অর্থনীতি ও নীতি

জ্বালানি ও খাদ্যের ঘাটতি পূরণে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৩৭৭ কোটি ডলার চাইল বাংলাদেশ, আলোচনায় আরও ১ হাজার কোটি ডলার

২৩ অক্টোবর, ২০২৬7 মিনিটের পড়া
জ্বালানি ও খাদ্যের ঘাটতি পূরণে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৩৭৭ কোটি ডলার চাইল বাংলাদেশ, আলোচনায় আরও ১ হাজার কোটি ডলার

চলতি অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৩৭৭ কোটি ডলার চেয়েছে বাংলাদেশ, আর পাশাপাশি আগামী তিন বছরে আরও প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারের জন্য আলোচনা শুরু করেছে, জ্বালানি আমদানি, খাদ্য সুরক্ষা আর এখনো সংকটে থাকা ব্যাংকিং খাতের ঘাটতি পূরণের জন্য। এই অর্থের একটা বড় অংশ যাবে এলএনজি আমদানি গ্যারান্টি, ব্যাংক সংস্কার আর সার আমদানিতে, আর পাশাপাশি আইএমএফের সঙ্গেও আরও ৫০০ কোটি ডলারের জন্য আলোচনা চলছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, কড়া শর্ত ছাড়া নতুন ঋণ নেওয়ার মতো আর্থিক জায়গা ঢাকার হাতে এখন খুব কম।

চলতি অর্থবছরের (এফওয়াই২৭) জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ৩৭৭ কোটি ডলার চেয়েছে বাংলাদেশ, আর এর পাশাপাশি আগামী তিন বছরে আরও প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারের জন্য আলোচনা শুরু করেছে। জ্বালানি আমদানি, খাদ্য সুরক্ষা আর খারাপ ঋণের জালে এখনো আটকে থাকা ব্যাংকিং খাতের ফাঁকফোকর পূরণ করতেই এই চেষ্টা। অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই মাসের শুরুতে ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সভায় এই দুটি অঙ্কই তুলে ধরে। এখন দুই পক্ষের কর্মকর্তাদের হাতে ৬০ দিন সময় আছে বড় অঙ্কটাকে একটা স্পষ্ট পরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার জন্য।

  • এফওয়াই২৭-এর জন্য বিশ্বব্যাংক থেকে ৩৭৭ কোটি ডলার চায় বাংলাদেশ, এর মধ্যে ২৭৭ কোটি ডলার প্রজেক্ট ঋণ আর ১০০ কোটি ডলার সরাসরি বাজেট সহায়তা।
  • এর মধ্যে এলএনজি আমদানি গ্যারান্টির জন্য ৩৫ কোটি ডলার, ব্যাংকিং সংস্কারের জন্য ৪৫ কোটি ডলার, আর মূলত সারের জন্য ৩০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
  • এর বাইরে একটা বড় চাওয়া, তিন বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারের নতুন "রেজিলিয়েন্স, রিফর্ম অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ" নিয়েও আলোচনা চলছে।
  • অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শর্ত ছাড়া নতুন ঋণ নেওয়ার মতো আর্থিক জায়গা ঢাকার হাতে খুব কম বাকি আছে।

বাংলাদেশ আসলে কী চাইছে

ব্যাংককে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৩৭৭ কোটি ডলারের এই অঙ্কটা ভাগ হয়েছে ২৭৭ কোটি ডলার প্রজেক্ট ঋণ আর ১০০ কোটি ডলার সরাসরি বাজেট সহায়তায়। সরকার বলছে, এই অর্থ আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করবে, প্রবৃদ্ধির গতি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে আর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াবে, তিনটি লক্ষ্যই গত দুই বছরে একটু একটু করে পিছিয়ে গেছে, কারণ বাংলাদেশ দুই অঙ্কের খারাপ ঋণের হার, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ফোলাফাঁপা জ্বালানি আমদানি বিল আর সদ্য ৯ শতাংশের নিচে নামা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করছে।

খাতপরিমাণউদ্দেশ্য
এলএনজি আমদানি গ্যারান্টি৩৫ কোটি ডলারকম খরচে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করতে আইডিএ গ্যারান্টি
ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রোগ্রাম-২৪৫ কোটি ডলারব্যাংকিং ও আর্থিক খাত সংস্কার
জরুরি খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্প৩০ কোটি ডলারমূলত সার আমদানি
সরাসরি বাজেট সহায়তা১০০ কোটি ডলারসাধারণ বাজেট অর্থায়ন
অন্যান্য প্রকল্প অর্থায়ন (বিস্তারিত ভাগ এখনো অজানা)প্রায় ১৬৭ কোটি ডলারঢাকার চারপাশে রেল, এক্সপ্রেসওয়ে ও রিং রোড, সঙ্গে নদী-খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প

অবকাঠামো অংশে আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল কর্ড লাইন, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে আর ঢাকা ইনার সার্কুলার রিং রোড, আর তার সঙ্গে রাজধানীর চারপাশের নদী-খাল পুনরুদ্ধার আর দূষণ কমানোর একটি প্রাথমিক পর্যায়ের প্রকল্প। ২৭৭ কোটি ডলারের বাকি অংশ ঠিক কীভাবে ভাগ হবে, তার পূর্ণ বিবরণ কর্মকর্তারা এখনো প্রকাশ করেননি।

কেন এখন এই তাড়া: জ্বালানি আর খাদ্যের চাপ

সময়টা নিছক কাকতাল নয়। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে জ্বালানি আর এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি বিল হু হু করে বেড়েছে, এই ধারাতেই এই সংবাদমাধ্যম আগে জানিয়েছিল জ্বালানি বিল গিয়ে ঠেকেছে ৪১২ কোটি ডলারে, আর অর্থ উপদেষ্টা এই ভারসাম্যহীনতা ঠিক করতে আরও দুই বছর সময় চেয়েছিলেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন আর শিল্প উৎপাদন দুটোর জন্যই এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ, আর বিশ্বব্যাংকের ৩৫ কোটি ডলারের গ্যারান্টি সহায়তার লক্ষ্য স্পষ্ট, স্পট মার্কেটের ঘন ঘন বদলে যাওয়া দামের বদলে বাংলাদেশ যেন দীর্ঘমেয়াদি কম দামে এলএনজি আমদানির চুক্তি করতে পারে। অন্যদিকে ৩০ কোটি ডলারের খাদ্য সুরক্ষা অংশ মূলত সার আমদানির জন্য বরাদ্দ, যা মনে করিয়ে দেয় দেশের কৃষক আমদানি করা উপকরণের ওপর কতটা নির্ভরশীল, ঠিক তখনই যখন বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থা এখনও অস্থির।

এই সপ্তাহে ঢাকা থেকে আসা আরেকটি খবর জ্বালানি ভর্তুকির চাপটা আরও স্পষ্ট করে দেখিয়েছে, এই অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই এলএনজি ভর্তুকি গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকায়। নতুন এই অর্থায়ন আসার আগেই জ্বালানির এই চাপ বাজেটের ওপর কতটা ভারী হয়ে পড়ছে, তার একটা আগাম আভাস এটি।

বড় চাওয়া: তিন বছরে ১ হাজার কোটি ডলারের পরিকল্পনা, এখনো আলোচনায়

এফওয়াই২৭-এর অঙ্কের বাইরে বাংলাদেশ আর বিশ্বব্যাংক আরও বড় একটা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করছে, তিন বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার, যাকে দুই পক্ষই বলছে "রেজিলিয়েন্স, রিফর্ম অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ" বা আরআরআইপি। ৩৭৭ কোটি ডলারের মতো এটা চলতি অর্থবছরের নিয়মিত ঋণচক্রের সঙ্গে বাঁধা নয়, বরং এটা স্বাভাবিক বরাদ্দের বাইরে থাকবে, এবং এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি।

আরআরআইপি অংশপরিমাণলক্ষ্য
জরুরি আমদানি৪০০ কোটি ডলারজ্বালানি ও সার
উদ্যোগ, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান১৫০ কোটি ডলারক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বাণিজ্য-কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতা
আর্থিক খাত পুনরুদ্ধার৩০০ কোটি ডলারব্যাংকিং সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণ
কন্টিনজেন্ট ও ক্যাটালিটিক উপকরণ১৫০ কোটি ডলারসহ-অর্থায়ন ও ঝুঁকি মোকাবিলার বাফার

দুই পক্ষ অন্তত নীতিগতভাবে একমত হয়েছে, আরআরআইপিকে বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্কের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিশ্বব্যাংক আর অন্য অংশীজনদের নিয়ে গঠিত একটি যৌথ টেকনিক্যাল দল ব্যাংকক সভার ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত ঠিক করবে। সরকার ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এই বড় ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করতে চায়। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেছেন, অঙ্কটা এখনো চূড়ান্ত নয়, কারণ বিশ্বব্যাংকের তিন বছরের আইডিএ ঋণচক্রে বাংলাদেশের বার্ষিক বরাদ্দ কখনো ৪৫০ কোটি ডলার ছাড়ায়নি। তাই ১ হাজার কোটি ডলারের প্যাকেজের জন্য বিশ্বব্যাংকের অন্য অর্থায়ন মাধ্যম থেকেও টানতে হতে পারে, আর কোন মাধ্যম থেকে, কত পরিমাণে, কী শর্তে, তা বলার সময় এখনো আসেনি।

বিশ্বব্যাংক একা নয়, আইএমএফ ট্র্যাকও চলছে পাশাপাশি

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গেও আলাদা একটা আলোচনা চলছে, যেখানে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৫০০ কোটি ডলারের একটা নতুন ঋণ প্যাকেজ চাইছে। মে মাসে বর্তমান সরকার আগের ৫৫০ কোটি ডলারের আইএমএফ কর্মসূচি থেকে আট মাস আগেই বের হয়ে আসে, তখন পর্যন্ত পাঁচটি কিস্তিতে ৩৮০ কোটি ডলার পাওয়া হয়ে গিয়েছিল, এরপর নতুন একটি সুবিধার জন্য আবেদন করে বাংলাদেশ। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দুই পক্ষের কর্মকর্তারা দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বসে অমিল থাকা বিষয়গুলো সমাধান করবেন, আর নতুন কোনো অর্থ ছাড়ের আগে আইএমএফ বাংলাদেশকে কর ও জিডিপির অনুপাত বাড়াতে আর ব্যাংকিং খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণ করতে চাপ দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারীর নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধি দল রেটিং এজেন্সি ও বড় আন্তর্জাতিক ব্যাংক-বিনিয়োগ সংস্থার সঙ্গেও বৈঠক করেছে, যার মধ্যে আছে ফিচ, সিটি, নিউইয়র্ক ফেড, এইচএসবিসি, জেপি মরগান আর ইউরোক্লিয়ার, আলোচনার বিষয় ছিল ক্রেডিট রেটিং আর বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম ডলার বন্ড বিক্রির সম্ভাবনা।

সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা

ঢাকার সবাই এই বড় চাওয়া নিয়ে উচ্ছ্বসিত নয়। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ড. ফাহমিদা খাতুন সতর্ক করে বলেন, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া নতুন ঋণ নেওয়ার মতো আর্থিক জায়গা সরকারের হাতে এখন খুব কম বাকি আছে, এবং তিনি বড় বড় প্রতিশ্রুতির বদলে স্পষ্ট ফলাফলের সঙ্গে জড়িত স্বচ্ছ ব্যয়ের দাবি জানান।

"বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে, আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব," বলেন অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, তিনি জোর দিয়ে বলেন এফওয়াই২৭ প্যাকেজ বা বড় আরআরআইপি ফ্রেমওয়ার্ক, কোনোটাতেই এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই সতর্কতা বাংলাদেশের গত এক বছরের অর্থায়ন কূটনীতির একটা পরিচিত ধারাকেই প্রতিফলিত করে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় অঙ্ক ঘোষণা হয়, তারপর মাসের পর মাস কৌশলগত আলোচনা চলে, যার শেষে অনেক সময় চূড়ান্ত অঙ্ক কমে যায় বা এমন শর্ত জুড়ে যায় যা সরকার শুরুতে চায়নি, যেমনটা হয়েছিল মে মাসে আগেভাগে ছেড়ে দেওয়া আইএমএফ কর্মসূচির বেলায়।

আপনার জন্য এর মানে কী

একজন সাধারণ সঞ্চয়কারী বা ছোট ব্যবসায়ীর জন্য এই পুরো গল্পটা ব্যাংকক কূটনীতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দৈনন্দিন চাপের জায়গায়, বিদ্যুৎ বিল, সার-খাদ্যের দাম, আর ডলারের বিনিময় হার। এলএনজি গ্যারান্টির অর্থায়ন যদি সময়মতো আসে, তাহলে তাত্ত্বিকভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র আর শিল্পের জন্য আমদানি করা গ্যাসের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে, যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যাদের বিদ্যুৎ বিল বা কারখানার উপকরণ খরচ বাড়ছে। সার-কেন্দ্রিক খাদ্য সুরক্ষা অংশটা সরাসরি কৃষকদের লক্ষ্য করে করা, আর ঘুরিয়ে বাজারের দামকেও প্রভাবিত করে, কারণ আমদানি করা সারের খরচ সরাসরি চাল, সবজি আর অন্য নিত্যপণ্যের দামে গিয়ে পড়ে। এই আকারের নতুন বৈদেশিক ঋণ টাকার বিনিময় হার আর অন্য আমদানির জন্য উপলব্ধ ডলারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, তাই আপনার সঞ্চয় সোনা বা বৈদেশিক মুদ্রায় থাকলে এই দিকটায় চোখ রাখা ভালো, ডলার-টাকার সম্পর্ক দেখতে চাইলে সাইটের নিজস্ব কারেন্সি কনভার্টার দেখে নিতে পারেন।

করদাতাদের জন্য বড় প্রশ্নটা হলো, বিশ্বব্যাংক বা পরে কোনো ডলার বন্ডের মাধ্যমে নেওয়া নতুন সার্বভৌম ঋণ শেষ পর্যন্ত ভবিষ্যতের সরকারি রাজস্ব থেকেই শোধ করতে হবে। ড. ফাহমিদা খাতুনসহ অনেকের চিন্তাটা ঠিক এখানেই, নতুন অর্থায়ন আজকের চাপ কমাতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের সংস্কার না হলে আগামী দিনের ঋণ পরিশোধের বোঝা বাড়িয়েই দেবে।

এরপর কী হতে পারে

সবচেয়ে কাছের সময়সীমা হলো, যৌথ ইআরডি-বিশ্বব্যাংক টেকনিক্যাল দলের আরআরআইপি ধারণাকে নির্দিষ্ট প্রকল্প, অঙ্ক আর শর্তে রূপ দেওয়ার ৬০ দিনের সময়সীমা, যা ডিসেম্বরের শেষ দিকে শেষ হচ্ছে। আইএমএফের দিকে, সর্বোচ্চ ৫০০ কোটি ডলারের সুবিধা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি স্টাফ পর্যায়ের টেকনিক্যাল দল ঢাকায় আসার কথা, আর অর্থ উপদেষ্টা বলছেন আলোচনায় থাকা শর্তগুলো নিয়মরক্ষার কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং কঠোর পারফরম্যান্স মানদণ্ড। দুটো ট্র্যাকই সরকারের নিজের বেঁধে দেওয়া ২০২৭ সালের জুনের লক্ষ্যের আগে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যদিও এ বছর ছেড়ে দেওয়া আইএমএফ কর্মসূচি যেমন দেখিয়েছে, বহুপাক্ষিক অর্থায়ন পরিকল্পনায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রেকর্ড মিশ্র।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

এশিয়ার ভেস্তে যাওয়া এলএনজি প্রকল্প নিয়ে আইইইএফএর নতুন প্রতিবেদন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ভর্তুকির জন্য কী বার্তা দিচ্ছে

আইইইএফএর নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২১ সাল থেকে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে প্রস্তাবিত এলএনজি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আমদানি টার্মিনালের অর্ধেকের বেশি, মোট ৬৭.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের, বাতিল বা থমকে গেছে। আমদানি করা প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে বাংলাদেশ এখন ৬০ টাকার বেশি ভর্তুকি দেয়, প্রতিবেদন বলছে এশিয়ার স্পট এলএনজি দাম তিনগুণ হওয়া এবং এলএনজি কেন্দ্রের জীবনকালীন বিদ্যুৎ খরচ ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার কারণে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। আইইইএফএর বাংলাদেশ বিশ্লেষক আরও এলএনজি বিনিয়োগের বদলে দেশীয় গ্যাস, দক্ষতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝোঁকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক দশকে প্রায় তিনগুণ, বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পৌঁছাল ১১৪ বিলিয়ন ডলারের কাছে

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ঋণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ প্রায় ১১৩.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক দশক আগের ৩৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। রপ্তানি আয়ের ১৬ শতাংশই এখন ঋণ পরিশোধে চলে যাচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, রপ্তানি যদি মূলত পোশাকের উপর নির্ভরশীল থাকে, তাহলে এই হার দ্রুত আরও খারাপ হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের তুলনা অনুযায়ী, রপ্তানির সাপেক্ষে বাংলাদেশের ঋণের চাপ এখন ভারতের দ্বিগুণেরও বেশি। শ্রীলঙ্কার মতো ঋণ সংকট এড়াতে অর্থনীতিবিদরা আরও ঋণের বদলে ভালো শর্তের ঋণ, বৃহত্তর রপ্তানি ভিত্তি এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।

বাপেক্স নোয়াখালীতে আবার গ্যাস পেল, ৫,৮০৯ কোটি টাকার মজুদ যা বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট কিছুটা কমাতে পারে

২ নভেম্বর নোয়াখালীর সুন্দলপুর সাউথ-১ কূপে বাপেক্স গ্যাস নিশ্চিত করেছে, এক মাসের মধ্যে একই ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সন্ধান, যার মজুদ আনুমানিক ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট। বাংলাদেশের মোট গ্যাসের প্রয়োজনের তুলনায় এই সন্ধান অতি ক্ষুদ্র, কিন্তু এটা এমন সময়ে এলো যখন দেশীয় সরবরাহ কমতেই থাকছে আর ২০১৮ সাল থেকে দেশের এলএনজি আমদানির বিল ২.৭৭ ট্রিলিয়ন টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই ধরনের ছোট সন্ধান কেন এখনো গুরুত্বপূর্ণ তা জেনে নিন।