স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি

কেন আপনার দোকানের ট্রেড লাইসেন্স এখন বাংলা কিউআর কোড দেখানোর ওপর নির্ভর করছে

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া বা নবায়ন করার সঙ্গে এখন একটা অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত হয়েছে, বাংলা কিউআর পেমেন্ট গ্রহণ করছেন তা দেখাতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা আর জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে লাইসেন্সিংয়ের শর্ত হিসেবে বাংলা কিউআর সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করতে, আর এই মাসে তাদের বলেছে মাঠপর্যায়ে এটা কার্যকর করা শুরু করতে। এই নিয়ম এক বছরের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনার ওপর দাঁড়িয়ে, যার পেছনে আছে ব্যাংক আর পেমেন্ট প্রদানকারীদের জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আর কারাদণ্ডের বিধান।

১৬ অক্টোবর, ২০২৬আরও পড়ুন

আজ থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্ট বিনামূল্যে আর তাৎক্ষণিক, খরচ বহন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ সেপ্টেম্বর নিশ্চিত করেছে যে ১ অক্টোবর থেকে প্রতিটা বাংলা কিউআর মার্চেন্ট পেমেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে জমা হবে, সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট তুলে দেওয়া হয়েছে আর ইন্টারচেঞ্জ ফি শূন্যে নামানো হয়েছে, যাতে ব্যাংকগুলো এই সেবা বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে দিতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজস্ব প্রণোদনা দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করবে, প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা পর্যন্ত, যা এমন একটা নেটওয়ার্কের ওপর বাজি যার লেনদেনের পরিমাণ গত ৯০ দিনেই ৩.৫ গুণ বেড়েছে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনও ১ নভেম্বর থেকে একইভাবে তাৎক্ষণিক হবে, আর গ্রাহকরা কীভাবে সেবাটা ব্যবহার করেন তার কয়েকটা ঘাটতি ঠিক করতে ব্যাংকগুলোর হাতে সময় আছে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

২ অক্টোবর, ২০২৬আরও পড়ুন

বাংলাদেশে স্টার্টআপ বিনিয়োগ পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে, ঘাটতি পূরণে সরকারের নতুন ৪০০ কোটি টাকার তহবিল

বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো এ বছরের প্রথমার্ধে বিনিয়োগ পেয়েছে মাত্র ৬০ লাখ ডলার, ২০২৫ সালের একই সময়ের ১২ কোটি ডলারের তুলনায় যা ৯৫ শতাংশ কম, অথচ একই সময়ে বৈশ্বিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সরকারের জবাব হলো স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত ৪০০ কোটি টাকার একটা ফান্ড অব ফান্ডস, যেটা আগস্ট থেকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আগ্রহপত্র নেওয়া শুরু করেছে, লক্ষ্য সরকারি টাকা সেই বেসরকারি তহবিলগুলোর মাধ্যমে পাঠানো যাদের সাথে স্টার্টআপরা প্রতিদিন কাজ করে। প্রতিষ্ঠাতা আর শিল্প সংশ্লিষ্টরা দায়ী করছেন পরিচিত কিছু সমস্যাকে, ডলার সংকট, একাধিক সংস্থা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা নিয়ন্ত্রণ আর বেরিয়ে আসার সীমিত পথ, যেগুলো একটামাত্র সরকারি তহবিল দিয়ে মেটানো কঠিন। চারশো কোটি টাকা দিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রায় এগারো কোটি চল্লিশ লাখ ডলারের ঘাটতি সত্যিই কতটা পূরণ হবে, সেটাই এখন আসল প্রশ্ন।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬আরও পড়ুন

পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংককে চালুর প্রস্তুতির অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংককে সম্মতিপত্র দিয়েছে, যার মধ্যে আছে বিকাশ, রবি আজিয়াটা আর বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওনের সমর্থনপুষ্ট উদ্যোগ, তিন বছর ধরে চলা লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় ১৪টি আবেদনকারীর মধ্য থেকে বেছে নিয়ে। এই অনুমোদন এখনো শর্তসাপেক্ষ প্রথম ধাপ মাত্র, চূড়ান্ত লাইসেন্স নয়, আর সঙ্গে এসেছে অনেক বেশি মূলধনের শর্ত, ৩০০ কোটি টাকা, যাতে দুর্বল মূলধনের প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ে। নিয়ন্ত্রকরা বলছেন এই শাখাবিহীন ব্যাংকগুলো ছোট গ্রাহক ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারদের জন্য, প্রচলিত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে করপোরেট ঋণে প্রতিযোগিতার জন্য নয়। এই মডেল সত্যিই আনুষ্ঠানিক ঋণের নাগাল বাড়াবে কিনা তা এখনো পরীক্ষিত নয়, আসল ফল জানতে এখনো বছরের পর বছর লাগবে।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬আরও পড়ুন

১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্টে তাৎক্ষণিক সেটেলমেন্টের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার আর পেমেন্ট অপারেটরকে নির্দেশ দিয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্ট লেনদেন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে। এই নিয়ম বছরের পর বছরের সেই অসামঞ্জস্যতা দূর করছে, যেখানে ছোট ব্যবসায়ীরা সেদিনই টাকা পেতেন কিন্তু বড় দোকানকে কখনো কখনো পুরো এক কর্মদিবস অপেক্ষা করতে হতো। এটা আগস্টের একটা সিদ্ধান্তের পরের ধাপ, যেখানে ছোট লেনদেনে ব্যবসায়ীদের ফি শূন্যে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার লক্ষ্য বাংলাদেশের দোকানপাটে ডিজিটাল পেমেন্টকে ব্যতিক্রম না রেখে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা। প্রোভাইডারদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে অ্যাপের হোম স্ক্রিন নতুন করে সাজাতে হবে আর সব হিসাবধারীর জন্য বাংলা কিউআর স্ক্যানিং খুলে দিতে হবে।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬আরও পড়ুন

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ কর্মসূচি, জামানত ছাড়াই মিলবে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশজুড়ে চালু করেছে উদ্যোগ নামের একটা জামানতমুক্ত অর্থায়ন কর্মসূচি, যেখানে উপজেলা পর্যায়ে ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণের জন্য তরুণ উদ্যোক্তারা পাবেন সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা, সমান ভাগে ব্যাংক ঋণ ও সরাসরি অনুদান হিসেবে। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২৮ বা তার কম, ঋণখেলাপির কোনো রেকর্ড থাকা যাবে না, আর সরকারি খাতে চাকরিরত হওয়া যাবে না, আর নির্বাচনী প্যানেল ব্যবসা পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা ও কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা বিচার করবে। প্রায় ৬৪০ জন উদ্যোক্তা নিয়ে একটা প্রাথমিক পাইলটের পর এই কর্মসূচি এমন এক সময়ে এলো যখন ব্যাংকিং খাতে ঋণযোগ্য গ্রাহকের অভাবে রেকর্ড পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য অলস পড়ে আছে।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬আরও পড়ুন

গ্রাহক কমে যাওয়ার মধ্যেই এআই সাবস্ক্রিপশনে বাজি ধরছে বাংলাদেশের টেলিকম জায়ান্টরা

এই মাসে গ্রামীণফোন আর রবি একদিনের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সাবস্ক্রিপশন বান্ডেল চালু করেছে, যেখানে একটামাত্র মোবাইল পেমেন্টে চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, ক্লদ আর ডিপসিক ব্যবহারের সুযোগ মিলছে, কারণ বাংলাদেশের টেলিকম অপারেটররা মৌলিক সংযোগের বাইরে নতুন আয়ের উৎস খুঁজছে। এই উদ্যোগ এমন সময়ে এলো যখন দেশের ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ছয় মাসে প্রায় ৭০ লাখ কমে গেছে, আর বৈশ্বিকভাবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত টেলিকম আয় প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। ক্রেডিট কার্ডের বদলে মোবাইল ব্যালেন্স দিয়ে টাকা নেওয়ার সুযোগ দিয়ে, যে পেমেন্ট পদ্ধতি বাংলাদেশের ২ শতাংশেরও কম মানুষের আছে, অপারেটররা বাজি ধরছে এআই প্রবেশাধিকার নিছক আরেকটা বিপণন প্রচারণা না হয়ে সত্যিকারের নতুন একটা আয়ের খাত হয়ে উঠতে পারে।

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬আরও পড়ুন

বাংলাদেশের ই-বর্জ্য থেকে বছরে আয় হতে পারে ২০ কোটি ডলার, অথচ রিসাইকেল হচ্ছে সামান্যই

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য জমা হয়, আর গবেষকরা বলছেন এর ভেতরে থাকা পুনরুদ্ধারযোগ্য ধাতুর মূল্য বছরে ২০ থেকে ২২.১ কোটি মার্কিন ডলার। এর দশ শতাংশেরও কম আনুষ্ঠানিকভাবে রিসাইকেল হয়, আর সরকারি হিসাব বলছে গত অর্থবছরে নিবন্ধিত রিসাইক্লারদের সংগ্রহ করা ই-বর্জ্যের পরিমাণ ছিল শূন্য টন। এই ফাঁকটাই এখন হাতেগোনা কয়েকটি ছোট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টার্টআপের কাছে হয় সংকট, নয়তো এখনও কেউ দখল করেনি এমন সবচেয়ে বড় সুযোগ।

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬আরও পড়ুন