স্বর্ণ ও রৌপ্য

দুই দিনে ৭,১১৪ টাকা কমে বাংলাদেশে সোনার দাম ভরিতে ২,১৭,৫৯২ টাকা

১ নভেম্বর, ২০২৬4 মিনিটের পড়া
দুই দিনে ৭,১১৪ টাকা কমে বাংলাদেশে সোনার দাম ভরিতে ২,১৭,৫৯২ টাকা

শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বাংলাদেশের সোনার বাজারে দাম কমেছে, বাজুস ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৫,৪৮১ টাকা কমিয়েছে, এর আগের দিনই কমেছিল ১,৬৩৩ টাকা। এই দুই দফা মিলিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম থেকে কমেছে ৭,১১৪ টাকা, নেমে এসেছে ২,১৭,৫৯২ টাকায়। জুয়েলার্সদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নয়, দেশের খোলা বাজারে কাঁচা সোনার দাম কমে যাওয়াই এর কারণ। এই ওঠানামা দিয়ে শেষ হলো সোনার জন্য এক অস্বাভাবিক অস্থির অক্টোবর।

  • শনিবার বাজুস ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৫,৪৮১ টাকা কমিয়েছে, এর আগের দিন শুক্রবারই কমেছিল ১,৬৩৩ টাকা, মোট দুই দিনে কমেছে ৭,১১৪ টাকা।
  • ২২ ক্যারেট সোনার ভরি এখন ২,১৭,৫৯২ টাকা, একই অনুপাতে কমেছে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও।
  • জুয়েলার্স সমিতি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বড় কোনো ধাক্কা নয়, দেশের খোলা বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়াই এর কারণ।
  • অক্টোবর মাসে অন্তত পাঁচবার দাম বদলেছে, ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কখন কিনবেন তা ঠিক করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই সপ্তাহান্তে বাংলাদেশে সোনার ক্রেতারা পরপর দুই দিন দাম কমার খবর পেলেন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন, সংক্ষেপে বাজুস, শনিবার ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৫,৪৮১ টাকা কমিয়ে দিয়েছে, তার ঠিক একদিন আগে শুক্রবারও কমেছিল ১,৬৩৩ টাকা। দুটো মিলিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম থেকে ৭,১১৪ টাকা কমে গেছে, এখন ভরি (সাড়ে এগারো গ্রামের প্রচলিত একক, সঠিকভাবে ১১.৬৬৪ গ্রাম) দাঁড়িয়েছে ২,১৭,৫৯২ টাকায়।

বাকি মানের সোনার দামও একইভাবে কমেছে। ২১ ক্যারেট সোনা এখন ভরি ২,০৭,৭৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১,৭৮,৪৫৯ টাকা, আর পুরোনো গয়নায় বেশি ব্যবহৃত সনাতন পদ্ধতির সোনা নেমে এসেছে ১,৪৫,৮০০ টাকায়। রুপার দামও কিছুটা কমেছে, যদিও অনেক কম মাত্রায়, ২২ ক্যারেট রুপা ভরিতে ১৭৫ টাকা কমে হয়েছে ৩,৪৯৯ টাকা, বাকিগুলো কমেছে ৫৮ থেকে ১১৭ টাকার মধ্যে।

দুই দিনে দুই দফা দাম কমা

দেশের খোলা বাজারে তেজাবি সোনার দাম একটু নড়লেই বাজুস তার রেট বদলে দেয়, আর এটা আন্তর্জাতিক বাজার কতবার ওঠানামা করছে তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না। এই সপ্তাহান্তে ঠিক তাই হয়েছে। শুক্রবারের ১,৬৩৩ টাকা কমার ফলে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ২,২৪,৭০৭ টাকা থেকে নেমে আসে ২,২৩,০৭৪ টাকায়। এর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় তেজাবি দামে আরও বড় পতন হওয়ায় শনিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর আরেক দফা বড় সংশোধন করতে হলো।

যারা রোজ ভরির দাম খুঁজে বেড়ান তাদের জন্য সমিতির নিজের ব্যাখ্যাটা সহজ, তারা স্থানীয়ভাবে যে দামে সোনা কিনতে পারছে তার প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে, সামনে সোনার দাম কোন দিকে যাবে তা নিয়ে কোনো পূর্বাভাস দিচ্ছে না। এই পার্থক্যটা বোঝা জরুরি। স্থানীয় উৎসের সমস্যায় একদিনের দাম কমা আর নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা কমে গিয়ে দাম টানা পড়ে যাওয়া, এই দুটো সংকেত একেবারে আলাদা জিনিস।

কেন এই পতন

শনিবারের দাম কমার পেছনে বাজুস কোনো সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক কারণ দেখায়নি, শুধু বলেছে সস্তা তেজাবি সোনার প্রতিক্রিয়া। এটা মনে রাখা জরুরি, কারণ বাংলাদেশের সোনার দাম লন্ডন বা নিউইয়র্কের বুলিয়ন বেঞ্চমার্কের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলে না, এটা চলে দেশের পাইকারি বাজার যা দাম রাখছে তার সঙ্গে, আর সেই দাম নির্ভর করে আমদানি খরচ, ডলারের দর এবং জুয়েলার্স ও রিফাইনারিদের হাতে কতটা সোনা ঘুরছে তার ওপর।

এই স্থানীয় বাজারের হিসাবটা বোঝায় কেন বাংলাদেশে একসপ্তাহ সোনার র‌্যালি হতে পারে আর তার পরের সপ্তাহে দুই দফা দাম কমতে পারে, যদিও আন্তর্জাতিক বাজার তখন তুলনামূলক শান্ত থাকে। এটাই ব্যাখ্যা করে কেন এই ওঠানামা অনেক সময় মনে হয় যেন বাইরের দুনিয়ার খবরের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই, যেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বা ডলারের দামের খবর।

একটা মাস জুড়ে ওঠানামা

শনিবারের এই পতনের আগে পুরো মাসটাই ছিল অস্বাভাবিক অস্থির। অক্টোবরের শুরুতে পরপর চার দফা দাম কমার পর ২৯ অক্টোবর ২,২১৬ টাকা বেড়ে যায়। ৩০ অক্টোবর সেই র‌্যালি আরও একদিন চলে, মাসের আগের পতনের প্রায় অর্ধেক পুষিয়ে নেয়, কিন্তু ৩১ অক্টোবর বাজুস আবার দিক বদলে ১,৬৩৩ টাকা কমায়, আর তার কয়েক ঘণ্টা পরেই শনিবারের আরও বড় ৫,৪৮১ টাকার পতন আসে।

রেখাচিত্রে দেখা যাচ্ছে ২৯ অক্টোবর ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২,২৪,৭০৭ টাকা থেকে ৩০ অক্টোবর ২,২৩,০৭৪ টাকা এবং ৩১ অক্টোবর ২,১৭,৫৯২ টাকায় নেমে এসেছে
চার্ট: বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ, তথ্যসূত্র বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর দাম বিজ্ঞপ্তি।
তারিখ২২ ক্যারেট দাম (প্রতি ভরি)পরিবর্তন
২৯ অক্টোবর২,২৪,৭০৭ টাকাবৃদ্ধি ২,২১৬ টাকা
৩০ অক্টোবর (শুক্রবার)২,২৩,০৭৪ টাকাকমেছে ১,৬৩৩ টাকা
৩১ অক্টোবর (শনিবার)২,১৭,৫৯২ টাকাকমেছে ৫,৪৮১ টাকা

আপনার জন্য এর মানে কী

যারা বিয়ের গয়না কিনতে চান বা দোকানের জন্য নতুন সোনা মজুত করতে চান, তাদের জন্য এই দুই দিনের পতন এখনকার মতো সুখবর। ভরিতে ৭,১১৪ টাকা মানে প্রতি গ্রামে প্রায় ৬১০ টাকা সাশ্রয়, সাধারণ এক সেট গয়নার জন্য যা মোটেও কম না। কিন্তু যে অস্থিরতার কারণে এই দাম কমলো, সেটাই আবার যেকোনো সময় উল্টে যেতে পারে, অক্টোবরের নিজের ওঠানামাই তার প্রমাণ। যারা কোনো নির্দিষ্ট উপলক্ষ্যের জন্য না, বরং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় হিসেবে সোনা কিনছেন, তাদের এক সপ্তাহের দামকে প্রবণতা না ধরে সাময়িক ওঠানামা হিসেবেই দেখা উচিত।

বিক্রেতাদের জন্য, এর মধ্যে আছে যারা পুরোনো গয়না বন্ধক রেখে টাকা ধার নেন বা খরচ মেটাতে সোনা বিক্রি করার কথা ভাবছেন, হিসাবটা ঠিক উল্টো, আজকের কম ভরির দামে তারা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় কম টাকা পাবেন। এখন কিনবেন, অপেক্ষা করবেন, নাকি সোনা বিক্রি করে নগদ করবেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাঠকেরা সাইটের এফডিআর ও ডিপিএস ক্যালকুলেটর দিয়ে দেখে নিতে পারেন সোনা না ফিক্সড ডিপোজিট, কোনটা তাদের লক্ষ্যের জন্য ভালো।

এরপর কী হতে পারে

দেশের তেজাবি সোনার দাম এরপর কোন দিকে যাবে তা নিয়ে বাজুস কোনো আভাস দেয়নি, আর এই মাসের রেকর্ড দেখে সেটা অনুমান করাও বিপজ্জনক। যা স্পষ্ট, তা হলো অক্টোবরেই সমিতি চার দফা দাম সংশোধন করেছে, গড়ে সপ্তাহে একবারের বেশি। যে বাজারে সোনা এখনও গয়না আর সঞ্চয়ের মাধ্যম দুটোই, সেখানে এই পরিবর্তনের গতিই এখন আসল খবর, বাংলাদেশি পরিবারগুলো এখন তাদের সঞ্চয়ের মূল্য এমন একটা বেঞ্চমার্কের বিপরীতে মাপছে যা চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই হাজার হাজার টাকা বদলে যেতে পারে।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

বাজুসের দাম কমানোয় থেমে গেল সোনার দুই দিনের উর্ধ্বগতি, ভরিতে কমল ১,৬৩৩ টাকা

শুক্রবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১,৬৩৩ টাকা কমিয়ে দিয়েছে, দুই দিনের বাড়তির পর দাম নেমে এসেছে ২,২৩,০৭৪ টাকায়। বিশ্ববাজারে সোনার দাম জুলাইয়ের পর সবচেয়ে কমে যাওয়ার প্রভাবেই এই কাটছাঁট, কারণ বিনিয়োগকারীরা ধরে নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে আর সুদের হার বেশি দিন উঁচুতে থাকবে। রুপার দামও কমানো হয়েছে একই সঙ্গে। বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য এই ওঠানামার মানে হলো, এই সপ্তাহে কোনো একদিনের দামকে ভরসা করে বসে থাকা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশে সোনার দাম পরপর দুই দিন বাড়ল, অক্টোবরের দরপতনের অর্ধেক পুষিয়ে নিল

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সোনার দাম পরপর দুই দিনের মতো বেড়েছে, বাজুসের হিসাবে ২২ ক্যারেট সোনা এখন প্রতি ভরি ২,২৪,৭০৭ টাকা। অক্টোবরের শুরুর দিকে টানা চারবার দাম কমার পর এই পরপর দুই দিনের বৃদ্ধি। জুয়েলারিরা বলছেন এই উল্টো যাত্রা স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বাড়ার সাথে সম্পর্কিত, আর বিয়ের মৌসুমে কেনাকাটার পরিকল্পনা করা ক্রেতাদের দাম স্থির হওয়ার আগে আরও ওঠানামার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।

বাংলাদেশে সোনার দাম ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়ল, অক্টোবরের চার দফা দরপতনের ইতি

বুধবার বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়িয়েছে, এই মাসে পরপর চার দফা দাম কমে ১০ হাজার টাকার বেশি কমে যাওয়ার পর এটাই প্রথম বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার স্পট দাম আউন্সে ৪ হাজার ডলারের নিচে নামার পর আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গেই এই পরিবর্তন মিলে যায়। পুরো এই সময়ে রুপার দামে কোনো হাত দেওয়া হয়নি।