বাংলাদেশে সোনার দাম ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়ল, অক্টোবরের চার দফা দরপতনের ইতি
বুধবার বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়িয়েছে, এই মাসে পরপর চার দফা দাম কমে ১০ হাজার টাকার বেশি কমে যাওয়ার পর এটাই প্রথম বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার স্পট দাম আউন্সে ৪ হাজার ডলারের নিচে নামার পর আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গেই এই পরিবর্তন মিলে যায়। পুরো এই সময়ে রুপার দামে কোনো হাত দেওয়া হয়নি।
মূল কথাগুলো
- বুধবার বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়িয়েছে, এই মাসে পরপর চারবার দাম কমার পর এটাই প্রথম বৃদ্ধি, যে চার দফায় দাম কমেছিল ১০ হাজার টাকার বেশি।
- এই উল্টো যাত্রা বিশ্ববাজারের সোনার দামের সঙ্গেই মিলে যায়, যা সর্বশেষ দাম কমানোর সময় আউন্সে ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল, পরে আবার কিছুটা বেড়েছে।
- বাংলাদেশে এখন ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২,২৩,০৭৪ টাকা, যা এ বছরের শুরুর দিকের সর্বোচ্চ দামের চেয়ে এখনও বেশ কম।
- পুরো এই সময়টাতে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
প্রায় দুই সপ্তাহ পর বুধবার প্রথমবারের মতো সোনার দাম বাড়ালেন বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি। ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২,২১৬ টাকা বেড়ে হয়েছে ২,২৩,০৭৪ টাকা। অক্টোবরের শুরু থেকে পরপর চার দফায় দাম কমে যে ১০ হাজার টাকার বেশি কমেছিল, এই বৃদ্ধি তার ধারা থামিয়ে দিল। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্সে ৪ হাজার ডলারের নিচে নামার পর আবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গেই এই সিদ্ধান্ত মিলে যায়।
সোনা কিনতে চাওয়া মানুষদের জন্য দোলাচলের এক মাস
অক্টোবরে বাংলাদেশে সোনা কেনার সঠিক সময় বোঝার চেষ্টা করলে হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস বারো দিনের মধ্যে চারবার ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমিয়েছে, ১৩ অক্টোবর ৩,২৬৬ টাকা, ২২ অক্টোবর ১,৬৯১ টাকা, ২৩ অক্টোবর ২,১৫৮ টাকা এবং ২৫ অক্টোবর ৩,৩২৪ টাকা। প্রতিবারই এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারের একই নিম্নমুখী ধারা অনুসরণ করেছে, যার ফলে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ২,৩১,৩০০ টাকা থেকে নেমে ২৫ অক্টোবর সকালে হয়েছিল ২,২০,৮৫৮ টাকা।
এই পতন বুধবার থেমে গেল। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ কমিটি সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করে ২,২১৬ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়, যার ফলে ২২ ক্যারেট সোনার ভরি হয় ২,২৩,০৭৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম বেড়ে হয়েছে ২,১৩,০৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১,৮২,৯৫০ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১,৪৯,৪৭৪ টাকা, এই সব দামেই ভ্যাট ধরা আছে। রুপার দামে কোনো হাত দেওয়া হয়নি, ২২ ক্যারেট রুপার ভরি রয়ে গেছে ৩,৮৪৯ টাকায়।
স্থানীয় দাম কেন বিশ্ববাজারকেই অনুসরণ করে
বাজুস কেবল দেশের চাহিদা দেখে সোনার দাম ঠিক করে না। সংগঠনের মূল্য নির্ধারণ কমিটি আন্তর্জাতিক স্পট রেট দেখে প্রায় যান্ত্রিকভাবেই দেশীয় ভরির দাম সেই অনুযায়ী মেলায়। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, "স্থানীয় সোনার বাজার সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল।" দুই সপ্তাহ ধরে দাম কমার পর কেন এবার দাম বাড়ল, তার সোজা জবাব, "এখন আবার বাড়ছে, তাই আমরাও আমাদের দাম বাড়িয়েছি।"
বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার স্পট দাম ছিল আউন্সে প্রায় ৪,০৩২ ডলার, আগের দিনের তুলনায় একটু কম, কিন্তু ২৫ অক্টোবর বাজুস যখন সর্বশেষ দাম কমিয়েছিল তখনকার প্রায় ৩,৯৯৬ ডলারের চেয়ে বেশ বেশি। বড় ছবিটা হলো, বাজার এখনও এক অসাধারণ উত্থানের পরের ধাক্কা সামলাচ্ছে। জানুয়ারির শেষে সোনার দাম আউন্সে ৫,৫০০ ডলার ছাড়িয়ে কিছু সময়ের জন্য ৫,৬০০ ডলারের কাছে পৌঁছেছিল, তারপর সম্প্রতি তা নেমে এসেছে ৪ হাজার ডলারের নিচে, অক্টোবরের এই সংশোধনের পরেও দাম যে এক বছর আগের তুলনায় এখনও অনেক বেশি, তার একটা স্মারক।
বাংলাদেশি ক্রেতা ও সঞ্চয়কারীদের জন্য এর মানে কী
বিয়ের জন্য সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন বা সঞ্চয় হিসেবে সোনা জমাচ্ছেন এমন পরিবারগুলোর জন্য এই মাসের শিক্ষা হলো, "সঠিক দামের" জন্য অপেক্ষা করা মূলত নিউ ইয়র্ক আর লন্ডনের বাজারের ওপর বাজি রাখা, ঢাকার জুয়েলারি বাজারে কী ঘটছে তার ওপর নয়। অক্টোবরের দাম কমার সময় যারা সোনা কিনেছেন, বুধবারের এই বৃদ্ধির পরেও তারা মাসের শুরুর তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম দামেই কিনেছেন। আর যারা আরও দাম কমার আশায় বসে ছিলেন, তারা এখন অন্তত একদিনের জন্য উল্টো দিকে ঘোরা একটা বাজারের মুখে পড়েছেন।
দাম কমার সময় যে জুয়েলাররা নিঃশব্দে মজুদ বাড়িয়েছিলেন, তারা এখন মুনাফায় কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন, কারণ অক্টোবরের কম দামে কেনা মজুদ এখন নতুন, বেশি দামের কাছাকাছি বিক্রি করা যাবে। খুচরা ক্রেতাদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ হলো, বড় কোনো কেনাকাটার আগে গত কয়েক সপ্তাহের দামের সঙ্গে ঘোষিত ভরির দাম তুলনা করে দেখা, কারণ এই বাজারে একই ভরিতে কয়েক হাজার টাকার পার্থক্য এখন খুবই সাধারণ ঘটনা। দিন প্রতি দামের হিসাব রাখতে চাইলে পাঠকরা বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউর গোল্ড প্রাইস পেজ-এ বর্তমান দাম দেখে নিতে পারেন।
এখান থেকে দাম কোন দিকে যাবে
বুধবারের বাজুসের বিবৃতিতে এমন কোনো আভাস নেই যে সংগঠনটি বাজারের সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ বিন্দু আন্দাজ করার চেষ্টা করছে। এই মাসে তারা দেখিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক যেদিকে যাবে, তারা কয়েক দিনের মধ্যেই সেদিকে সাড়া দেবে, যার মানে সপ্তাহান্তের আগেই আরেকবার দাম কমা বা বাড়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জানুয়ারির রেকর্ড উত্থানের পর থেকে বিশ্ববাজারে সোনার দামে অস্থিরতা লেগেই আছে, যার পেছনে আছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার নিয়ে পরিবর্তিত প্রত্যাশা, এবং বড় বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা। এই অস্থিরতা না কমা পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য ভরির দাম দুই দিকেই ঘোরাফেরা করতে থাকবে বলেই ধারণা করা যায়, কোনো একমুখী ধারায় স্থির হওয়ার বদলে।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
দুই দিনে ৭,১১৪ টাকা কমে বাংলাদেশে সোনার দাম ভরিতে ২,১৭,৫৯২ টাকা
শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বাংলাদেশের সোনার বাজারে দাম কমেছে, বাজুস ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৫,৪৮১ টাকা কমিয়েছে, এর আগের দিনই কমেছিল ১,৬৩৩ টাকা। এই দুই দফা মিলিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম থেকে কমেছে ৭,১১৪ টাকা, নেমে এসেছে ২,১৭,৫৯২ টাকায়। জুয়েলার্সদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নয়, দেশের খোলা বাজারে কাঁচা সোনার দাম কমে যাওয়াই এর কারণ। এই ওঠানামা দিয়ে শেষ হলো সোনার জন্য এক অস্বাভাবিক অস্থির অক্টোবর।
বাজুসের দাম কমানোয় থেমে গেল সোনার দুই দিনের উর্ধ্বগতি, ভরিতে কমল ১,৬৩৩ টাকা
শুক্রবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১,৬৩৩ টাকা কমিয়ে দিয়েছে, দুই দিনের বাড়তির পর দাম নেমে এসেছে ২,২৩,০৭৪ টাকায়। বিশ্ববাজারে সোনার দাম জুলাইয়ের পর সবচেয়ে কমে যাওয়ার প্রভাবেই এই কাটছাঁট, কারণ বিনিয়োগকারীরা ধরে নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে আর সুদের হার বেশি দিন উঁচুতে থাকবে। রুপার দামও কমানো হয়েছে একই সঙ্গে। বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য এই ওঠানামার মানে হলো, এই সপ্তাহে কোনো একদিনের দামকে ভরসা করে বসে থাকা ঠিক হবে না।
বাংলাদেশে সোনার দাম পরপর দুই দিন বাড়ল, অক্টোবরের দরপতনের অর্ধেক পুষিয়ে নিল
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সোনার দাম পরপর দুই দিনের মতো বেড়েছে, বাজুসের হিসাবে ২২ ক্যারেট সোনা এখন প্রতি ভরি ২,২৪,৭০৭ টাকা। অক্টোবরের শুরুর দিকে টানা চারবার দাম কমার পর এই পরপর দুই দিনের বৃদ্ধি। জুয়েলারিরা বলছেন এই উল্টো যাত্রা স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বাড়ার সাথে সম্পর্কিত, আর বিয়ের মৌসুমে কেনাকাটার পরিকল্পনা করা ক্রেতাদের দাম স্থির হওয়ার আগে আরও ওঠানামার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।