স্বর্ণ ও রৌপ্য

বাজুসের দাম কমানোয় থেমে গেল সোনার দুই দিনের উর্ধ্বগতি, ভরিতে কমল ১,৬৩৩ টাকা

৩১ অক্টোবর, ২০২৬3 মিনিটের পড়া
বাজুসের দাম কমানোয় থেমে গেল সোনার দুই দিনের উর্ধ্বগতি, ভরিতে কমল ১,৬৩৩ টাকা

শুক্রবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১,৬৩৩ টাকা কমিয়ে দিয়েছে, দুই দিনের বাড়তির পর দাম নেমে এসেছে ২,২৩,০৭৪ টাকায়। বিশ্ববাজারে সোনার দাম জুলাইয়ের পর সবচেয়ে কমে যাওয়ার প্রভাবেই এই কাটছাঁট, কারণ বিনিয়োগকারীরা ধরে নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে আর সুদের হার বেশি দিন উঁচুতে থাকবে। রুপার দামও কমানো হয়েছে একই সঙ্গে। বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য এই ওঠানামার মানে হলো, এই সপ্তাহে কোনো একদিনের দামকে ভরসা করে বসে থাকা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশে সোনার বাজার তার দুই দিনের উর্ধ্বগতির একটা বড় অংশ হারিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন, সংক্ষেপে বাজুস, শুক্রবার ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১,৬৩৩ টাকা কমিয়ে বেঞ্চমার্ক রেট নামিয়ে দিয়েছে ২,২৩,০৭৪ টাকায়। এক সপ্তাহের একটু বেশি সময়ের মধ্যে এটি বাজারের পঞ্চম দাম পরিবর্তন, আর এর ফলে সোনার দাম প্রায় সেই জায়গায় ফিরে এসেছে যেখানে ছিল বুধবার সকালে, মাত্র দুই দিনের একটা ছোট্ট উর্ধ্বগতির আগে।

  • ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১,৬৩৩ টাকা কমে হয়েছে ২,২৩,০৭৪ টাকা, কার্যকর হয়েছে শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে।
  • এই কাটছাঁটে আগের দুই কার্যদিবসের ৩,৮৪৯ টাকার বাড়তির প্রায় পুরোটাই মুছে গেছে।
  • রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার স্পট দাম শুক্রবার নেমে আসে আউন্সে ৩,৯৯৫.৪২ ডলারে, যা জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর সবচেয়ে কম।
  • ২২ ক্যারেট হলমার্ক রুপার দামও কমেছে, ভরিতে ১৭৫ টাকা কমে হয়েছে ৩,৬৭৪ টাকা।

শুক্রবার বাজুস কী বদলালো

নতুন দাম অনুযায়ী, বাংলাদেশে গয়নার জন্য সবচেয়ে বেশি কেনা ২২ ক্যারেট হলমার্ক সোনার এক ভরির দাম এখন ২,২৩,০৭৪ টাকা, গ্রাম প্রতি ১৯,১২৫ টাকা। ২১ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৭৫ টাকা কমে হয়েছে ২,১৩,০৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনা ১,৩৪১ টাকা কমে হয়েছে ১,৮২,৯৫০ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১,১০৮ টাকা কমে হয়েছে ১,৪৯,৪৭৪ টাকা। রুপার দামেও কাটছাঁট করেছে বাজুস, ২২ ক্যারেট হলমার্ক রুপা ১৭৫ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ৩,৬৭৪ টাকা ভরি, বাকি গ্রেডের রুপার দামও কাছাকাছি অনুপাতে কমেছে।

ঠিক দুই দিনের এক উর্ধ্বগতি

এই কাটছাঁটের ঠিক আগেই গিয়েছে মাসের সবচেয়ে ভালো সময়টা। বাজুস বুধবার ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়িয়েছিল, আর বৃহস্পতিবার আরও ১,৬৩৩ টাকা, মোট দুই কার্যদিবসে বেড়েছিল ৩,৮৪৯ টাকা, যাতে অক্টোবরের বড় দরপতনের কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যায়। শুক্রবারের ১,৬৩৩ টাকা কাটছাঁটে বৃহস্পতিবারের বাড়তিটা প্রায় পুরোপুরি মুছে গেছে, দাম নেমে এসেছে সেই ২,২৩,০৭৪ টাকায়, যা বুধবারেও ছিল। যারা বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ দামে, মানে ২,২৪,৭০৭ টাকায় সোনা কিনেছিলেন, তাদের হাতের সোনার দাম একদিন পরেই কমে গেছে।

২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট সোনার দামের ওঠানামা
চার্ট: বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ, তথ্যসূত্র bdnews24.com।

কেন এত দোলাচল

বাজুস প্রায় প্রতিদিনই তার দাম নতুন করে ঠিক করে স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ বা "তেজাবি" সোনার দামের সঙ্গে মিলিয়ে, যা আবার নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বুলিয়ন বাজার আর ডলারের বিপরীতে টাকার দামের ওপর। শুক্রবারের কাটছাঁট এসেছে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমার পরে, স্থানীয় প্রতিবেদনে উদ্ধৃত রয়টার্সের তথ্য বলছে অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক সোনার দাম প্রায় ৩.৮ শতাংশ কমেছে। সাড়ে তিন মাসের সর্বনিম্নে নামার পেছনে কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান, মূল্যস্ফীতি এখনও উঁচুতে থাকা, এবং বাজারের ধারণা যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাতে এখনও কিছুটা সময় নেবে। যখন ধারণা হয় যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার আরও বেশি দিন উঁচুতে থাকবে, তখন সুদবিহীন সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়, আর তার ডলার মূল্যও নেমে আসে। বাংলাদেশ তার প্রায় সব সোনাই আমদানি করে, তাই বিশ্ববাজারের এই নড়াচড়া এক-দুই দিনের মধ্যেই বাজুসের দামে প্রভাব ফেলে।

আপনার জন্য এর মানে কী

বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এই সপ্তাহের শিক্ষাটা সোনার দাম কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে যতটা, তার চেয়ে বেশি এর অনিশ্চয়তা নিয়ে। অক্টোবরের শুরুর দিকে পরপর চারবার দাম কমে ২২ ক্যারেট সোনার রেট মঙ্গলবার নেমে এসেছিল প্রায় ২,২০,৮৫৮ টাকায়, যা মাসের সর্বনিম্ন, তারপর দুই দিনের উর্ধ্বগতি আর শুক্রবারের আংশিক পতন। বিয়ের গয়না কেনা, যাকাতের জন্য সোনার হিসাব করা, বা পুরনো গয়না বিক্রির সময় ঠিক করার চিন্তা থাকলে দুই-তিন দিন আগের দামের বদলে সেদিনের দামটাই দেখে নেওয়া ভালো। বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউয়ের নিজস্ব সোনার দাম ট্র্যাকার বাজুসের প্রতিটি দাম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আপডেট হয়, আর এই ওঠানামার কথাটা মাথায় রাখা ভালো যারা এই মৌসুমে যাকাত ক্যালকুলেটর দিয়ে সোনার সম্পদের হিসাব করছেন, কারণ এক-দুই শতাংশের ওঠানামাও যাকাতযোগ্য সোনার টাকার মূল্যে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

বড় ছবিটা

শুক্রবারের এই পতনের পরেও বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট সোনার দাম বছরের শুরুর তুলনায় এখনও অনেক বেশি, আর সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বাজুসের দাম দুই দিকেই উঠানামা করেছে। ঢাকার টাঁতিবাজার আর নিউ মার্কেটের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই বারবার দাম বদলের কারণে মাল ধরে রাখাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে, কারণ বেশি দামে কেনা সোনা কয়েকদিন পরেই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো এখনও সামনে, আর বিশ্ববাজারের ব্যবসায়ীরা মার্কিন তথ্য প্রকাশের দিকে কড়া নজর রাখছেন, তাই দাম স্থির একটা ধারায় আসার আগে আরও ওঠানামা দেখা যেতে পারে।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

দুই দিনে ৭,১১৪ টাকা কমে বাংলাদেশে সোনার দাম ভরিতে ২,১৭,৫৯২ টাকা

শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বাংলাদেশের সোনার বাজারে দাম কমেছে, বাজুস ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৫,৪৮১ টাকা কমিয়েছে, এর আগের দিনই কমেছিল ১,৬৩৩ টাকা। এই দুই দফা মিলিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম থেকে কমেছে ৭,১১৪ টাকা, নেমে এসেছে ২,১৭,৫৯২ টাকায়। জুয়েলার্সদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নয়, দেশের খোলা বাজারে কাঁচা সোনার দাম কমে যাওয়াই এর কারণ। এই ওঠানামা দিয়ে শেষ হলো সোনার জন্য এক অস্বাভাবিক অস্থির অক্টোবর।

বাংলাদেশে সোনার দাম পরপর দুই দিন বাড়ল, অক্টোবরের দরপতনের অর্ধেক পুষিয়ে নিল

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সোনার দাম পরপর দুই দিনের মতো বেড়েছে, বাজুসের হিসাবে ২২ ক্যারেট সোনা এখন প্রতি ভরি ২,২৪,৭০৭ টাকা। অক্টোবরের শুরুর দিকে টানা চারবার দাম কমার পর এই পরপর দুই দিনের বৃদ্ধি। জুয়েলারিরা বলছেন এই উল্টো যাত্রা স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বাড়ার সাথে সম্পর্কিত, আর বিয়ের মৌসুমে কেনাকাটার পরিকল্পনা করা ক্রেতাদের দাম স্থির হওয়ার আগে আরও ওঠানামার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।

বাংলাদেশে সোনার দাম ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়ল, অক্টোবরের চার দফা দরপতনের ইতি

বুধবার বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়িয়েছে, এই মাসে পরপর চার দফা দাম কমে ১০ হাজার টাকার বেশি কমে যাওয়ার পর এটাই প্রথম বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার স্পট দাম আউন্সে ৪ হাজার ডলারের নিচে নামার পর আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গেই এই পরিবর্তন মিলে যায়। পুরো এই সময়ে রুপার দামে কোনো হাত দেওয়া হয়নি।