ঢাকার শেয়ারবাজার নেমেছে ৫,৪২২-এ, নিষ্প্রাণ লেনদেনে টেক্সটাইলের দাপট
রোববার, ১৮ অক্টোবর ডিএসইএক্স সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ৫,৪২২-এ নেমেছে, পরপর দুই কার্যদিবস ধরে পতন, আর লেনদেনের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৬৫ কোটি টাকায়। মোট লেনদেনের ২৩ শতাংশ একাই এসেছে টেক্সটাইল খাত থেকে, আর ডিএসইর একজন কর্মকর্তা বলেছেন এত কম লেনদেনের একটা কারণ ছিল একটা নির্ধারিত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা।
- রোববার, ১৮ অক্টোবর ডিএসইএক্স সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ৫,৪২২-এ নেমেছে, পরপর দুই কার্যদিবস ধরে পতন।
- লেনদেনের পরিমাণ কমে ৩৬৫ কোটি টাকায় নেমেছে, যাকে বাজার সংশ্লিষ্টরা সাম্প্রতিক মানদণ্ডেও স্বাভাবিকের চেয়ে কম বলছেন।
- মোট লেনদেনের ২৩ শতাংশ এসেছে টেক্সটাইল খাত থেকে, তারপর জেনারেল ইনসুরেন্স ১৪.৪ শতাংশ আর ফার্মাসিউটিক্যালস ১০.৩ শতাংশ।
- ডিএসইর এক কর্মকর্তা লেনদেন কম হওয়ার একটা অংশের কারণ বলেছেন এক্সচেঞ্জের ডিজাস্টার রিকভারি সার্ভারের নির্ধারিত পরীক্ষা।
ঢাকার শেয়ারবাজার রোববার, ১৮ অক্টোবর পরপর দুই কার্যদিবস ধরে নিচের দিকে বন্ধ হয়েছে, ডিএসইএক্স বেঞ্চমার্ক সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ৫,৪২২-এ থিতু হয়েছে। ব্লু-চিপ ডিএস৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ২,০৮৫-এ নেমেছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ২১৭টির দাম কমেছে, ১০২টির বেড়েছে আর ৬৭টি অপরিবর্তিত থেকেছে, এই বিস্তৃতি দেখেই বোঝা যায় সূচকের সংখ্যা যতটা দেখাচ্ছে, বিক্রির চাপ তার চেয়ে আরও বিস্তৃত ছিল।
কেন সূচকের চেয়ে লেনদেনের পরিমাণটাই বেশি বলে
৫,৪০০-এর কাছাকাছি একটা সূচকে ১০ পয়েন্টের পতন শতাংশের হিসাবে ছোট, কিন্তু লেনদেনের পরিমাণের সংখ্যাটাই এখানে বেশি কিছু বলে। ৩৬৫ কোটি টাকায়, রোববারের লেনদেনের মূল্য এই বছরের ভালো সেশনগুলোর তুলনায় বেশ কম ছিল, আর ব্রোকারেজ ফার্ম ইবিএল সিকিউরিটিজ বলছে বিনিয়োগকারীরা আয় আর লভ্যাংশ ঘোষণার এই পর্বে মূলত পাশে বসে থেকেছেন, নিকট ভবিষ্যতের দিক নিয়ে অনিশ্চয়তা আস্থার ওপর চাপ ফেলছে। সাম্প্রতিক দর কম থাকা শেয়ার কেনার পর মুনাফা তুলে নেওয়ার কারণে শুরুতে বিক্রির চাপ তৈরি হয়, আর দিনভর মাঝেমধ্যে কেনাকাটা হলেও তা ধারাটা ঘোরাতে পারেনি। ডিএসইর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে কম লেনদেনের একটা সাধারণ কারণও যুক্ত করেছেন, এক্সচেঞ্জের ডিজাস্টার রিকভারি সার্ভারের একটা নির্ধারিত পরীক্ষা, সঙ্গে দুর্বল নেটওয়ার্ক সংযোগ, যার কথা ব্রোকারদের আগেই জানানো হয়েছিল।
টাকা কোথায় গেছে
খাতভিত্তিক লেনদেনের তথ্য দেখিয়ে দেয় লেনদেন আসলে কোথায় কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। টেক্সটাইল খাত একাই দিনের লেনদেনের ২৩ শতাংশ দখল করেছে, যা তার পরের বড় খাত জেনারেল ইনসুরেন্সের ১৪.৪ শতাংশের দ্বিগুণেরও বেশি, আর ফার্মাসিউটিক্যালস অনেক পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে ১০.৩ শতাংশে। খাত হিসেবে পাট খাতের শেয়ার ১.৮ শতাংশ বেড়েছে, সার্ভিস খাত ০.৭ শতাংশ আর নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ০.৫ শতাংশ বেড়েছে, আবার মিউচুয়াল ফান্ড ১.২ শতাংশ, আইটি ০.৮ শতাংশ আর সিরামিকস ০.৭ শতাংশ কমেছে। পৃথক শেয়ারের মধ্যে দিনের সবচেয়ে বড় উত্থান দেখিয়েছে আরএসআরএম স্টিল, ৯.৫২ শতাংশ বেড়ে, আর সবচেয়ে বেশি কমেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ৫.২২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে ছিল সোনালী আঁশ, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ আর সোনারগাঁও টেক্সটাইল, যেখানে টেক্সটাইল আর আর্থিক খাতের প্রাধান্য খাতভিত্তিক লেনদেনের ভাগের সঙ্গে মিলে যায়।
| খাত | লেনদেনের ভাগ |
|---|---|
| টেক্সটাইল | ২৩% |
| জেনারেল ইনসুরেন্স | ১৪.৪% |
| ফার্মাসিউটিক্যালস | ১০.৩% |
পরপর দুই দিনের পতন কীভাবে পড়বেন
পরপর দুই কার্যদিবস পতন ডিএসইতে অস্বাভাবিক কিছু নয়, গত কয়েক মাসে বাজার ছোট ছোট পতন আর উত্থানের ধারার মধ্য দিয়ে গেছে। এবার যেটা আলাদা তা হলো সূচক পতনের সঙ্গে লেনদেনও কমে যাওয়া, বেশি পরিমাণে বিক্রির চাপের বদলে। এই প্যাটার্ন সাধারণত সতর্কতার দিকে নির্দেশ করে, আতঙ্কের দিকে নয়, বিনিয়োগকারীরা তাড়াহুড়ো করে পজিশন থেকে বের হচ্ছেন না, তারা স্রেফ লেনদেন না করে অপেক্ষা করছেন, চলতি আয় প্রকাশের মৌসুম আর লভ্যাংশ ঘোষণা থেকে স্পষ্ট কোনো সংকেত পাওয়া পর্যন্ত।
সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপূজার জন্য ২০ অক্টোবর থেকে বাজার পাঁচ দিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার কথা থাকায়, লম্বা ছুটির ঠিক আগের সেশনে কম লেনদেন হওয়া ডিএসইতে পরিচিত একটা প্যাটার্ন, কারণ বিনিয়োগকারীরা এমন নতুন পজিশন খুলতে চান না যা বাজার বন্ধ থাকার সময় তারা সামলাতে পারবেন না।
"ইবিএল সিকিউরিটিজ বলছে বিনিয়োগকারীরা আয় আর লভ্যাংশ ঘোষণার এই পর্বে মূলত পাশে বসে থেকেছেন, নিকট ভবিষ্যতের দিক নিয়ে অনিশ্চয়তা আস্থার ওপর চাপ ফেলছে।"
আপনার জন্য এর মানে কী
বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সূচকে ১০ পয়েন্ট, প্রায় ০.২ শতাংশের একটা পতন একা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ নয়, কিন্তু যদি আপনার পোর্টফোলিওতে টেক্সটাইল বা মিউচুয়াল ফান্ড নির্দিষ্টভাবে বেশি থাকে, তাহলে খাতভিত্তিক বিভাজনটা দেখে নেওয়া ভালো, টেক্সটাইল খাতের শেয়ার লেনদেনে প্রাধান্য পেয়েছে, আবার বিস্তৃত খাতের তালিকায় পাট খাত বেড়েছে আর মিউচুয়াল ফান্ড কমেছে, তাই একই বড় লেবেলের নিচে একদম আলাদা পারফরম্যান্স থাকতে পারে। ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের দুর্গাপূজা বন্ধের আগে কেউ লেনদেন করতে চাইলে সেই বন্ধের কথা মাথায় রেখে পজিশন গুছিয়ে নেওয়া উচিত, কারণ এক্সচেঞ্জ ২৫ অক্টোবর না খোলা পর্যন্ত কোনো কেনা-বেচার অর্ডার কার্যকর হবে না। এই রকম দিনের ওঠানামা পড়তে শেখা নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশি কাজের অভ্যাস হলো সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণটাও দেখা, ৩৬৫ কোটি টাকার একটা সেশন ৭০০ কোটি টাকার একটা দিনের সমান পয়েন্ট পরিবর্তনের চেয়ে বাজারের আস্থা নিয়ে আলাদা কথা বলে।
এরপর যা দেখার
চলতি সতর্কতার পেছনে থাকা আয় প্রকাশের মৌসুম এখনো চলছে, আর আগামী সপ্তাহে কোম্পানিগুলোর ফলাফল বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা মেলে তা একদিনের কোনো কৌশলগত লেনদেন প্যাটার্নের চেয়ে সূচক সরাতে বেশি ভূমিকা রাখবে। তার চেয়ে কাছের সংকেতটা সহজ, দুর্গাপূজার বন্ধের আগে সোমবার, ১৯ অক্টোবরের শেষ পূর্ণ কার্যদিবসে লেনদেন বাড়ে কিনা, না বিনিয়োগকারীরা পাঁচ দিন বাজার না থাকার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে গিয়ে লেনদেন আরও কমিয়ে দেন।
তথ্যসূত্র
এরপর পড়ুন
সরাসরি তালিকাভুক্তির সীমা দ্বিগুণ করল বিএসইসি, আইপিওর খরা কাটাতে আনছে ডাচ নিলাম পদ্ধতি
বাংলাদেশের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক বড় পারিবারিক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে আনতে একগুচ্ছ সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে আছে নতুন তালিকাভুক্তির জন্য ডাচ নিলাম মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এবং সরাসরি তালিকাভুক্তির যোগ্যতার সীমা দ্বিগুণ করা। বাজার এখনও করপোরেট অর্থায়নের তিন চতুর্থাংশের জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল, এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা চায় এটি বদলাক।
২৬ মাস বোর্ডশূন্য থাকার পর বিএসইসি পুনর্গঠন করল ১,৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল
বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড টানা ২৬ মাস কোনো পরিচালনা বোর্ড ছাড়াই চলেছে, শেষ পর্যন্ত এই সপ্তাহে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সাত সদস্যের একটা অন্তর্বর্তী প্যানেল গঠন করেছে। প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকার এই তহবিল, যা অদাবিকৃত লভ্যাংশ আর শেয়ারের সমন্বয়ে গড়া, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য তৈরি, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটা আইনি বিরোধ ২০২৪ সাল থেকে পুরো কাঠামোটাকেই স্থবির করে রেখেছিল। বিএসইসি এখন চায় এই প্রশ্নের চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ আইন, যার খসড়া শিগগিরই সংসদে যাওয়ার কথা।
অনিয়মের পর নগদ লভ্যাংশের নিয়মে কড়াকড়ি আনল বিএসইসি, স্বতন্ত্র পরিচালক পুনর্নিয়োগে দিল স্বস্তি
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এখন থেকে নগদ লভ্যাংশের প্রস্তাব এজিএমে তুলতে পারবে না যতক্ষণ না পুরো টাকা একটা আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা থেকে সনদায়িত হয়। সাম্প্রতিক অনিয়মের পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে, সঙ্গে আছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি। একই সভায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্বতন্ত্র পরিচালক পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করেছে, প্রতিবার নতুন পর্যালোচনার বদলে শুধু একটা ক্লিন ক্রেডিট রিপোর্টই এখন যথেষ্ট।