পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ২০২০ সালের পর প্রথমবার ২০ টাকার নিচে, লোকসান বাড়ছে

৪ নভেম্বর, ২০২৬6 মিনিটের পড়া
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ২০২০ সালের পর প্রথমবার ২০ টাকার নিচে, লোকসান বাড়ছে

রবিবার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ার নেমে এসেছে ১৯.৫০ টাকায়, যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে কম, ব্যাংকটি নয় মাসে প্রায় ৩,২৮৬ কোটি টাকা লোকসানের তথ্য প্রকাশ করার পর। শ্রেণীকৃত ঋণ এখন ব্যাংকের মোট ঋণ বিতরণের ৫১ শতাংশ, আর নিয়ন্ত্রকদের চাহিদার তুলনায় ব্যাংক মাত্র সামান্য অংশই প্রভিশন রেখেছে। এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ শেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বোর্ড ভেঙে দেওয়ার দুই বছরের বেশি সময় পরও এই দরপতন দেখাচ্ছে পরিষ্কারের কাজ এখনো কতটা বাকি।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারের দাম রবিবার ৫.৩৪ শতাংশ কমে ১৯.৫০ টাকায় নেমে এসেছে, যা ২০২০ সালের পর প্রথমবারের মতো ২০ টাকার নিচে নামলো। দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি, যা একসময় ইসলামী ব্যাংকিং খাতের গর্ব ছিল, তার জন্য এই দরপতন এক কঠিন সময়ের চূড়ান্ত পরিণতি। আর এটা ঘটলো ব্যাংকটি নয় মাসের লোকসানের হিসাব প্রকাশ করার কয়েক দিনের মধ্যেই, যে লোকসান বিনিয়োগকারীরা আগে থেকে আশঙ্কা করলেও মেনে নিতে পারছেন না।

মূল বিষয়গুলো এক নজরে

  • ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ৫.৩৪ শতাংশ কমে ১৯.৫০ টাকায় নেমেছে, যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে কম এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ছোঁয়া ৬৪ টাকার রেকর্ড থেকে অনেক দূরে।
  • ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির সমন্বিত লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,২৮৬ কোটি টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যেখানে মুনাফা ছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
  • শ্রেণীকৃত ঋণ ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৯৪,৩২২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণ বিতরণের প্রায় ৫১ শতাংশ।
  • প্রয়োজনীয় প্রভিশন ছিল ৯২,৫৩৭.৫৭ কোটি টাকা, কিন্তু ব্যাংক রেখেছিল মাত্র ৭,৯২২.৪১ কোটি টাকা, অর্থাৎ ঘাটতি ৮৪,০০০ কোটি টাকার বেশি।

ছয় বছরের সর্বনিম্ন, বাজার আর ভালো খবরের অপেক্ষায় নেই

১৯.৫০ টাকা শুধু ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একটা খারাপ দিন নয়। এটা ইসলামী ব্যাংকের ২০২০ সালের পর সবচেয়ে কম দাম, এবং এর ফলে ব্যাংকটির বাজারমূল্য নেমে এসেছে প্রায় ৩,১৩৯ কোটি টাকায়, যা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের ৬৪ টাকার শীর্ষ অবস্থান থেকে প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা কম। দেশের সবচেয়ে বড় শাখা নেটওয়ার্ক আর আমানতের ভিত্তি থাকা একটা ব্যাংকের জন্য এটা অবাক করার মতো কম বাজারমূল্য। প্রায় এক দশক ধরে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণে থাকা মালিকানা কাঠামো ভেঙে দেওয়ার পর থেকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কতটা কমে গেছে, এটা তারই প্রতিফলন।

মতিঝিলের ট্রেডিং ডেস্কগুলো এখন ইসলামী ব্যাংকের খবরে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, কিন্তু রবিবারের এই দরপতন আলাদাভাবে চোখে পড়ার কারণ হলো এর সঙ্গে জুড়ে থাকা সংখ্যাটা, নয় মাসে সমন্বিতভাবে প্রায় ৩,২৮৬ কোটি টাকা লোকসান, যেখানে এককভাবে লোকসান ৩,৩০২.৫৭ কোটি টাকা এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকেই লোকসান ১,৯৭০.১৮ কোটি টাকা। এক বছর আগে একই নয় মাসে ব্যাংকটি প্রায় ১০০ কোটি টাকার মতো মুনাফা করেছিল। এক বছরের মধ্যে মুনাফা থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার লোকসানে এই উল্টে যাওয়া সাম্প্রতিক সময়ে তালিকাভুক্ত কোনো বাংলাদেশি ব্যাংকের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটা।

লোকসানের আসল কারণ কী

ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী এর পেছনে দুটো বড় কারণ আছে। ব্যাংকটি বলছে, তাদের বিনিয়োগ আয়, অর্থাৎ ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ম অনুসারে অর্থায়ন ও বিনিয়োগ কার্যক্রম থেকে পাওয়া মুনাফা, শ্রেণীকৃত বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের অর্থ আত্মসাতের কারণে ব্যাপকভাবে কমে গেছে। শ্রেণীকৃত বিনিয়োগ হলো প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের অকার্যকর ঋণের ইসলামী সংস্করণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, ব্যাংকটি আমানতকারীদের যে মুনাফা দিচ্ছে তা তাদের সম্পদ থেকে উপার্জনের চেয়ে বেশি, যার ফলে দুই দিক থেকেই মুনাফায় চাপ পড়ছে।

খারাপ সম্পদের সমস্যার আসল চিত্র বোঝা যায় ব্যাংকটির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে। শ্রেণীকৃত ঋণ বছরে বছরে ৪৪ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৯৪,৩২২ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণ বিতরণের ৫১ শতাংশ, ২০২৪ সালের ৪২.৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে। সহজ কথায়, ইসলামী ব্যাংক যত টাকা ঋণ দিয়েছে তার অর্ধেকের বেশি এখন পুরোপুরি ফেরত না পাওয়ার ঝুঁকিতে আছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী এই খারাপ সম্পদের বিপরীতে ৯২,৫৩৭.৫৭ কোটি টাকা প্রভিশন রাখার কথা ছিল। কিন্তু ব্যাংকটি আসলে রেখেছিল মাত্র ৭,৯২২.৪১ কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৪,০০০ কোটি টাকার বেশি, যা কার্যত ব্যাংকের হিসাবের খাতায় এক অস্বীকৃত গর্তের মতো থেকে যাচ্ছে।

"বছরের পর বছর ধরে আগের মালিকানার সময় যে ঝুঁকিগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, খারাপ ঋণের এই উল্লম্ফন সেখান থেকেই এসেছে," নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, যিনি এস আলম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত অর্থায়নের কথা উল্লেখ করেন। এই গ্রুপ ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।
সূচক২০২৫ (৯ মাস)২০২৬ (৯ মাস)
সমন্বিত মুনাফা বা লোকসানপ্রায় ১০০ কোটি টাকা মুনাফাপ্রায় ৩,২৮৬ কোটি টাকা লোকসান
শ্রেণীকৃত ঋণ (ঋণ বিতরণের অংশ)৪২.৩৬ শতাংশ৫১ শতাংশ
শ্রেণীকৃত ঋণ (পরিমাণ)আনুমানিক ৬৫,৫০০ কোটি টাকা৯৪,৩২২ কোটি টাকা
প্রয়োজনীয় প্রভিশনএই প্রতিবেদনে প্রকাশিত নয়৯২,৫৩৭.৫৭ কোটি টাকা
প্রকৃত প্রভিশনএই প্রতিবেদনে প্রকাশিত নয়৭,৯২২.৪১ কোটি টাকা

এস আলমের ব্যাংক থেকে রাষ্ট্রের মাথাব্যথা

ইসলামী ব্যাংকের সমস্যা এস আলম গ্রুপের উত্থান আর পতনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এই গ্রুপ ২০১৭ সালে ব্যাংকটির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অনুসন্ধান অনুযায়ী, বোর্ডের ওপর তাদের দখল ব্যবহার করে পরিশোধের সামর্থ্য বিবেচনা না করেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিপুল অর্থায়ন সরিয়ে নিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের জুনে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি চালানোর জন্য একজন প্রশাসক নিয়োগ করে, আর দৈনন্দিন কার্যক্রম দেখছেন একজন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সেই হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল রক্তক্ষরণ থামিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করা। রবিবারের এই সংখ্যাগুলো দেখাচ্ছে যে পরিষ্কারের কাজ এখনো এমন লোকসান খুঁজে পাচ্ছে যেগুলো সমাধান না করে বরং লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

২০২৪ সালের আগে রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত মালিকদের হাতে কার্যত দখল হয়ে যাওয়া আরও কয়েকটা ব্যাংকে একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশাসকদের ব্যাংকের বইয়ের আসল অবস্থা সামনে আনতে বছরের পর বছর ধরে লুকিয়ে রাখা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। এই প্রক্রিয়া বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বেদনাদায়ক, কারণ নতুন তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তাদের শেয়ারের দাম নতুন করে নিচে নামছে, কিন্তু নিয়ন্ত্রকরা সাধারণত বলছেন, কোনো বিশ্বাসযোগ্য পুনঃপুঁজিকরণ বা একত্রীকরণের আগে এটা প্রয়োজনীয়। যারা বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর এফডিআর সুদের হার তুলনা করে দেখছেন, তাদের জানা ভালো যে এই ধরনের প্রশাসক-পরিচালিত পুনর্গঠনের মধ্যে থাকা ব্যাংকগুলো প্রায়ই তরলতা ধরে রাখতে আমানতের ওপর বেশি আকর্ষণীয় মুনাফা দিতে চায়, এমনকি তাদের ইকুইটি কমতে থাকলেও।

আপনার জন্য এর মানে কী

আপনার কাছে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার থাকলে সত্যি কথা হলো, মৌলিক অবস্থা এখনো স্থিতিশীল হয়নি, এবং যে ব্যাংক এখনো হাজার হাজার কোটি টাকার অপ্রভিশনকৃত খারাপ ঋণ খুঁজে পাচ্ছে, সেই ব্যাংকের তলানি এখনো স্পষ্টভাবে ছোঁয়া হয়েছে বলা যায় না। আপনি যদি আমানতকারী হন, তাহলে আপনার টাকার অবস্থান শেয়ারহোল্ডারের মতো নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসক-নেতৃত্বাধীন তদারকির লক্ষ্যই হলো একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংককে আমানতকারীদের জন্য সচল রাখা, এমনকি যখন এর ইকুইটি ধারকরা লোকসান বহন করছেন, আর ঠিক এই রকম পরিস্থিতির জন্যই আমানত বিমা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা ব্যবস্থা তৈরি করা। যারা দৈনন্দিন ব্যাংকিংয়ের জন্য ইসলামী ব্যাংকের ওপর নির্ভর করেন, তাদের প্রশাসকের পুনর্গঠন কাজ চলতে থাকার সময় সেবার মান বা হিসাবের শর্তে কোনো পরিবর্তন হলে খেয়াল রাখা উচিত, কিন্তু এখন পর্যন্ত আমানতকারীদের টাকা তোলার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকির আভাস নেই।

বিস্তৃতভাবে বিনিয়োগকারীদের জন্য ইসলামী ব্যাংকের এই দরপতন একটা মনে করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ এখনো অনেক দূর বাকি। গত দুই বছরে মালিকানা বদল হওয়া বা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে আসা আরও কয়েকটা ব্যাংক একই রকম পুরনো সমস্যা নিয়ে কাজ করছে, এবং নতুন তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তাদের শেয়ারের দামও একইরকম অনিশ্চিতভাবে ওঠানামা করেছে। এখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাংক শেয়ার তুলনা করা যে কেউ আসলে এটাও বিচার করার চেষ্টা করছেন যে পুরনো মালিকানার আমল থেকে কতটা খারাপ খবর এখনো সামনে আসতে বাকি আছে।

মূল কথা

ইসলামী ব্যাংকের ২০ টাকার নিচে নেমে যাওয়াটা শুধু একদিনের ঘটনা নয়, এটা বরং দেখিয়ে দেয় যে এর আগের নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডারকে সরিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনের দুই বছরেরও বেশি পরে ব্যাংকটির সমস্যা কতটা গভীর। ঋণ বিতরণের অর্ধেকের বেশি শ্রেণীকৃত ঋণ হয়ে যাওয়া আর নিয়ন্ত্রকদের চাহিদার দশ ভাগের এক ভাগেরও কম প্রভিশন থাকার মধ্যে, ব্যাংকটির স্থিতিশীলতায় ফেরার পথ দীর্ঘ মনে হচ্ছে, যদিও এর প্রশাসক এর মধ্যে আমানতকারীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখার চেষ্টা করছেন।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

নয় মাসের আয় মৌসুমে ব্যাংক এশিয়ার মুনাফা ৩৪ শতাংশ লাফ দিল, সিটি ব্যাংকের স্থির ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

ব্যাংক এশিয়ার জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭২ কোটি টাকায়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নয় মাসের আয় মৌসুমে সিটি ব্যাংকের তুলনামূলক স্থির ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে ৮৬৭.৩৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে। ব্যাংক এশিয়ার প্রবৃদ্ধির পেছনে ছিল গ্রাহক আমানতে ১৯ শতাংশ লাফ আর খেলাপি ঋণের উন্নত হার, আবার সিটি ব্যাংকের বড় মুনাফার ভিত্তি কম শতাংশ প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রকৃত টাকার অঙ্কে বেশি যোগ করেছে। এই তুলনা এ বছর ব্যাংকগুলোর মুনাফা আসলে কী চালাচ্ছে তার একটি জানালা খুলে দেয়।

পোশাক শ্রমিক অসন্তোষ আর আয়ের দুশ্চিন্তায় পাঁচ মাসের সর্বনিম্নে ঢাকার শেয়ারবাজার

সোমবার ঢাকার শেয়ারবাজার পাঁচ মাসের সর্বনিম্নে নেমে গেছে, ডিএসইএক্স ৫২ পয়েন্ট কমে ৫,৩৩৩ এ বন্ধ হয়েছে, তামাক, ব্যাংকিং আর টেলিকম ব্লু-চিপ শেয়ারে বিক্রির চাপে। ব্রোকারেজ হাউজগুলো এই পতনের পেছনে আয়ের অনিশ্চয়তা, পোশাক খাতের মজুরি আন্দোলন আর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন-পরবর্তী বৈশ্বিক অস্থিরতাকে দায়ী করছে। টেক্সটাইলই একমাত্র খাত যা বেড়েছে, যদিও একই শিল্পের কারখানাগুলো দেশের অন্য প্রান্তে বন্ধ হচ্ছিল।

রবির মুনাফা ১৯ শতাংশ বাড়ল, গ্রামীণফোন পিছিয়ে পড়ছে, বাংলাদেশের টেলিকম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন বিভাজন

২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে রবির মুনাফা বেড়েছে ১৯ শতাংশ আর আয় বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ, আর বাজারের শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোনের মুনাফা কমেছে ৪ শতাংশ আর আয় কমেছে ১.৬ শতাংশ। ছোট অপারেটরটি প্রবৃদ্ধির ফারাক কমিয়ে আনলেও, গ্রামীণফোনের মুনাফার মার্জিন এখনও রবির প্রায় দ্বিগুণ। দুই কোম্পানিই বলছে চতুর্থ প্রান্তিকই বলে দেবে এই ধারা টিকবে কিনা।