স্বর্ণ ও রৌপ্য

আন্তর্জাতিক বাজার নরম হওয়ায় বাংলাদেশে সোনার দাম কমে ভরি ২,২৬,৩৪০ টাকা

২৩ অক্টোবর, ২০২৬4 মিনিটের পড়া
আন্তর্জাতিক বাজার নরম হওয়ায় বাংলাদেশে সোনার দাম কমে ভরি ২,২৬,৩৪০ টাকা

বৃহস্পতিবার বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১,৬৯১ টাকা কমিয়ে ২,২৬,৩৪০ টাকা করেছে, অন্য সব গ্রেডের সোনাও কাছাকাছি হারে কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজার নরম হওয়ার জেরেই এই পরিবর্তন, যেখানে ডলার মজবুত হওয়া আর ডিসেম্বরে ফেডের সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনায় স্পট মূল্য আউন্সে প্রায় ৪,১২০ ডলারে নেমে এসেছে। মাত্র চার দিন আগে বাড়ানো দাম এবার কমিয়ে আনা হলো, যা এই বছর বাংলাদেশের সোনার বাজারে ঘন ঘন ওঠা-নামার ধারাকেই আরেকবার দেখাল।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সোনার দাম কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাজুস, ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১,৬৯১ টাকা কমিয়ে ২,২৬,৩৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। অন্য সব গ্রেডের সোনার দামও কাছাকাছি হারে কমেছে, কারণ আন্তর্জাতিক বাজার কিছুটা নরম হওয়ায় বাজুস এক সপ্তাহের বেশি সময় পর প্রথমবার দাম কমানোর সুযোগ পেয়েছে।

  • ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১,৬৯১ টাকা কমে হয়েছে ২,২৬,৩৪০ টাকা, কার্যকর বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর থেকে।
  • ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও কাছাকাছি পরিমাণে কমেছে, প্রায় ০.৭ থেকে ০.৭৫ শতাংশ করে।
  • বাজুসের এই দাম কমানো আন্তর্জাতিক বাজারের একটা পতনকেই অনুসরণ করছে, যেখানে স্পট গোল্ড আউন্সে প্রায় ৪,১২০ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল, মাসের শুরুর দিকে দেখা ৪,১৪০ ডলারের ওপরের স্তর থেকে নেমে।
  • বিশ্লেষকরা এই পতনের পেছনে ডলারের মজবুত অবস্থান আর ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন, যা সুদ না দেওয়া সোনার মতো সম্পদকে কম আকর্ষণীয় করে তোলে।
বাজুসের ২২ অক্টোবরের দাম কমানোর আগে ও পরে ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট আর সনাতন সোনার ভরিপ্রতি দামের তুলনামূলক চার্ট
চার্ট: বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ, তথ্যসূত্র প্রবাসী দিগন্তের মাধ্যমে বাজুসের মূল্য বিজ্ঞপ্তি।

কী বদলেছে, কতটা বদলেছে

বাংলাদেশের সোনার দৈনিক দাম নির্ধারণকারী সংগঠন বাজুস বৃহস্পতিবার এই দাম কমানোর কথা জানায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। নিচের ছকে সংগঠনটির দাম দেওয়া চারটি গ্রেডের সোনার পুরো হিসাব দেখা যাচ্ছে।

সোনার ধরনআগে (টাকা/ভরি)পরে (টাকা/ভরি)পরিবর্তন
২২ ক্যারেট২,২৮,০৩১২,২৬,৩৪০-১,৬৯১
২১ ক্যারেট২,১৭,৭৬৭২,১৬,১৯২-১,৫৭৫
১৮ ক্যারেট১,৮৭,০৩২১,৮৫,৬৯১-১,৩৪১
সনাতন পদ্ধতি১,৫২,৭৯৮১,৫১,৬৯০-১,১০৮

ভরি বাংলাদেশের সোনা মাপার চিরাচরিত একক, যা সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম, আর বাজুসের প্রকাশিত সব দামেই ভ্যাট যুক্ত থাকে। বৃহস্পতিবারের এই কমানোটা এক অর্থে উল্টো যাত্রা, কারণ ২২ ক্যারেটের দাম মাত্র চার দিন আগেই বাড়িয়ে ২,২৮,০৩১ টাকা করা হয়েছিল। এই বছরের বেশিরভাগ সময় ধরেই স্থানীয় সোনার বাজারে এই রকম ওঠা-নামার ধারা চলছে।

কেন কমল: আন্তর্জাতিক বাজার নরম হওয়া

বাজুস আন্তর্জাতিক স্বর্ণমূল্য আর স্থানীয়ভাবে পরিশোধিত বিশুদ্ধ সোনা, বাংলা ভাষায় "তেজাবি" সোনার দাম অনুসরণ করে, এবং টাকার বিনিময় হার হিসাব করে নিজের দাম ঠিক করে। গত দুই সপ্তাহে আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের দাম বাড়ার বদলে কিছুটা দোদুল্যমান ছিল। বাংলাদেশে দাম কমানোর আগের দিনগুলোতে স্পট মূল্য আউন্সে প্রায় ৪,১২০ থেকে ৪,১২৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল, অক্টোবরের শুরুর দিকে দেখা ৪,১৪০ ডলারের ওপরের স্তর থেকে নেমে, কারণ ডলার মজবুত হওয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের রিটার্ন বেড়ে যাওয়ায় সোনা তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।

"ভূরাজনীতি মূল্যস্ফীতির ভয় বাড়াচ্ছে আর বছরের শেষে ফেডের সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনায় ৪,১০০ ডলারের ওপরে দাম এখন দোদুল্যমান," বলেন এফএক্সটিএমের বিশ্লেষক লুকমান ওতুনুগা, তিনি আরও বলেন ৪,১০০ ডলারের নিচে স্থায়ীভাবে নেমে গেলে দাম ৪,০০০ ডলারের দিকেও যেতে পারে, আর এই স্তরের ওপরে ধরে রাখতে পারলে ৪,২০০ ডলারের দিকে ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

রয়টার্সের বিশ্ব বাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময় সিএমই ফেডওয়াচ টুলে ডিসেম্বরে ফেডের সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখাচ্ছিল প্রায় ৮৫ শতাংশ। সুদের হার বেড়ে গেলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদ বন্ড আর ডলার জমার তুলনায় কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে, এটাই মূল কারণ কেন স্বর্ণের দাম নিজের সর্বোচ্চ স্তর ধরে রাখতে পারছে না, যদিও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মতো ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যা বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি বিলও বাড়িয়ে দিয়েছে, দামের একটা তলা ধরে রেখেছে।

আপনার জন্য এর মানে কী

বাংলাদেশি পরিবারের কাছে সোনা শুধু গয়না নয়, এটা সঞ্চয়ের একটা মাধ্যম, বিয়ের একটা বড় খরচ, আর অনেক পরিবারের জন্য বছরে একবার জাকাতের হিসাবের একটা অংশও। ২২ ক্যারেট সোনায় ভরিতে প্রায় ১,৭০০ টাকা দাম কমা মানে একটা কনের গয়নার সেটে বা পরিবারের জমানো সোনায় বাস্তবিক কিছু টাকার হেরফের হয়ে যাওয়া। এই বছরের জাকাতের হিসাব করার সময় হলে এখনকার দামটা একবার দেখে নেওয়া ভালো, কারণ সোনার মূল্য সরাসরি নিসাবের সীমা হিসাবে যুক্ত হয়। সাইটের নিজস্ব জাকাত ক্যালকুলেটর আর গোল্ড প্রাইস ট্র্যাকার দুটোই বাজুসের সবশেষ দাম অনুসরণ করে।

যারা গয়নার বদলে বিনিয়োগ হিসেবে সোনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য বৃহস্পতিবারের এই পরিবর্তন একটা মনে করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা, বাংলাদেশের দেশীয় দাম সপ্তাহে সপ্তাহে যতই ওঠা-নামা করুক, তা শেষ পর্যন্ত এমন একটা বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাঁধা যা নিজেই অক্টোবরের শুরুতে দুই মাসের সর্বনিম্নে নামার পর থেকে একটা আটকে থাকা অবস্থায় রয়েছে। জানুয়ারির সর্বোচ্চ দামে যদি আপনি সোনা কিনে থাকেন, তাহলে আপনি এখনো সেই চূড়া থেকে অনেক নিচে আছেন, আর এখন যদি কিনে থাকেন, তাহলে এমন একটা বাজারে কিনছেন যা বিশ্লেষকদের মতে ৪,০০০ আর ৪,২০০ ডলারের মাঝে প্রায় সূক্ষ্ম এক ভারসাম্যে দাঁড়িয়ে আছে, আর ফেডের পরের সিদ্ধান্তই সম্ভবত এই ভারসাম্য একদিকে ঝুঁকিয়ে দেবে।

এরপর কী দেখার বিষয়

বাজুস আবার দাম কমাবে নাকি পথ বদলাবে, তা নির্ভর করবে দুটো বিষয়ের ওপর, আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের পরের চাল, আর ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারে কোনো বদল, কারণ ডলারে সোনার দাম স্থির থাকলেও টাকা দুর্বল হলে স্থানীয় দাম আবার বেড়ে যেতে পারে। ফেডের ডিসেম্বরের সভা এখনো কয়েক সপ্তাহ দূরে, আর সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৮৫ শতাংশের কাছে থাকায়, ব্যবসায়ীরা এই বছরের বাকি সময়ে স্পষ্ট কোনো ধারার বদলে এলোমেলো ওঠা-নামার আশা করছেন। বাজুস এই বছরই এরই মধ্যে বহুবার দাম সংশোধন করেছে, বেশিরভাগ সময়ই বৃহস্পতিবারের মতো ছোট ছোট পদক্ষেপে, তাই বাংলাদেশি ক্রেতা আর বিক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ধারণা হলো, যেকোনো দিকে আরেকটা সমন্বয় আসতে আর মাত্র কয়েক দিনই বাকি।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

দুই দিনে ৭,১১৪ টাকা কমে বাংলাদেশে সোনার দাম ভরিতে ২,১৭,৫৯২ টাকা

শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বাংলাদেশের সোনার বাজারে দাম কমেছে, বাজুস ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৫,৪৮১ টাকা কমিয়েছে, এর আগের দিনই কমেছিল ১,৬৩৩ টাকা। এই দুই দফা মিলিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম থেকে কমেছে ৭,১১৪ টাকা, নেমে এসেছে ২,১৭,৫৯২ টাকায়। জুয়েলার্সদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নয়, দেশের খোলা বাজারে কাঁচা সোনার দাম কমে যাওয়াই এর কারণ। এই ওঠানামা দিয়ে শেষ হলো সোনার জন্য এক অস্বাভাবিক অস্থির অক্টোবর।

বাজুসের দাম কমানোয় থেমে গেল সোনার দুই দিনের উর্ধ্বগতি, ভরিতে কমল ১,৬৩৩ টাকা

শুক্রবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১,৬৩৩ টাকা কমিয়ে দিয়েছে, দুই দিনের বাড়তির পর দাম নেমে এসেছে ২,২৩,০৭৪ টাকায়। বিশ্ববাজারে সোনার দাম জুলাইয়ের পর সবচেয়ে কমে যাওয়ার প্রভাবেই এই কাটছাঁট, কারণ বিনিয়োগকারীরা ধরে নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে আর সুদের হার বেশি দিন উঁচুতে থাকবে। রুপার দামও কমানো হয়েছে একই সঙ্গে। বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য এই ওঠানামার মানে হলো, এই সপ্তাহে কোনো একদিনের দামকে ভরসা করে বসে থাকা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশে সোনার দাম পরপর দুই দিন বাড়ল, অক্টোবরের দরপতনের অর্ধেক পুষিয়ে নিল

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সোনার দাম পরপর দুই দিনের মতো বেড়েছে, বাজুসের হিসাবে ২২ ক্যারেট সোনা এখন প্রতি ভরি ২,২৪,৭০৭ টাকা। অক্টোবরের শুরুর দিকে টানা চারবার দাম কমার পর এই পরপর দুই দিনের বৃদ্ধি। জুয়েলারিরা বলছেন এই উল্টো যাত্রা স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বাড়ার সাথে সম্পর্কিত, আর বিয়ের মৌসুমে কেনাকাটার পরিকল্পনা করা ক্রেতাদের দাম স্থির হওয়ার আগে আরও ওঠানামার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।