বাংলাদেশে সোনার দাম পরপর দুই দিন বাড়ল, অক্টোবরের দরপতনের অর্ধেক পুষিয়ে নিল
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সোনার দাম পরপর দুই দিনের মতো বেড়েছে, বাজুসের হিসাবে ২২ ক্যারেট সোনা এখন প্রতি ভরি ২,২৪,৭০৭ টাকা। অক্টোবরের শুরুর দিকে টানা চারবার দাম কমার পর এই পরপর দুই দিনের বৃদ্ধি। জুয়েলারিরা বলছেন এই উল্টো যাত্রা স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বাড়ার সাথে সম্পর্কিত, আর বিয়ের মৌসুমে কেনাকাটার পরিকল্পনা করা ক্রেতাদের দাম স্থির হওয়ার আগে আরও ওঠানামার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।
বাংলাদেশে সোনার দাম পরপর দুই দিন বাড়ল, আর এই বাড়তিতে অক্টোবর মাসের শুরুর দিকের দরপতনের অর্ধেকের বেশি পুষিয়ে গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বৃহস্পতিবার ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ২,২৪,৭০৭ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা বুধবারের দামের চেয়ে ১,৬৩৩ টাকা বেশি। আর বুধবারের দামটাও এর আগের মাসের শুরুর দিকের দরপতনের পর ২,২১৬ টাকা বাড়িয়ে ঠিক করা হয়েছিল।
- ২২ ক্যারেট সোনার দাম এখন প্রতি ভরি ২,২৪,৭০৭ টাকা, এক দিনে বেড়েছে ১,৬৩৩ টাকা, আর দুই দিনে মোট ৩,৮৪৯ টাকা।
- ১৩, ২২, ২৩ আর ২৫ অক্টোবর টানা চারবার দাম কমার পর এই উত্থান, যাতে মোট ১০,৪৩৯ টাকা কমেছিল।
- বাজুস দুটো বাড়তি দামকেই দায়ী করেছে স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বাড়ার সাথে।
- দুই দিনের বৃদ্ধির পরেও ২২ ক্যারেটের দাম এখনও ২০২৬ সালের শুরুর দিকের দামের চেয়ে কম।
অক্টোবর মাসের বেশিরভাগ সময় দাম একদিকে যাচ্ছিল, সেখানে পরপর দুই দিন দাম বাড়া জুয়েলার্স আর ক্রেতাদের মধ্যে আলোচনার বিষয় বদলে দেওয়ার মতো যথেষ্ট, যদিও এই বছরের সর্বোচ্চ দাম থেকে এখনও এটা কিছুটা দূরে।
এই সপ্তাহে আসলে কী বদলাল
বাজুস তার দাম ঠিক করে স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দামের ভিত্তিতে, যা মূলত আন্তর্জাতিক বুলিয়ন দাম আর ডলারের বিনিময় হারের মিশ্রণ অনুসরণ করে, কারণ বাংলাদেশের জুয়েলারি ব্যবসা যে সোনা ব্যবহার করে তার প্রায় পুরোটাই আমদানি করা। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা কমতে কমতে ২২ ক্যারেটের দাম ২,২০,৮৫৮ টাকায় নেমে আসার পর, ২৮ অক্টোবর দাম ২,২১৬ টাকা বেড়ে ২,২৩,০৭৪ টাকা হয়, আর ২৯ অক্টোবর আরও ১,৬৩৩ টাকা বেড়ে এখনকার ২,২৪,৭০৭ টাকায় পৌঁছায়। মানে তিন কার্যদিবসের মধ্যে দুইবার দাম বাড়ল, যা এই বছরের শুরুর দিকের এক দিনের উল্টোমুখী নড়াচড়ার চেয়ে বেশ জোরালো।
অন্য মানের সোনার দামও একই সাথে বদলেছে। ২১ ক্যারেট সোনা এখন প্রায় ২,১৪,৬১৮ টাকা ভরি, ১৮ ক্যারেট প্রায় ১,৮৪,২৯১ টাকা, আর গয়নায় ব্যবহৃত সবচেয়ে কম মানের সনাতন পদ্ধতির সোনা প্রায় ১,৫০,৫৮২ টাকা। এক ভরি সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম, যা বাংলাদেশের জুয়েলারিরা দাম নির্ধারণের জন্য ব্যবহার করে।
কেন এই ওঠানামা চলতেই থাকে
২০২৬ সালে বাজুস এখন পর্যন্ত শতাধিক বার সোনার দাম পরিবর্তন করেছে, যা মোটামুটি বাড়া আর কমার মধ্যে ভাগ হয়ে আছে, এটা থেকে বোঝা যায় কতবার দেশীয় বাজার বিশ্ব বুলিয়ন বাজারের নড়াচড়া আর টাকার বিনিময় হার অনুসরণ করে নতুন করে সাজায়। প্রতিটা পরিবর্তন প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় এবং একটা নির্দিষ্ট সময় থেকে, সাধারণত সকাল ১০টা থেকে, দেশের সব জুয়েলারি দোকানে একসাথে কার্যকর হয়। ঘোষিত দামে আগে থেকেই ৫ শতাংশ ভ্যাট ধরা থাকে, তাই সপ্তাহে সপ্তাহে যা বদলায় তা হলো ধাতুর মূল দাম, কর কাঠামো না।
এই বিশেষ উত্থানের আলাদা জায়গা হলো এর প্রেক্ষাপট। অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহে চারবার দাম কমায় সোনা হঠাৎ করেই বছরের শুরুর দিকের তুলনায় বেশ সস্তা মনে হচ্ছিল, যার ফলে অনেকে বিয়ে ও উৎসবের কেনাকাটা আগেভাগেই করে ফেলেছিলেন। গত দুই কার্যদিবসের এই উল্টো যাত্রা সেই সুযোগের বড় একটা অংশ মুছে দিয়েছে।
আপনার জন্য এর মানে কী
আপনি যদি এই মৌসুমে বিয়ে বা অন্য কোনো গয়না কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে বাস্তব কথা হলো সাম্প্রতিক দরপতন সত্যি ছিল, কিন্তু এর অর্ধেকের বেশি এখন আর নেই, আর এই বছর বাজুসের নিজের প্যাটার্ন দেখে বোঝা যায় দাম কোনো একটা জায়গায় স্থির হওয়ার আগে আরও ওঠানামা হওয়ার সম্ভাবনা আছে, বাড়তি অথবা কমতি দিকে। ক্রেতাদের এটাও মনে রাখা উচিত যে বাজুসের ঘোষিত দাম কেবল ধাতুর দাম, মজুরি বা তৈরির খরচ এর সাথে আলাদাভাবে যুক্ত হয়, যা ডিজাইন আর দোকান অনুযায়ী বদলায় এবং বাজুস তা নির্ধারণ করে না। ৫ শতাংশ ভ্যাট ইতিমধ্যে ঘোষিত দামের মধ্যে ধরা আছে আর জুয়েলারিরা তা আলাদাভাবে আবার নিতে পারে না।
যারা ব্যাংক আমানতের পাশাপাশি সোনাকে সঞ্চয়ের একটা মাধ্যম হিসেবে রাখেন, তাদের জন্য একই সময়ে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ সাধারণ ফিক্সড ডিপোজিটে রাখলে কেমন ফল হতো তা তুলনা করে দেখা ভালো; এই তুলনাটা সহজে করার জন্য আছে এফডিআর ও ডিপিএস ক্যালকুলেটর, আর সপ্তাহজুড়ে বাজুসের সবশেষ দাম জানতে আছে সাইটের নিজের গোল্ড প্রাইস ট্র্যাকার।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
দুই দিনে ৭,১১৪ টাকা কমে বাংলাদেশে সোনার দাম ভরিতে ২,১৭,৫৯২ টাকা
শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বাংলাদেশের সোনার বাজারে দাম কমেছে, বাজুস ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৫,৪৮১ টাকা কমিয়েছে, এর আগের দিনই কমেছিল ১,৬৩৩ টাকা। এই দুই দফা মিলিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম থেকে কমেছে ৭,১১৪ টাকা, নেমে এসেছে ২,১৭,৫৯২ টাকায়। জুয়েলার্সদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নয়, দেশের খোলা বাজারে কাঁচা সোনার দাম কমে যাওয়াই এর কারণ। এই ওঠানামা দিয়ে শেষ হলো সোনার জন্য এক অস্বাভাবিক অস্থির অক্টোবর।
বাজুসের দাম কমানোয় থেমে গেল সোনার দুই দিনের উর্ধ্বগতি, ভরিতে কমল ১,৬৩৩ টাকা
শুক্রবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১,৬৩৩ টাকা কমিয়ে দিয়েছে, দুই দিনের বাড়তির পর দাম নেমে এসেছে ২,২৩,০৭৪ টাকায়। বিশ্ববাজারে সোনার দাম জুলাইয়ের পর সবচেয়ে কমে যাওয়ার প্রভাবেই এই কাটছাঁট, কারণ বিনিয়োগকারীরা ধরে নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে আর সুদের হার বেশি দিন উঁচুতে থাকবে। রুপার দামও কমানো হয়েছে একই সঙ্গে। বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য এই ওঠানামার মানে হলো, এই সপ্তাহে কোনো একদিনের দামকে ভরসা করে বসে থাকা ঠিক হবে না।
বাংলাদেশে সোনার দাম ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়ল, অক্টোবরের চার দফা দরপতনের ইতি
বুধবার বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়িয়েছে, এই মাসে পরপর চার দফা দাম কমে ১০ হাজার টাকার বেশি কমে যাওয়ার পর এটাই প্রথম বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার স্পট দাম আউন্সে ৪ হাজার ডলারের নিচে নামার পর আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গেই এই পরিবর্তন মিলে যায়। পুরো এই সময়ে রুপার দামে কোনো হাত দেওয়া হয়নি।