন পরিচিত কিছু সমস্যাকে, ডলার সংকট, একাধিক সংস্থা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা নিয়ন্ত্রণ আর বেরিয়ে আসার সীমিত পথ, যেগুলো একটামাত্র সরকারি তহবিল দিয়ে মেটানো কঠিন। চারশো কোটি টাকা দিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রায় এগারো কোটি চল্লিশ লাখ ডলারের ঘাটতি সত্যিই কতটা পূরণ হবে, সেটাই এখন আসল প্রশ্ন।