বৈদেশিক মুদ্রা ও রেমিট্যান্স

বাংলাদেশের অক্টোবরের রেমিট্যান্স ২.৩৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের কাছে স্থির

৩০ অক্টোবর, ২০২৬3 মিনিটের পড়া
বাংলাদেশের অক্টোবরের রেমিট্যান্স ২.৩৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের কাছে স্থির

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীরা অক্টোবরের প্রথম ২৮ দিনে দেশে পাঠিয়েছেন ২,৩৩৯ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের চেয়ে ৯.৯ শতাংশ বেশি। অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট প্রবাহ ৯,৯২৫ মিলিয়ন ডলার, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৪.৪ শতাংশ বেশি। প্রবৃদ্ধির গতি অর্থবছরের শুরুর দিকের চেয়ে কিছুটা কমেছে, তবে রিজার্ভ আর বিনিময় হার স্থির রাখার পেছনে রেমিট্যান্সই এখনও মূল শক্তি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশিরা অক্টোবরের প্রথম ২৮ দিনে দেশে পাঠিয়েছেন ২,৩৩৯ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯.৯ শতাংশ বেশি। মাস শেষ হতে আর দুই দিন বাকি থাকতেই রেমিট্যান্স গত বছরের কাছাকাছি একটা জায়গায় পৌঁছে গেছে, যার ফলে চলতি অর্থবছরের মোট প্রবাহ আগের অর্থবছরের চেয়ে স্বস্তিদায়কভাবে এগিয়ে আছে, যদিও মাস ভিত্তিক প্রবৃদ্ধির গতি বছরের শুরুর দিকের তীক্ষ্ণ বৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা ধীর হয়ে এসেছে।

  • অক্টোবরের প্রথম ২৮ দিনে রেমিট্যান্স পৌঁছেছে ২,৩৩৯ মিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের ২,১২৯ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৯.৯ শতাংশ বেশি।
  • ১ জুলাই থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত অর্থবছরে মোট প্রবাহ ৯,৯২৫ মিলিয়ন ডলার, আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮,৬৭২ মিলিয়ন ডলার, বৃদ্ধি প্রায় ১৪.৪ শতাংশ।
  • অক্টোবরের প্রবৃদ্ধির হার অর্থবছরের শুরুর দিকের গতির চেয়ে ধীর, গ্রীষ্মের পর থেকে বেশিরভাগ মাসেই এই প্যাটার্ন দেখা গেছে।
  • এই প্রান্তিকে রিজার্ভ আর বিনিময় হার তুলনামূলক স্থির থেকেছে, আর এই স্থিতিশীলতার পেছনে রেমিট্যান্সের ভূমিকাই সবচেয়ে বড়।
সময়কালএই বছরগত বছরপরিবর্তন
অক্টোবর (প্রথম ২৮ দিন)২,৩৩৯ মিলিয়ন ডলার২,১২৯ মিলিয়ন ডলার+৯.৯%
অর্থবছর এখন পর্যন্ত (১ জুলাই থেকে ২৮ অক্টোবর)৯,৯২৫ মিলিয়ন ডলার৮,৬৭২ মিলিয়ন ডলার+১৪.৪%

অর্থবছর এখনও এগিয়ে, কিন্তু আগের মতো দৌড়াচ্ছে না

মূল পরিসংখ্যানটা সহজ, বাংলাদেশ এখনও এই অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি রেমিট্যান্স পাচ্ছে। জুলাই থেকে অক্টোবরের শেষের দিক পর্যন্ত পাঠানো ৯,৯২৫ মিলিয়ন ডলার আগের অর্থবছরের একই চার মাসের চেয়ে প্রায় ১,২৫৩ মিলিয়ন ডলার বেশি, যা প্রায় ১৪.৪ শতাংশ বৃদ্ধি। যে অর্থনীতি আমদানি বিল মেটাতে আর রিজার্ভ ধরে রাখতে বড় অংশে রেমিট্যান্সের উপর নির্ভর করে, তার জন্য এটা একটা ভালো গতি।

যা বদলেছে তা হলো বছরের মধ্যে প্রবৃদ্ধির ধরন। এই অর্থবছরের শুরুর মাসগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক স্মৃতিতে সবচেয়ে তীক্ষ্ণ বছরওয়ারি বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছিল, যার একটা কারণ ছিল গত বছরের তুলনামূলক সময়টা রাজনৈতিক পরিবর্তন আর ব্যাংক খাতে অস্থিরতার কারণে দুর্বল ছিল। অক্টোবরের ৯.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এখনও ভালো, কিন্তু এটা সেই শুরুর গতির চেয়ে কিছুটা কম, যা গত বছরের দুর্বল মাসগুলোর প্রভাব কমে যাওয়ার পর অর্থনীতিবিদরা মোটামুটি যেমন প্রত্যাশা করেছিলেন তেমনই।

প্রবৃদ্ধি কমলেও টাকা আসা থামছে না কেন

বছরওয়ারি তুলনা কঠিন হয়ে উঠলেও কিছু কারণ এখনও প্রবাহ বাড়িয়ে রাখছে। গত দুই বছরে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা উঁচু পর্যায়ে থেকেছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশে টাকা পাঠানো মানুষের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি বিনিময় হার আর অনানুষ্ঠানিক "হুন্ডি" চ্যানেলের মধ্যে ফারাক কমানোর যে চেষ্টা করেছে, তাতেও আইনি পথে টাকা পাঠানো তুলনামূলক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, যা কর্মকর্তারা বারবার উল্লেখ করেছেন রেকর্ড করা রেমিট্যান্স কেন পূর্বাভাসের চেয়ে ভালো করছে তা বোঝাতে।

মৌসুমি সময়ও একটা ভূমিকা রাখে। বিদেশে থাকা শ্রমিকরা প্রায়ই উৎসব আর নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে বাড়তি টাকা পাঠান, আর অক্টোবর এমন কয়েকটা সময়ের কাছাকাছি পড়ে যে ক্যালেন্ডারের কয়েকদিনের ফারাকই মাসিক পরিসংখ্যান কোটি কোটি ডলার এদিক ওদিক করে দিতে পারে।

আপনার জন্য এর মানে কী

আপনার পরিবার যদি বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার উপর নির্ভর করে, তাহলে বাস্তব বিষয়টা হলো সাম্প্রতিক ইতিহাসের তুলনায় প্রবাহ এখনও বেশ ভালো, যদিও বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে, তাই গত বছরের কিছু মাসে যেমন আকস্মিক পতন দেখা গিয়েছিল তেমন কিছু হওয়ার আশঙ্কা কম। আপনি যদি বিদেশ থেকে টাকা পান আর কখন এবং কীভাবে তা রূপান্তর করবেন তা ঠিক করছেন, তাহলে এই সাইটের কারেন্সি কনভার্টার প্রকাশিত হার অনুসরণ করে, যা দিয়ে পাঠানো বা তোলার আগেই মোটামুটি বুঝে নেওয়া যায় টাকায় তার মূল্য কত। ব্যবসায়ী আর আমদানিকারকদের জন্য, স্থিতিশীল রেমিট্যান্স প্রবাহ এই প্রান্তিকে বিনিময় হার তুলনামূলক শান্ত থাকার একটা বড় কারণ, যা সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ যদি আপনি আমদানি করা উপকরণের দাম ঠিক করেন বা মাস আগে থেকে ডলারে পরিশোধের পরিকল্পনা করেন।

অর্থনীতির বড় ছবিটা হলো, এই অর্থবছরে রপ্তানির চেয়ে রেমিট্যান্সই বেশি ভার বহন করছে, আর ২০২৬ সালের বেশিরভাগ সময় এই প্যাটার্নই দেখা গেছে। এতে রিজার্ভ সমর্থিত থাকে, কিন্তু এর মানে এটাও যে বৈদেশিক খাতের সুস্থতা একটা মাত্র উৎসের ডলারের উপর যতটা নির্ভরশীল, নীতিনির্ধারকরা সম্ভবত তা চান না।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

বাংলাদেশের রিজার্ভ কমে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলারে, দুই মাসের আঞ্চলিক বিল মেটানোর পর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫ নভেম্বর কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলারে, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের মাধ্যমে ১.৬৪ বিলিয়ন ডলারের আঞ্চলিক আমদানি বিল মেটানোর পর। আগের দিন রিজার্ভ ছিল ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার। দুই মাস পর পর আসা এই এসিইউ নিষ্পত্তি নিয়মিত কিন্তু বড় অঙ্কের একটি চাপ, এবং এবারের দফা টাকাকে স্থির রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০০ মিলিয়ন ডলার বিক্রির পরপরই এল। এই পতন মনে করিয়ে দেয়, ২০২৪ সালের তলানি থেকে অনেক উঁচুতে থাকলেও রিজার্ভের বালিশ এখনও আঞ্চলিক বাণিজ্য লেনদেন আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের তালেই ওঠানামা করে।

ডলারের দাম ১২৪ টাকা পার হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করল

এই সপ্তাহে ইন্টারব্যাংক ডলার রেট পৌঁছেছে ১২৪.৩৫ টাকায়, যা বছরের পর বছর দেখা যায়নি, আর তাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ নভেম্বর আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে, প্রায় দেড় বছর বিরত থাকার পর আট দিনে এটাই তাদের দ্বিতীয় ডলার বিক্রি। কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে জ্বালানি আমদানি খরচ বাড়ানোর কারণ বলছেন, আর আশা করছেন যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের রাজনীতিতে পরিবর্তন শীঘ্রই এই চাপ কমাতে পারে।

বাংলাদেশের অক্টোবরের রেমিট্যান্স দাঁড়াল ২.৮৭ বিলিয়ন ডলারে, টানা পঞ্চম মাস ৩ বিলিয়নের নিচে

অক্টোবরে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৮৭ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের তুলনায় ১২.১৮ শতাংশ বেশি, কিন্তু টানা পঞ্চম মাসের মতো তা ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে এই গতি নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার ওপর, একই মাসে টাকার বিপরীতে ডলারের দরও কিছুটা বেড়েছে।