স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি

আট জেলায় ১৮,৪৪৪ আবেদনের পর ১ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে চালু হচ্ছে উদ্যোগ তরুণ ঋণ প্রকল্প

৩১ অক্টোবর, ২০২৬3 মিনিটের পড়া
আট জেলায় ১৮,৪৪৪ আবেদনের পর ১ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে চালু হচ্ছে উদ্যোগ তরুণ ঋণ প্রকল্প

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রকল্পে তরুণ উদ্যোক্তারা জামানত ছাড়াই পেতে পারেন সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা, আট জেলায় পরীক্ষামূলক চালানোর এক মাসে ১৮,৪৪৪টি আবেদন পাওয়ার পর এটি ১ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে চালু হচ্ছে। অর্থের অর্ধেক আসে ব্যাংক ঋণ হিসেবে আর অর্ধেক অনুদান হিসেবে, যদিও ঋণ খেলাপি হলে অনুদানও ফেরতযোগ্য ঋণে পরিণত হয়। কীভাবে আবেদন করবেন, কারা যোগ্য, আর ফর্ম জমা দেওয়ার পর কী হয়, বিস্তারিত এখানে।

আপনার যদি একটা ব্যবসার আইডিয়া থাকে কিন্তু ব্যাংককে দেখানোর মতো কোনো জামানত না থাকে, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ প্রকল্প আগামী সপ্তাহ থেকে আপনার জেলায়ও খুলে যাচ্ছে। আট জেলায় দুই মাসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে প্রায় ১৮,৫০০ আবেদন পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই জামানতমুক্ত অর্থায়ন কর্মসূচি ১ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে চালু করছে, বাকি প্রতিটি উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের আবেদনের জন্য হাতে পাচ্ছেন এক মাস সময়।

  • উদ্যোগ প্রকল্পে প্রতিজন উদ্যোক্তা পেতে পারেন সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা, যার অর্ধেক ব্যাংক ঋণ আর বাকি অর্ধেক সমমানের অনুদান।
  • আবেদনকারীকে হতে হবে বাংলাদেশি নাগরিক, আবেদন শেষ হওয়ার দিনে বয়স হতে হবে ২৮ বছর বা তার কম।
  • ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর চলা পরীক্ষামূলক ধাপে আট জেলা থেকে ১৮,৪৪৪টি আবেদন পাওয়া গেছে।
  • ১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাকি ৫৬টি জেলার তরুণ উদ্যোক্তারা নিজ উপজেলার কোনো তফসিলি ব্যাংক শাখার মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

উদ্যোগ প্রকল্পে আসলে কী পাওয়া যায়

উদ্যোগ, পুরো নাম "উপজেলা ভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা চিহ্নিতকরণ, নির্বাচন ও অর্থায়ন কর্মসূচি", হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা উদ্যোগ যাতে তরুণরা জামানত ছাড়াই ব্যবসা শুরু করতে পারে, কারণ সাধারণত জামানতের অভাবেই নতুন উদ্যোক্তারা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে যান। অর্থায়নটা ঠিক মাঝখান থেকে ভাগ করা, অর্ধেক আসে সাধারণ ব্যাংক ঋণ হিসেবে, যার সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা, আর বাকি অর্ধেক আসে সমমানের অনুদান হিসেবে, যারও সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা, তাই সর্বোচ্চ অনুমোদিত কোনো প্রকল্প মোট পায় ২০ লাখ টাকা, আর দুটো অংশই একসঙ্গে দেওয়া হয়। অনুদানকে সততার মধ্যে রাখার শর্তটা হলো, ঋণের অংশ পরিশোধ না করলে বা টাকার অপব্যবহার করলে অনুদানের অংশটাও সুদবিহীন ঋণে পরিণত হয়ে যায়, যা তখনও ফেরত দিতে হয়। কোনো ব্যাংক ঋণ অনুমোদন করলে তাকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে টাকা দিতে হবে।

পরীক্ষামূলক ধাপটা কেমন গেল

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে প্রতি বিভাগের একটা করে, মোট আট জেলায় প্রকল্পটা পরীক্ষা করে, আবেদন নেওয়া হয় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। সাড়াটা ছিল খুবই অসমান। ৬৪টি উপজেলায় পাওয়া ১৮,৪৪৪টি আবেদনের মধ্যে একা নেত্রকোণা থেকেই এসেছে ৫,৩৫১টি, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জেলার দ্বিগুণেরও বেশি। রংপুর থেকে এসেছে ২,৭৪৫টি আবেদন, নওগাঁ থেকে ২,৪৫৬টি, ঝিনাইদহ থেকে ২,১৯১টি, হবিগঞ্জ থেকে ১,৫৫২টি, ভোলা থেকে ১,৫৪৫টি, মানিকগঞ্জ থেকে ১,৩৪৩টি, আর ফেনী থেকে ১,২৬১টি।

২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলাভিত্তিক উদ্যোগ পাইলট আবেদনের বার চার্ট
চার্ট: বিডি ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ, তথ্যসূত্র unb.com.bd।

১ নভেম্বর থেকে কীভাবে আবেদন করবেন

বাকি ৫৬ জেলায় কর্মসূচি সম্প্রসারণের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক সব পক্ষকে, মানে ব্যাংক, স্থানীয় প্রশাসন আর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সক্রিয় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। ব্যবহারিক পদক্ষেপগুলো খুবই সহজ। আবেদনপত্র পাওয়া যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, তাদের এসএমই পোর্টাল, বা তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইটে। ফর্ম পূরণ করার পর তা জমা দিতে হবে নিজের উপজেলায় অবস্থিত কোনো তফসিলি ব্যাংক শাখায়, ইচ্ছামতো অন্য কোনো জায়গার শাখায় নয়। সেখান থেকে আবেদনটি উপজেলা লিড ব্যাংক হয়ে জেলা লিড ব্যাংকে, আর সবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভাগীয় দপ্তরে যায় মূল্যায়নের জন্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা, তফসিলি ব্যাংকের প্রতিনিধি, আগে থেকেই সফল উদ্যোক্তা, শিল্প নেতা আর শিক্ষাবিদদের নিয়ে গঠিত একটা বহুপাক্ষিক প্যানেল তখন প্রতিটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাজারে চলার সম্ভাবনা আর কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা বিবেচনা করে দেখে, তারপর চূড়ান্ত নির্বাচন করে।

কারা আবেদন করবেন, আর কাদের অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি

মূল যোগ্যতার শর্তটা হলো বয়স, নিজের এলাকায় আবেদন গ্রহণের শেষ দিনে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২৮ বছর বা তার কম, আর হতে হবে বাংলাদেশি নাগরিক। এর বাইরে নির্বাচক প্যানেল স্পষ্টভাবেই খুঁজছে এমন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা যার বাস্তবিক কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা আছে আর বাণিজ্যিকভাবেও টিকে থাকার সম্ভাবনা আছে, কাগজে-কলমে ভালো শোনা একটা আইডিয়া যথেষ্ট নয়। আবেদনের আগে ১০ লাখ টাকার ঋণ অংশটার জন্য ইএমআই ক্যালকুলেটর দিয়ে একটা হিসাব করে নেওয়া ভালো, কারণ অর্থায়নের অর্ধেক অনুদান হিসেবে এলেও ঋণের অংশটা ঠিক সময়ে ফেরত দিতেই হয়, আর মাসিক কিস্তির চাপটা আগে থেকে বুঝে নেওয়া একটা বিশ্বাসযোগ্য ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অংশ।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

জামানত লাগবে কি? না। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই এটা, যাদের ব্যাংক ঋণের বিপরীতে জমি বা অন্য কোনো সম্পদ জামানত রাখার মতো নেই, তাদের জন্যই এটা তৈরি।

ব্যবসা যদি ব্যর্থ হয় আর টাকা ফেরত দিতে না পারি? ঋণের অংশটা একটা সাধারণ দেনা হিসেবেই থেকে যায়। সেটা অপরিশোধিত থাকলে বা টাকার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে, অনুদানের অংশটাও সুদবিহীন ঋণে পরিণত হয়ে যায়, মানে পুরো ২০ লাখ টাকাই কার্যত ফেরতযোগ্য হয়ে যায়।

নির্বাচিত হওয়ার পর অনুমোদন পেতে কত সময় লাগে? প্রকল্প তৈরির সেপ্টেম্বরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, চূড়ান্ত নির্বাচনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাংককে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করতে হবে।

আমার জেলা যদি পরীক্ষামূলক আট জেলার মধ্যে না থাকে? সেটা আর কোনো সমস্যা নয়। ১ নভেম্বর থেকে বাকি ৫৬ জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকেই মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় তফসিলি ব্যাংক শাখার মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।

মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে সাইন ইন করুন

এরপর পড়ুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন বাংলা কিউআরে এখন শুধু স্ক্যান করেই টাকা পাঠানো যাবে

১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় কারো কোড স্ক্যান করেই টাকা পাঠানো যাবে, মোবাইল বা হিসাব নম্বরের প্রয়োজন নেই। আগস্টে বাংলা কিউআরের দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ১.১০ বিলিয়ন টাকা ছাড়ানোর পর এই ফিচার এলো, যদিও তা এখনো প্রতিদ্বন্দ্বী মোবাইল ওয়ালেটের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। এই আপডেট আসলে কী বদলাচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো কোন প্রশ্নের জবাব দেয়নি, তা জেনে নিন।

কেন আপনার দোকানের ট্রেড লাইসেন্স এখন বাংলা কিউআর কোড দেখানোর ওপর নির্ভর করছে

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া বা নবায়ন করার সঙ্গে এখন একটা অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত হয়েছে, বাংলা কিউআর পেমেন্ট গ্রহণ করছেন তা দেখাতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা আর জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে লাইসেন্সিংয়ের শর্ত হিসেবে বাংলা কিউআর সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করতে, আর এই মাসে তাদের বলেছে মাঠপর্যায়ে এটা কার্যকর করা শুরু করতে। এই নিয়ম এক বছরের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনার ওপর দাঁড়িয়ে, যার পেছনে আছে ব্যাংক আর পেমেন্ট প্রদানকারীদের জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আর কারাদণ্ডের বিধান।

আজ থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্ট বিনামূল্যে আর তাৎক্ষণিক, খরচ বহন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ সেপ্টেম্বর নিশ্চিত করেছে যে ১ অক্টোবর থেকে প্রতিটা বাংলা কিউআর মার্চেন্ট পেমেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে জমা হবে, সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট তুলে দেওয়া হয়েছে আর ইন্টারচেঞ্জ ফি শূন্যে নামানো হয়েছে, যাতে ব্যাংকগুলো এই সেবা বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে দিতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজস্ব প্রণোদনা দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করবে, প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা পর্যন্ত, যা এমন একটা নেটওয়ার্কের ওপর বাজি যার লেনদেনের পরিমাণ গত ৯০ দিনেই ৩.৫ গুণ বেড়েছে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনও ১ নভেম্বর থেকে একইভাবে তাৎক্ষণিক হবে, আর গ্রাহকরা কীভাবে সেবাটা ব্যবহার করেন তার কয়েকটা ঘাটতি ঠিক করতে ব্যাংকগুলোর হাতে সময় আছে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।